গাড়ী না থাকলে ম্যান অব দ্যা সিরিজ হয়ে লাভ কি!

খেলাধুলা ডেস্ক
নভেম্বর ২৬, ২০১৬
  সাকিব আল হাসান  সাকিব আল হাসান

প্রথম দুই আসরে বিপিএলের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। তৃতীয় আসরেও আলো ছড়িয়েছেন। তবে এবার প্রথম ৭ ম্যাচ খুবই নিষ্প্রভ কেটেছে। অবশেষে হাসতে শুরু করেছে সাকিব আল হাসানের ব্যাট।

ঝড়ো ৪১ রান করে ম্যাচসেরা হওয়ার পর বললেন নিজের মনের কথা। রসিকতা করে বললেন, গাড়ি না থাকলে ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়ে লাভ নেই

নিজের পারফরম্যান্সে খুশী?

একটু কন্ট্রিবিউশন করতে পারলে তো ভালোই লাগে। এটা স্বাভাবিক। অত বেশি ব্যাটিং করার সুযোগ পাচ্ছিলাম না, আজকে সেই সুযোগটি ছিল। এর আগে এক-দুই ম্যাচে সুযোগটি ছিল কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। আজকে সুযোগও ছিল উইকেটও ভালো ছিল।

এখন দলের লক্ষ্য কী?

আসলে টার্গেট একেক সময় একেক রকম থাকে। এ বছর একটাই টার্গেট ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া। সেটা যেভাবেই হোক আমি কট্রিবিউট করি না করি আমার কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল টিম কেমন পারফর্ম করে? আসলে টি-টোয়েন্টিতে খুব বেশি খেলোয়াড় পারফর্ম করবে না। যখন যার সুযোগ আসেবে সেই পারফর্ম করবে। সবাই যেন ভালো পারফর্ম করে। আসল লক্ষ্য ওই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের যা করা লাগবে আমরা সেটা করতে পারি। ফাইনালে যেতে হলে ভাগ্য লাগে। ভালো দল হলেই যে ফাইনাল খেলব এমন কোনো কথা নয়। ভালো টিম হওয়ার সাথে সাথে মাঠে ভালো খেলা গুরুত্বপূর্ণ পাশাপাশি ভাগ্যও লাগে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে আমরা ফাইনালে যাব তাহলে ভালোও লাগবে। এটাই মূল টার্গেট বিপিএলে আমার।

আপনার নিজের লক্ষ্য কী?

আমি যেটা বললাম, এবার বিপিএলের টার্গেট ফাইনাল খেলা, পারলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এটা ছাড়া কোনো টার্গেট নেই। গাড়ি টাড়িও দেখা যাচ্ছে না। গাড়ী না থাকলে ম্যান অব দ্যা সিরিজ হয়ে লাভ কি? (হাসি) ব্যক্তিগত লক্ষ্য থাকে অনেক সময়। কিন্তু একটা সময় একটা পর্যায়ে গিয়ে ওগুলো অতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। গুরুত্ব হচ্ছে, দলের হয়ে কতটা কন্ট্রিবিউট করা যায়। ট্রফি জেতা যায়। একটা ট্রফি জেতার সম্ভাবনা এখনও আছে আমাদের। আমরা চেষ্টা করব সবাই মিলে যেন ওটা জিততে পারি। আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্ যদি জিজ্ঞেস করেন তাহলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া আর কোনো লক্ষ্য নেই। আমার ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নেই।

 

এবার বিপিএলে নিজের পারফরম্যান্স কী হতাশাজনক?

প্রথম কথা হচ্ছে আমি কয়টা ম্যাচ ব্যাটিং করেছি। কয়টা ম্যাচে খেলার সুযোগ ছিল। সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কতটুকু আমি খেলতে পেরেছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি কয়টা উইকেট পেয়েছি...উইকেট পাওয়া না পাওয়া পুরোটাই ভাগ্যের ব্যাপার। কখনো কেউ বলতে পারবে না সে আজকে তিন উইকেট নিবে চার উইকেট নেবে। এটা পুরোটাই ভাগ্যের ব্যাপার। আমার মনে হয় আমি ভালো বোলিং করেছি। রাজশাহীর সঙ্গে এই ম্যাচের আগের ম্যাচটা বাদ দিলে আমি ভালো বোলিং করেছি। উইকেট সবাই যতটা প্রত্যাশা করে ততটা হয়নি। কিন্তু আমার আসলে ব্যক্তিগত কোন লক্ষ্য নেই এবার। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দলের পারফরম্যান্সের জন্য যা যা করা উচিত সেটা করা।

স্থানীয়রা সবাই ভালো পারফরম্যান্স করাটা সন্তোষজনক?

দেখেন আমাদের স্থানীয় সবাই রানের ভেতর রয়েছে। মারুফ ভাই ভালো ব্যাটিং করছে। নাসির যেগুলোতে সুযোগ পেয়ছে সেখানে ভালো করেছে। সৈকততো করছেই। ওর ব্যাটিংটা যতদিন দেখেছি, আমি আসলে ওকে দেখেছি আবাহনী থেকে। ওর ভেতরে আসলে অনেক বড় খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো একটা ফিনিশার হতে পারে বলে আমি মনে করি। ওকে দেখতে অতো বেশি বিগ হিটার মনে না হলেও ও অনেক বড় শটস খেলতে পারে। আমাদের দেশের অনেক ব্যাটসম্যানই এটা পারে না। এছাড়া ওর শটের অপশন অনেক বেশি। একটা ভালো ব্রেনও আছে। ও যানে কখন কিভাবে ব্যাটিং করতে হবে। সবকিছু যদি ঠিকঠাক রাখতে পারে। তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু দিতে পারবে।

 

 

দুই জন গ্রেট ক্যাপ্টেন আপনার দলে...

দুইটা দিকই আছে। অনেক সময় অনেক সহজ এবং অনেক সময় অনেক কঠিন। স্বাভাবিক ভাবেই যখন সবাই আইডিয়া দিতে থাকে তখন কনফিউজড হয়ে যাওয়ার চান্স থাকে। সেই সঙ্গে যখন কোন আইডিয়া থাকে না তখন ওদের মাথা থেকে ভালো ভালো আইডিয়া বের হতে থাকে। অবশ্যই ভালো একটা অভিজ্ঝতা। কুমার-মাহেলা  ৮-১০ বছরতো অধিনায়কত্বই করেছে। অনেক কিছুই শেখার আছে, অনেক পরিস্থিতিতে। ওদের মতো খেলোয়াড় মাঠে থাকলে অবশ্যইতো হেল্প হয়।

Share on your Facebook
Share this post