শচিন হয়ে মুশফিকের ফেরা

কাওসার মুজিব অপূর্ব
অক্টোবর ১২, ২০১৬
 মুশফিকুর রহিম মুশফিকুর রহিম

সুর ছাড়া কি গান হয়? সেটা হোক আর নাই হোক, কভার ড্রাইভ ছাড়াও শচিন টেন্ডুলকারকে চিন্তা করা যায়।

কভার ড্রাইভের সাথে ভারতীয় কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের সম্পর্কটা আক্ষরিক অর্থেই সুর আর সংগীতের মত। অথচ, একবার অনেকটা বাধ্য হয়েই এই কভার ড্রাইভ ভুলে যেতে হয়েছিল শচিনকে।

সেটা ২০০৩ সালের কথা। কভার ড্রাইভ করতে গেলেই বল শচিনের ব্যাটে আলতো চুমু খেয়ে চলে যাচ্ছে উইকেটের পেছনে, কখনও বা স্লিপে। সমালোচনার ঝড় উঠলো ভারতে। আর সেটা এতটাই যে, অনেকে পারলে শচিনকে দল থেকেই ছিটকে ফেলে দেন।

পুরো ব্যাপারটা নীরবে হজম করে গেলেন শচিন। ঠিক হজম না, এই নিয়ে নেটে প্রচুর কাজ করলেন। সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলে ফেললেন ২৪১ রানের অপরাজিত এক ইনিংস।

মজার ব্যাপার হল, সেই ইনিংসে একটাও কভার ড্রাইভ করেননি এই ব্যাটিং কিংবদন্তি। কি অসীম ধৈর্য্য!

শচিনের মত অনেকটা একই সমস্যায় ভুগছিলেন আমাদের ‘পকেট ডায়নামো’ মুশফিকুর রহিম। প্রিয় শট স্লগ সুইপটা ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। বেশ কয়েকবার সেই শটেই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসছিলেন ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান।

শেষ পাঁচ ইনিংসে মুশফিক করেছেন যথাক্রমে ৬, ৩৮, ১২, ১২ ও ২১ রান। হয়তো সেকারণেই মুশফিক নিজেও বুঝেছিলেন সমস্যাটা।

বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তাই শচিনকেই অনুসরণ করলেন মুশফিক। ফলও পেলেন। ৬২ বলে এক ছক্কা আর চারটি চারের সৌজন্যে গড়া ৬৭ রানের ইনিংসটা দেখলেই বোঝা যায় পার্থক্যটা।

কোনো বলকেই অযথা স্লগ সুইপ করার চেষ্টাও করেননি। রান পাওয়ার বাড়তি তাড়ণা থেকেই কি না নিজেকে একটু মুচড়ে ফেলেছিলেন। একটা গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলেছিলেন। তারপরও শেষমেশ মুশফিক যে রানে ফিরতে পেরেছেন সেটাই বাংলাদেশের বড় পাওয়া।

এভাবে নিজেকে বদলে ফেলাটা হয়তো মুশফিক বলেই সম্ভব হয়েছে!

Category : মতামত
Share on your Facebook
Share this post