‘ফিফটিগুলোকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করা উচিত ছিল’

খেলাধুলা ডেস্ক
এপ্রিল ২৮, ২০১৭
 শ্রীলঙ্কা সফরজুড়েই দারুণ ছন্দে ছিলেন স্টাইলিশ ওপেনিং ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার।  শ্রীলঙ্কা সফরজুড়েই দারুণ ছন্দে ছিলেন স্টাইলিশ ওপেনিং ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার।

শ্রীলঙ্কা সফরজুড়েই দারুণ ছন্দে ছিলেন স্টাইলিশ ওপেনিং ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। কিছুদিন আগেও তিনি রানের জন্য হাপিত্যেশ করছিলেন। কিন্তু কঠিন সময় পেরিয়ে আবারো ছন্দে ফিরেছেন তিনি। কঠিন সময় পার হয়ে আসার গল্পই করলেন তিনি।

- শেষ চার টেস্ট ইনিংসে তিন টি ফিফটি করেছেন, শ্রীলঙ্কা সফরের ওডিআই ও টেস্ট সিরিজেও ভালো শুরু করেছিলেন। গত বছরের দুঃসময় কাটিয়ে রানে ফিরতে পেরে খুশি?

রানে ফিরতে পারাটা সবসময়ই আনন্দদায়ক। আমি একটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, রান করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমার উপর চাপ বাড়ছিল, কিন্তু আমি ফোকাসড ছিলাম, আমার ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছিলাম। টেকনিকের চেয়ে মানসিক ব্যাপারটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল এখানে। অনুশীলনে খুঁটিনাটি কিছু জিনিস সমন্বয় করে নিয়েছিলাম। যদিও শেষ চার টেস্ট ইনিংসে তিনটি ফিফটি করেছি, কিন্তু আমি মনে করি আমার ওই ফিফটিগুলোকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করা উচিত ছিল। এখনো আমাকে ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। টেস্ট ও ওডিআইতে বড় ইনিংস খেলতে আমি মুখিয়ে আছি।

- আধুনিক ক্রিকেটে বোলারদের আনসেটেল করে দেয়ার জন্য ব্যাটসম্যানেরা অনেক ধরণের নতুন নতুন শট আবিষ্কার করে থাকেন। এতে করে রানও আসে। আপনিও কি আপনার ব্যাটিংয়ে এই কাজগুলো করেন?

সব ফরম্যাটেই আপনাকে রান করতে হবে। রান করলে আপনার উপর চাপ এমনিতেই কমে আসবে, আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। টপ লেভেলে বোলাররা আপনাকে সহজে রান করতে দেবে না, সুতরাং একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে ও রান করার নতুন উপায় খুঁজতে হবে। এমনকি ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও আপনাকে রান করার উপায় জানতে হবে। সম্প্রতি আমি পেসারদের বিপক্ষে অফ সাইডে একটি চিপ শট খেলা নিয়ে কাজ করেছি, শটটা আমার কাজেও লেগেছে। আমি পাওয়ারপ্লের সুবিধাটা নিতে পছন্দ করি। যেহেতু আমি ন্যাচারাল স্ট্রোক প্লেয়ার, এই সময়ে রান করতে চেষ্টা করি আমি।

- বাংলাদেশ ইংল্যান্ডে আইসিসি ট্রফি খেলতে যাচ্ছে, তার আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজও আছে। ওই রকম কন্ডিশনে সুইং ও বাউন্সের সাথে মানিয়ে নেয়াটা ব্যাটসম্যানদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে?

দেশের বাইরে খেলার মধ্যে সবসময়েই একটা চ্যালেঞ্জ থাকেই। আয়ারল্যান্ড সফরটাও এর ব্যতিক্রম হবেনা। আমি মনে করি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে যাওয়ার আগে এটা আমাদের জন্য দারুণ এক সুযোগ। যেহেতু কন্ডিশন অনেকটা একই রকম, এটা আমাদের অভিজ্ঞতা বাড়াবে। আমরা কোন নির্দিষ্ট কন্ডিশনের উপর ফোকাস করছি না, বরং গত দুই বছর ধরে আমরা যে ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলছি সেটাকেই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

- একাদশে আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েসের সাথে আপনার জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে। ব্যাপারটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?

আমার মনে হয় এটা একজন ক্রিকেটারকে তার সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যেতে আরও সাহায্য করে। যখনই সুযোগ আসে তখনই শতভাগ দিতে আরও উদ্বুদ্ধ করে। ইমরুল ভাই অসাধারণ একজন ব্যাটসম্যান। ওনার ব্যাটিংয়ের বড় ভক্ত আমি। ব্যাপারটাকে আমি মোটেও নেগেটিভ ভাবে দেখি না। পারফর্ম করা ও দলের জন্য অবদান রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের হয়ে যেখানেই খেলি না কেন আমি সেখানেই রান করতে চেষ্টা করি।

- এই ভয়ডরহীন বাংলাদেশ দলের অংশ হতে পেরে কেমন লাগে?

দেশের হয়ে ম্যাচ জেতা প্রতিটা ক্রিকেটারের স্বপ্ন। এই বাংলাদেশ দলের প্রতিটা সদস্য এখন মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় এখন সম্ভব। আমি আমার ভূমিকাটুকু পালন করার চেষ্টা করছি, দলে অবদান রাখার চেষ্টা করছি, সে কারণেই আমি দলে আছি। খেলোয়াড় হিসেবে আরও উন্নতি করতে চাই আমি, দেশের হয়ে ভবিষ্যতে আরও ম্যাচ, সিরিজ জিততে চাই ও সেগুলোতে অবদান রাখতে চাই।  

Share on your Facebook
Share this post