‘ক্রিকেট এখন রক্তের সাথে মিশে গেছে’

আল-মামুন
মে ৬, ২০১৭
 শনিবারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি শামসুর রহমান শুভ। শনিবারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি শামসুর রহমান শুভ।

শফিকুর রহমান নিজে একজন ফুটবলার ছিলেন। তার ইচ্ছে ছিলো ছেলে শামসুর রহমান শুভকেও ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলবেন। সেই ইচ্ছে থেকেই ছেলেকে খেলার মাঠে নিয়মিত নিয়ে যেতেন। কিন্তু বাবা ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট করলেও সখের বসে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন শুভ। একটা সময়ে ক্রিকেট কেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে তিন ফরম্যাটে ২০টি ম্যাচ খেলেছেন শামসুর রহমান। টেস্টে তার সেঞ্চুরিও আছে। কিন্তু পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার অভাবে জাতীয় দলে নিয়মিত হতে পারেননি। খেলাধুলা.কমকে দেয়া শনিবারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই অলরাউন্ডার, নিজের ক্রিকেটার হয়ে উঠা এবং আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

কিভাবে ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে গেলেন?

আমি আসলে, ১৯৯৯ সালের কথা, আমার বাবা তখন যশোরে চাকরী করতেন। তখন আমি এলাকাতেই খেলতাম। তখন আমি টেপ টেনিস খেলতে বেশি পছন্দ করতাম। টেপ টেনিসে ভালো খেলতাম। টেপ টেনিসে ভালো করায় যশোরোর একটা ক্লাব আমাকে ক্রিকেট বলে খেলার প্রস্তাব দেয়। তো যখন ক্রিকেট খেলি তখন ভালো করি। আমার কাজিন আমাকে বিকেএসপিতে ভর্তি করে দেয়ার জন্য আমার আব্বু-আম্মুকে পরামর্শ দেন। তার কথা মতো ২০০০ সালে বাবা আমাকে বিকেএসপিতে ভর্তি করে দেন। 

কোন ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট বলে প্রথম খেলা শুরু?

যশোরের টার্গেট একাদশ, হোপের। এই ক্লাবের হয়ে আমি প্রথম ক্রিকেট বলে খেলা শুরু করি। এখান থেকেই আমার ক্রিকেট বলে খেলা শুরু। তখন আমি ক্লাস সিক্সে-অথবা সেভেনে পড়াশোনা করতাম।  আমার এখনও মনে আছে তখন বাংলাদেশ ১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলছিলো। 

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আপনার ক্রিকেটীয় রোল কি ছিলো?

আসলে তখনতো সখের বসে ক্রিকেট খেলতাম। তখন ওইভাবে চিন্তা করিনি। ক্রিকেট নিয়ে এতটা সিরিয়াস হবো তা কখনো ভাবিনি। তাছাড়া ক্রিকেট এতটা জনপ্রিয় হবে তা কল্পনাও করিনি। তখন ক্রিকেট খেলতাম সখে। এখন সখই নয়, ক্রিকেট এখন প্রফেশনাল হয়ে গেছে। এমন অবস্থা হয়েছে, ক্রিকেট এখন রক্তের সাথে মিশে গেছে। তখনকার সময়ে ক্রিকেট খেলা আর এখন ক্রিকেট খেলার মধ্যে অনেক তফাৎ। তখনও ওপেনিংয়ে খেলতাম। এখন যেমন খেলছি। এই জায়টা আসলে একই আছে।

বাবা ফুটবলার ছিলেন, অথচ আপনি বেছে নিলেন ক্রিকেট...?

আমি আসলে যে, ক্রিকেটই খেলব এমন না! আমার বাবা শফিকুর রহমান ফুটবল খেলতেন। আমি আসলে সালটা বলতে পারব না। সেটা অনেক আগের কথা। হয়ত ব্রাদার্স ইউনিয়ন অথবা মুক্তিযোদ্ধা এই দুই ক্লাবের হয়ে বাবা খেলেছেন। সেই সময় আমি ক্রিকেট-ফুটবল দুটোই খেলতাম। এমনও হয়েছে সকালে খেলতাম ফুটবল আর বিকেলে খেলতাম ক্রিকেট। তখন দুটাই খেলতাম। বাবা আসলে খেলাধুলার প্রতি বেশি আকৃষ্ট ছিলেন। বাবার ইচ্ছা ছিলো আমিও যেন তার মতো খেলোয়াড় হই। খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত হই। আমি সখের বসে ক্রিকেট খেলতাম। ক্রিকেই আমার বেশি ভালো আগে। যে কারণে আর ছাড়তে পারিনি।

আপনার বাবা চাইতেন না যে, তার মতো ফুটবলার হন?

হ্যা চাইতেন। আমাকে মানুষ, খেলোয়াড় হিসেবে চিনবে এরকম না। তখন খেলতাম সখের বসে। এখন জিনিসটা ভিন্ন হয়ে গেছে। এখন যেখানেই খেলি দেশের জন্য খেলি। তখনকার সিসুয়েশন এখনকার তুলনায় অনেক পার্থক্য ছিলো।

আমরা কি তাহল বলতে পারি, ফুটবলার থেকে ক্রিকেটার শুভ?

এরকম না, বলতে পারেন সখের বসে ক্রিকেটার হয়ে গেলেন শামসুর রহমান শুভ। বাবা ফুটবালার হলেও ছেলে বেছে নিয়েছেন ক্রিকেট।

বিকেএসপির জীবন নিয়ে যদি বলেন...

আমি প্রথম ২০০০ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হই। আমার সাথে ছিলো মুশফিক, সোহরাওয়ার্দী শুভ, আমরা একি ব্যাচের প্লোয়াড়। বিকেএসপির হয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার সোভাগ্য আমার হয়নি। তবে ২০০৩/৪ সালে আমি বিকেএসপির বর্ষ সেরা খেলোয়াড় হয়েছি। তখন আসলে এই জিনিসটা ছিলো। আমর মনে হয় ২০০০ সাল থেকে এটা শুরু হয়েছিলো যে, প্রতি বছর বেস্ট প্লেয়াড়ের একটা অ্যাওয়ার্ড দিতো। সেটা আমি পেয়েছি।

এটাই কি আপনার ক্যারিয়ারের প্রথম কোন পুরস্কার?

বড় কোন অ্যাওয়ার্ডের মধ্যে বিকেএসপিরটা অনেক বড় একটা পুরস্কার। যে প্রতিষ্ঠানে হয়ে খেলা শিখেছি, যে প্রতিষ্ঠান আমাকে পরিচিতি করেছে দেশের মানুষের কাছে। সে প্রতিষ্ঠান থেকে বেস্ট প্লেয়াড় হওয়াটা সত্যিই অনেক বড় ব্যাপার। আসলে বিকেএসপিতে অনেক স্টুডেন্ট থাকে, তাদের মধ্য থেকে সেরা খেলোয়াড় হওয়াটা সত্যিই গর্বের বিষয়। অন্যান্য গেমের চেয়ে বিকেএসপিতে ক্রিকেটের প্লেয়াড় অনেক বেশি থাকে সেই দিকে থেকে বললে ৬০০-৭০০ প্লেয়াড়ের মধ্য থেকে বেস্ট প্লেয়াড় হওয়াটা অনেক বড় ব্যাপার। এটা অনেক সম্মানেরও। কারণ তখন বিকেএসপিতে রার্নিং পড়াশুনা করতেন নাঈম ভাইরা, নাদিফ। তারপর  নাজমুল, মুশফিক। আরো অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা বাংলাদেশের হয়ে খেছেলেন, বা খেলছেন, তাদের মধ্য থেকে সেরা খেলোয়াড় হওয়াটা অনেক বড় ব্যাপার। তাছাড়া আমি তখন মনে হয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলি। এত ছোট থাকতে এমন বড় সম্মান পাওয়াটা সত্যিই বড় ব্যাপার।

ঘরোয়া ক্রিকেটে আপনার প্রথম ক্লাব?

আমার প্রথম ক্লাব হলো লালমাটিয়া ক্লাব। সম্ভবত ২০০৩/৪ মৌসুমে লালমাটিয়া ক্লাবের প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে খেলেছি। এরপর সরাসির প্রিমিয়ার লিগে খেলেছি মোহামোডানে।

সম্প্রতি লালমাটিয়া ক্লাবের একজন বোলার ৪ বলে ৯২ রান দিয়ে দেশের ক্রিকেটকে সমালোচিত করেছেন?

আসলে খেলা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। এটা খুবই বাজে একটা ব্যাপার। খেলোয়াড় হিসেবে সে যেই করেছে, সেটা সত্যিই দুঃখ জনক। তবে প্লেয়াড় হিসেবে কষ্ট লাগে সে দশ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলো। এরকম একটা ক্লাব যারা গত ৪০ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছে, খেলোয়াড় সাপ্লাই দিচ্ছে। তো এটা আসলে খুবই দুঃখ জনক। যেটা হয়েছে সেটা আসলেই বাজে একটা বিষয়।

লালমাটিয়া ক্লাব থেকে সরাসরি প্রিমিয়ারে মোহামেডানে খেলা। কল্পনার মতো ছিলো কি?

দেখেন আমার স্পষ্ট মনে আছে। যখন আমি ফাস্ট ডিভিশিন লিগটা শেষ করি, তখন আমি অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলি। ফাস্ট আমাকে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ফাহিম স্যার (নাজমুল আবেদীন ফাহিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ন্যাশনাল ম্যানেজার) আমাকে নিয়ে যান। আমাকে অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়া কাপের জন্য সিলেক্ট করেন। তখন আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। কারণ এর আগে অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ট্যুরগুলোতে আমি সব সময় স্যান্ডবাই থাকতাম। তো স্যার যখন অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়া কাপের জন্য সিলেক্ট করেন, তখন আমি এশিয়া কাপে খেলে বাংলাদেশের হয়ে সেরা রান সংগ্রাহক হই। তারপর থেকেই আসলে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাইতে হয়নি। তারপরে আমি ড্যাভলপম্যান্ট স্কোয়াডে সুযোগ পাই, বাংলাদেশ প্রথম যখন এইচপি স্কোয়াড করে, সেখানে চান্স পাই। এরপর নিউজল্যান্ড যখন বাংলাদেশে প্রথম আসে, তখন তিন দিনের ম্যাচ ছিলো, আমার মনে আছে তখন আমি ৩৭ করে আউট হয়ে গেছি। আমাকে তখন খন্দকার জামিল ভাই (বিসিবির তৎকালী পরিচালক) প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের হয়ে খেলার জন্য ওনার অফিসে ডাকেন। তখন প্রিন্স ভাই ছিলেন মোহামেডানের সিলেক্টর। ওনারা দুইজন আমাকে মোহামেডানের জন্য সিলেক্ট করেন। আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে, এত অল্প বয়সে এত বড় একটা ক্লাবে খেলার সুযোগ পাওয়াটা, এটা আমি কখনো কল্পনা করিনি।

মোহামেডানের পর...?

মোহামেডানে টানা ছয় থেকে সাত বছর প্রিমিয়ার লিগে খেলেছি। এক বছর সুর্য তরুণে খেলেছি। এক বছর ওল্ডডিওএইচএস (বর্তমানে প্রাইম ব্যাংক), একবছর কলাবাগানের হয়ে খেলেছি। এই বছর প্রিমিয়ারে আবার মোহামেডানে খেলছি। এই নিয়ে মোহামেডানে নয় বছর খেলছি।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে?

যুব বিশ্বকাপে আমি ২০০৪ সালে খেলেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আমি বেস্ট প্লেয়াড় হই। তারপর যুব দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে পরপর দুইটা ম্যাচে সেঞ্চুরি করি। ওখানেও আমি বেস্ট প্লেয়াড় হই। এজ লেভেলটা বলতে পারেন আমার খুবই ভালো কেটেছে। বয়স ভিত্তিক দলে আমি অসম্ভব পরিমান ভালো ক্রিকেট খেলেছি।

জাতীয় দলে অভিষেক?

জাতীয় দলে খেলার জন্য ২০০৯/১০ মৌসুমে ডাক পাই। তখন আসলে তেমন কিছুই আমি বুঝতে পারিনি। আসলে ন্যাশনাল টিমটা কেমন, ড্রেসিংরুমের অবস্থা কেমন। তো আসলে তখনকার পরিবেশ ছিলে এক রকম এখন অন্যরকম। ২০১৩ সালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আমার অভিষেক হয়। অভিষেকটা আমার তেমন ভালো যায়নি। বিপিএলে ভালো খেলার কারণে আমি টি-টোয়েন্টিতে চান্স পেয়ে ছিলাম। প্রথম ম্যাচে প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছি, আমি আসলে বুঝতেই পারিনি যে কি হয়ে গেছে। তারপর যখন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের মাঠে খেলতে নামি। ঐ ম্যাচে আমি আর সাকিব ভাই মিলে ( দ্বিতীয় উইকেটে) ১১৮ রানের বড় একটা পার্টনারশিপ গড়েছি। আমরা দুইজনই ফিফটি করেছি। কিন্তু ৬ রানে হেরে যাই আমরা। তারপর যখন ওয়ানডেতে আমার অভিষেক হয়। তো আসলে মনে রাখার মতো আসলে অনেক কিছুই ছিলো।

আপনার কি মনে হয় সেভাবে সুযোগ পাননি, অন্যরা যেভাবে সুযোগ পেয়েছেন?

দেখেন ন্যাশনাল টিম জায়টা অনেক ডিফরেন্ট। আপনি বলতে পারেননা এই প্লেয়াড় চলবে না, বা এই প্লেয়াড় ভালো করবে। যাকে ভালো খেলবে মনে হবে সে খারাপ করবে। আবার যে খারাপ করবে মনে হবে সেও ভালো করতে পারে। সবচেয়ে বড় জিনিস হলো যে, সৌম্য সরকার বেরি লাকি ক্রিকেটার। আপনি হয়ত বা ৫০ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে সৌম্যর মতো একজন পাবেন যে, ইন্টারন্যাশনার ক্রিকেটে এরকম লাকি। দুই বছর ও আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে এরকম পারফরম্যান্স করেছে। যে পারফরম্যান্স নিয়ে জাতীয় দলে খেলার জন্য ওকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আমি আগেও বলছি যে, সৌম্য হলো ৫০-৬০টা খেলোয়াড়ের চেয়ে লাকি প্লেয়াড়। তারপরও আমি বলব সৌম্য বাংলাদেশের হয়ে যে খেলাটা খেলেছে সেটা এক্সট্রা অর্ডনারি। আসলে ঐ কারণে কিন্তু ওর জন্য, আসলে দেখেন কিন্তু এখকার খেলার ধরণ পরিবর্তন হয়েছে তিনজন ক্রিকেটারের কারণে। এক মুস্তাফিজুর রহমান, দুই সাব্বির এবং তিন হলো সৌম্য। এই তিনটা খেলোয়াড়ের কারণে কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের চেহারা পাল্টে গেছে। একারণে হয় সৌম্য সুযোগ পেয়েছে। আর আমরা যখন খেলেছি, তখন হয়ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হয়েছে। কিন্তু দলগত পারফরম্যান্স হয়নি। এই দিক থেকে আমি খুবই আনলাকি। ঐই সময় যদি টিম জিতত তাহলে এত পরিবর্তন হতো না। এতকিছু হইত না। তো সেই দিক থেকে এটা আসলে লাকের ব্যাপার।

আপনার যখন জাতীয় দলে অভিষেক হয়, তখন অনেকেই বলাবলি করছিলো ভালো মানের একটা প্লেয়াড় এসেছে, যার ফিটনেস, ভালো শর্টস খেলার দক্ষতা আছে...?

আসলে দেখেন এসব প্লেয়াড়রা যখন খেলে, তখন মানুষ বলবে ক্লাসিক। আবার এসব খেলোযাড় যখন খেলবে না, তখন মনে হবে এর কোন কোয়ালিটিই নাই। তো আসলে জিনিসটা হচ্ছে এটাই। যারা কিন্তু এটাকিং ক্রিকেট খেলে, তারা কিন্তু আউটই হয় ঐইভাবে।

জাতীয় দলের সেই আবহ, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এগুলো এখনও মিস করেন?

অবশ্যই এটা মিস করি। করার মতোই জায়গা। এখনও ড্রেসিংরুম, বন্ধুদের সাথে ড্রেসিংরুমে আড্ডা, টিম হোটেলে, বাসে। জাতীয় দলের সাথে থাকলে যেই সময়টা কাটে, সেটা কখনই ভুলে যাওয়ার না। এটা সবাই মিস করবে। তো আমিও মিস করি।

আপনার কি মনে হয় জাতীয় দলে এখন সুযোগ পাওয়া অনেক চ্যালেঞ্জিং?

আসলে দেখেন আপনি যদি ভালো খেলেন। আর আপনাকে নেয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে গ্যাপ তৈরি হবেই। আপনাকে যদি আমার নেয়ার ইচ্ছা না থাকে, তাহলে গ্যাপ কখনই হবে না। এক ইচ্ছা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত অসম্ভব কিছু না। ঢোকাটা সম্ভব। এই আরকি।

জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখেন না?

অবশ্যই দেখি, আমি যদি এখন আবার সুযোগ পাই। আমার মনে হয় আমি আগের চেয়ে ভালো করব। কারণ আমি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিনত। তো সেই হিসেবে যদি বলি যখন আমি খেলেছি তখন এক রকম পরিস্থিতি ছিলো, এখন অন্যরকম। এখন আমি খেলাটা বুঝতে পারি। তখন ঐই রকম বুঝতাম না। কারণ সিসুয়েশন না বুঝলে কিন্তু সমস্যা। সিসুয়েশন বুঝলে খেলাটায় অনেক উন্নতি হয়। আমি মনে করি এখন আমি অনেক উন্নতি করেছি। জাতীয় দলে খেলার তো অবশ্যই স্বপ্ন দেখি। যদি কখনো সুযোগ পাই তাহলে আমি চেষ্টা করবো। যেগুলো করতে পারিনি সেগুলো ভালো ভাবে করতে পারবো। এখন আমি মনে করি দেশকে দেয়ার আমার আরো অনেক কিছু আছে। নিজেকের ঐই রমক ক্যাপাবল মনে করি।

দীর্ঘ দিন মোহামেডানে খেলেছেন, এবারও খেলছেন। দলের হয়ে আপনার লক্ষ্য?

এবার ইনশাআল্লাহ দল হিসেবে আমরা অনেক ভালো। চেষ্টা থাকবে যে ম্যক্সিমাম যতো করা যায় আরকি। আমরা সুন্দর একটা ম্যাচ জিতেছি। (১৩৫ রানের পুঁজি নিয়েও ৫১ রানে জিতেছি) যেটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। যে রুপগঞ্জের সাথে আমরা এরকম ভাবে জিতব। তো সেই হচ্ছে ব্যাপার।

সম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া লিগে ভালো পারফরম্যান্স করেছেন, চলতি লিগে আপনার লক্ষ্য?

লক্ষ্যতো অবশ্যই ভালো কিছু করা, তাই না। সামনে অনেক লম্বা সিজন পড়ে আছে। তো এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। অবশ্যই চেষ্টা থাকবে আগের চেয়ে ভালো কিছু করার।

Share on your Facebook
Share this post