ক্ষমা করবেন, নাসির

মোঃ রিয়াজুল ইসলাম
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬
 নাসির হোসেন নাসির হোসেন

শেষ যেবার নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর করেছিল, তখন রিক্তহস্তেই ফিরে যেতে হয়েছিল ব্রেন্ডন ম্যাককলামদের।

একটি মাত্র টি টুয়েন্টির কথা বাদ দিলে তো বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে পাত্তাই দেয়নি! টেস্ট সিরিজ ০-০ ব্যবধানে ড্র, ওডিআই সিরিজেও দ্বিতীয়য় বারের মত বাংলাওয়াশ। ২০১০-এর রুবেল হোসেন এবারো ওডিআই সিরিজের অন্যতম নায়ক। এবার আর ধারাভাষ্যকারদের বলতে হয়নি 'Bold him. Its all over. That is. There it is. Rubel Hassan takes a bowl, He has done it for Bangladesh Tigers'. কিন্তু সেদিন বলা হয়েছিল 'it is a hattrick, Jeemmy Nesham the man was'. সেই সিরিজে রুবেল হ্যাট্রিক করেছিল। .

আচ্ছা শেষ ম্যাচটির কথা কি আপনার মনে আছে?

আহা! বোকার মত একটি প্রশ্ন করলাম। আরে এই ম্যাচের কথা মনে না থেকে পারে! মনে আছে সসেদিন বাংলাদেশ ৩০৮ রানের টার্গেটে ব্যাট হাতে নেমেছিল। সাকিব-তামিম বিহীন ওই ম্যাচে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এবং দ্বিতীয় বারের মত বাংলাওয়াশের শিকার হয় কিউইরা। সেদিন অসাধারণ ফিনিশিং করেছিলেন নাসির হোসাইন। নাসির সেদিন ৩৮ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪* রান করে জয় নিয়েই প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন।

সেদিনের সেই নাসির হোসাইন ও রুবেল হোসাইন আজকের ম্যাচে ছিলেন না। রুবেল তো স্কোয়াডে আছে, কিন্তু নাসির তো সেই স্কোয়াডে পর্যন্তও নাই! আজ যখন বাংলাদেশ পরাজিত হলো তখন আমার বারবার মনে পড়েছিল ওই নাসিরের কথা।

মেন্টালী, ফিজিক্যালী, টেকনিকালী ও সাইকোলজিক্যালী; সব দিক নিয়ে নাসির হোসাইন এর দারুন একটি বৈশিষ্ট্য আছে। ৭, ৮, ৯ উইকেট পড়ে যাবার পরে কিভাবে টেইলএ্যান্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে অনেকক্ষণ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থাকা যায় সেদিক থেকে নাসির হোসাইন সুদক্ষ এক ক্রিকেটার। এমনও ম্যাচ দেখেছি ৩০ ওভারের ভিতরে বাংলাদেশে ৬ বা ততোধিক উইকেট পড়ে গেছে, সেই ম্যাচটি ৫০ ওভার পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছেন নাসির। শেষ বলে রান নিয়ে পরবর্তী ওভারে স্ট্রাইক নিজের হাতে রাখতে নাসিরের বৈশিষ্ট্য অসাধারণ। এখনো পর্যন্ত এই দেশে এমন টাইপের ব্যাটসম্যান আমার চোখে কেউই পড়েনি শুধু নাসির ছাড়া। এ ব্যাপারটা এখন ইতিহাস।

এবছরে বাংলাদেশের যে ২টি টেস্ট খেলেছে সেখানে একটি ম্যাচেও সুযোগ মেলেনি তার। বাংলাদেশের খেলা ৭ ওয়ানডের মাত্র ২টি ওয়ানডে খেলেছেন এবং এবছরে বাংলাদেশ যেখানে ১৬ টি টি টুয়েন্টি খেলেছে সেখানে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ২টি ম্যাচে! বাকি ম্যাচগুলোতে নাসির নিযুক্ত ছিলেন অফিসিয়ালী বোতল বাহক হিসেবে।

দু দিন আগে আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটারদের নাম ঘোষণা করেছেন। যদি আইসিসি বর্ষসেরা দ্বাদশ খেলোয়াড়ের পুরস্কার দিত, তাহলে এ বছরে নাসির ই হইতেন বর্ষসেরা বোতল বাহক! অত্যন্ত দুঃখের সহিত এই কথাগুলো বলতে হচ্ছে আমাকে।

স্যরি নাসির ভাই, আমাকে মাফ করবেন।

Category : মতামত
Share this post