আর্জেন্টিনা না বার্সেলোনা - কোন পথে সাম্পাওলি?

কোচ হিসেবে সাম্পাওলির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবার অবকাশ খুব সামান্যই। কোচ হিসেবে সাম্পাওলির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবার অবকাশ খুব সামান্যই।

গত মাসে এডগার্ডো বাউজাকে বরখাস্ত করার পর, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখন নজর দিয়েছে সেভিয়া কোচ হোর্হে সাম্পাওলির দিকে। গত বৃহস্পতিবার এএফএ প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়া নিজেই নিশ্চিত করেছেন এ কথা। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের পছন্দের ক্যান্ডিডেট একজনই – সাম্পাওলি। তিনি বর্তমানে সেভিয়ার কোচ, এবং আমরা সেটিকে সম্মান জানাই। মৌসুম শেষ হলে আমরা তার সাথে আলাপ করব।’

এদিকে সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে আর্জেন্টিনার জন্য। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দক্ষিণ আমেরিকা অংশে পঞ্চম স্থানে আছে তারা। অর্থাৎ একদমই খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তারা। সেরা চার দল সরাসরি টিকিট পাবে রাশিয়া বিশ্বকাপের। আর পঞ্চম দলকে খেলতে হবে প্লে-অফ।

আর্জেন্টিনার হাতে বাকি আছে আর মাত্র চার ম্যাচ। যদি সরাসরি রাশিয়ার টিকিট অর্জন করতে চায় তারা, সেক্ষেত্রে আগামী চার ম্যাচের সবগুলোতে জয়ের বিকল্প নেই। কিন্তু শুধু নিজেদের জয়ই যথেষ্ট নয়। পয়েন্ট টেবিলে তাদের উপরে আছে চার দল – ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে ও চিলি। এর মধ্যে প্রথম দুই দল তো ইতিমধ্যেই ধরাছোঁয়ার বাইরে।

তাই আর্জেন্টিনার লড়াইটা উরুগুয়ে ও চিলির সাথে। এই দুই দলই তাদের থেকে এক পয়েন্টে এগিয়ে। তাই নিজেদের জয়ের পাশাপাশি এই দুই দলের পয়েন্ট হারাবার জন্যও অপেক্ষা করতে হবে তাদের।

আর এরকম একটা কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে সাম্পাওলিকে কোচ হিসেবে চাচ্ছে তারা। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, সাম্পাওলিই কেন?

এএফএ-র কাছে সাম্পাওলিকে নিয়োগের পেছনে যে প্রধান যুক্তি আছে, তা হল সাম্পাওলি একজন আর্জেন্টাইন। সাধারণত স্বদেশী কোচের অধীনেই খেলে থাকে তারা। সাম্প্রতিক অতীতে আর্জেন্টিনার কোচ ছিলেন এমন প্রায় সকলেই আর্জেন্টাইন। আর সাম্পাওলিও যেহেতু একজন আর্জেন্টাইন, তাই এটিই তার আর্জেন্টিনার কোচ হবার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট।

এবং সাম্পাওলির সাম্প্রতিক রেকর্ডও যথেষ্ট আকর্ষনীয়। তার নেতৃত্বেই দুই বছর আগে, ২০১৫ সালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা শিরোপে জিতেছিল চিলি। এবং সেটিই ছিল ফুটবলে চিলির নবজাগরণের সূচনা, প্রথম কোন বৈশ্বিক মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়।

চলতি লা লিগা মৌসুমেও সেভিয়ার কোচ হিসেবে দারুণ সফল সাম্পাওলি। দলকে তিনি নিয়ে গেছেন আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশগ্রহণের দ্বারপ্রান্তে, এবং এই মুহূর্তে তারা ডিয়েগো সিমিওনির অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সমান পয়েন্ট নিয়ে আছে চার নম্বরে।

তাই স্বাভাবিকভাবেই, কোচ হিসেবে সাম্পাওলির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবার অবকাশ খুব সামান্যই। তবে সমস্যাটা অন্য জায়গায়।

প্রথমত, দুই বছরের চুক্তিতে গত জুনে সেভিয়ায় যোগ দেন সাম্পাওলি। তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালের ৩০ জুন। তাই আদৌ এই চুক্তি ভেঙে সাম্পাওলির পক্ষে আর্জেন্টিনার কোচ হওয়া সম্ভব কিনা তা নির্ভর করছে এএফএ সেভিয়ার সাথে কোন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কিনা তার ওপর।

কিন্তু, সেভিয়ার সাথে সাম্পাওলির ব্যাপারে সমঝোতায় আসার দৌড়ে এএফএ একা নয়। তাদেরকে লড়াই করতে হবে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার সাথেও। চলতি মৌসুম শেষেই ন্যু ক্যাম্প ছাড়বেন লুইস এনরিকে।

আর তারপর কে হবেন মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারদের পরবর্তি বস, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে জল্পনা কল্পনা। বার্সেলোনার ভেতরের সূত্র হতে কোচ হওয়ার একটি সম্ভাব্য শর্টলিস্ট পাওয়া গেছে যেখানে এরনেস্তো ভালভেরদো, উনজু ও ম্যাক্স অ্যালেগ্রির পাশাপাশি নাম আছে সাম্পাওলিরও।

জানিয়ে রাখা ভালো, সেভিয়ার সাথে চুক্তি অনুযায়ী সাম্পাওলির রিলিজ ক্লজ হলো ১.৫ মিলিয়ন ইউরো। এবং শেষ পর্যন্ত সাম্পাওলির দল বদলে অর্থ যদি মুখ্য প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে লড়াইয়ে যে বার্সেলোনাই এগিয়ে থাকবে সে কথা বলাই বাহুল্য।

পাশাপাশি সাম্পাওলি নিজে কি চান সেটাও একটা বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাম্পাওলি বলেছিলেন, মেসিকে ম্যানেজ করা কোচ হিসেবে তার জন্য স্বপ্নের মত একটা ব্যাপার। এখন তিনি আর্জেন্টিনা বা বার্সেলোনা যে দলেরই কোচ হন, তার স্বপ্ন ঠিকই পূরণ হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা তার উপরই নির্ভর করছে যে তিনি বেছে নেবেন কাকে – আর্জেন্টিনা না বার্সেলোনা?

Category : মতামত
Share on your Facebook
Share this post