সমালোচনা আমি গায়ে মাখি না: মুশফিকুর রহিম

খেলাধুলা ডেস্ক
মে ২৭, ২০১৭
 বিশেষ সাক্ষাৎকারে ‍মুখোমুখি মুশফিকুর রহিম। বিশেষ সাক্ষাৎকারে ‍মুখোমুখি মুশফিকুর রহিম।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক যুগ পূর্ণ করেছেন একদিন আগেই। ঠিক ১২ বছর আগে এই দিনে জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। ওই সময়টায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছিলেন তিনি। সেখান থেকেই সোজা যোগ দেন জাতীয় দলের সাথে। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বগুড়ার এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানকে।

যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে, তিনি মুশফিকুর রহিম। গত এক যুগে বাংলাদেশের অসংখ্য জয়ের নায়ক। এবং জীবনের ২৯ বসন্ত পার করে আসা এই খেলোয়াড় বর্তমানে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়কও বটে। এর আগে অন্য দুই ফরম্যাটেও  জাতীয় দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

আসন্ন ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে সামনে রেখে বার্মিংহ্যামের এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে একটি একান্ত সাক্ষাৎকার দেন মুশফিক। খেলাধুলা.কমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ।

ঠিক ১২ বছর আগে এই দিনে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয়েছিল আপনার। কেমন লাগছে?

- অনুভূতিটা অসাধারণ। যখন পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ বছর পার করে এসেছি তখন দারুণ লাগে। যখন জাতীয় দলে অভিষিক্ত হয়েছিলাম তখন আমি একদমই বাচ্চা ছিলাম। কিন্তু কে না চাইবে লর্ডসে অভিষেক ম্যাচ খেলতে? বাংলাদেশ অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছে। টেস্ট দলের অধিনায়ক হতে পারা, এটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়।

১২ বছরের এই ক্যারিয়ারকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

- দেখুন, আমি এটা আগেও বলেছি, আমি এই সময়ে মাত্র ৫৪টি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছি, যা একজন ক্রিকেটারের জন্য একদমই যথেষ্ট নয়। তারপরও আমি মনে করি ইতিবাচকভাবে নেয়ার মতও অনেক কিছু আছে। শ্রীলংকার বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করা আর ১০০তম ম্যাচে জিততে পারা আমার ক্যারিয়ারের খুবই বিশেষ দু’টি মুহূর্ত।

আপনাকে অনেক সমালোচনারও সম্মুখীন হতে হয়েছে...

- দেখুন, সব ক্রিকেটারকেই তার ক্যারিয়ারে কিছু ভালো আর কিছু খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমাকেও হয়েছে। কিন্তু একটা কথা আপনাকে বলতে চাই, আমরা যারা বাংলাদেশ দলে খেলি, যখনই দেশের জার্সি পরে মাঠে নামি, আমরা সবসময় আমাদের সেরাটাই দেয়ার চেষ্টা করি। আমি কিছু মনে করি না যে আমি খারাপ খেললে মানুষ তার সমালোচনা করে। কিন্তু আমরা কেউই কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ খেলি না। এই দীর্ঘ সময়ে আমি অনেক কিছুই দেখেছি, আর সেগুলো আমাকে একজন ভালো মানুষ হতে সাহায্য করেছে, একইসাথে একজন ভালো ক্রিকেটারও। ইনশাল্লাহ সামনের দিনগুলো আরও নতুন নতুন শিক্ষাগ্রহণ অব্যহত থাকবে।

ক্যারিয়ার শেষে নিজেকে ঠিক কোথায় দেখতে চান?

- আমি নিজের জন্য কখনোই কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করি না। কিন্তু যেমনটা আমি আগেও বলেছি, ৪০-৫০ এর মত গড় নিয়ে আমি আমার টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই। এবং একই সাথে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে আমার চাওয়া থাকবে, দেশে ও দেশের বাইরে ওয়ানডেতে যেমন আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে পরিণত হয়েছি, তেমনটা টেস্টেও হয়ে উঠব।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন বলে আপনার মনে হয়?

- আমরা প্রতিনিয়তই উন্নতি করছি। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে কোন নির্দিষ্ট দিনে যদি আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারি তাহলে বিশ্বের যেকোন দলকেই হারিয়ে দিতে পারি। কিন্তু বাস্তবতা মাথায় রেখেই বলছি, আমরা খুবই কঠিন একটা গ্রুপে পড়েছি। তাই আমাদেরকে সবসময়ই সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, এবং প্রতিটা ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে। অবশ্যই আমাদের ভালো খেলার সামর্থ্য রয়েছে। যদি আমরা তিন বিভাগেই ভালো করি, তবে জিততে পারব।

Share on your Facebook
Share this post