আইসিসি অ্যাওয়ার্ডঃ প্রাসঙ্গিক বিতর্ক ও পর্যালোচনা

শেখ মিনহাজ হোসেন
ডিসেম্বর ২২, ২০১৬
  মুস্তাফিজ-অশ্বিন  মুস্তাফিজ-অশ্বিন

অনেকেই দেখলাম আইসিসি অ্যাওয়ার্ড এবং বর্ষসেরা দল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কয়েকটা পয়েন্টে হয়তো তাদের প্রশ্নগুলো ঠিকও! তবু কিছুটা ডিকোড করার চেষ্টা করি।

জুরি বোর্ডের সদস্য স্বয়ং উৎপল শুভ্র তার স্ট্যাটাসে মুস্তাফিজের ‘বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড়’ হওয়া নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন তুলেছেন। আরও অনেককেই দেখলাম। আমিও মানি যে মুস্তাফিজের অভিষেক ২০১৫ এর এপ্রিলে এবং আলোচ্য সময়ে মুস্তাফিজের খেলা ম্যাচের সংখ্যা কম। কিন্তু আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মানের ক্রাইটেরিয়া আগে দেখতে হবে।

খুব স্পষ্ট বলা আছে, ‘ক্যান্ডিডেটকে অনুর্ধ্ব ২৬ বছর বয়সী হতে হবে। এবং আলোচ্য বছর শুরু হবার আগে ৫ টার বেশি টেস্ট ম্যাচ এবং ১০টার বেশি ওয়ানডে খেলা যাবে না!’

মুস্তাফিজ এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলেছে ২টা, ওয়ানডে খেলেছে ৯টা। সুতরাং মুস্তাফিজ খুব ভালোভাবেই উদীয়মান খেলোয়াড়ের ক্রাইটেরিয়া পূর্ণ করে! এমনকি সে ২০১৬-২০১৭ বর্ষেও উদীয়মান খেলোয়াড় হবার দাবীদার হতে পারে! ক্রাইটেরিয়া এখনো শেষ হয়ে যায়নি!

আইসিসির নিয়মে উদীয়মান খেলোয়াড় দুইবার হওয়া যাবে না। অথবা ম্যাক্সিমাম ২ বছরের মধ্যে হতে হবে এমন কিছু নেই! উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, জশ হ্যাজলউডের আন্তর্জাতিক অভিষেক ২০১০ সালে! সে ৫ বছর পরেও ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে থাকায় ২০১৫ তে "বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের" পুরষ্কার জিতে।

ফলে মুস্তাফিজের এই পুরষ্কার পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি আইপিএলে পারফরম্যান্স মুস্তাফিজকে হেল্প করেছে। আইপিএল-এ যেহেতু মোটামুটি বিশ্বের সব তারকারাই থাকে তাতে এই টুর্নামেন্টকে হিসাবের মধ্যে না ধরাটাই খারাপ।

উইজডেন তো আজীবন তাদের বর্ষসেরা ক্রিকেটার কাউন্টি ক্রিকেটের উপর দিয়ে এসেছে। এখানে আইপিএলকে ক্রাইটেরিয়া ধরলে প্রব্লেম কী?

দ্বিতীয় পয়েন্ট, আশ্বিন বর্ষসেরা ক্রিকেটার।এমন একটা ধারণা তৈরী হয়েছে যে, ভারতের বলেই তারা আইসিসির; এই সূত্রে আশ্বিন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। ফালতু কথা।

আলোচ্য সময়ে আশ্বিনের ধারেকাছে ব্যাট-বলে পারফরম্যান্স করেছে এমন একজনকে দেখান তো? যদি ভারত প্রীতিই প্রধান হতো তাহলে কোহলি টেস্ট দলে সুযোগ না পেতো না। বাস্তবতা হচ্ছে, কোহলির ২০১৬ তে ৩টা ডাবল সেঞ্চুরি থাকলেও ২০১৫ এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ এর সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৮টা টেস্ট খেলে মাত্র ১ টা হাফ সেঞ্চুরি আর ১টা সেঞ্চুরি তার (সেটাই ডাবল)! সাধারণ হিসেবে খুবই সাধারণ পারফরম্যান্স। স্টিভেন স্মিথের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

আবার ওয়ানডে দলে রবীন্দ্র জাদেজার জায়গা কেন, সেটা আসলেই একটা বিশাল প্রশ্ন!

তবে এখানে ভারত প্রীতির কোন ব্যাপার নেই বলেই মনে হয়। আমার ধারণা দলের কম্বিনেশন ঠিক করতে জাদেজাকে আনা হয়েছে। মিচেল মার্শ, স্টার্কদের মাঝে দলে একজন বাঁহাতি স্পিনিং অল রাউন্ডারের প্রয়োজন আছে। এখানে বেস্ট অপশন হতে পারতেন সাকিব আল হাসান! সমস্যা হচ্ছে, আলোচ্য সময়ে সাকিব মাত্র ১টা, আই রিপিট ১টাই ওয়ানডে খেলেছে! সেই ম্যাচেই সে ৫ উইকেট পেয়েছে অবশ্য। কিন্তু ১টা ম্যাচ আসলে পারফরম্যান্সের ক্রাইটেরিয়া হতে পারে না। সুতরাং সাকিবের এই জায়গায় আসার প্রশ্নই আসে না। এই পজিশনে অন্য কোন খেলোয়াড় নেই, এটাই জাদেজার অন্তর্ভূক্তির একমাত্র কারণ মনে হয়!

পরের পয়েন্ট, মিসবাহ কেন ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট অফ দ্যা ইয়ার’ পেলেন?

পাকিস্তানী কেউ ভালো, আবার স্পিরিটেড হয়; এটা মানতে আমাদের কষ্ট হয়। হবারই কথা। আমার কাছে আরও মনে হচ্ছে যে, মিসবাহ কিছুটা দেরিতেই এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। পাকিস্তানের মতো একটা দল-রাজনীতি নির্ভর, কোন্দলে ভরা, ফিক্সিংয়ে ভরা দলকে সেই ২০১০ থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। দলকে এতো বছর ইউনিট করে রাখতে স্বয়ং ইমরান খানও পারেনি। তার সাথে জাভেদ মিয়াদাদের ঝামেলা ছিল। মিসবাহ আফ্রিদি, ইউনিসের সাথে মিলে দলকে এক রেখেছে। দলকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও এক নাম্বারে নিয়েছে। সবসময়েই সৌম্য, ভদ্র থেকেছে পুরো বিশ্বের প্রতি!

এই পার্টিকুলার বছর না হোক, মিসবাহর ক্যারিয়ারে একটা স্পিরিট ক্রিকেটার অফ দ্যা ইয়ার সে ডিজার্ভ করতো!

সবমিলিয়ে পুরো সিলেকশন খুব একটা খারাপ মনে হয়নি। শুধু মাথায় রাখলেই হবে যে, এই সিলেকশন সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৬ এর হিসাবে নেয়া। তাহলে জাদেজার সিলেকশন বাদে কোন পজিশনেই খুব বিতর্কিত কাউকে দেখা যাচ্ছে না। কোন অ্যাওয়ার্ডেও না!

ভালো কথা, ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী মুস্তাফিজের কিন্তু আবার সুযোগ আছে।

 

Category : মতামত
Share on your Facebook
Share this post