বিশ্বাস ভাংবেন না প্লিজ!

অনুপম হোসেন পূর্ণম
নভেম্বর ১৭, ২০১৬
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলের এবারের আসর শুরুতেই একটা ধাক্কা খেয়েছে, বৃষ্টির ধাক্কা। যে কারণে এক দফা পিছিয়ে নতুন করে শুরু করা হয়েছে বিপিএল। সামাজিক যোগাযোগগুলোতে অনেকেই মজা করে বিপিএলের অর্থ করেছেন ‘বৃষ্টি প্রিমিয়ার লিগ!’ তবে আমি বিপিএলকে বলতে চাই ‘বিশ্বাস প্রিমিয়ার লিগ’!

এমন কথা বলার কারণগুলো একে একে ব্যাখ্যা করছি!

 

বিসিবির বিশ্বাস

বিসিবি বিশ্বাস করেছে এবারের আসর থেকে নতুন কোন প্রতিভা উঠে আসবে না। নতুন করে দ্যুতি ছড়াবেন না পুরনো কোন সৈনিক। তাই বিপিএল শুরুর ঠিক আগে আগে তারা নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করে দিয়েছে! বাকিদের জন্য বার্তা দিয়ে দিয়েছে, ‘হুদাই বিপিএলে ভাল খেলে ঝামেলা করার দরকার নেই!’

বিসিবি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছে খুব সম্ভবত বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের, বিশেষ করে ঢাকার দর্শকদের। বিসিবি মনে করেছে সম্পুর্ণ বিপিএলটা মিরপুর স্টেডিয়ামে আয়োজন করে ফেললেও কোন সমস্যা নেই, মানুষ মাঠে আসবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে ক্রিকেটপ্রেমীরা বিপিএলের খেলা দেখার জন্য ঢাকায় চলে আসবে। কিংবা মিরপুর তথা ঢাকার মানুষজন অফিস-আদালত বাদ দিয়ে রোজ স্টেডিয়াম ভরিয়ে ফেলবে! তাই গত বছর বিপিএল চলার সময় পরের আসরে খুলনা ও সিলেটে বিপিএলের ম্যাচ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এবারও ঢাকার বাইরে শুধু চট্টগ্রামে খেলা দিয়েছেন! এমনকি ঢাকার অদূরে ফতুল্লাতেও তারা কোন খেলা আয়োজনের প্রয়োজন বোধ করেন নি, মিরপুরের মানুষ যদি মন খারাপ করে?

 

চ্যানেল নাইনের বিশ্বাস

বিসিবির মতো চ্যানেল নাইনও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের বিশ্বাস করেছে, তবে এই দর্শকেরা টেলিভিশনের দর্শক। চ্যানেল নাইনের মনে হয়েছে ওভারপ্রতি বল ৪টা দেখানো হোক আর ৫টা, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা চ্যানেল নাইনেই খেলা দেখবেন। ভুলেও বিরক্ত হবেন না, বিদেশি চ্যানেলে দেশি খেলা দেখবেন না! এলবিডব্লিউ ডিসিশনের জন্য রিপ্লেতে প্রজেকশন এর ব্যবস্থা না থাকলেও মানুষ ঠিকই বুঝে ফেলবে বলটা কোথায় গিয়ে লাগতো! মূলত চ্যানেল নাইন বিশ্বাস করেছে, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই!’ তাই ‘হক আই’, ‘হট স্পট’ এর মতো যান্ত্রিক কলাকৌশলকে তারা ভলেও আপন করে নেন নি! এছাড়া টুর্নামেন্ট আগে লেড লাইট সমৃদ্ধ ‘জিং বেলস’ এর কথা বলেও অর্ডিনারি বেইল ইউজ করে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, ‘বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টে লাল বাতি জ্বালিয়ে দেয়ার কোন শখ তাদের নেই!’

 

আম্পায়ারদের বিশ্বাস

বিপিএলে বিশ্বাসের জায়গায় সবচেয়ে বেশি মার্ক্স পেয়ে বোর্ড স্ট্যান্ড করেছেন খুব সম্ভবত আম্পায়াররাই। তারা চোখ বুজে বিপিএলের বোলারদের উপর আস্থা রেখেছেন। বোলার যদি মনে করে ব্যাটসম্যান এলবিডব্লিউ হয়েছেন, তখনই তো সে আবেদন করে, তাই না? তাই বোলাররা একটু জোরে চিল্লিয়ে বেশিক্ষণ ধরে আবেদন করলেই অনেক সময় আম্পায়াররা চোখ বুজে আঙ্গুল তুলে দিচ্ছেন! বোলারদের প্রতি আম্পায়ারদের এই বিশ্বাসের দৃশ্যগুলো বার বার চোখে জল এনে দেয়! সৌভাগ্যবান বোলার যেমন আবেগে কেঁদে ফেলেন, তেমনি হতভম্ব ব্যাটসম্যান কেঁদে ফেলেন নিজের দুর্ভাগ্যে বিস্মিত হয়ে!

 

ফ্রাঞ্চাইজিদের বিশ্বাস

বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিগুলো মনে করেছে, বিপিএলতো আমাদের টুর্নামেন্ট। এখানে সবাই ‘আমরা আমরাই তো’! এই যেমন ড্রাফটের আগেই ‘কোন এক অদ্ভুত উপায়ে’ দলগুলো নিজেদের আইকন প্লেয়ার ঠিক করে ফেললো, কিনে ফেললো বেশ কিছু বিদেশি প্লেয়ারও! এমনকি প্লেয়ার ড্রাফটের দিনে থিসারা পেরেরাকে কুমিল্লার এবং জীবন মেন্ডিসকে চট্টগ্রামের খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিপিএল শুরুর পর দেখা গেলো পেরেরা বরিশালের স্কোয়াডে! আজ আবার হঠাৎ করে জীবন মেন্ডিস সরাসরি বরিশালের মূল একাদশে! আসলে দেশের ক্রিকেটের উন্নতিতে অবদান রাখতে গেলে এমন উদার মন মানসিকতার বড্ড বেশি দরকার আছে!

দয়া করে বিপিএলের উপর বিশ্বাস রাখুন, বিশ্বাস ভাংবেন না! জয়তু ‘বিশ্বাস প্রিমিয়ার লিগ’!

 

Category : রম্য
Share on your Facebook
Share this post