আমার শক্তি ফিটনেসে: আবু হায়দার রনি

দিবাকর ভরদ্বাজ
মে ২৭, ২০১৭
 শনিবারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি আবু হায়দার রনি। শনিবারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি আবু হায়দার রনি।

২০১৫ বিপিএলের উজ্জল এক আকর্ষণ ছিলেন আবু হায়দার রনি।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের এই আবিষ্কার খুব দ্রুতই নিজেকে দেশের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে প্রমাণ করেন। জাতীয় দলে ঢুকে পড়ে আবার বাদও পড়েছেন। বাদ পড়লেও লড়াইটা ছাড়েননি। এবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও অন্যতম সেরা বোলার এই পেসার।

আমাদের এই শনিবারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে এবারের অতিথি সেই আবু হায়দার রনি|

রনি, স্পিনারদের রাজত্বে পেস বোলার হিসেবে এতো উইকেট কী করে পাচ্ছেন?

হা হা হা... কষ্ট করছি। এটা সত্যি যে, উইকেটে ওইভাবে আমাদের পেসারদের জন্য তেমন কিছু নেই। স্পিনাররা একটু হলেও টার্ন পাচ্ছে। আমরা কিছু পাই না। বল করা খুব কষ্ট এখানে। তারপরও আমার মনে হয়, জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর থেকে যে কষ্ট আমি অনুশীলনে করেছি, তার ফল পাচ্ছি।

সাথে তো প্রবল গরম আছে। এই গরমে আপনি টানা ৬-৭ ওভারের স্পেলও করেছেন। এটা কী করে পারছেন?

গরমে বল করতে আসলেই অনেক কষ্ট হচ্ছে। অনেকে তো অসুস্থও হয়ে পড়ছে। আমি পারছি কেনো? মনে হয় ফিটনেসটা একটা ব্যাপার। আমি বুঝতে পেরেছি, ফাস্ট বোলার হিসেবে ক্যারিয়ার লম্বা করতে হলে ফিটনেসে খুব নজর দিতে হবে। সেটা নিয়ে অনেক কাজ করেছি। উইকেট সবসময় আমার নিয়ন্ত্রনে থাকবে না, ভাগ্য লাগবে। কিন্তু ফিটনেসটা চাইলে নিজে নিয়ন্ত্রন করা যায়।

এবার একটু আপনার শুরুর গল্প শুনি। ক্রিকেটে এলেন কী করে?

এমনিতে তো ছোট বেলায় সবাই যেমন খেলতো, তেমন খেলতাম। ক্রিকেট, ফুটবল। তারপর স্কুল ক্রিকেট হলো একবার। ওখানে ক্রিকেট বলে খেলা শুরু করলাম। আমার বড় ভাইও কিছুদিন পর খেলা শুরু করলো। ও আন্ডার ফিফটির অবধি খেলেছিলো।

নেত্রকোনা থেকে সম্ভবত প্রিমিয়ার খেলাও একমাত্র ক্রিকেটার আপনি। ওখান থেকে উঠে আসাটা কতোটা কঠিন ছিলো?

বেশ কঠিন ছিলো। কারণ অন্য অনেক জেলার মতো আমাদের ওখানে খুব ক্রিকেট হতো না। সেরকম ফ্যাসিলিটিও ছিলো না। আমার উঠে আসার জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে সজল তালুকদার স্যারকে। স্যার এখন আর বেঁচে নেই। ওনাকে আমরা ‘দাদা’ বলে ডাকতাম। এই মানুষটাই আমাদের ধরে ধরে মাঠে নিয়ে যেতেন। ক্রিকেট খেলায় জোর করে ধরে রাখতেন।

যখন ঢাকায় আসতে চাইলেন ক্রিকেট খেলতে, বাড়ির প্রতিক্রিয়াটা কী ছিলো?

(হাসি) খুব খারাপ। প্রথম দিকে তো বাসা থেকে একেবারেই রাজী ছিলো না। সবাই বলতো, এসব করে কী হবে? পড়াশুনা কর। এখানেও সজল দাদা অনেক ভূমিকা রেখেছেন। উনি বাসায় গিয়ে বাবা-মাকে বোঝাতেন। অনেক বুঝিয়ে পাঠিয়েছেন। পরে আমি যখন অনুর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলে খেললাম, সবাই বুঝলো, ক্রিকেট খেলেও কিছু হওয়া সম্ভব। বাসা থেকে তখন সাপোর্ট দেওয়া শুরু করলো। এখনও সাপোর্ট পাই।

একটু অনুর্ধ্ব-১৯ দলের গল্প শুনি। সেই কাতারের বিপক্ষে ৯ উইকেট!

হ্যা, তার আগে আন্ডার সেভেনন্টিনও খেললাম। আর নাইনটিনে এশিয়া কাপে পেয়েছিলাম সেই ৯ উইকেট।

তখন আফসোস হয়নি যে, আরেকটা কেনো পেলাম না?

(হাসি) নাহ। বরং অতোগুলো উইকেটের আনন্দটাই বেশী ছিলো।

আপনি নজর কাড়লেন মূলত গতবারের আগের বিপিএলে। আপনি ওটাকে কিভাবে দেখেন?

অবশ্যই আমার টার্নিং পয়েন্ট। হয় কী, আপনি যত পরিশ্রমই করেন না কেনো, জীবনে একটা ব্রেক লাগে। সেটা আমি ওই বিপিএলে পেয়েছি। ওখানে আমার পারফরম্যান্স সবাই দেখেছে, নাম জেনেছে, নির্বাচকরা দেখেছেন। আর ওখানে বড় একটা ব্যাপার ছিলো মাশরাফি ভাইয়ের সাথে বল করেছি। উনি কাছ থেকে দেখেছেন।

জাতীয় দলেও তো এলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও গেলেন। তারপর কী হলো?

আসলে যেমন করা উচিত ছিলো, তেমন পারফরম করতে পারিনি। আমার খারাপ সময়টা ওই সময়ই এসেছিলো। জাতীয় দল অনেক কঠিন জায়গা। সেই চাহিদাটা মেটাতে পারিনি। তবে অনেক বড় একটা শিক্ষা পেয়েছি। বুঝেছি, আরেকবার ডাক পেলে টিকে থাকতে হলে পারফরম করতেই হবে।

বাদ পড়ে কষ্ট পেয়েছিলেন?

খুব। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। পরে নিজেকে বুঝিয়েছি। বলেছি যে, আমার বয়স তো কম। অনেক সুযোগ আছে সামনে। নিজেকে তৈরী করতে হবে। ওই যে বললাম, ফিটনেস নিয়ে প্রচুর কাজ করেছি। আর পারফরম করার চেষ্টা করছি। এবার একটা ব্যাপার ঠিক করেছি, ডাক যেদিনই পাই না কেনো, ডাক পেলে যেনো টিকে থাকতে পারি।  

Share on your Facebook
Share this post