অবসর নেওয়ার ব্যাপারটা ভুল ছিল: রকিবুল হাসান

দিবাকর ভরদ্বাজ
মে ২০, ২০১৭
   শনিবারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি রকিবুল হাসান।   শনিবারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি রকিবুল হাসান।

বাংলাদেশ জাতীয় দলে একসময় ছিলেন নিয়মিত মুখ। দেশের প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরিটি তার। কিছুদিন আগেই লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও দেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা খেলেছেন। কিন্তু জাতীয় দলের রাডারেও নেই অনেকদিন হলো।

নিজের এই সব ইনিংস, জাতীয় দল, অবসরের মতো ভুল; এসব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন রকিবুল হাসান। আমাদের এই শনিবারের বিশেষ সাক্ষাতকারের আকর্ষণ হয়ে এসেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান-

১৯০ রানের ইনিংসটা দিয়ে শুরু করা যাক। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটা হাতছাড়া হলো...

হ্যাঁ, সে আফসোস তো থাকেই। তবে সেই আফসোস না করে আমি বরং ভাবছি যে, ১৯০ রান তো করতে পেরেছি। ভালো খেলেছি। যেভাবে চেয়েছি, সেভাবে মারতে পেরেছি। ফলে ইনিংসটা নিয়ে আমি খুশি।

আপনি যখন ১৯০ রানে, তখন এটা ঘটনা মনে পড়ছিল যে, আপনিই দেশের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান। আবার প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ানও হতে পারতেন। এটা কি মাথায় ছিল?

১৯০ রানে যখন পৌঁছালাম একটা চার ও একটা ছয় মেরে, তখন আমাকে বললো। ডাবল সেঞ্চুরির যে সুযোগ আছে, সেটা তো জানলাম। কিন্তু আমি আসলে ওটা নিয়ে ভাবতে পারছিলাম না। শেষ ওভারে আমাদের জয়ের জন্য ৩০ রান দরকার ছিল। এটা কঠিন হলেও অসম্ভব ছিল না। তখনও তাই জয়ের কথাই ভাবছিলাম। মনে হচ্ছিল, এই চান্সটা নিতে হবে। তাই নিজের স্কোর কি হলো, রেকর্ড কি হচ্ছে; এটা ভাবার সময় পাইনি।

জাতীয় দলে নেই আপনি প্রায় ছয় বছর হলো। গত বছর দুয়েক খুব ভালো ফর্মে আছেন। আবার ফেরার স্বপ্নটা কি দেখেন?

স্বপ্ন তো আছেই। তবে ওই টার্গেট নিয়ে তো আর খেলা যায় না। আমি তা খেলিও না। আমার কাছে যখন যেটা খেলছি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। এখন যেমন মোহামেডানকে নিয়েই ভাবছি। আমি খুব ভালো করতে থাকলে হয়তো আবার ডাক আসবে। সেটা একটা স্বপ্নপূরণ হবে। কিন্তু ডাক পাওয়ার জন্য খেললে পারফরম করাই কঠিন হবে।

এনসিএলের পর ঢাকা লিগেও এই দারুণ ফর্ম। নিজেকে নিয়ে কি আলাদা করে কাজ করেছেন কিছু?

তেমন কিছু না। ফিটনেস ধরে রাখার জন্য পরিশ্রম করি। আর টেকনিক্যালি আমি মনে করি, আমি ঠিকই আছি। ফলে খুব বেশি অ্যাডজাস্ট করার কিছু নেই।

দৃশ্যত আপনাকে বড় দৈর্ঘের ম্যাচের খেলোয়াড় মনে হয়। কিন্তু ইদানিং শর্টার ফরম্যাটেও এমন ঝড়ো সব ইনিংস খেলছেন। এটা কি নতুন রকিবুলকে দেখছি আমরা?

নাহ। তা আমি বলবো না। আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকে অ্যাটাকিং খেলোয়াড়ই ছিলাম। অনুর্ধ্ব-১৯ দলে ওপেনিং করেছি। ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশন কাজে লাগিয়েছি। জাতীয় দলেও আমার অ্যাটাকিং সব ইনিংস আছে।

কিন্তু আপনাকে নিয়ে ওভারঅল ধারণা তো অন্যরকম...

সেটা দুটো কারণে মনে হয়। এক নম্বর হচ্ছে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে আমার বড় বড় কিছু ইনিংস আছে। সে জন্য এমন একটা ধারণা হয়েছে। আর জাতীয় দলে মাঝে মাঝে আমার উইকেট ধরে রাখার জন্য খেলতে হয়েছে। সেটা আসলে দলেরই সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা যখন যে দলে খেলি টিম ডিসিশন অনুযায়ী ব্যাট করতে হয়। আমি মনে করি, যার বেসিক ঠিক আছে, সে সব ধরনের ক্রিকেটই খেলতে পারবে।

বয়স খুব বেশি না। জাতীয় দলের স্বপ্নটা কতো তীব্র?

তীব্রতার কথা না বলে আমি বলি, আমি তৈরি আছি। তিন ফরম্যাটেই আমি সেরা পারফরম করার জন্য তৈরি। সেভাবেই যেখানে সুযোগ পাচ্ছি, পারফরম করছি।

জাতীয় দলের খেলা দেখলে মনে হয় না যে, ওখানে আমিও থাকতে পারতাম?

এটা ঠিক মনে হয় না। কারণ আমি বাস্তবতাটা বুঝি। আমি কার জায়গায় থাকবো? মুশফিক, সাব্বির? ওরা আমার চেয়ে অনেক ভালো খেলছে এখন। জাতীয় দলে স্কোয়াডে যারা আছে, তারা অনেক ভালো করছে। ফলে আমি যখন ভাবি, এটাই ভাবি যে, ওদের চেয়েও ভালো কিছু করতে হবে, তাহলে হয়তো ডাক পেতে পারি।

নিজের পারফরম্যান্সটা ঠিকমতো করে গেলে তো জাতীয় দল থেকে বাদই পড়তে হতো না...

হা হা হা... সেটা বলতে পারেন। সেটা তো হয়নি। সে আফসোস করে লাভ নেই। এখন আমাকে অনেক ভালো করতে হবে। সেটাই করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সেই যে অবসর নিয়ে ফেলাটা, ওটা আপনাকে পিছিয়ে দিয়েছে বলে মনে হয়?

হয়তো। মানুষের জীবনের সব ভুলের মাসুল দিতে হয়। ব্যাপারটা ভুল ছিলো। তবে তারপরও কিন্তু আমি জাতীয় দলে খেলেছি। ফলে ওটাকে মনে রাখার কিছু নেই।

Share on your Facebook
Share this post