যারা বিকল্প খোজ করছিলেন

  সাকিব-রিয়াদ  সাকিব-রিয়াদ

শূন্য রানে ১ উইকেট।

১০ রানে ২, ১২ রানে ৩ এবং ৩৩ রানে ৪ উইকেট। কী ভেবেছিলেন এরপর?

হ্যা, আমি-আপনি সকলেই এরপর অপেক্ষায় ছিলাম আরেকটা ব্যাটিং লজ্জা দেখার। অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু টিভির সামনে থেকে উঠিনি। পার্থক্যটা এখানেই।

যারা বিশ্বাসটা রাখতে পারেননি, তারা টিভি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তারা মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। আর যাদের মনের এক কোনে একটু বিশ্বাস ছিলো, আস্থা ছিলো; তারা এর পরও অপেক্ষা করেছেন। আর এই অপেক্ষার প্রতিদান দিলেন সাকিব-রিয়াদ।

শুধু অপেক্ষার প্রতিদান নয়, দিলেন অনাস্থার-অবিশ্বাসের প্রতি জবাব।

সাকিব জবাব দিলেন, রিয়াদ জবাব দিলেন এবং বাংলাদেশ দল জবাব দিলো। তারা এক সুরে যেনো বলে উঠলো, বিকল্প খোজার সময় আসেনি। নিয়তির কী অদ্ভুত খেলা! বাংলাদেশ দলের প্রতি অবিশ্বাসের জবাব দিলেন যে দু জন মানুষ, তারা নিজেরাই গত কয়েক দিনে ঘোরতর অনাস্থার শিকার হয়েছেন।

প্রথমে সাকিব আল হাসানের কথা বলা যাক।

সাকিব আল হাসান; লোকটা সাকিব আল হাসান। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। হাওয়ায় ভেসে ভেসে বিশ্বসেরা হননি। তার এই বিশ্বসেরা হওয়ার সবচেয়ে বড় সুফল ভোগ করেছে এই বাংলাদেশ। এই দেশের সমর্থকদেরই তিনি আমোদে ভাসিয়ে ভাসিয়ে এতো বছর টেনে এনেছেন। একা হাতে সেঞ্চুরি করে, ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের পর ম্যাচ জিতিয়েছেন।

এই নিউজিল্যান্ডকে একা হাতে হোয়াইট ওয়াশ করেছেন।

তারপরও আমরা সাকিবের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেললাম! মাত্র কয়েক মাসের ‘ফর্মহীনতা’য় আমরা তার বিকল্প খোজার মতো শব্দ উচ্চারণ করে ফেললাম! কী ভয়ানক ব্যাপার!

তাও কী পুরো সাকিব ফর্মহীন ছিলেন?

ব্যাটে তো রান ছিলো। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট জেতারেনা ইনিংস ছিলো। শুধু বোলিংটা মনমতো হচ্ছিলো না। তাতেই আমরা শেষ দেখে ফেললাম। দেশের সবচেয়ে বড় বিশেষজ্ঞদের একজন বললেন, সাকিবের বিকল্প খুজতে শুরু করা উচিত। এমনকি প্রধাণ কোচ অবধি বললেন, সাকিবের ওপর আর আগের মতো ভরসা করা যায় না।

কী নিষ্ঠুর! কী অকৃতজ্ঞ! কী ভয়ানক!

এবার রিয়াদের কথা ভাবুন। রিয়াদ সাকিবের মতো বিশ্বসেরা নন। কিন্তু তিনিও কী আমাদের কম ম্যাচ জিতিয়েছেন। এই কয় দিন আগে বিশ্বকাপেও তিনি নয়নমনি ছিলেন। তারপর টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ফাইনাল খেললাম আমরা তার ব্যাটে ভর করে। কেবল টেস্টে রান পাচ্ছিলেন না তিনি।

তাতেই রিয়াদকে ওয়ানডে দলেরও স্কোয়াড থেকেই বাদ দেওয় হলো। মাশরাফি বললেন, রিয়াদ দলে না থাকলে তিনি শ্রীলঙ্কা যাবেন না। রিয়াদকে রাখা হলো। এই অবমাননা, এই অবহেলা কী রিয়াদের প্রাপ্য ছিলো? এতো সহজে আস্থা হারিয়ে ফেলি আমরা?

এই খেলাধুলা ওয়েবসাইটের পেজটা দেখুন। সাকিব-রিয়াদের নামে শত শত গালি খুজে পাবেন। শত শত আস্থাহীন কথা খুজে পাবেন। বাংলাদে পারবে না, সাকিব ফুরিয়ে গেছে, রিয়াদ শেষ; এসব কথা পাবেন। একটু আস্থা নেই আমাদের। একটু ধৈর্ নেই, একটু সহনশীলতা নেই।

আর এই সব না থাকার জবাবই দিলেন রিয়াদ আর সাকিব।

ভাববেন না যে, এই জবাব কেবল তাদের নিজেদের জন্য। এটা সবার হয়েই জবাব। এই যে মুস্তাফিজ একটু খারাপ করলেই ‘গেলো, গেলো’ রব তোলেন আপনারা। কিংবা সৌম্য-সাব্বির রান না পেলেই অসহনশীল হয়ে গালিগালাজ করেন; গতকালকের ম্যাচে এসবেরই জবাব মিললো।

মনে রাখতে হবে, এই সাকিব-তামিম-রিয়াদ-সৌম্য-মুস্তাফিজ-সাব্বিররাই দলটাকে এখানে এনেছে। রোজ সবাই পারফরম করতে পারবে না, এটাই সত্যি। তাই বলে এতো দ্রুত আস্থাও হারিয়ে উল্টো পাল্টা কথা বলা যাবে না।

ভুল বললাম। উল্টো-পাল্টা বলতে পারেন। বললে সমস্যা নেই। কেবল একটা গাল  প্রস্তুত রাখবেন। গতকাল যেমন করে সাকিব আর রিয়াদ চপেটাঘাত করেছেন, বাকীরাও আজ বাদে কাল করবেন। এটাই খেলাধুলার বৈশিষ্ট্য। এখানে অনাস্থার কোনো জায়গা নেই।

Category : মতামত
Share on your Facebook
Share this post