এজন্যই তো এটা গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা!

মাহবুব মিলন
অক্টোবর ২৬, ২০১৭
দু:স্বপ্নের সিরিজ কাটাচ্ছে বাংলাদেশ। দু:স্বপ্নের সিরিজ কাটাচ্ছে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দলের চরম ব্যর্থতায় হতাশ সমর্থকরা কী শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান সিরিজের দিকে চোখ রেখেছেন? যদি রেখে থাকেন, তবে হয়তো পুরনো ব্যাপারটিই নতুনভাবে উদ্ভাসিত হতে দেখেছেন - এই না হলে ক্রিকেট! ক্রিকেট খেলাটা যে কতটা রোমাঞ্চ আর রহস্যময়তায় পরিপূর্ণ, এর ভেতরে লুকানো বিস্ময় যে কত প্রকার ও কী কী, সেটাই উদাহরণসহ জানা গেল আরেকবার!

পাকিস্তানের ‘দ্বিতীয় হোমগ্রাউন্ড’ হিসেবে পরিচিত আরব আমিরাতের মাটিতে লংকানরা টেস্ট সিরিজ জিতে নিল ২-০ তে! তাও আবার চমক দেখিয়ে! প্রথম টেস্টে মাত্র ১৩৬ রান চেজ করতে গিয়ে ২১ রানে হেরে যায় পাকিস্তান! দ্বিতীয় টেস্টে শ্রীলংকা দেখিয়ে দিয়েছে, মাত্র ৯৬ রানে (দ্বিতীয় ইনিংসে) অলআউট হয়েও ম্যাচ জেতা যায়!

ক্রিকেট খেলতে হলে বাংলাদেশকেও কখনো হয়তো পাকিস্তানের পরিনতি বরণ করতে হতে পারে। মুখের একেবারে কাছে আসা খাবারও ছিনিয়ে নিতে পারে প্রতিপক্ষ। তখন সমর্থকরা যেন আবার ‘গেল রে, গেল রে’ রব না তোলেন, তাই এই সিরিজটা একটু মনে রাখুন!

টেস্টে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর ওয়ানডে সিরিজেও ভালো কিছু করবে শ্রীলঙ্কা, অনেকে এমনটাই নিশ্চয় ধরে নিয়েছিলেন! সেই আশায় গুড়েবালি! শ্রীলংকা পরাজিত হলো পাঁচটি ম্যাচেই! এবং ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে এক বছরে তিনটি পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার ‘অগৌরবের কীর্তি’ গড়লো! বাংলাদেশও যে কখনো এমন কিছুর শিকার হবে না, তার কোনো গ্যারান্টি আছে? না, নেই।

এখানেই অবশ্য শেষ নয়। পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মধ্যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও আছে। সেখানে ফেবারিট কে? অনুমান করতে পারি, আপনি পাকিস্তানকেই এগিয়ে রাখছেন। তা রাখুন। কিন্তু সেখানে যে পাকরাই জিতবে, বিস্ময়কর কিছু ঘটবে না; তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই কিন্তু!

আমাদের, মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের স্মৃতি অনেকটাই অক্টোপাসের মতো!  দ্রুত সব ভুলে যাই! কম কিংবা বেশি ঘুমাই বলে কিছুরই হিসেব থাকে না! নইলে তো জানার কথা- দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যে টেস্টে বড় ব্যবধানে হারলাম, কিংবা ওয়ানডেতে ১০ উইকেটে ও ২০০ রানের হার; এসব কিছুই নতুন নয়! কতবার ঘটেছে ক্রিকেটে, আরও কত যে ঘটবে! অথচ আমরা চাই জয়, তা নাহলে ‘সম্মানজনক’ হার।

তাহলে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা চলমান সিরিজ থেকে থেকে আমরা কী বার্তা পেলাম? ম্যাসেজ একটাই, দুই সমশক্তির দলের মধ্যে যদি নিজেদের চেনা জানা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এরকম আজগুবি কান্ডকীর্তি ঘটতে পারে; তবে বিরুপ কন্ডিশনে দুই অসম প্রতিপক্ষের মধ্যকার ম্যাচে যে কোনো ফলই হতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আমরা খুবই বাজে খেলেছি এবং হয়তো টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরে সব মিলিয়ে ৭-০ নিয়ে দেশে ফিরতে পারি! তাই বলে ‘আহারে-আহারে’ বলে মাতম জুড়ে দিয়ে আসমান-জমিন এক করে ফেলার কোনো মানে হয় না! তার চেয়ে বরং ব্যর্থতার কারন ও প্রতিকার খুঁজে পদক্ষেপ গ্রহণ ও শিক্ষা নেয়াটাই জরুরী। ক্রিকেটের চিরায়ত রীতি জানতে হলে আপনাকে কোথায় কী ঘটছে, সেদিকে তাকাতেই হবে!

না, কোনোভাবেই বলা হচ্ছে না যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় যা করছে বাংলাদেশ সেটাই করা উচিত ছিল! হাতের কাছে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা সিরিজের জ্বলন্ত উদাহরণ পেয়ে শুধু এইটুকু স্মরণ করিয়ে দেয়ার চেস্টা যে, ক্রিকেটে এমন হয়। হতেই পারে! আমি-আপনি কী ধরে নিলাম, সেসবের আসলে কোনো গুরুত্ব নেই।

ক্রিকেট কারও ধরে নেয়ার উপর ভিত্তি করে চলে না! অনুমানও মানে না! কেন? ক্রিকেট যে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা!

Category : মতামত
Share on your Facebook
Share this post