‘পার্টি কালচারটা কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে ঘিরে সব সময়ই আছে’

খেলাধুলা ডেস্ক
নভেম্বর ৩০, ২০১৬
গত তিন দিনে ঘটলো তিনটা বিতর্কিত ঘটনা। গত তিন দিনে ঘটলো তিনটা বিতর্কিত ঘটনা।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) গত তিন দিনে ঘটলো তিনটা বিতর্কিত ঘটনা। তিন সপ্তাহ শুধু ক্রিকেটই হওয়ার পর মাঠের বাইরের ঘটনায় সরগরম বিপিএল। সংবাদমাধ্যমের কাছে চলমান বিতর্কগুলোর ব্যাখ্যা দিলেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও বোর্ড পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক।

খেলোয়াড়দের জরিমানার বিষয়টা..

দেখুন বিসিবিতে আমাদের কড়া ইনস্ট্রাকশন বিসিবি সভাপতির তরফ থেকে ছিলো। ডিসিপ্লিনের ব্যাপারো আমরা কোনো সময় কোনো ছাড় দিই না। আপনাদের মনে একটা কনফিউশন আসতে পারে এটাকি ডিসিপ্লিনারি ইস্যু নাকি ফিক্সিং ইস্যু। আমি পরিস্কার করি এটা ফিক্সিং সংক্রান্ত কোনো ঘটনা না। এটা পুরোপুরি একটা ইনডিসিপ্লিন ঘটনা ছিলো। প্রত্যেকটা হোটেলে আমাদের দুই-তিনটা টিম কাজ করে। আমাদের অ্যান্টি করাপশন ইউনিট আছে, ইনটেলিজেন্স ইউনিট আছে অ্যান্টি করাপশনের আন্ডারে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত করে দেখেছি এবংদুই প্লেয়ারের হেয়ারিং হয়েছে। হেয়ারিংয়ের পরে গ্রজ ভায়োলেন্স অব ডিসিপ্লিনের কারণে এই অ্যাকশনটা নেয়া হয়েছে আসলে।

কি ধরণের শৃংখলা ভঙ্গ হয়েছে?

একটা টার্মেই তো দিয়েছি আসলে শৃংখলাজনিত কারণ।

বিষয়টা কি মেয়েঘটিত?

এটা তো আসলে বলার মতো কিছু না। কি ধরণের শৃংখলাজনিত কারণ পাবলিকলি এটা আমরা বলতে চাচ্ছি না। বলতে চাচ্ছি না এই কারণে এটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। আমরা আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি, আমরা শাস্তি দিতে পেরেছি কি না এটাই বড় বিষয়। এটার মাধ্যমে আমরা একটা ম্যিাসেজ দিতে চেয়েছি। কারণ দেখেন এই টুর্নামেন্টে কিন্তু অনেক বিদেশি খেলোয়াড় খেলছে। আমাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড় খেলছে। অনেক আপকামিং খেলোয়াড় আছে যারা সামনে জাতীয় দলে খেলবে। এবং যে দুজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হয়েছে তারাও জাতীয় দলের। তাদেরকে দেখে কিন্তু ইয়াং খেলোয়াড়রা অনেক কিচু শিখবে। খুব যে গুরুতর ঘটনা তাও না। বাট যে জিনিস টা আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে এসব আমাদের করা উচিত না। এই ব্যাপারে আমাদের বোর্ড সভাপতির একটা কড়া নির্দেশ আমাদের ওপর সব সময়ই ছিলো।

এর আগেও এমন হয়েছে। সবাই জাতীয় দলের। কেন বারবার এমন হচ্ছে। ভবিষ্যতের জন্য কি মেসেজ থাকবে?

এটা খুবই পরিস্কার যেই অন্যায় করবে সেটা খুব অল্প সময়ে মধ্যে তদন্ত করে আমরা তাকে শাস্তি দিচ্ছি। প্লেয়াররাও কিন্তু অনেক রেক্টিফাই হয়েছে। আপনি যদি দেখেন আগের তেকে অনেক বেশি শৃংখলাপরায়ণ হয়েছে তারা। দুই একটি ইনসিডেন্স হবেই। ইনসিডেন্স হলে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি কি না এবং সেই খেলোয়াড় রেক্টিফাই করছে কি না এটা গুরুত্বপূর্ণ। দুজনের সাথেই ইতিমধ্যে আমাদের অ্যান্টি করাপশন, সিইও বসেছেন। তারা স্বীকারও করেছে। আমার ধারণা ভবিষ্যতে এই কাজ তারা আর করবে না। আমাদের আর সব যে খেলোয়াড় আছে তারাও এমন কিচু করবে না যেটা আমাদের সবার জন্য মর‌্যাদাহান হয়।

টিম হোটেলে এই ঘটনা। বিষয়টা কতটা অ্যালার্মিং?

অ্যালার্মিং দেখেই তো অ্যাকশন নিয়েছি। যেন আমাদের ইয়াং খেলোয়াড়দের মধ্যে এটা ছড়িয়ে না পড়ে। বা এই খেলোয়াড়রাও যেন আর বিপথে না যায়। তবে এটা বড় অ্যালার্মিং কিছু না। আমাদের সভাপতির একটা অর্ডার সব সময় আছে যেটা এখনো বলবত আছে। সেটা শুধু বিপিএল না, বিসিএল হোক, এনসিএল হোক, কোনো জায়গায় যদি শৃংখলাজনিত কিছু হয়ে থাকে আমরা কোনো সিদ্ধান্তেই পিছপা হইনি। এবারও যখনই আমাদের নজরে এসেছে আমরা দ্রুত হেয়ারিং করে সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়া হয়েছে।

দল জিতলে পার্টি হয়। যেটা লেট নাইট হয়ে যায়। সেখানে এসব কন্ট্রোল করা সম্ভব কি না? কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজির এই পরিবেশ পরিবর্তন করা দরকার কি না?

পার্টি কালচারটা কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে ঘিরে সব সময়ই আছে। সব দেশেই বিদ্যমান। বাংলাদেশেও একটা ম্যাচ শেষ হয় রাত ১০টায়। টিম হোটেলে যেতে যেতে ১২টা। কেউ জিতলে ১২টা পর সেলিব্রেশন করে, কেউ হারলেও খেলোয়াড়দের চাঙ্গা রাখতে সেলিব্রেশন করে। সেলিবেশনে একটা ফর্ম পার্টি হতেই পারে। পার্টি বন্ধ বা পার্টির প্রতি নেতিবাচক মনোভাব নেই আমার। সেটা যেন উশৃংখল না হয় বা আমাদের কোনো খেলৈায়াড় শৃংখলা ভেঙ্গে কোনো উশৃংখল কাজের সাথে জড়িত না হয় তার জন্য প্রতিটা টিম হোটেলে আমাদের অ্যান্টি করাপশন এন্ড ইনটেলিজেন্স ইউনিট আছে। যেটা আামদের নজরে আসছে সেটাতেই আমরা অ্যকশন নিচ্ছি। দেখেন জুপিটার আর সোনোয়ার ভাইয়ের ব্যাপারটা এসছিলো। সেটা কিন্তু আমরা তদন্ত কেরে পরের দিনই তাদের সাসপেন্ড করেছি। একটা অডিও টেপও বের হয়েছিলো। জিনিসটা কিন্তু আপনাকে তদন্ত করে বলতে হবে, খেলার আগে না পরে। না কাউজে ফাসানোর জন্য এটা দেয়া হয়েছে। কোনো কিচুই যতক্ষণ প্রমাণিত না হয় ততদিন পর‌্যন্ত এটা তদন্তধীন থাকে। আর পার্টির যেটা সেলিব্রেশনের একটা ফর্ম পার্টি হতে পারে। সেটা যেন শোভনীয় আকারে হয় সেটা দেখার জন্য প্রতিটা হোটেলে আমাদরে লোক আছে। তারা টেক কেয়ার করছে এটা।

এখন পর্যন্ত তো অভিযোগ একটাই রয়েছে...

দেখেন এটাকে আমি অভিযোগ বলবো না। প্রথম কথা, জুপিটার ঘোষ কি ওইরকম মানের প্লেয়ার? আমি এমনিই আপনাদেরকে প্রশ্ন করতেছি। প্রিমিয়ার ডিভিশনে ওর কি পারফরম্যান্স বা বিপিএলে... তার যদি এরকম ঘটনা ঘটেই থাকে, তাহলে ২৫দিন পর সে কেন ইনফর্ম করবে? তার তো উচিত ছিল এন্টি-করাপশন ইউনিটকে প্রথমেই জানানো। আর সানোয়ার ভাইয়ের যে ইস্যুটা, আমি একদম ক্লিয়ারকাট বলে দেই, সে যেহেতু ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সেরও ম্যানেজার ছিল, আর আমরা যেহেতু তদন্তও করবো, এইজন্য আমরা দুইজনকেই সাসপেন্ড করেই তাদের হেয়ারিং নিচ্ছি, তদন্ত করা হচ্ছে। কোনরকম কালোদাগ যাতে না পড়ে, এ ব্যাপারে আমরা খুবই কঠোর।

রংপুর রাইডার্সের ইস্যুতে তাদের গতবারের পেমেন্ট নিয়ে বিতর্ক ছিল। এবার যেটা হয়েছে, আপনাদের জানারই কথা, যে দুটো প্লেয়ারকে তারা রিটেইন করেছে, তাদেরকে কিছু টাকা দেয়া হয়েছে, সেইসাথে সৌম্যকেও দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাদবাকি তাদের টিমে যারা গতবার ছিলেন যেমন মুক্তার আলী বা জহুরুল ইসলাম অমি এবং আরো চার-পাচজন, তাদেরকে কিন্তু বাকি টাকাটা দেয়া হয় নাই। সম্ভবত সেই খেলোয়াড়েরা একটা লিখিত অভিযোগও দিয়েছে। সেটা নিয়ে কি রংপুরের মালিকপক্ষের সাথে আপনাদের কোন কথা হয়েছে?

দেখেন, রংপুরের ব্যাপারটা কিন্তু একটু আলাদা। তাদের মালিকানা কিন্তু বদল হয়েছে। আগে ছিল আই স্পোর্টসের কাছে, তারা বিক্রি করেছে সোহানা স্পোর্টসের কাছে। সোহানা স্পোর্টস যখন দায়িত্ব নেয় তখন তারা আমাদের সাথে লিখিত একটা চুক্তি করে যে তাদের আগের যে পাওনাটা সেটা তারা একটু সময় নিয়ে দিয়ে দিবে। এই আলোকেই তারা কিছু প্লেয়ারের পেমেন্ট করেছে, বাকিদেরকেও করে দিতে হবে। আর বাকিগুলি যদি তারা না করে, আমাদের কাছে তো তাদের ক্যাশ গ্যারান্টি আছে। অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিরা কিন্তু ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েছে, কিন্তু রংপুরের কিন্তু আমাদের কাছে এক্সট্রা এক কোটি ২৫ লাখ টাকা রাখা আছে। আমরা ওখান থেকে দিয়ে দিবো। বিপিএলের প্রত্যেক আসরেই কিন্তু এই টাকা পরিশোধ না করার ইস্যুটা আসে, এবং এটা কিন্তু আমরা সলভ করি। কোন কোন সময় বোর্ড একশনে যায়। শুধু বিপিএলে না, এবার তো প্রিমিয়ার ডিভিশনেও এটা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কিন্তু বোর্ড প্লেয়ারদের পেমেন্ট দিয়ে দিয়েছে। সো এটা কোন বড় সমস্যা না। সমস্যা থাকবে, সমস্যা আমরা সলভ করবো। যদি এটা হয়ে থাকে, তারা যদি পেমেন্ট না করে, টুর্নামেন্টের শেষে আমরা হয়তো তাদেরকে ১৫-২০ দিন সময় দিবো। এরমধ্যে ক্লিয়ার না করলে তাদের যে ক্যাশ গ্যারান্টি আছে, সেখান থেকে দিয়ে দিবো।

একজন অর্গানাইজার হিসেবে এখন পর্যন্ত বিপিএলের অগ্রগতিতে কতটুকু সন্তুষ্ট?

দেখুন, আমরা তো টুর্নামেন্টের জনপ্রিয়তার আলোকে কথা বলবো, সাথে আমাদের কি পরিমাণ ক্রিকেটার পারফর্ম করছে – দুটো ক্ষেত্রেই আমি বলবো টুর্নামেন্টটা বেশ সফল। আমাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররা খুব ভালো পারফর্ম করছে। আমি আলাদাবভাবে প্রত্যেকটা জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের সাথে কথা বলেছি ইনক্লুডিং তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ। প্রত্যেকে বলেছে, এই টুর্নামেন্টে খেলে তারা বেনিফিট পাচ্ছে। এতগুলো বড় ক্রিকেটারের সাথে নিয়মিত খেলছে, এত লম্বা সময় ধরে, এতগুলি ম্যাচ খেলা হচ্ছে। সো, প্রত্যেকটা প্লেয়ারই কিন্তু বেনিফিটেড হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ইয়াং কিছু প্লেয়ারের খেলা আমাদের ভালো লেগেছে। সেদিন মিরাজ ভালো ব্যাটিং করেছে, মেহেদী মারুফ ভালো ব্যাটিং করছে, শাহরিয়ার নাফীস কামব্যাক করলো। সো, এই একটা ব্যাপার কিন্তু আছে যে আমাদের খেলোয়াড়েরা ভালো খেলছে। আর থার্ড যে পয়েন্টটা বলবো, জনপ্রিয়তা। আইপিএলের পরেই বিপিএল কিন্তু সর্বাধিক দেশে দেখানো হচ্ছে। এবং এটার মিডিয়া রাইটসও আমরা ওইরকম দামেই বিক্রি করেছি। সো সবদিক থেকেই বলবো সো ফার, আমরা বেশ সফল। 

Share on your Facebook
Share this post