কমিটির টিম: সকল অনিয়মের মূল

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
ডিসেম্বর ৭, ২০১৬
 প্রতীকি ছবি প্রতীকি ছবি

গত কয়েক বছর ধরে একটার পর একটা কমিশন গঠন, সেগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে ভারতের আদালত চেষ্টা করছেন দেশটির ক্রিকেটের অলিগলিতে ঢুকে পড়া দুর্নীতি ও অপরাধের ভুত দূর করতে।

এই লম্বা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সময়ে আদালত থেকে বিভিন্ন রায় এসেছে। সাথে সাথে অসাধারণ কিছু পর্যবেক্ষন এসেছে আদালত থেকে। এর মধ্যে ‘মুকুল মুগদাল কমিশন’-এর সুপারিশে যখন এন শ্রীনিবাসনকে সরে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হলো, তখন একটি যুগান্তকারী পর্যবেক্ষন জানিয়েছিলেন আদালত। বলেছিলেন, ভারতীয় ক্রিকেটে যাবতীয় দুর্নীতির প্রধাণ উৎস ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’।

এন শ্রীনিবাসন যে এতো ‘অন্যায়কারী’ হিসেবে চিহ্নিত হলেন, এর প্রধাণ কারণ হলো তিনি একাধারে ছিলেন বোর্ড সভাপতি; আবার চেন্নাই সুপার কিংসের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া সিমেন্টের মালিক। ফলে বলা হলো, তার এই বোর্ড ছেড়ে চেন্নাইয়ের স্বার্থ দেখতে যাওয়াটাই আইপিএলে সকল অন্যায়ের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।

আমরা কথাটাকে আরেকটু বৃহত্তর পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে বলতে পারি, দুনিয়ার বেশীরভাগ অন্যায়ের পেছনে আছে এই কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।

 

কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট ব্যাপারটা কী?

অক্সফোর্ড ডিকশনারীতে বলা হয়েছে, এটা এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তিগত লাভ নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ব্যাপারটা পরিচিত মনে হচ্ছে না?

হ্যা, এতো জটিল করে না ভাবলেও চলে। সোজা কথায় আপনি আপনার একটা পদের ক্ষমতার জোরে ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধার করছেন, এটাই কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। তাহলে ক্রিকেটের সাথে এর সম্পর্ক কী?

ক্রিকেটে বা যে কোনো খেলায় আপনি যখন খেলার পরিচালনার সাথে জড়িত থাকেন এবং একইসাথে ওই খেলায় অংশ নেওয়া কোনো দলের মালিকানায় জড়িত থাকেন, তখনই তৈরী হয় কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। কারণ খেলা পরিচালক হিসেবে আপনার সামনে সুযোগ থাকে আপনার দলটিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার। এ জন্যই আদালত পরিষ্কার বলেছেন, কোনো কর্মকর্তার এমন কোনো দ্বিমুখী পরিচয় থাকলেই ক্রিকেটে বা খেলায় দুর্নীতি ঠেকানো আর সম্ভব না।

আর এটাকেই আমরা ছোটবেলা থেকে বলি ‘কমিটির টিম’ সমস্যা!

 

কাউন্সিলরশিপ ও প্রেস্টিজ

ছোটবেলায় মহল্লার খেলায় কমিটির টিমকে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য যাচ্ছেতাই আম্পায়ারিং, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের হুমকি দেওয়া শুরু করে আগের রাতে গিয়ে দশ-বিশ টাকা ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা কমবেশী আমরা সবাই দেখেছি।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটকে যদি আমরা বিবেচনায় নেই, তাহলে এখানেও ওই মহল্লার কমিটির টিমের মতো ঘটনাই ঘটে।

আজকে বিপিএলের জমানা, সবাই এই খেলা টিভিতে দেখে। তাই মনে হচ্ছে এসব কান্ড বুঝি আগে হয়নি। বাস্তবতা হলো, আগে আরও বেশী হয়েছে।  একসময় এই কমিটির টিমকে জেতানোর জন্য মাঠে আম্পায়ারে পেটানো, বাউন্ডারির দড়ি সরিয়ে ফেলা থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে আমাদের ক্রিকেটে। সে সময় ক্রিকেটের কাঠামো এতো সুগঠিত ছিলো না। যে যা খুশী করতে পারতো।

বোর্ড সুগঠিত হওয়ার পরও এসব কান্ড হয়েছে। কখনো আবাহনী, কখনো মোহামেডান, কখনো ওল্ড ডিওএইচএসকে জেতানোর জন্য যাচ্ছেতাই ঘটনা ঘটেছে। এই জাতীয় ঘটনা সবচেয়ে বেশী ঘটে আলোর বাইরে থাকা প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগে।

এর কারণ হলো কাউন্সিলরশিপ।

প্রথম বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগে আপনার একটি দল ওঠানো মানেই একটি ভোট বা কাউন্সিলরশিপ পাওয়া। ফলে এখানে ক্ষমতাধর বোর্ড কর্মকর্তাদের দলগুলোকে কাউন্সিলরশিপ পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই ধরণের কাণ্ড করা হয়। এর সঙ্গে আবার যোগ করুন যে, প্রিমিয়ার লিগে ‘সুপার সিক্সে’ খেলা ছয়টি দলের আবার দুটি করে ভোট আছে। ফলে সেই তালিকায় থাকার জন্যও চলে নানারকম অন্যায়।

পাশাপাশি আরেকটা ব্যাপার কাজ করে-প্রেস্ট্রিজ ইস্যু।

বোর্ড কর্মকর্তাদের যে দলটা প্রিমিয়ার লিগে খেলে, সেটা যদি শিরোপা না জেতে, সম্মান থাকে না। ফলে প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা লোকেরা যে দলের সাথে জড়িত থাকেন, তাদের জেতানোর জন্য বিভিন্ন তৎপরতা হয়।

 

খেলোয়াড়দের আচরণ

‘কমিটির টিম’ ব্যাপারটার একটা বড় অভিশাপ হলো ওই দলে খেলা খেলোয়াড়দের আচরণ ও নৈতিকতা খুব বাজে অবস্থায় চলে যায়।

এখানে কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে আলাদা করা জরুরী না। আজ হয়তো একজন খেলোয়াড়কে মাঠে বাজে আচরণ করতে দেখে অবাক হচ্ছেন। আগামী মৌসুমে দেখবেন, আরেকজন এই আচরণ করছে। এর কারণ হলো, তারা আগে থেকেই এক ধরণের ম্যাসেজ পেয়ে যান যে, তাদের সাত খুন মাফ।

ফলে আমরা একই বছরে ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়কে ভিন্ন ভিন্ন দলের হয়ে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করতে দেখি। মিস্টার এক্স ঢাকা লিগে হয়তো কমিটির দলে ছিলেন না। তখন তিনি কোনো বিতর্কিত আচরণ করেননি। আবার সেই এক্স যখন বিপিএলে এরকম সুবিধাপ্রাপ্ত দলে চলে আসেন, তখন তার আচরণ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে।

এর সঙ্গে খেলোয়াড়দের নৈতিকতা ও মনোবলে প্রভাব পড়ে।

একটা অত্যন্ত যোগ্য দলও মানসিক বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। যেহেতু সে জানে যে, মাঠের বাইরেই খেলার ফল হয়ে যাবে, ফলে মাঠে ভালো খেলার উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। গত প্রিমিয়ার লিগেই আমরা এরকম উদাহরণ দেখেছি। দুর্দান্ত দল নিয়েও শুধুমাত্র এসব ঘটনার কারণে একটি শক্তিশালী দলকে খাবি খেতে দেখেছি। কারণ, তারা মাঠে ভালো খেলার তাগিদই টের পাচ্ছিলো না।

 

অহেতুক দুর্নাম

কমিটির টিম সব ক্ষেত্রে সুবিধাই পায়, তা নয়। আমি বরং দেখি, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আয়োজকদের সংশ্লিষ্ট দলটা অযথাই এক ধরণের দুর্নাম বয়ে বেড়ায়। বিনা দোষে দোষী বলে মনে করে লোকজন।

এবার একটু টু দ্য পয়েন্ট বলা যাক।

এবার বিপিএলের ঢাকা ডিনামাইটসকে নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই দলটিতে যে সব তারকারা আছেন, তাতে যে কোনো দলকে তারা হেসেখেলে উড়িয়ে দেবে, এটাই স্বাভাবিক। সেখানে খুলনা টাইটান্স তো ‘তুচ্ছ’ ব্যাপার। অথচ সেই খুলনাকে স্বাভাবিকভাবে হারানোর পরও তাদেরকে এক ধরণের স্ক্যানিংয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এটা তো এতো সুন্দর একটা দলের প্রাপ্য নয়।

যে কারণে শ্রেয়তর দল চেন্নাই সুপার কিংস যোগ্যতা দিয়ে আইপিএল জিতলেও লোকে মুচকি হাসে। এই মুচকি হাসিটা খেলোয়াড়দের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছেন আয়োজকরা।  

এটা হচ্ছে, কেবলই লোকেরা তাদেরকে কমিটির টিম মনে করে বলে।

এই মনে করাটা এক ধরণের পাপবোধের ব্যাপার। সারা দুনিয়ায় একের পর এক অন্যায় দেখতে দেখেতে মানুষের মন বিষিয়ে গেছে। ফলে তারা এই ধরণের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা দলের স্বাভাবিক পারফরম্যান্সেও সন্দেহ করে।

খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে প্রথম কোয়ালিফায়ারে আম্পায়ারের দুটো সিদ্ধান্ত বাজে ছিলো। পুরো বিপিএল জুড়েই তো অনেক বাজে সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। কোনো কোনো ম্যাচে এর চেয়ে বাজে ও বেশী সংখ্যায় ভুল সিদ্ধান্তও এসেছে। তা নিয়ে কথা হয়নি। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন ঢাকা, তখন ফিসফাস শুরু হয়েছে।

আমরা বারবার বলি, ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। অথচ সেই অনিশ্চয়তার মতো ঘটনা ঢাকা সংশ্লিষ্ট ম্যাচে দেখলে আমাদের সন্দেহ হয়; এই বুঝি পাতানো ম্যাচ হচ্ছে। এ সবকিছুর মূলে আছে বিভিন্ন সময় কমিটির টিমের এই ধরণের কর্মকান্ডের ইতিহাস।

এই ইতিহাসের কারণেই কিছু অন্যায় না করেও অন্যায়কারীর একটা ভাবমূর্তি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয় এরকম দলগুলোকে। এটা অন্তত খেলোয়াড়দের প্রতি একটা অবিচার।

 

কমিটির টিম বিলোপ সম্ভব?

বিজ্ঞ জনেরা নানাভাবেই বলছেন,  ক্ষমতায় থাকা কর্মকর্তাদের দল গঠন না করা এবং কোনো দলের সাথে সংশ্লিষ্ট না হওয়াই এইসব সংকট থেকে বাচার একমাত্র উপায়।

এখন কথা হচ্ছে, আমরা বাংলাদেশে এই চক্র থেকে বের হতে পারবো কি না?

এ ক্ষেত্রে আমাদের বোর্ড কর্মকর্তারা দুটো উত্তর দিয়ে থাকেন:

১. আমাদের দেশে ক্লাবগুলোর কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে তো বোর্ড গঠন করা সম্ভব না। নিশ্চয়ই বোর্ডে কোনো না কোনো ক্লাবের কর্মকর্তাই নির্বাচিত হয়ে আসবেন। ফলে এই কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট এড়ানো সম্ভব না।

২. বিপিএলে কোনো বোর্ড কর্মকর্তা সরাসরি কোনো দলের সাথে জড়িত হন না।

 

প্রথম উত্তরে আমরাও একটু অসহায় থাকি। আমাদের দেশে ক্রিকেট এখনও এতো ব্যপ্ত নয় যে, ক্লাব কর্মকর্তাদের বাদেই আপনি ক্রিকেট বোর্ড করতে পারবেন। আইডিয়াল পরিস্থিতি হলো, ক্লাব কর্মকর্তারা, জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা ভোটার হবেন। তারা ভোট দিয়ে কিছু ক্লাব নিরপেক্ষ পরিচালক নির্বাচিত করবেন; যে পরিচালকরা কোনো ক্লাবের সাথে সম্পর্কিত থাকবেন না। ব্যক্তিগত পরিচয়ে নির্বাচন করবেন তারা।

সে ক্ষেত্রে ক্রিকেট ব্যকগ্রাউন্ডের লোক বোর্ডের জন্য খুজে পাওয়া যাবে না।

ইনফ্যাক্ট আইসিসির জন্যই এই সুপারিশ করছে অনেকদিন ধরে উলফ কমিশন। সেখানেও স্বাধীন ক্রিকেট সংগঠকের এতো অভাব যে, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিকে দিয়েই আইসিসি বানাতে হয়; টিকে থাকে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।

ফলে ক্লাব-বোর্ড কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট নিয়েই আমাদের আরও অনেকটা সময় চলতে হবে। এখানে আমরা শুধু আরও স্বদিচ্ছা ও আরও নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করতে পারি। আমরা আশা করতে পারি যে, বোর্ড সভাপতিসহ সকল বোর্ড পরিচালক স্ব স্ব বোর্ড পদ গ্রহণের পর ক্লাবের পদ থেকে সরে আসবেন। তারা মানসিকভাবেই ক্লাবের স্বার্থ ভুলে থাকবেন এই সময়কালে। কোনো দলকেই ‘আমাদের দল’ বলে বিবেচনা করবেন না।

তবে বিপিএলের ক্ষেত্রে আরেকটু আমরা প্রত্যাশা বাড়াতে পারি।

যদিও কাগজে কলমে বোর্ড পরিচালকরা বিপিএলের দল কেনেন না। উদাহরণ হিসেবে আবার ঢাকা ডিনামাইটসের প্রসঙ্গ আনা যাক। এই দলটি নিয়ে ধারণা এই যে এটা বোর্ড সভাপতির দল। কিন্তু কাগজ আপনাকে বলবে, কোনো সম্পর্ক নেই।

বোর্ড সভাপতি চাকরি করেন বেক্সিমকো ফার্মায়। আর ঢাকা ডিনামাইটসের মালিক বেক্সিমকো গ্রুপ। এই পার্থক্যটা হয়তো সভাপতি নিজেও ধরে রাখতে চান। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতা হলো, মানুষ ক্ষমতার আরাধনা করতে চায়।

হয়তো বোর্ড সভাপতি আন্তরিকভাবেই চান, এই দলটা যেনো তার নাম করে ক্ষমতার ব্যবহার না করে। হয়তো দল মালিকরাও তাই চান। কিন্তু আমরা যারা বিভিন্ন ছোট ছোট পদে আছি। তারা অনেক সময় ভাবি, দলটাকে একটু বাড়তি পানি এগিয়ে দিয়ে উনি খুশী হবেন, ভাবি একটা সিদ্ধান্ত বদলে দিলে তিনি আমাকে গুডবুকে রাখবেন। এসব চিন্তা করে মালিক বা সভাপতি না চাইলেও তার পক্ষে চলে যাই।

এসব চিন্তা থেকেই এই দলের সমর্থকরা মিছিল করে বিনা টিকিটে মাঠে ঢোকে, এসব চিন্তা থেকেই তারা গ্যালারিতে দাপট দেখাতে গিয়ে গন্ডগোলে জড়ায়।

ফলে এই দূর সম্পর্কের সম্পর্কটাও ত্যাগ করা দরকার।

আমাদের বোর্ড এখন অনেক স্মার্ট। আগের দিনে যেসব কান্ডকারখানা হতো, তা এই বোর্ড করে না, এটা জোর দিয়ে বলা যায়। আমরা আশা করতে পারি, আমাদের বোর্ড সভাপতির কানে এইসব ফিসফাস পৌছাবে। তিনি নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নেবেন যে তার বা অন্য কোনো পরিচালকের দূরের সম্পর্ক থাকা প্রতিষ্ঠানও বিপিএলে দল কিনতে পারবে না।

আমরা আশা করবো, বাংলাদেশের ক্রিকেট অন্তত আরও স্মার্ট হয়ে উঠবে। কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট বা কমিটির টিমের মতো তুচ্ছ ব্যাপার তাদের বিব্রত করবে না।  

 

Category : মতামত
Share this post