মাশরাফিকে নিয়ে ছেলেমানুষী নয়

কাওসার মুজিব অপূর্ব
ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০১৭
 কিছু সমর্থকের ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’-এর দায় তো আর মাশরাফির না। কিছু সমর্থকের ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’-এর দায় তো আর মাশরাফির না।

স্যোশাল মিডিয়া একটা আজব জায়গা। সেখানে রোজ বিচিত্র সব নামের মুখোমুখি হতে হয়। নীল পরি নীলাঞ্জনা, অ্যাঞ্জেল ফারিয়া, আমিই সেই কুদ্দুস, হারিয়ে ফেলেছি জীবনের পাসওয়ার্ড - এমন বিচিত্র সব নামের সাথে পরিচিত হতে হয় ফেসবুকের কল্যানে।

আমার ধারণা ছিল, এত নামের ভীড়ে এই ‘নীল পরী নীলাঞ্জনা’ নামটাই হয়তো বাংলাদেশি ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে প্রচলিত নাম। কিন্তু, আজ সক্কাল বেলা সেই ভুল ভাঙলো।

জানতে পারলাম, শুধু ‘মাশরাফি বিন মুর্তজা’ বা ‘মাশরাফি মুর্তজা’ নামেই আছে প্রায় নয় লাখ আইডি। শুধু তাই নয়, এই নিয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সত্যিকারের আইডিই বার বার ‘গায়েব’ হয়ে যায়।

সেটা মাশরাফি কম বেশি মেনে নিয়েছিলেন। তবে, নতুন বিপত্তি হল ফেসবুকে মেইল চালাচালিতে তিনি জানতে পেরেছেন ‘মাশরাফি’ নামটাই আর নিচ্ছে না ফেসবুক। মাত্রাতিরিক্ত ভালবাসার যন্ত্রনায় খোদ মাশরাফিও যথেষ্ট বিরক্ত।

এই কাণ্ডটাকে খুব হালকা ভাবে দেখলে, স্রেফ সমর্থকদের উন্মাদনা বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু, ঘটনা ওতোটাও হালকা নয়। মানেন আর নাই মানেন, নি:সন্দেহে এক দল ‘নির্বোধ’ ফেসবুক ব্যবহারকারী মাশরাফির নামটার অসদ্ব্যবহার করছেন।

সেটার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের মাশরাফিকে ছোট হতে হয়েছে। সেটাও না হয় বাদ দিলাম, এই নয় লাখ আইডি’র কোনোটা যে কোনো অসৎ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না তার গ্যারান্টিই বা কে দেবে?

শুধু মাশরাফি না, আমাদের দেশে অন্যান্য ক্রিকেটার বা বিনোদন জগতের সেলিব্রিটিদের নামে ফেসবুকে আইডি খোলার একটা নোংরা চল আছে। সেই চলটা বন্ধ করা খুব জরুরী।

ক’দিন আগে শুনলাম, ফেসবুকে আরেক ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদের নাম ব্যবহার করে এক তরুণীর সাথে নাকি কেউ একজন প্রতারণা করেছেন। সেই তরুণী রীতিমত তাসকিনের বাড়ির সামনে চলে এসেছিল।

অনেক চেষ্টায় তাসকিন বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, সেই প্রতারণাকারী তাসকিন নন। ভবিষ্যতে যে এরচেয়েও বড় কোনো অঘটন ঘটবে না তাঁর গ্যারান্টি কে দেবে?

একই সাথে বিষয়টা একই ফেসবুকের নীতিমালারও বিরোধীতা। কিছু সমর্থকের ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’-এর দায় তো আর মাশরাফির না।

এই ‘কিছু সমর্থক’ যে আছে সেটা জানি। কিন্তু, সেই সংখ্যাট নয় লাখ জেনে বিস্মিত হলাম, বিরক্ত হলাম। অন্তত মাশরাফিকে নিয়ে বা তাঁর নাম নিয়ে ছেলেমানুষী করাটা মেনে নেওয়া যায় না!

শুধু তাই নয়, ফেসবুকে কোটি কোটি ‘মাশরাফিয়ান’, ‘সাকিবিয়ান’, ‘তামিমিয়ান’, ‘তাসকিনিয়ান’ আছেন। কেউ কেউ আবার ইচ্ছা করে নামের সাথে ‘মাশরাফি’, ‘ম্যাশ’, ‘সাকিব’ জুড়ে দেন। এটাও নিখাঁদ সমর্থন না।

নিখাঁদ সমর্থকরা গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভালবাসে। আর সেই ভালবাসা প্রকাশটা ফেসবুক আইডির নামের মধ্য দিয়ে করাটা খুব বেশি ছেলেমানুষী কাজকারবার।

Category : মতামত
Share on your Facebook
Share this post