স্থানীয় ব্যাটসম্যানরা ‍ঘুমিয়ে আছেন, তাদের হিসাব নেই

মাহবুব মিলন
নভেম্বর ১৪, ২০১৭
স্থানীয় ব্যাটসম্যানদের জাগাবে কে? স্থানীয় ব্যাটসম্যানদের জাগাবে কে?

এক ডজন, মানে ১২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল)। কিন্তু বলতে গেলে এখনো ঘুমাচ্ছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা! স্থানীয় বোলাররা, বিশেষ করে পেসাররা তবুও বেশ ভালোমতোই জেগে উঠেছেন! কিন্তু ব্যাটসম্যানরা কবে জাগবেন?

যত বেশি সময় নেবেন, বিপদ ততই বাড়বে ব্যাটসম্যানদের! কারণ, এবার একাদশে খেলছেন পাঁচজন করে বিদেশি খেলোয়াড়! দলে জায়গা ধরে রাখতেই হিমশিম খেতে হবে স্থানীয় উইলোবাজদের!

এখন পর্যন্ত যা খেলা হয়েছে, সেই পরিসংখ্যানের পাতা উল্টিয়ে দেখা যাক।

সর্বোচ্চ ১০ উইকেটশিকারীর তালিকার ৬ জনই বাংলাদেশি বোলার। ৪ জন বাইরের খেলোয়াড়। খুলনা টাইটান্সের আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি ও চিটাগং ভাইকিংসের তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৬টি করে উইকেট। সিলেট সিক্সার্সের ইংলিশ অলরাউন্ডার লিয়াম প্লাঙ্কেটের উইকেট সংখ্যা ৬ হলেও গড়ে কম রান দেয়ায় রয়েছেন শীর্ষে।

অন্য ৭ জনের দখলে গেছে ৫ উইকেট করে, যেখানে বিদেশী বলতে ঢাকার সুনীল নারাইন এবং কুমিল্লার ডুয়েইন ব্র্যাভো ও মোহাম্মদ নবি। অন্যরা হলেন কুমিল্লার আবু হায়দার রনি, সিলেটের তাইজুল ইসলাম ও আবুল হাসান এবং রাজশাহীর ফরহাদ রেজা।

এছাড়া সেরা ১০ বোলিং ফিগারের ৭টিই বাংলাদেশের বোলারদের দখলে। ৩টি বিদেশী খেলোয়াড়দের। সেরা ঢাকার আফ্রিদির ১২ রানে ৪ উইকেট। খুলনার আবু জায়েদ রাহীও নিয়েছেন ৪ উইকেট, তবে রান দিয়েছেন ৩৫। অন্য সবাই ইনিংসে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন, যেখানে একমাত্র বোলার হিসেবে তাসকিন পেয়েছেন ২ বার।

কিন্তু সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রাহদের তালিকার সেরা দশে ৮ জনই বিদেশি ব্যাটসম্যান! স্থানীয় খেলোয়াড় মাত্র ২ জন! ৫ ম্যাচে তিন ফিফটিতে ১৯৭ রান নিয়ে সিলেট সিক্সার্সের শ্রীলঙ্কান তারকা উপুল তারকা সর্বাধিক রান সংগ্রাহক। একই দলের ক্যারিবীয়ান ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারের রান ১৫১। সাতে থাকা রাজশাহী কিংসের মুমিনুল হক ৪ ম্যাচে করেছেন ৯৮ রান। ৩ ম্যাচে ৮৯ রান কুমিল্লার ইমরুল কায়েসকে জায়গা দিয়েছে দশে! তার মানে বাংলাদেশের কেউ এখনো এক’শ রানই করতে পারেন নি!

চিটাগংয়ের ব্লাক ক্যাপস উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান লুক রনকির ৭৮ রান এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোর। মোট হাফ সেঞ্চুরি হয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে শুধু একটিই করেছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক (৬৩)। অন্য সবকটি বিদেশী খেলোয়াড়দের!

তাহলে কী দাঁড়ালো ব্যাপারটা?

বিদেশী খেলোয়াড়ের কোটা বাড়ানোয় স্থানীয়দের সুযোগ কমে গেছে, খুবই সত্যি কথা। কিন্তু এটা নিয়ে হা-হুতাশ করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাও না খেলতে পারলে তো বিপদ!

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যুক্তি দেখাবে স্থানীয় ব্যাটসম্যানরা পারছেন না, তাই বিদেশিদের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। আবার ব্যাটসম্যানরা বলবেন, তারা সুযোগ পাচ্ছেন না বলে ভালো কিছু করতে পারছেন না।

এমন প্রেক্ষাপটে কার কতটা ভুমিকা, সেটা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে। কিন্তু প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে না পারলে স্থানীয় ব্যাটসম্যানদের ওপরের দিকে খেলানোর দাবী জোরালো হবে কীভাবে?

এক্ষেত্রে জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ব্যর্থতার প্রতিমূর্তি হয়ে আছেন সাব্বির রহমান! সিলেট সিক্সার্সের এই ‘আইকন খেলোয়াড়’ ৫ ম্যাচে করেছেন সাকুল্যে ২২ রান! সর্বোচ্চ ১৬, গড় ৫.৫০! অথচ প্রত্যেক ম্যাচেই নেমেছেন গুরুত্বপূর্ণ ওয়ানডাউন পজিশনে! এখন সিলেট যদি সাব্বিরকে আরও নিচে নামিয়ে দেয় কিংবা বসিয়েও রাখে, তবে কী খুব বেশি দোষ দেয়া যাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে?

কিংবা চিটাগং ভাইকিংসের সৌম্য সরকারের কথাই ধরুন। ৩ ম্যাচে ১৫.০০ গড়ে করেছেন ৪৫ রান। প্রথম ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে সেই যে ৩৮ রান করেছেন, আর খবর নেই! অথচ এই ওপেনার দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে দুটো টি-টোয়েন্টিতে কী অসাধারণ ব্যাটিং না করেছেন! সৌম্য না পারলে চিটাগং ওপেনিংয়ে রনকির সঙ্গে অন্য কোনো বিদেশী খেলোয়াড়কে নামিয়ে দেয়ার কথা ভাবতেই পারে!

খুলনার তরুণ ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ৩ ম্যাচে মাত্র ২১ রান, রাজশাহীর মুশফিকুর রহিম ৩ ইনিংসে ৩৮ রান ও রনি তালুকদার ৪ ইনিংসে ৫৭ রান... চাইলে স্থানীয় ব্যাটসম্যানদের এখন পর্যন্ত ব্যর্থতার তালিকা অনেক লম্বা করা যাবে।

কিছুটা দেরি তো হয়ে গেছেই। তারপরও বিদেশী খেলোয়াড়দের দাপটে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য হলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দ্রুত নিজেদের মেলে ধরা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে!

Category : মতামত
Share on your Facebook
Share this post