ক্রিকেট উপভোগই মূল কথা: নাসির হোসেন

দিবাকর ভরদ্বাজ
জুন ৩, ২০১৭
   আজ শনিবারের আমাদের বিশেষ অতিথি নাসির হোসেন।   আজ শনিবারের আমাদের বিশেষ অতিথি নাসির হোসেন।

১০৬*, ৪১*, ১৫*, ৬৪, ১৩৪*, ৬১*, ৫৬*!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৭টি মাত্র ম্যাচে নাসিরের রানগুলো এরকম ছিলো। একদিকে নাসির জাতীয় দলে নেই কেনো এই ‘জাতীয় প্রশ্ন’। আরেক দিকে অল্প কিছু ম্যাচ খেলেই প্রিমিয়ার লিগের সেরাদের একজন। নাসির হোসেন তাই দলে না থেকেও এখন ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আলোচনা।

এই সময়ে আজ শনিবারের আমাদের বিশেষ অতিথি নাসির হোসেন। জাতীয় দল, ডাক না পাওয়া, নিজের চিন্তা, ঢাকা লিগ, ব্যাটিং, বোলিং নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন এই অলরাউন্ডার।

এতো রান, এতোগুলো নট আউট ইনিংস! রহস্যটা কী?

রহস্য? রহস্য, রহস্য! নাহ। রহস্য খুজে পাচ্ছি না তো।

বাড়তি পরিশ্রম বা বাড়তি অনুশীলন; এমন কিছু?

যে গরম, স্বাভাবিক প্র্যাকটিসই তো করতে পারছি না। জিম করি, নেট করি। খুব ভালো প্র্র্যাকটিস হচ্ছে না। বাড়তি প্র্যাকটিস করার কোনো উপায় নেই।

দেখেন নাসির ৭ ম্যাচে ৪৭৭  রান; এর মধ্যে ৬টা নট আউট। এটা আসলে সামান্য ব্যাপার না। কিছু একটা বিশেষত্ব আছে না?

বিশেষত্ব বলতে, আমি ক্রিকেটটা খুব উপভোগ করছি। মাঝে মাঝে মনে হয় ছোটবেলার মতো মজা পাচ্ছি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে। ব্যাটিং করে, বোলিং করে; একইরকম মজা পাই। এখন হতে পারে যে, এই ভালো উপভোগ করছি বলে ফর্মটা ভালো যাচ্ছে। আর ভালো সময় তো আসেই।

এটা কী ক্যারিয়ারের সেরা সময়?

সেরা সময় হলে তো জাতীয় দলে থাকতাম... হা হা হা... (লম্বা হাসি)। আচ্ছা, সিরিয়াসলি বলি। সেরা সময় কী না বলতে পারি না। এটুকু বলতে পারি যে, জীবনের সবচেয়ে বেশী উপভোগ করছি মনে হয় ক্রিকেটটা এখন।

বড় বড় ইনিংস খেলার মূল ব্যাপার তাহলে এটাই?

সাথে আরেকটা ব্যাপার আছে। আগে তো ছয়, সাতে ব্যাট করতাম। ফলে বড় ইনিংস খেলার সুযোগ বেশী পেতাম না। এবার টিম কম্বিনেশনের কারণে চার নম্বরে ব্যাট করছি। ফলে সেট হয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারছি।

এখানে আবার একটা মজার ব্যাপার। ছয়-সাতে খেললে নট আউট থাকা সহজ। কিন্তু চারে খেলে ম্যাচ শেষ করে আসছেন।

এটা আসলে আমার রোল বলতে পারেন। টিম এভাবেই চেয়েছে। আমাদের কথা ছিলো, আমি যেখানেই ব্যাট করি না কেনো, খেলা শেষ করে আসবো। সব সময় যে টিম রোল মাঠে ঠিক রাখা যায়, তা না। তবে এবার পারছি। মাথার ভেতর এই কথাটা থাকছে যে, আমাকে পঞ্চাশ ওভার খেলে আসতে হবে। ফলে আমি স্লগিং করছি না। এই যেমন শেষ ইনিংসটায় বল খেলেছি প্রায় এক শ, নাকি তারও বেশী (আসলে ৯২); ৫৬ রান করে নট আউট ছিলাম।

এই করতে গিয়ে আপনার গড় কী হয়েছে খেয়াল করেছেন?

হ্যা, ৪৭৭ বলে শুনলাম। (হাসি)

গড়টা মাথায় থাকে?

আমি মাথায় নিয়ে ঘুরি না। তবে গত কয়েক ম্যাচে কেউ না কেউ মনে করিয়ে দেয়। লাস্ট ম্যাচে একটা ছক্কা মারলাম, সাথে সাথে বাউন্ডারির বাইরে থেকে চিৎকার শুনলাম-এভারেজ, এভারেজ। মজাই লাগে। একটা কিছু নিয়ে মজা তো হচ্ছে।

বোলিং কেমন এনজয় করছেন?

বোলিং করেছি তো তিন-চারটা ম্যাচে। খুব এনজয় করছি। বোলিং সবসময় আমি খুব এনজয় করি। কিন্তু এবার কম করছি। কারণ আমাদের দলে দুটো ছেলে আছে পারভেজ রসুল আর মেহেদী। মেহেদীকে বল দেওয়া লাগে। ওর তো ক্যারিয়ারের ব্যাপার আছে।

কেনো, আপনার নিজের ক্যারিয়ারের চিন্তা নাই!

না, না। ওইভাবে বলি নাই। মানে, ও তো সাত-আটে ব্যাট করে। ও যদি বোলিং না পায় পরে তো ও ক্ষতি হয়ে যাবে। আমি তো ব্যাটিং পাচ্ছি। আমি সাত-আটে ব্যাট করলে বল করতাম নিয়মিত। কিন্তু ওর দরকার বল করা। বুঝাতে পারছি না?

অবশ্যই পেরেছেন। একটু জাতীয় দলের প্রসঙ্গে যাই। দীর্ঘদিন পর একটা ম্যাচ খেললেন জাতীয় দলে কেমন ছিলো অভিজ্ঞতা?

মনে হচ্ছিলো, জীবনে প্রথম খেলতে নেমেছি। নামার আগে আগে ‘নাসির, নাসির’ বলে সবাই চিৎকার করে উঠলো। খুব নার্ভাস লাগছিলো। শুরুতেই একটা ক্যাচ ফেলে দিলাম। তারপর মনে হচ্ছিলো, মাটি ফাক করে ঢুকে যাই। সারা জীবন চেয়েছি সব বল, ক্যাচ যেনো আমার কাছে আসে। সেই সময় মনে হচ্ছিলো, বল যেনো না আসে। একটা ম্যাচে চান্স পেয়েছি, সবাই তাকিয়ে আছে; এসব চিন্তা হচ্ছিলো।

নাসির কেনো ন্যাশনাল টিমে নেই? এটা এখন জাতীয় প্রশ্ন। আপনার কাছে এর উত্তর আছে?

নাহ। এর উত্তর তো আমি ঠিক দিতে পারবো না। আমার কাজ খেলা। আমি খেলছি। জাতীয় দলে আমাকে রাখা হবে কি না, এটা তো নির্বাচকদের ব্যাপার।

আপনার রাগ হয় না যে, এতো ভালো খেলেও দলে নাই।

দেখেন, আমি এখন অন্যভাবে ভাবি। আমি যদি নির্বাচক থাকতাম, তাও কী আমি সবাইকে খুশী রাখতে পারতাম। তাদের তো ১৪-১৫ জনের একটা দল করতে হয়। সবাইকে তো দলে নেওয়া সম্ভব না। আমাকে নিলে কেউ না কেউ বাদ পড়তো। তখন প্রশ্নটা হতো, অমুক কেনো দলে নাই? আসলে ওনাদের কাজটাও কঠিন আছে। এখন এতো কম্পিটিশন যে, ভালো করলেই সবাইকে দলে নেওয়া যায় না।

আফসোস লাগে না? এখন ইংল্যান্ডে থাকতে পারতাম!

আফসোস তো লাগেই। আফসোস না লাগলে সেটাই তো অস্বাভাবিক। আজ আপনি একটা কাজ করছেন। কাল এর চেয়ে বেশী আয় করলেও এই কাজটা না থাকলে আফসোস লাগবে। কিন্তু আফসোস মাথায় নিয়ে ঘুরলে আমারই বিপদ।

বিপদ কেমন?

এটা আমি এখন শিখেছি। আমি অনেককে দেখেছি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে খুব ভেঙে পড়তে। পরে তারা আর কোথাও পারফরম করতে পারে না। তখন হারিয়ে যায়। আমি যদি রাতদিন জাতীয় দল নিয়ে আফসোস করি, প্রিমিয়ার লিগেও পারফরম করতে পারবো না। তখন তো পরে প্রিমিয়ার লিগেও দল পাবো না। তখন আর আফসোসেরও জায়গা থাকবে না। ওর চেয়ে রান করছি, এনজয় করছি; আলোচনায় আছি, এই ভালো তো।

অনেক পরিণত হয়ে গেছেন!      

নাহ। একটা ব্যাপার বুঝিছি, ক্রিকেটে বা জীবনে কোনো কিছুই চূড়ান্ত না। জাতীয় দলে খেলতেই হবে, দেখায়ে দিতেই হবে; এসব চিন্তা করে লাভ নেই। ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি এনজয় করতাম বলে। সেটা না করে এতোসব আফসোস করিয়া লাভ নাই।

ফেসবুক খুললেই আপনাকে নিয়ে প্রশ্ন। আপনার নিশ্চয়ই বাস্ত জীবনেও এসব শুনতে হয়। কেমন লাগে এই ‘নাসির, নাসির’ উন্মাদনা?

আমার খুব ভালো লাগে। আমাকে তো লোকজন যেখানে দেখে, এই এক কথা, আপনারে মিস করি ভাই। এটা জানেন, কপাল। আমি তো ভালো খেলেছি, আবার খারাপও খেলেছি। মানুষ পজেটিভটাই মনে রাখছে। তারা যে এমন বলে, এমন ভাবে দোয়া করে, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমার মনে হয় আর কিছু না পেলেও চলে। মানুষ ভালোবাসে, এতে আমি খুব খুশী।

আপনার কথায় এক ধরণের আত্মসমর্পন মনে হচ্ছে। জাতীয় দলে ঢোকার জন্য চ্যালেঞ্জটা নিতে চান না?

অবশ্যই চাই। ক্রিকেট যারা আমরা খেলি, সবার স্বপ্ন তো জাতীয় দলে পারমানেন্ট হওয়া। কিন্তু যেটা বললাম, রাতদিন ওটা মাথায় নিয়ে ঘুরতে চাই না। আমার কয়েকটা বন্ধু এটা বলেছে। বলে, ‘দ্যাখ, তুই জাতীয় দলে না খেললেও আমরা তোর পাশে আছি। খেললেও আছি। জাতীয় দলে না খেললেও তুই নাসির। জাতীয় দলই জীবন না।’ আমার সিনিয়র ক্রিকেটাররাও তাই বলেন। এ জন্য ভাবনাটা এরকম হয়েছে।  

-------------------

খেলাধুলা ও বিজ্ঞানচর্চা, তথা সুস্থ বিনোদনই এগিয়ে নেবে জাতিকে। আর সেই লক্ষ্যেই অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স এবং খেলাধুলা.কমের এই প্রয়াস।

অনলাইনে বিজ্ঞানবাক্স কিনতে চলে আসুন রকমারি ডট কমে- অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স

ফেসবুক পেইজ- https://www.facebook.com/OnnoRokomBigganBaksho

ইউটিউব চ্যানেল- https://www.youtube.com/channel/UCNB1ta3Sin1-TJOWSj8CK-A

Share on your Facebook
Share this post