নিউজিল্যান্ড সফর ও এক ঝাঁক বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিক

অর্ক সাহা
জানুয়ারী ১৭, ২০১৭
বেসিন রিজার্ভে শোনা সেরা প্রশ্নটা করেছিলেন সিডনি ভিত্তিক একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক, ‘নিউজিল্যান্ডে গ্রীষ্মকালটা আসে কবে নাগাদ?’ বেসিন রিজার্ভে শোনা সেরা প্রশ্নটা করেছিলেন সিডনি ভিত্তিক একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক, ‘নিউজিল্যান্ডে গ্রীষ্মকালটা আসে কবে নাগাদ?’

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের দীর্ঘ সফর কভার করতে সেখানে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশের এক ঝাঁক ক্রীড়া সাংবাদিক। তাদের নিয়ে নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় স্পোর্টসফ্রিক নামের একটি অনলাইন গণমাধ্যম The Bangladesh Media শিরোনামে সুলিখিত একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। খেলাধুলা.কমের পাঠকদের জন্য সেটা হুবহু অনুবাদ করে দেওয়া হল।

--------------------

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের চলমান সিরিজের অন্যতম বিস্ময়কর একটি বিষয় এই সিরিজ কাভার করতে আসা মিডিয়ার বিশাল বহর।

ম্যাচপ্রতি কিছু বেশি কম হয় বটে, তবে প্রতিদিনই প্রায় বিশজনের মত বাংলাদেশের মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে মাঠে দেখতে পাওয়া যায়। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এমন দেখা গিয়েছিলো সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে সিরিজে। এমনকি সুবিখ্যাত ব্রিটিশ মিডিয়া কিংবা অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়ারও এত বিশাল বহর কখনও নিউজিল্যান্ডে দেখা যায় না।

বাংলাদেশের মত ১৬ কোটি মানুষ নেই নিউজিল্যান্ডে, অর্থনীতিও ততটা সমৃদ্ধ নয়, বাংলাদেশের মত খুব বেশি পরিমাণ মূলধারার সংবাদমাধ্যমও নেই। আর সেটাই নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের এত মিডিয়া কাভারেজের মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দেয়।

সাংবাদিকরা প্রতিদিন ম্যাচ রিপোর্ট লেখেন, হামিশ মার্শাল-ক্রিস হ্যারিসদের মত ক্রিকেটব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নেন, এরপর রাত হওয়ার আগেই আর একটা রিপোর্ট করেন সন্ধ্যার বুলেটিনের জন্য। আর শুক্রবার তো দম ফেলার ফুসরতই পাওয়া যায় না!

কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাভারেজের সাথে স্পনসরশিপও থাকে, এই যেমন, ‘এই কভারেজে আমাদের সহযোগী হিসেবে আছে...’ কভারেজের সাথেও সেটা কেন যেন বেশ যুৎসই ভাবে মিলে যায়।

সাধারণত একটি সংবাদ সংস্থা থেকে একজন সাংবাদিকই থাকেন। তবে তাতে ক্যামেরাম্যানের অভাব খুব একটা অনুভূত হয় না সবসময়, সাংবাদিকেরা নিজেরাই ক্যামেরা হাতে তুলে নিয়ে ‘ওভারটাইম’ করে ক্যামেরাম্যানের কাজটাও নিজেরাই করে নেন। সাংবাদিকদের পরস্পরের সাথে খুবই ভালো সম্পর্ক থাকাতে সে কাজ করতে সাধারণত তেমন কিছু মনে করেন না কেউ।

স্কাই স্পোর্টস ছাড়া নিউজিল্যান্ডের আর কোনো টেলিভিশন চ্যানেল এই সিরিজের কোনো ম্যাচ কভার করছে না, পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোরও একই অবস্থা।

শোনা যায়, ভ্রমণের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশগুলোর একটা এই নিউজিল্যান্ড। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি ওয়্যারহাউজ নামের একটা দোকানের খোঁজ না পেয়েছিলাম, খুব একটা কাজ এগোচ্ছিলো না। আহ, আর একটু আগে যদি দোকানটার খোঁজ পেতাম!

সংবাদমাধ্যমগুলোতে কাজ করা এই বাংলাদেশি সাংবাদিকরা যতক্ষণ কাজ করেন, ততক্ষণ সেটা চারদিকে দারুণ ফুরফুরে একটা আমেজ ছড়িয়ে দেন; যেন তারা দেখিয়ে দেন এভাবেও কাজ চালানো যায়!

আর এখন অবধি বেসিন রিজার্ভে শোনা সেরা প্রশ্নটা করেছিলেন সিডনি ভিত্তিক একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক, ‘নিউজিল্যান্ডে গ্রীষ্মকালটা আসে কবে নাগাদ?’

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post