জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখি: রবিউল ইসলাম রবি

মাহিয়ান মিশুক
মে ১৩, ২০১৭
   দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন তারকা রবিউল ইসলাম রবি।    দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন তারকা রবিউল ইসলাম রবি।

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন তারকা রবিউল ইসলাম রবি। চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে সাত ম্যাচ খেলে খেলাঘর সমাজ কল্যান সংস্থার ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান করেছেন ৩৯৬ রান। এর মধ্যে আছে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফ সেঞ্চুরি।

শুধু তাই নয়, অফস্পিন বোলিংয়ে নিয়েছেন সাত উইকেট। শনিবারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মুখোমুখি হয়ে খোলাখুলি আলোচনা করলেন নিজের ক্রিকেটীয় জীবন নিয়ে। জানালেন জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নের কথা। আর এর জন্য পথে যে বাঁধা আছে তার জন্যও প্রস্তুত ২৬ বছর বয়সী লড়াকু এই ক্রিকেটার।

ক্যারিয়ারটা কোথা থেকে শুরু হল? মানে ক্রিকেট জীবনের শুরুর কথা যদি একটু বলতেন...

- আমি খেলাঘরেই আছি ১৫ বছর হল। এর মধ্যে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে একবছর প্রিমিয়ার লিগ খেলেছি। এর বাদে খেলাঘরের হয়ে দীর্ঘকাল প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে খেলেছি। এবারও এই দলটাকে নিয়ে প্রথম বিভাগ থেকে এসেছি প্রিমিয়ার লিগে।

চলতি প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহীক রান করে যাচ্ছেন। এটা আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং?

নিয়মিত রান করাটা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। আমি চেষ্টা করেছি ডিসিপ্লিনড থেকে খেলতে। সেটা করতে পেরেছি বলেই সাফল্য এসেছে। আর একই সাথে আমাকে কন্ডিশনের সাথেও মানিয়ে নিতে হয়। এখন অনেক গরম। এই অবস্থানেই ওপেনে ব্যাট করতে হয়। পরে বল করতে হয় ১০ ওভার। সাথে ৫০ ওভার ফিল্ডিং করার ধকল তো আছেই।

এর সাথে গরমে খেলে যাওয়াটাও নিশ্চয়ই কঠিন...

হ্যা, তা তো বটেই। এবার যা গরম নেমেছে। এই পরিস্থিতি সুস্থ থেকে খেলে যাওয়াটাও বড় ব্যাপার। আর সাথে দায়িত্ব নিয়ে পারফরম করে যাওয়াটা অবশ্যই কঠিন।

তুলনামূলক দুর্বল একটা দলে খেলেন। সেটাও কি একটু চাপ বাড়িয়ে দেয় না?

খেলাঘর নি:সন্দেহে অন্যান্য দলগুলোর চেয়ে তুলনামূলক দল। অন্যান্য দলগুলোর দিকে তাকান, সবার এক গাদা জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রিকেটার। আমাকে তাই জাতীয় দলের মানের বোলারদের বিপক্ষেই রান করতে হয়। তবে, আমাদের খেলাঘর শুরুর দিকে কিন্তু ভালো ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনে করেছিল। সেই দলে আমি ছিলাম। কিন্তু, দলবদলের পাঁচদিন আগে সেই লাইনআপ ভেঙে যায়। তখন আমিও অন্য কোন ওয়ে খুজে পাচ্ছিলাম না যে, কোথায় যাব কোথায় খেলব। তখন থেকে গেলাম। সেই দল থাকলে খুব ভালো হতো। আমরা ভালোভাবে লড়াই করতে পারতাম। সেটা হয়নি। তবে, ম্যানেজমেন্ট আমার সাথে আলাপ করেছে। ওরা চেয়েছে আমি থেকে যাই। সেজন্যই আছি।

লিগ শেষে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

আমি রাউন্ড বাই রাউন্ড চিন্তা করছি। প্রতি রাউন্ডেই রান করতে চাই। প্রিমিয়ার লিগ সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্যে থেকেই রান করতে হবে। আশা করি, লিগ শেষ হলেও রান সংগ্রহের দিক থেকে ওপরের দিকেই থাকতে পারবো। আমার লক্ষ্য সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার। আমার বন্ধু আছে অভিষেক (মিত্র), খেলা না থাকলে প্রায়দিনই বিকালে আমরা আড্ডা দেই। ওর সাথে এসব নিয়ে অনেক খুনসুটি হয়।

তবে এখন নিয়মিত রান পাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে জাতীয় দলটাও নিশ্চয়ই খুব দূরের পথ নয়?

আমরা যারা এক সাথে খেলি, তারা সবাই কম বেশি জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখি। আসলে ওটাই তো চূড়ান্ত ঠিকানা। এর জন্যই তো খেলি। আশা করি একদিন সেই সুযোগ আসবে।

আপনার বাড়ি তো খুলনায়। সাম্প্রতিক সময়ে তো ওই এলাকার অনেক ক্রিকেটার খেলছেন জাতীয় দলে...

হ্যা, নি:সন্দেহে এটা আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণার বিষয়। তাদের সাথে খেলতে পারলে সেটা আমার জন্য বড় একটা প্রাপ্তি হবে। এর জন্যই লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছি, আশা করি পারবো।

২০০৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক। এর মধ্যে খেলেছেন মাত্র ম্যাচ। সুযোগ কম পেয়েছেন বলে মনে হয়?

আসলে নিয়মিত পারফরম করতে পারলে ভালো হয়। আমি যেমন জাতীয় লিগে খুলনার ক্রিকেটার হিসেবে খুলনার হয়ে খেলি। কিন্তু, জাতীয় দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার খুলনার হওয়ায় বিভাগের হয়ে সেভাবে সুযোগ হয়না। সেদিক থেকে বলবো, একটু পিছিয়ে পড়েছি। আসলে ভালো করতে হলে আগে দরকার সুযোগ। যদি সুযোগ পাই তাহলে চেষ্টা থাকে ভালো করার। এখন প্রিমিয়ারে যেমন খেলার সুযোগ পাচ্ছি, প্রতিটি ম্যাচেই নিজ থেকে একটা পরিকল্পনা করতে পারছি। ম্যাচে কি করব। কি করা উচিৎ। নিজের মতো করে খেলতে পারলে আমার মনে হয় আমি ভালো করব।

ওপেনিং ব্যাটসম্যান না অফ স্পিনার - কোন পরিচয়টা আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দকর?

আমি পুরোদস্তর ব্যাটসম্যান। সাথে বোলিংটাও অবশ্যই এনজয় করি। কিন্তু, ব্যাটসম্যান পরিচয়টাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব নেই। আর সব পরিকল্পনাও এই ব্যাটিংকে ঘিরেই।

প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই শেষ করি। খেলাঘরকে কতদূর নিতে চান?

এবারই প্রথম বিভাগ থেকে আসলাম। আমাদের প্রথমত লক্ষ্য তাই সুপার লিগ নিশ্চিত। সেভাবেই আমরা খেলছি। সেই চিন্তা মাথায় আছে, আশা করি এই চেষ্টায় আমরা সফল হবো। এর আগেও দুইবার প্রথম বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রিমিয়ারে এসে স্থায়ী হতে পারেনি খেলাঘর। আমরা চাইবো এবার সুপার লিগে খেলতে। অন্তত, এবার যেন রেলিগেশনে খড়গ নেমে না আসে।

Share on your Facebook
Share this post