নাসিরকে অভিনন্দন, তবে...

কাওসার মুজিব অপূর্ব
অক্টোবর ৯, ২০১৬
 নাসির হোসেন নাসির হোসেন

২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আফগানিস্তান সিরিজ – সবগুলোতে দলে থাকলেও বরাবরই তাকে একাদশে নেওয়ার ক্ষেত্রে এক রকম অনীহা ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের।সর্বশেষ ধর্মশালায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে তাকে দেখা গিয়েছিল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। সেই নাসির হোসেন অবশেষে অনেকদিন পর একাদশে ফিরেছেন।

সমর্থকদের বড় একটা অংশ তাতে আনন্দিত। আর সেই আনন্দ দেশে আমি শঙ্কিত। শঙ্কিত, কারণ এত অনিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে হঠাৎ করে একদিন ‍সুযোগ পাওয়ার পর তার জন্য কিছু একটা করে ফেলা মুশকিল। তখন না আবার এই সমর্থকরাই তাকে মাঠের বাইরে ছিটকে ফেলার জন্য উঠে পড়ে লাগেন।

অনেকের চক্ষুশুল হওয়ার পরও তিনি একাদশে ফিরতে পেরেছেন। সে জন্য নাসিরকে অভিনন্দন। হয়তো তার উপর হারিয়ে ফেলা বিশ্বাসটা ফিরে এসেছে টিম ম্যানেজমেন্টের। সেই বিশ্বাসটা লম্বা সময় ধরে রাখাটা জরুরী। একই কথা সমর্থকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আমি মনে করি, নাসিরের ওপর সেই বিশ্বাসটা অনেকদিন ধরেই আছে সমর্থক গোষ্ঠীর। এই তো সেদিনই দেখলাম, নাসিরকে দলে ফেরানোর জন্য একদল ছেলে-পুলে রীতিমত ইভেন্ট খুলে বসেছেন। নাসির যদি, টানা বেশ কয়েকটা ম্যাচ কোনো রকম পারফর্ম করতে না পারেন তার ওপর এই এক্ই রকম বিশ্বাস রাখতে পারবেন তো?

আমরা, কথায় কথায় কাউকে নায়ক বানাতে ওস্তাদ। সেটা নাসির হোক, কিংবা হোক মুস্তাফিজ; কিংবা মাশরাফিও। গতদিন ম্যাচের পরই দেখলাম একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘শুধু অধিনায়কত্বের জোরে একাদশে জায়গা পাওয়ার দিন শেষ!’

অথচ, গত চার ম্যাচে মাশরাফি ছয়টা উইকেট পেয়েছেন; সাথে অসাধারণ ফিল্ডিং তো আছেই। আর সেখানে নাসির যদি একেবারেই পারফর্ম করতে না পারেন টানা কয়েকদিন। তাকে আবার শুলে চড়ানোর তাল করবেন না তো?

যে টিম ম্যানেজমেন্ট অনেকরকম বাঁধা থাকার পরও যদি নাসিরের ওপর দীর্ঘমেয়াদী ভরসা করতে চায়, নাসির কোনো কারণে পারফর্ম করতে না পারলে সেই টিম ম্যানেজমেন্টকেই যাচ্ছেতাই ভাষায় গালিগালাজ করবেন না তো? – নাসিরকে অভিনন্দন জানানোর আগে একটু এই বিষয়টা ভাবুন।

Category : মতামত
Share on your Facebook
Share this post