একটা ট্রফির জন্য

  সাকিব ও মেসি  সাকিব ও মেসি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার, তথা জার্মানরা যদি জিতে যেতো?

দুনিয়ার মানচিত্র আজকের মতো থাকতো না, লোকেদের মুখের ভাষাও হয়তো অন্যরকম হতো। অনেক কিছুই হতে পারতো। তবে একটা কথা নিশ্চিত করে বলা যায়, হিটলারকে লোকে এমন ‘ভিলেন’ হিসেবে চিনতো না।

লোকে বলতো, একজন চিত্রানুরাগী, মাদকবিরোধী, শৃঙ্খলাপরায়ন মহান নেতা ছিলেন হিটলার। এই ইতিহাসই তাকে নায়ক বানিয়ে ছাড়তো। কারণ, ইতিহাস জয়ী লোকেদের গুনগানই করে; পরাজিতের নয়।

ইতিহাসের চেয়ে দুষ্টু আর কেউ নেই।

ইতিহাসের কাছে পেলে-ম্যারাডোনা, এমনকি রোনালদোরও মূল্য আছে। কারণ তারা জিতেছেন। বিশ্বকাপ জিতেছেন, ইউরো জিতেছেন। কিন্তু এই ইহিাসের কাছে কানাকাড়িও দাম নেই একজন লিওনেল মেসির। কারণ তিনি কিছু জেতেননি।

ইতিহাসের কাছে একজন ব্রায়ান লারার চেয়ে একজন ড্যারেন স্যামিরও দাম বেশী!

কারণ, লারার কিছু জেতেননি; স্যামি আর না হোক দুটো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। দুই দুটো।

ফুটবলে এই ব্যাপারটা তামাশার মতো একটা সত্যি। ব্রাজিল দিয়েই উদাহরণ দেওয়া যাক। আপনি নিশ্চয়ই কাকা বা ডেনিলসনদের নাম জানেন? জানারই কথা। কারণ তারা ব্রাজিলের হয়ে ‘বিশ্বকাপ জেতা’ ফুটবলার। অথচ সক্রেটিস বা জিকোর নাম এই দুষ্টু ইতিহাস ভুলে গেছে। ভুলে গেছে ১৯৮২ সালের ব্রাজিল দলের কথাই।

অথচ দেখুন ট্রাজেডি আর কাকে বলে!

ব্রাজিলের ইতিহাসের বা ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা দল মনে করা হয় ১৯৮২ সালের ব্রাজিল দলকে। ওই দল কিচ্ছু জেতেনি; তাই ইতিহাসে তাদের নাম নেই। আছে ১৯৯৪ সালে জেতা দুঙ্গার দলের কথা। যে দলকে ব্রাজিলের দল বলে স্বীকার করতেই পন্ডিতরা আপত্তি করে থাকেন।

আবার আর্জেন্টিনার দিকে তাকিয়ে দেখুন।

২০০২ সালের আর্জেন্টিনা দলকে বলা হয় ১৯৮২ সালের ব্রাজিল দলের মতোই একটা দল। কী সব মহাতারকা নিয়ে গড়া এক দল। কিন্তু প্রথম রাউন্ডেই বাদ সেই দল। আজ সেই ভেরন, ওর্তেগা, সিমিওনেদের জায়গা হয়েছে ইতিহাসে?

হয়নি। ইতিহাস এমন হেরে যাওয়াদের মনে রাখে না।

এই ম্যারাডোনা আর মেসির কথাই ধরুন না কেনো। ম্যারাডোনাকে আমরা ‘সর্বকালের অন্যতম সেরা’ বলি। কেনো? কারণ ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি আর্জেন্টিনাকে। মনে আছে কিভাবে জিতেছিলো তারা?

ফাইনালে খেলা যখন সমতায় তখন ম্যারাডোনার পাস থেকে গোল করেছিলেন একজন বুরুচাগা; হিগুয়েইনের চেয়ে ঢের খারাপ এক বুরুচাগা। আর গত তিনটি বৈশ্বিক টূর্নামেন্টে এই কাজটাই করতে পারেননি হিগুয়েইন। তিনি তিনটে গোল মিস না করলেই আজ মেসি সর্বকালের সেরা হয়ে উঠতেন।

এভাবেই একজন হিগুয়েইন বা বুরুচাগা এসে দাড়িয়ে যায় জয় আর পরাজয়ের মাঝখানে কিংবা ইতিহাস হয়ে ওঠার ব্যবধান গড়ে দেয় এরকম কোনো একজন অপদার্থ বা একজন সুযোগ সন্ধানী। কিংবা ২টি রান ব্যবধান গড়ে দেয় একটি দেশের ইতিহাসের।

২টি রান?

হ্যা, এশিয়া কাপের ফাইনালের সেই দুটি রান। ওই দুটি রান বাংলাদেশকে একটি ইতিহাস থেকে এক শ মাইল দূরে দাড় করিয়ে রেখেছে এখনও।

বাংলাদেশ এর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়েছে। ইংল্যান্ডকে তিন দিনে টেস্ট হারিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এসেছে। কিন্তু ওই ২ রানের অভাব ঘোচেনি। কারণ ওই ২ রান দূরেই ছিলো একটা ট্রফি-এশিয়া কাপ।

তাই সাকিব আল হাসান বারবার বলেন, ‘একটা বিশ্বকাপ চাই।’

এক নম্বর টেস্ট দল হওয়ার বদলে, এক নম্বর দলকে তার দেশে গিয়ে হারানোর বদলে হলেও বিশ্বকাপ তার চাই চাই। ট্রফি তার চাই চাই।

ট্রফির মর্ম মেসি আর সাকিবের চেয়ে ভালো কে জানে!

Category : মতামত
Share on your Facebook
Share this post