‘পারফরম করতে হবে তাই করি, এই আর কী’

আল-মামুন
এপ্রিল ৩০, ২০১৭
 নিজের ফর্ম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মুখোমুখি হলেন খেলাধুলা.কমের। নিজের ফর্ম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মুখোমুখি হলেন খেলাধুলা.কমের।

একটা সময়ে জাতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশ দলের বহু ম্যাচে জয়ের নায়কও ছিলেন। হঠাৎই ছন্দপতন, বাদ পড়ে যান দল থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া লিগে ভালো খেলার পরও জাতীয় দলে কাংখিত সুযোগ পাচ্ছেন না ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও আছেন দারুণ ফর্মে। এখন অবধি লিগের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী শেখ জামালের বাঁ-হাতি এই স্পিনার। নিজের ফর্ম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মুখোমুখি হলেন খেলাধুলা.কমের।

পাঁচ ম্যাচে ১৬ উইকেট, এখনও পর্যন্ত লিগের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। এই বয়সে এসে এটা কতটা তৃপ্তিদায়ক?

আসলে এটা নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। চেষ্টা করি ভালো খেলার। দলের জয়ের পেছনে অবদান রাখার। এই আরকি। আর তেমন কিছু, বলার নেই।

আজ ২২ রানে ৫ উইকেট পেলেন, এদিনের বোলিংটা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

এখন প্রিমিয়ার লিগের সব খেলাই কঠিন। কারণ প্রত্যেকটা দলেই কিন্তু ভালো খেলোয়াড় আছে। বিদেশি খেলোয়াড় থাকে। তো ডেফিনেটলি প্রত্যেকটা খেলাই কঠিন। ভালো কিছু দলও আছে। একটা থেকে আরেকটা উনিশ আর বিশ। এখানে যে কেউ যে কাউকে হারাতে পারে। তা করেছেও।

আবাহনী, প্রাইম দোলেশ্বরের পর আজ পারটেক্সকে হারালেন। ধারাবাহীক জয়ের পেছনে রহস্যটা কি?

আমাদের আসলে একটা ব্যালেন্স টিম আছে। সবাই মিলে ভালো করলে দিন শেষে একটা ভালো রেজাল্ট আসে। এই আরকি। আমাদের দলের সবাই যার যার জায়গা থেকে নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করছে। সবাই মোটামুটি ভালো করছে। আমার মনে হয় এ কারণেই আমরা ধারাবাহিক জয়ে আছি।

প্রিমিয়ার লিগে শেখ জামালকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

লক্ষ্য সেট করে আসলে খেলা কঠিন। সেটা প্রিমিয়ারে বলেন, আর অন্য কোন টুর্নাম্যান্টেই বলেন। তবে আমি চাইবো ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলতে। আমাদের বিপক্ষে যদি কাউকে জিততে হয় তাহলে আমাদের চেয়ে ভালো খেলতে হবে। আমরা সহজেই চাইব না ম্যাচে হেরে যেতে।

চলতি মৌসুমে বিসিএলে ছয় ম্যাচে ২৪, জাতীয় লিগে পাঁচ ম্যাচে ১৮ উইকেট শিকার করলেন। এখন প্রিমিয়ারে আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কি?

সব সময়ই লক্ষ্য থাকে ভালো করার। আপনি যে কোন বোলারের কাছে প্রশ্ন করলে সে বলবে সেরা উইকেটশিকারী হতে চাই। একজন ব্যাটসম্যানের কাছে প্রশ্ন করলেও সে বলবে সেরা রান সংগ্রহাক হতে চাই। যে যে সেক্টরে কাজ করে তার সেখানে লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করে। তেমনি আমারও আছে।

ঘরোয়া লিগে ধারাবাহিক পারফরম করার পর নিজ থেকে ফিল করেন না, জাতীয় দল ডাক পাওয়া উচিৎ?

হা হা.... আসলে এই বিষয়টা ম্যানেজম্যান্টের ব্যাপার। এখানে আমার বলার কিছু নেই। এখানে আমি কি করব না করবো সেটার উপর ডিপেন্ড করে না। আমি যেটা করতে পারি, খেলার সময় নিজের সেরাটা দেয়া। পারফরম করতে হবে তাই করি, এই আর কী।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া লিগগুলাতে ভালো করায় মিডিয়াতেও আসছে রাজ্জাক এখনও ফুরিয়ে যায়নি...?

এটা আসলে টোটাললি তাদের ব্যাপার। কারণ আপনার মনের কথাতো আর আমি বলতে পারব না। কার মনের মধ্যে কি আছে, কে কি যে পরিকল্পনা করছে। আমি আসলেই জানিনা বুঝতেছিনা।

একটা সময়ে জাতীয় দলে স্পিনারদের রাজত্ব ছিলো। এখন পেস বোলাররা দাপট। আপনার কি মনে হয় আগের মতো স্পিনারদের গুরুত্ব দিলে তারাও সেই হারানো মূকুট ফিরে আনতে পারবে?

হ্যা...। আমার কাছে মনে হয় যে, আমাদের যে সেক্টরটা ভালো আছে। সেই সেক্টর ভালো রেখে আরেকটা সেক্টর ভালো করা। যেটা ভালো আছে সেটাকে নষ্ট না করে, অন্য আরেকটাকে ভালো না করা। এখানে আমাকে নিতে হবে, তা না। যে ভালো আছে, ভালো করছে তাকে নেয়া উচিৎ। যে দেশের জন্য, দলের জন্য ভালো করতে পারবে। তাকে সুযোগ করে দেয়া দরকার। আমার বিশ্বাস তাই করবে হয়তো।

Share on your Facebook
Share this post