এক ঝুড়ি খেলার কৌতুক

খেলাধুলা ডেস্ক
অক্টোবর ৪, ২০১৬
আমার মক্কেলের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি আমার মক্কেলের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি

বোমায় বসতি

লোকে কথায় বলে, শরীরের নিচে বোমা নিয়ে ঘুরছি।
এটা যে স্রেফ কথার কথা নয়, তা টের পেয়েছেন ব্রিটেনের একদল খেলোয়াড়। ডোসার্ট কাউন্টির পোর্টল্যান্ড দ্বীপে সেটা ছিল একেবারে নিরিবিলি একটা খেলার মাঠ। বিশাল খোলা জায়গায় পাশাপাশি কয়েকটা ফুটবল দল অনুশীলন করত; কিছু ম্যাচও খেলা হতো।
১৯৯৫ সালে সেই মাঠেই কিছু বাচ্চা খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে আবিষ্কার করল মাঠের ঠিক মাঝ বরাবর একটা ধাতব কিছু দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন খবর পেয়ে এসে শুরু করল খননকাজ। আর খনন শেষ হতে বেরিয়ে এল ভয়ানক এক ঘটনাÑমাঠের নিচে শুয়ে আছে আসলে দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে ব্যবহৃত একটা তাজা বোমা!
পঞ্চাশ বছর আগে এই বোমা ফেলা হয়েছিল এখানে।
আধা টন ওজনের সেই বোমাটা আসলে ছিল প্রাগৈতিহাসিক একটা টাইম বোমা। যদিও তার ঘড়ি অংশটা তত দিনে বিকল হয়ে গেছে। তবে পঞ্চাশ বছর ধরেও বিস্ফোরক অংশটা একেবারে জীবন্ত ছিল। মানে কোনোভাবে বিস্ফোরণের সুযোগ পেলেই বিশাল এই বোমা ফেটে যেত।
১৯ এপ্রিল তারিখে বিশ^যুদ্ধোত্তর কালের সর্ববৃহৎ বোমা নিষ্ক্রিয়করণ অভিযান চালিয়ে ব্রিটিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বোমাকে নিষ্ক্রিয় করে। আর হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন এলাকার খেলোয়াড়েরা-এখন তো আর তারা বোমার ওপর খেলবেন না!

দুটো ভাতের জন্য

আমরা বাঙালিরা ভাবি, আমরাই কেবল ভাতের পাগল। একটু ঘরের বাইরে বের হলেই আমাদের এক প্লেট ভাত খোঁজাখুঁজি শুরু হয়ে যায়। দেশের বাইরে গেলে কেবলই ভাতের গল্প-আহা যদি এক প্লেট ভাত পেতাম।
তাই লোকে বলে-ভেতো বাঙালি।
জ্যাক রবিনসন বাঙালি না হলেও ষোলো আনা ‘ভেতো’ ছিলেন। উনিশ শতকে ইংল্যান্ডের নামকরা গোলরক্ষক ছিলেন রবিনসন। গোলপোস্টটা ভালোই সামলাতেন। তবে সে জন্য তার দরকার ছিল ভাত। এক প্লেট ভাত না খেয়ে কিছুতেই তিনি খেলতে নামতে পারতেন না।
অবশ্য রবিনসন যেটা খেতেন, সেটাকে ভাত না বলে ‘পায়েস’ বলা ভালো। ব্রিটিশরা বলে রাইস পুডিং। প্রতিদিন খেলার আগে রবিনসনের এক প্লেট এই রাইস পুডিং চাই চাই। কিন্তু একবার গোলমাল হলোÑদুধ জোগাড় করা গেল না। ফলে পায়েস বা ভাত যা-ই বলেন, সেটা তৈরিও হলো না।
রবিনসন খুব মন খারাপ করে ভাতের হাহাকার নিয়ে মাঠে নামলেন। ফল কী হলো জানেন?
রবিনসন ১১টা গোল খেয়েছিলেন!
এমন গোলের চেয়ে ভাত খাওয়া নিশ্চয়ই অনেক ভালো!

সুদের বাড়াবাড়ি

আপনাকে কেউ একটা পাউন্ড কয়েন দিলে তাকে কত ফেরত দিতে হবে?
সাধারণ হিসাব বলে এক পাউন্ড ফেরত দিলেই চলে। তবে যদি ব্যাংক থেকে, এনজিও থেকে ধার নেন; তাহলে কিছু সুদ তো দিতেই হবে। তাই বলে এক পাউন্ডের সুদ ৩৯ হাজার ৯৯৯ পাউন্ড!
এই বাড়াবাড়ি ‘দেনা শোধ’ করতে হয়েছিল জেমি ক্যারাঘারকে।
খুব বেশি আগের কথা নয়। এই ২০০২ সালে। ঘটনাটা হয়েছিল আর্সেনালের বিপক্ষে একটা এফএ কাপ ম্যাচে। লিভারপুল তারকা জেমি ক্যারাঘারকে এক দর্শক এক পাউন্ডের একটা কয়েন ছুড়ে মেরেছিলেন। ক্যারাঘার চটেমটে ওই দর্শককে পেটাতে ধরেছিলেন। আসলে পিটিয়েছিলেনও।
আর এরই ফল হলো এই ডিফেন্ডারকে লাল কার্ড দেখতে হলো এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দল থেকে বাদ পড়তে হলো। এ ছাড়া ৪০ হাজার পাউন্ড জরিমানা দিতে হলো।
একটা পাউন্ড কয়েনের মূল্য বড় বেশি হলো!

কার্ড নয়, পিস্তল

ফুটবলের রেফারিরা একটু চড়া মেজাজের হয়ে থাকেন, এটা সত্যি। তাই বলে রেফারি পিস্তল হাতে মাঠে নেমে পড়বেন?
সব সময় সব রেফারি হয়তো নামেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ফুটবলের এক রেফারি কাজটা করেছিলেন।
ঘটনা ১৯৯৯ সালের। হার্বিসফন্টেইন ওয়ালাবিসের খেলা চলছিল। খেলার একপর্যায়ে দাঙ্গা লেগে গেল। ওয়ালাবিসের সমর্থকরা দলে দলে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়লেন। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের ওপর তো বটেই, রেফারির ওপরও চড়াও হয়েছিলেন দর্শকেরা। ভয়ংকর ব্যাপার হলো, ওয়ালাবিসের এক খেলোয়াড় দর্শকদের কারো একজনের কাছ থেকে ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে বসলেন রেফারিকে।
রেফারি কি বানের জলে ভেসে এসেছেন? তিনিও স্থানীয় মানুষ।
দৌড়ে রেফারি চলে গেলেন গ্যালারিতে। সেখানে তার এক বন্ধু মাঠে এসেছিলেন লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে। সেটাই ধার নিয়ে ছুটে এলেন রেফারি। আর কালবিলম্ব না করে ওই খেলোয়াড়কে গুলিও করে দিলেন।
ভয়ানক এ ঘটনাটা আরও ভয়ানক হয়নি খেলোয়াড়টি সে যাত্রা বেঁচে যাওয়ায়।

মরিচ স্প্রে

বন্দুকের কথা তো শুনলেন। কিন্তু সমস্যা হলো, সব রেফারি তো বন্দুক হাতে নিয়ে মাঠে আসতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে তারা কী করবেন? বিশেষ করে খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেও বের হতে না চাইলে তো খুব মুশকিল। কীভাবে বের করা যাবে তাকে!
এই সেদিন, ২০১০ সালে ব্রাজিলের একটা ঘরোয়া লিগে গানস বনাম মোটো ক্লাবের খেলা চলছিল। রেফারি এক খেলোয়াড়কে ঘটনাক্রমে লাল কার্ড দেখালেন। কিন্তু সেই খেলোয়াড় কিছুতেই মাঠ ছাড়বেন না। শেষমেশ উপায় না পেয়ে মাঠের পাশে দাঁড়ানো দাঙ্গা পুলিশকে মাঠে ঢুকতে ইশারা করলেন রেফারি।
এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হলো। খেলোয়াড়টির সতীর্থরা তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকল। অতএব?
অতএব দাঙ্গা পুলিশ গুঁড়ো মরিচের স্প্রে করা শুরু করল খেলোয়াড়দের ওপর। খেলোয়াড়েরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তবে লাল কার্ড পাওয়া ওই খেলোয়াড়কে বের করে নিয়ে যাওয়া হলো। লাল কার্ডের কী সমাধান!
অবশ্য উল্লেখ করা দরকার, শেষ অবধি পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়া এই খেলায় পুলিশের বাড়াবাড়ি নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল এবং পুলিশের বিপক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

কুমার

ফুটবলার না হলে কী হতেন?
কেউ পাইলট, কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার। আবার কেউ হয়তো সাধারণ একজন কারখানার কর্মী বা পোস্টম্যান হতেন। পিটার ক্রাউচের উত্তরটা নিশ্চয়ই এ যাবৎকালের সেরা এ ব্যাপারে।
তখন টটেনহাম হটস্পারে খেলা পিটার ক্রাউচকে ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম ‘হাস্যকর’ চরিত্র মনে করা হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘ফুটবলার না হলে কী হতেন?’
ক্রাউচ একগাল হেসে বলেছিলেন, ‘আর কিছু না হোক ভার্জিন থাকতাম।’

সেবা

জার্মান একটি প্রতিষ্ঠান ২০০৬ বিশ^কাপের সময় তাদের তারকা খেলোয়াড়দের নামে ‘কম্পনসৃষ্টিকারী যন্ত্র’ (এর চেয়ে ভদ্রস্থ বাংলা পাওয়া গেল না) তৈরি করল। মানে বিভিন্ন আকারের ও ডিজাইনের যন্ত্রগুলোর নাম দেওয়া হলোÑবালাক, কান, ক্লোসা; এ রকম।
এ ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে অলিভার কান মামলাই ঠুকে দিলেন।
কানের আইনজীবী মহা বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘মাননীয় আদালত, আমার মক্কেলের আপত্তি সাইজ নিয়ে। আপনি জানেন আমার মক্কেলের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। অথচ তার নামে এই সামান্য সাইজের যন্ত্র তৈরি করা হয়েছে। এটা কি মেনে নেওয়া যায়?’
আদালত পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘তাহলে সাইজ ঠিক করে দিলে আপনার মক্কেলের নাম ব্যবহার করতে দেবেন!’
‘জি না, জনাব। আমার মক্কেলের ঘরে স্ত্রী আছে। তিনি বিনা মূল্যে অন্য কাউকে সেবা দেবেন না।’


যুদ্ধ যুদ্ধ

খেলোয়াড়েরা প্রায়ই বলেন, এই ম্যাচ তাদের জন্য যুদ্ধের মতো। আর মিডিয়ায় তো অহরহ খেলাকে যুদ্ধের সাথে মেলানো হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কোনো খেলাই কখনো যুদ্ধ নয়।
তবে হন্ডুরাসে একটা ম্যাচ যুদ্ধেই পরিণত হয়েছিল।
এল সালভাদরের বিপক্ষে হন্ডুরাসের ম্যাচ ছিল। ১৯৬৯ সালের সে ম্যাচে সালভাদর ১-০ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল। আর এরপরই শুরু হলো গোলমাল। রাতে সালভাদরের হোটেল রুমে কে বা কারা পাথর ছুড়ে মারল। আর গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে সালভাদরের এক সমর্থক মহিলাকে গুলি করে মারা হয়েছে।
ব্যস, শুরু হয়ে গেল সীমান্তে উত্তেজনা। দুই দেশের ভেতরই সালভাদরিয়ান বনাম হন্ডুরান দাঙ্গা এবং সীমান্তে যুদ্ধ। সব মিলিয়ে এই যুদ্ধে শুধু নিহতের সংখ্যাই ৬ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

তিন ‘অর্ধ্ব’

হকিতে তিন অর্ধ্বের খেলা হয়। ফুটবলে?
চটে উঠবেন না। সাধারণ উত্তরটা আমরাও জানি। কিন্তু ১৮৯৪ সালে ইংলিশ লিগের একটি অফিশিয়াল ম্যাচে তিন অর্ধ্ব খেলার রেকর্ড আছে।
ব্যাপারটা ছিল দারুণ গোলমেলে। সে বছর লিগে সান্দারল্যান্ড বনাম ডার্বি কাউন্টি ম্যাচে শুরু থেকেই রেফারি নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল এক দলের। তারপরও বিতর্কিত রেফারি দিয়েই খেলা শুরু করতে হলো। কারণ, যাকে খোঁজা হচ্ছিল, তেমন অবিতর্কিত রেফারি ম্যাচের আগে পৌঁছাতে পারেনি। সেই ভদ্রলোক পৌঁছানোর আগেই প্রথম ৪৫ মিনিটের খেলা শেষ হয়ে গেল। এখন রেফারিকে বলা হলো, তিনি বাকিটা খেলা পরিচালনা করুন। কিন্তু ভদ্রলোক মাঠে নেমে বললেন, আর্ধেক খেলা তিনি চালাতে পারবেন না; পুরো নব্বই মিনিটই খেলতে হবে।
ফলে সাকল্যে ১৩৫ মিনিট খেলা হলো। তিন অর্ধ্ব মিলিয়ে সান্দারল্যান্ড ১১টি গোল করেছিল। মজার ব্যাপার হলো, এই ১৩৫ মিনিট এবং ১১টি গোল, পুরোটাই রেকর্ডে রাখা হয়েছে।

অমূল্য মালি

আমরা জানি ইউরোপিয়ান লিগের খেলোয়াড়দের অনেকের সাপ্তাহিক আয় সাধারণ মানুষের বার্ষিক আয়ের চেয়ে বেশি। তাই বলে মালির আয় তো এত বেশি হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু ২০০৯ সালে দেখা গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এক মালির সাপ্তাহিক বেতন ২০ হাজার পাউন্ড।
না, যা ভাবছেন, তা নয়। উনিও স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের লোক। আসলে দলের উইঙ্গার গ্যাব্রিয়েল ওবারতান সে সময় ইনজুরি থেকে সেরে উঠছিলেন। তখনো ফিটনেস ক্যাম্প শুরু করেননি। তাই নিজেই যেচে মালির কাজ করা শুরু করেছিলেন ক্লাবে।

Category : রম্য
Share on your Facebook
Share this post