প্রথম টেস্টে দলের সদস্য ছিলাম, এই গর্ব আমি এখনও করি: আকরাম খান

সাম্য দাশগুপ্ত
ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০১৭
 সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান।

নব্বই দশকের শেষার্ধ্ব এবং বিংশ শতাব্দির প্রথমভাগ বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত আকর্ষনীয় পর্যায়। টায়ার-টু দলগুলোর মধ্যে তাঁদের দলটাই ছিল সেরা, তবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের জন্য হয়তো পুরোপুরি তৈরি ছিল  না। আকরাম খানের মত খেলোয়াড়েরাই তখন বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানকে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্য পর্যায়ে।

কিছুটা মোটাসোটা স্বাস্থ্যের অধিকারী, দলের সবচেয়ে ফিট খেলোয়াড় বলা চলে না তাঁকে, তবে দারুণ মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন প্রথম আট টেস্ট। ওয়ানডে ম্যাচও খেলেছেন ৪৪টি, যার মধ্যে ১৫টিতে অধিনায়কত্বও করেছেন। তর্কযোগ্যভাবে তাঁর ক্যারিয়ারের হাইলাইট বলা যেতে পারে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানবধের সেই ম্যাচে ৪২ রানের ইনিংসটাকে, যদিও টেস্টপূর্বযুগে তাঁর অবদান আরো বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

এক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক (যিনি তামিম ইকবালের চাচাও বটে) এবার কিছুটা পিছনের দিকে ফিরে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের দিকে তাকালেন। হায়দ্রাবাদের রাজিব গান্ধী স্টেডিয়ামের সাইডলাইনে বসে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন। 

অনেকদিন পর আবার হায়দ্রাবাদে ফিরলেন, যেখানে ১৯৯৮ সালেকোকাকোলা ট্রায়াঙ্গুলার সিরিজে কেনিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন  কোনো স্মৃতি মনে পড়ছে কি?

বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সেটা ছিল শ্রেষ্ঠতম মুহুর্তগুলোর মধ্যে একটা।  হায়দ্রাবাদে অবশ্য এর আগেও এসেছিলাম, মঈন-উদ-দৌলা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে আবাহনীর হয়ে খেলতে, এমনকি পুরোনো লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামেও খেলেছি আমি। 

ওই সময়টাতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আমাদেরকে দারুণ সাহায্য করেছে। তাঁরা আমাদের খেলার যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছে, আমরা ভারতে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন দলের অংশ হিসেবে খেলতে গিয়েছি, ফলে হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন জায়গায় খেলার সুযোগ হয়েছে।  এটা ছিল  টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার আগের চিত্র।  ১৯৯৮ সালে আমরা যখন এখানে খেলতে এলাম, এর আগেই আমরা ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছিলাম।  কেনিয়াকে হারিয়ে দেওয়াটা তাই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মত ব্যাপারই ছিল ।  দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা সেরা দুই দলের একটি ছিলাম,  যদিও বেশ কিছু ম্যাচেই আমরা ভালো খেলার পরও হেরে গেছি।  তাঁরা আমাদের থেকে বেশি শক্তিশালী এবং বেশি ফিট ছিল ।  কিন্তু সেই জয়টা আমাদের কাছে অসাধারণ কিছু ছিল ।  ফুটবল ছিল  তৎকালীন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, কিন্তু আমরা দারুণ শুরু করাতেই ক্রিকেট পরবর্তীতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

নিশ্চয়ই দারুণ একটা সময় ছিল সেটা...

নিঃসন্দেহে।  আমাদের দারুণ কিছু খেলোয়াড় ছিলঃ (আমিনুল ইসলাম) বুলবুল, (খালেদ মাহমুদ) সুজন, (মিনহাজুল আবেদীন) নান্নু, (নাঈমুর রহমান) দুর্জয়... কিন্তু সময়টা বেশ কঠিনও ছিল।  আমাদের উপর দাবি ছিল অনেক, ছিল  প্রত্যাশার চাপও, তবে কোনো পরিকল্পনা ছিল না।  আমরা ছিলাম অপেশাদার।  আমরা জানতাম না যে আমরা কোথায় যাচ্ছি, আমরা কার সাথে খেলতে যাচ্ছি।  আইসিসি ট্রফিযুগে আগেভাগে অন্য দলের সাথে খেলে তৈরি হওয়ার মত সুযোগ ছিল না।  দারুণ একটা দল থাকা সত্ত্বেও আমরা ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারিনি।  ফলে ১৯৯৭ সালে আমাদের উপর বেশ চাপ ছিল।  তবে আমাদের প্যাশনও ছিল বটে! টেলিভিশনে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাকে খেলতে দেখেছি, ওরা তো তখন দারুণ খেলছিলো।  সেটা বেশ সাহায্য করেছিল...

ওই অপেশাদার যুগে টিভি দেখে নিশ্চয়ই অনেক কিছু শিখেছেন?

অবশ্যই, অনেক কিছু শিখেছি! বাংলাদেশে তখন খুব একটা ভালো কোচ ছিল না, তাই যারা ক্রিকেটে ইন্টারেস্টেড ছিল তাঁদেরকে টিভিতে খেলা দেখতেই হত। আমরা তো এখনও সেটা করি।  ওই সময় আমাদের ক্লাব ক্রিকেট দারুণ জনপ্রিয় ছিল।  ১৯৮৮ সালে এশিয়া কাপে আমার অভিষেক হয়।  ভারত, পাকিস্তান আর শ্রীলংকাও এসেছিলো খেলতে।  আমাদের ক্লাবের হয়ে ভারতের অনেক বিখ্যাত ক্রিকেটারও খেলে গেছেন - রমন লাম্বা, অশোক মালহোত্রা... আমার রমন লাম্বার কথা আলাদা করে মনে আছে, সে ছিল দারুণ একজন মানুষ।  অনেক কিছু শিখেছি ওর থেকে।  নব্বই দশকে অনেক ভারতীয় ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটারও খেলতে গেছে বাংলাদেশে, সেটা আমাদের দারুণ সাহায্য করেছে।  কারণ ক্লাব থেকেই নান্নু, বুলবুল, (মোহাম্মদ) রফিককে পেয়েছি আমরা।

আপনারা যা করেছেন তখন, সেটারই প্রতিফলন এখন দেখা যাচ্ছে তাই নয় কি?

শুধু আমরাই নই, অনেকেই তখন প্রচুর সাহায্য করেছেন।  অর্থসাহায্যও করেছেন অনেকেই, মিডিয়াও দারুণ সাপোর্ট দিয়েছে, ভক্তরাও... সংগ্রাম করেছি, তবে এখন মনে হচ্ছে একেবারে বিফল যায়নি। 

এরপর টেস্ট স্ট্যাটাস এলো, অনেকে এখনও মনে করে এতে জগমোহন ডালমিয়ার বেশ বড় অবদান রয়েছে আপনারা কি তখন টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত ছিলেন?

(ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট অভিজ্ঞতা এবং ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগ ছিল টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পূর্বশর্ত।  আর বাংলাদেশ ২০০০ সালে আইসিসি ভোটিংয়ের জন্য তাড়াহুড়া করে গেমসের গোড়াপত্তন করে।)

আমরা যখন টেস্ট খেলতে শুরু করি, আমরা মাত্রই ফার্স্ট ক্লাস খেলতে শুরু করেছি।  ফলে আমরা অন্য দেশগুলো থেকে কিছুটা কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলাম।  সত্যি বলতে, আমরা তখন টেস্ট ক্রিকেটই খেলতে জানতাম না।  এমনকি এখনও, টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডেতে দারুণ উন্নতি করলেও টেস্টে অতটা উন্নতি করতে পারিনি।  এমন একটা সময় ছিল, যখন বড় দলগুলো আমাদের সাথে খেলার আগেই জিতে যেত।  দিন পাল্টেছে,প্রতিপক্ষ এখন আমাদেরকে সিরিয়াসলি নেয়।  ১৭ বছর পর আমরা প্রথমবারের মত ভারতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছি।  এখনো আমরা ১০০ টেস্টই খেলতে পারি নাই!

বাংলাদেশ কেন এতদিন এই সুযোগ পায়নি? খেলার মানটা খুব একটা ভালো ছিলো না, সেজন্যই কি কোনো দল এতদিন খেলতে চায়নি?

 সেটা ঠিক।  আমরা খুব একটা ভালো খেলতে পারিনি, এটা অবশ্যই একটা কারণ।  যদিও আজকাল আমরা বেশ ভালো করতে শুরু করেছি।  আমাদের বেশ কিছু দারুণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আছে।  কিন্তু দলগতভাবে আমরা সেভাবে কিছু করে উঠতে পারিনি, ব্যাটিং, বোলিং বা ফিল্ডিংয়ে এখনো ধারাবাহিক হয়ে উঠতে পারিনি।

বছর বাংলাদেশের সাথে বড় দলগুলোর সাথে বেশ কিছু টেস্ট রয়েছে  আপনার কি মনে হয়, বছরটা বাংলাদেশের জন্যব্রেক থ্রু ইয়ার হয়ে আসতে পারে?

আশা করছি।  এত বছর পর আমরা অবশেষে এক বছরে অনেকগুলো টেস্ট খেলতে পারছি।  আমাদের ইতিমধ্যে নয়টা টেস্ট শিডিউলে আছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে আরো দুটো পেতে পারি।  কিন্তু শুধু এক বছরেই তো আর হবে না।  এমনটা প্রতি বছর হতে থাকলে তবেই আমরা উন্নতি করতে পারবো।

একেবারে প্রথম টেস্টে ফিরে যাওয়া যাকপিছনে ফিরে তাকালে এখন কেমন লাগে ব্যাপারটা?

একজন খেলোয়াড় হিসেবে এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না।  প্রথম টেস্টে দলের অন্যতম সদস্য ছিলাম, এই গর্ব আমি এখনও করি... এর চেয়ে বড় কিছু আর হতে পারে না।  সেটাও আবার ভারতের সাথে! আমি সৌভাগ্যবান ছিলাম।   ভারত আর বাংলাদেশ অনেক বছর ধরেই খুব কাছাকাছি সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে, তাঁরা আমাদের বন্ধু।  আমাদের যদি আর একটু অভিজ্ঞতা থাকতো, আমরা হয়তো টেস্টটা ড্র করে ফেলতে পারতাম।  প্রথম ইনিংসে আমরা দারুণ ব্যাটিং করেছিলাম, বোলিংও বেশ ভালো হয়েছিলো।  কিন্তু সেটা ধরে রাখতে পারিনি।

( প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪০০ রান করে, কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রানেই গুটিয়ে গিয়ে ম্যাচ হারে ৯ উইকেটে। )

আমার বয়স তখন ৩২, তখন আর নিজের সেরা ফর্মে নেই আমি।  আমার ক্যারিয়ারের একেবারে শেষের দিকে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম আমি, সত্যি বলতে অদ্ভুত সময় ছিল।  বেশ কিছু বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমরা, যার জন্য আমরা সামনের দিকে এগোতে পারিনি।  দল নির্বাচন, কোচ নির্বাচনে বেশ কিছু ভুল হয়েছিলো আমাদের।  ট্রেভর চ্যাপেলের সাথে বাজে একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমাদের... এটা আমাদেরকে বেশ পিছিয়ে দিয়েছিলো।  মহসিন কামাল এবং আলি জিয়ার ক্ষেত্রেও কথাটা সত্যি।  তাঁরা সবাই খুব কম সময়ের জন্য এসেছিলো এবং কিছুই করে যেতে পারেনি।  এডি বারলো এবং গর্ডন গ্রিনিজ আমাদের দারুণ সাহায্য করেছিলো, তবে তাঁরাও বেশিদিন থাকেননি।

ট্রেভর চ্যাপেল আপনাদের আসলে কীভাবে পিছিয়ে দিয়েছিলেন?

সম্ভবত আমাদের অফিসিয়ালরা তখনো বুঝে উঠতে পারেননি, একজন কোচের মধ্যে আমাদের কি খোঁজা দরকার।  ট্রেভর চ্যাপেল ব্যাটিং-বোলিং থেকে ফিল্ডিংয়ের দিকেই বেশি নজর দিতেন, আর হুট করে নবীন ক্রিকেটারদেরকে দলে নিয়ে আসতে শুরু করলেন।  তাঁর আইডিয়াটা ছিল এমন যে, তরুনরাই ভবিষ্যতে ভালো করবে।  হ্যা, এটা ভুল কিছু নয়, তবে ব্যালান্সের একটা ব্যাপারও তো আছে! একারণেই ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল অব্দি আমরা ভালো খেলতে পারিনি।  আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এত কিছু করলাম, অথচ আমাদেরকেই এক এক করে সরিয়ে দিলো।  ট্রেভর চ্যাপেল ফিটনেস আর ফিল্ডিং-এর উপর জোর দিয়েছিলো, আর আমরা হয়তো অতটা ফিট ছিলাম না, মানছি।  কিন্তু ব্যাটিং বোলিং তো করতে জানতাম! কিন্তু উনি এসে সব পাল্টে দিলেন।  এমন নয় যে আন্ডার নাইনটিন দলটা খারাপ ছিলো, কিন্তু এটা তাঁদের জন্য হঠাৎ করে নেওয়া বড় একটা পদক্ষেপ ছিল আর সেটার সাথে মানিয়ে নিতেও অনেকটা সময় লেগে গেছে ওদের।

আপনার ফিটনেস অবশ্য কখনোই খুব একটা সুবিধার ছিলো না...

(অট্টহাস্য) হাহাহা... তা যা বলেছেন।  কিন্তু আজকাল ফিটনেস যেভাবে নিয়মিত বিশ্লেষণ চলে, তখন তো আর এসব ছিল না! আমাদের ব্যাটিং বোলিং ঠিক থাকলেই হলো, খেলতে নেমে যেতাম।  আমি জানি, ফিটনেসের দিকে নজর রাখাটা খুব ভালো ব্যাপার।  আমি কিছুটা ভাগ্যবানও। এত মোটা ছিলাম, এই যুগে হলে আমাকে তো সুযোগই দেওয়া হতো না! অবশ্যই এখনকার সময় হলে আমি আর একটু বেশি খাটতাম, কিন্তু ওই যুগে এসবের চেয়ে আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো রান করা আর উইকেট নেওয়া।

বর্তমানে আসি এবার  অনেকেরই ধারণা, বাংলাদেশে অনেকের মধ্যেই ভারত-বিদ্বেষ রয়েছে  বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ভারত-বিদ্বেষ তো রীতিমত ঘৃণার কাছাকাছি! ব্যাপারটা কেন?

আমি জানি, আপনি কি নিয়ে কথা বলছেন।  কিন্তু আমার মনে হয়, ফেসবুক এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু ব্যক্তি ‘তাসকিনের হাতে ধোনির মুন্ডু’ টাইপের বাজে কিছু কীর্তিকলাপ করেছে।  এটা একেবারেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা, এমনটা যেকোনো জায়গাতেই হতে পারে... ভারতেও! এ ব্যাপারগুলোকে এতটা সিরিয়াসলি নেওয়ার মত কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না।  ব্যক্তিগতভাবে ভারতের প্রতি আমার বিশেষ অনুরাগ রয়েছে, আর আমাদের একদম শুরুর দিকের দিনগুলোতে আমাদেরকে দারুণভাবে সাহায্য করায় ভারতের প্রতি আমার কিছুটা কৃতজ্ঞতাও রয়েছে।  শুধু ক্রিকেট নয়, রাজনৈতিকভাবেও... আমার মনে হয়, এই টেস্টটা তাঁরা দারুণ কর্মব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও কষ্ট করে হলেও সময় বের করে দিয়েছে।  তাঁরা হয়তো আমাদের সাথে টেস্ট খুব একটা খেলেনি, তবে মাঝেমধ্যেই তাঁরা বাংলাদেশে এসেছে ওয়ানডে খেলার জন্য।

এবং সেটা বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল...

হ্যা, এই সফরগুলো থেকে আমরা আর্থিকভাবে প্রচুর লাভবানও হয়েছি।  সুতরাং, হ্যা, ব্যক্তিভেদে কিছু পার্থক্য থাকলেও দেশ হিসেবে কোনো দ্বন্দ্ব নেই আমাদের।  ভারতের কাছে বাংলাদেশের অনেক ঋণ।

জাতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশ সম্ভবত এখন পর্যন্ত নিজেদের সেরা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।  হঠাৎ এতটা ভালো খেলতে শুরু করার কারণটা আসলে কি বলে মনে হয় আপনার?

বাংলাদেশে বেশ কিছু বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে, দলের পাঁচ-ছয়জন সিনিয়র সদস্য দারুণ কোয়ালিটি প্লেয়ার।  আমরা একসাথেই কাজ করি।  এখনো অনেকদূর যাওয়া বাকি, তবে আমাদের নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত দলটাকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে।  খেলোয়াড়েরা এখন সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।  আমাদের কোচ হিসেবে চান্দিকা হাতুরুসিংহে রয়েছেন, তিনিও দারুণ সাহায্য করছেন।

হাতুরুসিংহের অবদান সম্পর্কে কিছু বলুন...

শুধু ভালো একজন কোচ নিয়ে আসলেই তো আর হয়ে যায় না, তাঁকে যথেষ্ট সমর্থন দিতে হয়, তাঁর কাজকে নিয়মিত মূল্যায়নও করতে হয়।  আমরা তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি, দল এবং তিনি যখন যা চান, আমরা দিচ্ছি।  এবার নিউজিল্যান্ড সফরের আগে কোচ চেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়াতে ট্রেনিং করাতে, এজন্য ২২জন খেলোয়াড়সহ সিরিজ শুরুর ১৫ দিন আগেই পাঠিয়ে দিয়েছিলাম অস্ট্রেলিয়াতে।  ২০১৫ বিশ্বকাপের আগেও বেশ কিছুদিন আগেই আমরা চলে গিয়েছিলাম ট্রেনিং এবং খেলার জন্য।  এই ছোট্ট ছোট্ট প্ল্যানগুলো ভবিষ্যতের জন্য দারুণ সহায়ক।  আমরা নতুন একটা আন্ডার নাইনটিন চারদিনের লীগ শুরু করেছি।  ঘরোয়া লীগের কাঠামোটা আমরা ধীরে ধীরে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।  এগুলো পরে আমাদেরকে বেশ ভালো ফলাফল দেবে বলেই আশা করছি।  আমরা গত অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছিলাম, যেটা অনেক বড় একটা অর্জন।  কিন্তু এখনো অনেকটা রাস্তা পেরোনো বাকি।

বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেকাংশেই ঢাকাকেন্দ্রিক  - এটা কি একটা দুশ্চিন্তার ব্যাপার?

এটা একটা বড় সমস্যা, তবে আমরা চেষ্টা করছি খেলাটাকে ছড়িয়ে দিতে।  আর সেটার জন্য দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে আয়োজকদেরকে ইনভলভ করার চেষ্টা করছি।  মুস্তাফিজ, রুবেলের মত অনেকেই কিন্তু ঢাকার বাইরে থেকেই এসেছে।

শেষে বাংলাদেশের ফ্যানদের সম্পর্কে একটা প্রশ্ন, দেশের জন্য মানুষের এই ক্রিকেট উন্মাদনাকে কতটা জরুরী বলে মনে করেন?

ওহ, শতভাগ! তাঁরা ক্রিকেটপাগল। ক্রিকেট আজ এই পর্যায়ে উঠে এসেছে এই ভক্তদের কল্যাণেই।  আমরা যখন খেলতাম, বাড়ির দস্যি ছেলেরাই শুধু ক্রিকেট খেলতো।  এখন উল্টো মা-বাবা নিজেরাই ছেলেমেয়েদের ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত করছেন।  এটা কিন্তু খুব বড় একটা ব্যাপার।  তাঁরাই আমাদের মূল শক্তির জায়গা, আমাদের ফ্যানবেজ এবং মিডিয়া দুর্দান্ত একটা ভূমিকা পালন করে চলেছে।

- সাক্ষাৎকারটি উইজডেন ইন্ডিয়ায় প্রথম প্রকাশিত হয়। অনুবাদ করেছেন অর্ক সাহা।

Share on your Facebook
Share this post