পদার্থবিদ্যার ভুল ও বাংলাদেশের ক্রিকেট

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
মার্চ ৩১, ২০১৭
 বাংলাদেশ বাংলাদেশ

পদার্থবিদ্যার একটি সূত্র হলো, একই সাথে একই বস্তু একাধিক স্থানে উপস্থিত থাকতে পারবে না।

সহজ করে বলি, আপনি একই সঙ্গে বাসায় বসে এই লেখা পড়া এবং বাসে বসে টিকিট নিয়ে গোলমাল করার মতো কাজ করতে পারবেন না। দুই জায়গায় আপনি থাকতে পারেন না।

কিন্তু ক্রিকেট দিয়ে আমরা এবার পদার্থ বিজ্ঞানকে ‘ভুল’ প্রমাণ করে ফেলবো।

এই যে, আগামীকাল সক্কাল বেলায় ‘বাংলাদেশ দল’ একই সাথে প্রশান্ত মহাসাগরের দুই পাশে দুটো ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে নামবে! বিজ্ঞানীদের জন্য আরও দুঃসংবাদ হলো, দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়বে শ্রীলঙ্কা। মানে, এক সাথে দু বার থিওরি ভেঙে ফেলা!

না, না। আগেই চটে উঠবেন না। রসিকতা করছিলাম।

বিজ্ঞানের মতো বিষয়কে সামান্য ক্রিকেট কী করে ভুল বলে প্রমাণ করবে? বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার দলটা তো আর একসাথে দুই জায়গায় থাকবে না। দুই জায়গায় এক সাথে মাঠে নামবে বাংলাদেশের ও শ্রীলঙ্কার দুটি করে দল।

চট্টগ্রামে লড়বে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার এমার্জিং দল এবং কলম্বোতে লড়বে জাতীয় সিনিয়র দল।

কাকতালীয় এই ঘটনাটা মনে করিয়ে দিলো গত বছর তিনেকেই এরকম আরও কয়েকটা ঘটনা। বাংলাদেশ গত বছর তিনেকে আরও অন্তত বার চারেক এরকম একই দেশের দলের বিপক্ষে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় খেলেছে!

২০১৪ সালে এমন আরেকটি দিন এসেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে । সেবার ৪ মার্চ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছিল দুই ম্যাচে। এশিয়া কাপের ম্যাচে মিরপুরে মুশফিকুর রহিমের দল খেলেছিল মিসবাহ বাহিনীর বিপক্ষে। আর কক্সবাজারে বাংলাদেশ নারী দল লড়েছিল পাকিস্তান নারী দলের বিরুদ্ধে।
আফ্রিদি ঝড়ে মিরপুরে মুশফিকরা হারলেও সেদিন কক্সবাজারে সালমা খাতুনের দল ৪৩ রানে জয় পেয়েছিল সানা মীরের দলের বিরুদ্ধে।

পরের বছর জুনে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা পরপর দুই ম্যাচে পৃথিবীর দুই প্রান্তে এক জোড়া করে ম্যাচ একই দিনে খেলেছিলো!

সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকা দল এসেছিলো বাংলাদেশ সফরে। আর বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল গিয়েছিলো ৭ ম্যাচের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। সিনিয়র বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল তিনটি ওয়ানডে খেলেছিলো ১০, ১২ ও ১৫ জুন। আর জুনিয়ররা পরষ্পরের বিপক্ষে খেলেছিলো ৫, ৭, ১০, ১২, ১৪, ১৭ ও ১৯ জুন। মানে, ১০ ও ১২ তারিখ দুনিয়ার দুই মাথায় দুটি করে বাংলাদেশ দল লড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

১০ তারিখ দুটো বাংলাদেশ দলই হেরেছিলো। ১২ তারিখ দুটো বাংলাদেশ দলই জিতেছিলো। কাকতাল এখানেই শেষ নয়। দুটি সিরিজই বাংলাদেশ জিতেছিলো। সিনিয়ররা ২-১ ব্যবধানে এবং জুনিয়ররা ৫-২ ব্যবধানে।

তবে সব কাকতালকে ছাপিয়ে যায় ২০১৫ সালের নভেম্বর।

সেই মাসে বাংলাদেশের চারটি দল জিম্বাবুয়ের চারটি দলের বিপক্ষে খেলছিলো। এর মধ্যে মেয়েদের দল দুটির খেলা বাকী তিনটি দলের সাথে কখনোই এক দিনে পড়েনি। তবে একই সাথে চলছিলো বাংলাদেশ সিনিয়র দল, যুব দল ও ‘এ’ দলের খেলা!

হারারেতে ৯ তারিখ থেকে ১১ তারিখ বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল খেলছিলো টেস্ট। ঢাকায় ৭, ৯ ও ১১ তারিখ সিনিয়র দুটি দল খেললো ওয়ানডে। আর যুব দল ১১, ১২, ১৪ ও ১৬ তরিখ খেললো ওয়ানডে ম্যাচ। তার মানে ৯ ও ১১ তারিখ এক সাথে তিনটি বাংলাদেশ দল মুখোমুখি হয়েছিলো তিনটি জিম্বাবুয়ে দলের সাথে।

জনাব বিজ্ঞানী, দুনিয়া বড়ই রহস্যময়।

 

Category : রম্য
Share on your Facebook
Share this post