সমাধাণ পারফরম্যান্সেই

আরিফুল ইসলাম রনি
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬
     তামিম ইকবাল তামিম ইকবাল

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য সত্যিকার আবেগ, ভালোবাসা আছে তামিম ইকবালের। মুশফিকুর রহিমের আছে। মাহমুদউল্লাহর আছে। আরেকজনের ভালোবাসা আছে, কিন্তু নিজের শরীরটা বিদ্রোহ করেছে বারবার। পারলে সব ছেড়েছুড়ে টেস্টই খেলতেন। নিজের শরীর তাকে সেই ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করছে।

যাই হোক... তামিমের সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলা সবসময়ই আনন্দময় অভিজ্ঞতা। সেটা মাইক্রোফোন-রেকর্ডারের সামনে ফরম্যাল কথাই হোক, বা শের-ই-বাংলার সবুজ ঘাসে, কিংবা জিম, একাডেমি, মিডিয়া সেকশন বা সাংবাদিক লাউঞ্জের আড্ডা। পিওর ক্রিকেট নিয়ে তামিমের বিশ্লেষণ দারুণ।

একটা টাটকা উদাহরণ দেই। কন্ডিশনিং ক্যাম্পে প্রতিদিনের ধারাবাহিকতায় আজকে তামিম কথা বলেছেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। অনলাইনে জায়গার অভাব নেই বলে আমরা একই স্টোরিতে সব প্রসঙ্গ চাপিয়ে দেই না। প্রাসঙ্গিক ও ভালো স্টোরির উপাদানগুলো বেছে প্রত্যেকটা আলাদা স্টোরি করা হয়। আজকে তামিমের প্রেস কনফারেন্স থেকে আমাদের বিডিনিউজে ৭টা স্টোরি করা হয়েছে। সবগুলোই প্রাসঙ্গিক এবং উপযুক্ত ইস্যু। চাইলে আরও ২-৩টা করা যেত! অনেক সময় সাধারণ ইস্যুও তামিমের ব্যখ্যায় দারুণ হয়ে ওঠে।

টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি সত্যিকার ভালোবাসা আছে বলে টেস্ট কম খেলা নিয়ে তামিমের হাহাকারটাও তীব্র। তিনি চান ১০ হাজার টেস্ট রান করতে। চান দেশের হয়ে একশ টেস্ট খেলতে। কিন্তু দেখছেন বয়স বেড়ে যাচ্ছে, সময়ের স্রোত বয়ে যাচ্ছে, টেস্ট সংখ্যা বাড়ছে না। তামিম তাই সুযোগ পেলেই বলেন টেস্ট কম খেলা নিয়ে আক্ষেপের কথা। গত ৫-৬ বছরে অনেক অনেক বার বলেছেন, বলে যাচ্ছেন। আজকেও ছিল সেই একই আক্ষেপ। একটা নিত্য আক্ষেপ।

২০০৮ সালের ৪ জানুয়ারি তামিমের টেস্ট অভিষেক। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত ১০৭টি টেস্ট খেলেছেন অ্যালেস্টার কুক, ৯৭টি জিমি অ্যান্ডারসন, ৯৫টি স্টুয়ার্ট ব্রড। বাদ পড়া ইয়ান বেল ৮৫টি, বছরখানেক আগে অবসরে যাওয়া মাইকেল ক্লার্ক ৮৪টি। তুলনামূলক কম টেস্ট খেলা নিউ জিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালামও খেলেছেন ৭৪টি। তামিম খেলেছেন ৪২টি। হতাশ কেন হবেন না! তামিমের প্রায় ৫ বছর পর অভিষেক হয়েও জে রুট খেলেছেন তামিমের চেয়ে বেশি টেস্ট।

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট বেশি খেলে। কিন্তু উপমহাদেশের ইশান্ত শর্মা, দেড় বছর আগে অবসরে যাওয়া মহেন্দ্র সিং ধোনি এই সময়ে খেলেছেন ৬৬ টেস্ট।

ভারতও টেস্ট বেশি খেলে। ঠিক আছে। তামিমের দেড় বছর পর অভিষিক্ত অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস খেলেছেন তামিমের চেয়ে ১৮ টেস্ট বেশি। এমনকি নিজ দেশ থেকে নির্বাসিত পাকিস্তান, তাদের আসাদ শফিক, তামিমের প্রায় ৩ বছর পরে অভিষেক হয়েও খেলে ফেলেছেন বেশি টেস্ট।

আইসিসির দায় আছে। বিসিবির ক্রিকেট কূটনীতির দায় আছে। প্রশাসকদের দায় আছে। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে তামিমের পার্থক্যে এখানেই যে সব প্রশাসকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেননি। তামিম বরং সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব দেখছেন নিজেদের, ক্রিকেটারদের!

চলুন শোনা যাক তামিম কি বলছেন, “আমি সব সময় বলি এটা আমাদের হাতে না, কিন্তু এটা আমরা বদলাতে পারি আমাদের পারফরম্যান্স দিয়ে। আমরা যদি ভালো খেলি, আমরা যদি আরও ম্যাচ জিতি, আমরা যদি টেস্ট ম্যাচ ভালো খেলি, তখন হয়তো আরও বড় বড় দল আমাদের সঙ্গে খেলতে আরও আগ্রহী হবে।”
“আমি যতই বড় বড় কথা বলিনা কেন, অথবা যে যতই যুক্তি দেখিয়ে দিক না কেন, আমার কাছে মনে হয় এটা সম্পূর্ণ খেলোয়াড়দের উপর নির্ভর করে। আমরা যদি টেস্টে বাংলাদেশকে ভালো ফলাফল দেই, তাহলে আমরা আরও বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারবো।”

বলতে পারেন, ‘বেশি বেশি টেস্ট না খেললে উন্নতি করব কিভাবে?’ এটা আসলে একটা ভিসাস সার্কেল। উন্নতি না করলে বেশি টেস্ট পাওয়া যাবে না। কিন্তু বেশি টেস্ট না খেললে উন্নতিও হবে না!

এটাই বাস্তবতা। সমাধান তামিমের কথা। সীমিত সুযোগ যা পাওয়া যাবে, সেখানেই ভালো করতে হবে। দেখিয়ে দিতে হবে। বুঝিয়ে দিতে হবে। দারুণ পারফরম্যান্সই কেবল ভাঙতে পারে বৃত্ত। শ্রীলঙ্কা এভাবেই পেরেছে। রাজনীতির ছোবল লাগার আগে জিম্বাবুয়ে পেরেছিল আরও দ্রুত।

পারফরম্যান্স ভালো হলে ক্রিকেট কূটনীতি লাগে না। আইসিসিকে অদৃশ্য শত্রুও বানাতে হয় না!

Category : মতামত
Share this post