সাব্বিরের অগ্নিপরীক্ষা

রিমন ইসলাম
ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬
 সাব্বির রহমান সাব্বির রহমান

"Difficulties in life are intended to make us better, not bitter."
- Dan Reeves (Former NFL Athlete)

ইংল্যান্ড সিরিজ শেষে বিপিএলের শুরুটাও হয়েছিল দারুন।

টুর্নামেন্টের প্রথম ও একমাত্র শতকটি আসে তারই ব্যাট থেকে। কিন্তু সদ্যসমাপ্ত বিপিএলের মাঝপথে হটাৎ করেই যেন ছন্দপতন সাব্বিরের। মাঠের বাইরের ঘটনায় রীতিমত টালমাটাল এই মারকুটে ব্যাটসম্যান।

যদিও পরিসংখ্যান বলছে ৩৭৭ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় সাব্বিরের অবস্থান তৃতীয়। কিন্তু সেটি মূলত বরিশাল বুলসের বিপক্ষে তার ১২২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটির কল্যাণে। এছাড়া বলার মত আরেকটি ইনিংস খেলেছেন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। স্বভাববিরুদ্ধ ৪১ রানের সেই ইনিংসে স্ট্রাইক রেট ছিল ১০০ এর চেয়েও কম। যা তার সাথে একেবারেই বেমানান।

অনেকেই হয়ত বলবেন সাব্বির সেদিন পরিস্হিতির চাহিদা অনুযায়ী ব্যাট করেছেন বলেই স্লো ব্যাট করেছিলেন। কিন্তু সাব্বিরের ক্যারিয়ার জুড়ে কখনোই তাকে এতটা খোলসবন্দী অবস্থায় ব্যাট করতে দেখা যায়নি।

নিউজিল্যান্ডের কঠিন সিরিজকে সামনে রেখে সাব্বিরের রানে ফেরাটা খুবই জরুরি। সদ্যই ওয়ানডেতে তিনে প্রমোশন পেয়েছেন, টেস্ট অভিষেকও হয়ে গেল ইংল্যান্ড সিরিজেই। এই মুহূর্তে তিন ফরমেটেই সাব্বির রহমান দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য।

এই সিরিজে সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটা মোটেও সহজ হবেনা বাংলাদেশের জন্য। তবে কঠিন এই মিশনটিকে সফল করে দিতে পারেন সাব্বির। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বলা ভাল 'ফর্মে থাকা' সাব্বির!

‘আক্রমণই সেরা রক্ষন’ মতবাদে বিশ্বাসী সাব্বির পাল্টা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দিয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের মনোবল গুঁড়িয়ে দিতে চান। শুরুতেই আক্রমণ করে মানসিক লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়াটাই তার ব্যাটিংয়ের মূলমন্ত্র। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই সাব্বিরের ব্যাটিং ধরনে আড়ষ্টতার ছাপটা স্পষ্ট। যেই সাব্বির অভিষেক টেস্টেই জ্বর নিয়েও চতুর্থ ইনিংসে খেলেছিলেন বীরোচিত একটি ইনিংস, তিনি কেন হটাৎ করেই খেই হারিয়ে ফেললেন?

তবে একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে সাব্বিরের মাঠের বাইরের ঘটনার সুত্রপাত সেই টেস্টেই।

বিতর্কিত এক মডেলের সাথে একটি এনার্জি ড্রিংকের বিজ্ঞাপন করে আগেই দর্শকমহল সমালোচিত হয়েছিলেন সাব্বির। সাব্বির কোন বিজ্ঞাপনটি করবেন এবং কোন বিজ্ঞাপনটি করবেন না, সেটা একান্তই তার ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে সবদিক থেকেই নিন্দিত একজন মডেলের সাথে প্রিয় খেলোয়াড়ের উপস্থিতি ভক্তরা মেনে নিতে পারেননি। তবুও বিজ্ঞাপনটি নিয়মিত প্রচার হয়ে আসছিল।

কিন্তু বেস্ট ক্যান্সারের মত সব স্পর্শকাতর একটি ক্যাম্পেইনে সেই মডেলের বিকৃত উপস্থাপনা বিপদে ফেলে দেয় সাব্বিরকে। কারন একই সময়ে প্রায় প্রতিটি ওভার শেষেই টেলিভিশন পর্দায় এনার্জি ড্রিংকের বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছিল যা সাব্বিরের ইমেজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই টেস্টের মাঝপথে বিসিবি বিজ্ঞাপনটি প্রচার বন্ধে উক্ত কোম্পানি এবং সাব্বির রহমানকে অবহিত করেন। এর পরপরই বিজ্ঞাপনটির প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তবে এর বিনিময়ে কোম্পানিটি সাব্বিরের কাছ থেকে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করে। এছাড়া বিসিবির পক্ষ থেকেও পরবর্তীতে বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে সাব্বিরকে সতর্কবানী দেয়া হয়।

এরপরই বিপিএলে ঘটে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি। বিসিবির নিয়ম ভঙ্গের অপরাধে জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার সাব্বির রহমান এবং আল-আমিনকে বড় অংকের জরিমানা করা হয়।

টিম হোটেলে অবস্থানরত সময়ে নিয়মবিরুদ্ধ কর্মকান্ডের কারনেই মুলত শাস্তির মুখে পড়েন দুজন। গত বছর বিশ্বকাপের মাঝপথেই আল-আমিনকে শৃংখলাজড়িত কারনে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। অন্যদিকে সাব্বিরের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম অভিযোগ। তবে এই মূল ঘটনাটি আর প্রকাশ করেনি বিসিবি। এরই প্রেক্ষিতে অনলাইন সংবাদমমাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়ে ওঠে বিভিন্ন গল্প। বিসিবি কতৃক কিছু না বলা হলেও বড় অংকের জরিমানা থেকেই বোঝা যাচ্ছিল অপরাধটা তাদের চোখে সামান্য বলে মনে হয়নি। উভয় খেলোয়াড়ই শাস্তি মেনে নিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছিল।

কিছুদিন পর নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা দেন সাব্বির রহমান। সেখানে তিনি নিজের স্বছতা দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী পুরো ঘটনাটি হয়েছে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এবং তার কোন মেয়ে ভক্তের তার সাথে ছবি তোলাকে কেন্দ করেই সবকিছুর সুত্রপাত।

প্রশ্নটা তখনি উঠেছিল কেন সাব্বিরকে এভাবে ঘটনার উল্লেখ করে নিজেকে নিরপরাধ প্রমান করতে হবে? কেননা আগেই জানা গেছে দুজনই নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন এবং বড় অংকের জরিমানাও মেনে নিয়েছেন। তাছাড়া স্বাভাবিকভাবেই অনুমেয় ছোটখাটো কোন অপরাধে তাদের জরিমানা করা হয়নি। হলে সেটি বোর্ড প্রেসিডেন্ট হয়ত নিজেই বলে দিতেন।

আল-আমিন ও সাব্বির বাংলাদেশ ক্রিকেটের মূল্যবান সম্পদ। তারা ভুল করেছেন, বিসিবি শাস্তিও দিয়েছেন। সেটা তাদের ভালোর জন্যই। যাতে ভবিষ্যতে তারা কিংবা অন্যরা এমন ভুল না করেন। বিসিবির কাছে তাদের ইমেজের গুরুত্ব আছে বলেই তারা মূল ঘটনাটি জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি। যেহেতু বোর্ড চায়নি বিষয়টি প্রকাশ করতে, সেখানে একজন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় হিসেবে সাব্বির এভাবে ভিডিও বার্তা দিয়ে ভুল করেছেন।

সাব্বির যদি ভেবে থাকেন তার এই বার্তার মাধ্যমে তিনি ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা অনলাইন পোর্টালগুলোর বানানো গল্পের জবাব দেবেন, তাহলে বড্ড ভুল করেছেন। কাটতি বাড়াতে এরা হরমেশাই এমনটা করে থাকে। সেক্ষেত্রে চুপ থাকাটাই সাব্বিরের জন্য হত শ্রেয়তর। কেননা তার বক্তব্যে পুরো ঘটনাটি আরো ঘোলাটে হয়ে গেছে। অনেকেই ধারণা করছেন হয়ত গুরুপাপে লঘু দন্ড দেয়া হয়েছে সাব্বিরকে, আবার অনেকেরই ধারনা নিজের দোষ ঢাকতেই এভাবে আত্নপক্ষ সমর্থন সাব্বিরের!

অথচ এর কোন প্রয়োজনই ছিলোনা। মানুষ মাত্রই ভুল কলে। কিন্তু একই ভুল বারবার না করে সেটা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে শুধরে ফেলাটাই উত্তম। তাই প্রথমবার কোন ভুল করলেই সব শেষ হয়ে যায়না। মানুষ হয়তো সাময়িকভাবে আপনাকে ভুল বুঝবে, কিন্তু আপনি সঠিকপথে থাকলে সেই ভুলটা ভাঙবেই। তাছাড়া সাব্বিরের বয়সে ভুল করাটা খুব বিষ্ময়কর কিছুও নয়।

মফস্বল থেকে অনেক কষ্ট করে উঠে আসা একটি সহজ সরল ছেলে।

যার ধ্যানজ্ঞান শুধুই ক্রিকেট খেলা। তাই মাঠের বাইরের গ্ল্যামারময় জগতে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করে চলতে হবে সেটি তিনি হয়ত বুঝে উঠতে পারেননি। এমনটা হতেই পারে। আশা করা যায় বড় ভাই মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ তিনি পাবেন এবং এই ভুল থেকে শিক্ষা নিবেন।

তবে লম্বা এই ঘটনা প্রবাহে সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় সাব্বিরের ব্যাটিং।

বিপিএলের শেষের দিকে কয়েকটি ম্যাচে সাব্বিরের ব্যাটে সেভাবে রান আসেনি। চার ছয়ের মার ঠিকই ছিল কিন্তু তাতে সেই আক্রমণাত্মক সাব্বিরকে দেখা যায়নি। এমননি শরীরী ভাষাতেও পরিবর্তনটা ছিল চোখে পড়ার মত। হাসিটাও কেমন যেন মলিন। যেই বলটিকে কিছুদিন পূর্বেও তিনি অনায়াসে মাঠছাড়া করেছেন, দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে এখন সেই বলেই ক্যাচ তুলে দিচ্ছেন!

সাব্বিরের ব্যাটিংয়ের মুল শক্তি তার ভয়ডরহীন ক্রিকেট। প্রচন্ড চাপের মুখে নেমেও সাব্বির তার ব্যাটিং ধরন বদলান না। পাল্টা আক্রমনে প্রতিপক্ষকে কখনোই জেঁকে বসার সুযোগ দেন না। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ তো বটেই, পুরো বিশ্বেও তার মত ‘ক্লিন হিটার’ খুব বেশি নেই। এরকম মানের একজন ব্যাটসম্যান দলে থাকা যেকোন দলের জন্যই বড় প্রাপ্তি।

সাব্বিরের মত একজন ব্যাটসম্যান ১০-১৫ ওভার টিকে গেলেই খেলার মোড় বদলে দিতে পারেন। তবে এধরণের খেলার মুলমন্ত্র হল একদম ফ্রি মাইন্ডসেটে খেলা। মনোযোগের একটু এদিক ওদিক হলেই ব্যর্থ হওয়ার সম্বাভনা অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক মাঠের বাইরের ঘটনায় সাব্বিরের সেই ফ্রি মাইন্ডসেটে কিছুটা হলেও ব্যাঘাত ঘটছে। যার প্রতিফলন ঘটছে তার ব্যাটিংয়ে।

সাব্বির অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন তরুন ব্যাটসম্যান। তার মাঝে ভবিষ্যতে একজন গ্রেট ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার সব সম্ভাবনাই বিদ্যমান। সেই জায়গায় পৌঁছাতে হলে সাব্বিরকে খেলতে হবে 'সাব্বির" স্টাইলেই। কিন্তু মাঠের বাইরের ঘটনা থেকে নিজেকে প্রভাবমুক্ত রাখাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিকেট খেলোয়াড়, বিশেষ করে উপমহাদেশীয় ক্রিকেটার বলে মাঠের বাইরের গ্ল্যামার জগতের হাতছানিটা থাকবে সবসময়। এসব বিষয় বুদ্ধিমত্তার সাথে সামলে চলতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে খেলার ওপর কোন প্রভাব না পরে। কারণ এই যে মানুষ আজকে আপনাকে চেনে, সেটা খেলার কারণেই। বিজ্ঞাপন দিয়ে কেউ আপনাকে চিনবেনা যদি কাল দল থেকে বাদ পরে যান। এমনকি বিজ্ঞাপন নির্মাতারাও আপনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলববেন। তাই সবকিছু ছাপিয়ে নিজের খেলার দিকে পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পাশের দেশের বিরাট কোহলিই এর জ্বলজ্যান্ত উদাহারন।

বলিউড নায়িকার সাথে প্রেম করছেন, বিজ্ঞাপনে রয়েছে সরব উপস্থিতি, সম্প্রতি গায়ক হিসেবেও আত্বপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু মাঠের পারফরমেন্সে এসবের কোন প্রভাব নেই। সেখানে তিনি দিনদিন 'অতিমানবীয়' হয়ে উঠছেন। মাঠের বাইরের ঘটনা মাঠের বাইরেই রাখতে পারছেন বলেই প্রতিনিয়ত তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারছেন।

উদাহারণ হিসেবে আসতে পারেন কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নও।

২০০৫ সালের এশেজ সিরিজের আগে ইংলিশ মিডিয়া শেন ওয়ার্নের ওপর দিয়ে একরকম ঝড়ই বইয়ে দেয়। একের পর এক তার নারীঘটিত কেলেঙ্কারি ফাঁস করতে থাকে তারা। যার ফলশ্রুতিতে ওয়ার্নের বিবাববিচ্ছেদ ঘটে। ইংলিশ মিডিয়া চাইছিল অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় অস্ত্রটিকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে। কিন্তু হলো উল্টোটা। শেষ পর্যন্ত এশেজ জিতেছিল ইংল্যান্ডই। কিন্তু ৪০ উইকেট নিয়ে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের সাথে যৌথভাবে সিরিজসেরা হয়েছিলেন ওয়ার্ন। ব্যক্তিজীবনের দুর্দশার প্রভাব একেবারেই পড়তে দেননি মাঠে। এজন্যই শেন ওয়ার্ন একজন চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার।

এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুইবার বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পরে মানসিকভাবে সেটা সামাল দেয়াটা যে কারোর পক্ষেই বেশ কঠিন কাজ। আর সেটা যদি হয় সাব্বিরের বয়সী একজন তরুনের বেলায়, সেক্ষেত্রে সবকিছু ভুলে মানসিকভাবে ঠিক থাকাটা প্রায় অসম্ভব। প্রতিভা এবং সামর্থ্য থাকা স্বত্তেও এই মানসিক লড়াইয়ে হেরে গিয়ে অনেকেই অকালে হারিয়ে গেছেন কিংবা নিজেকে আর আগের মত মেলে ধরতে পারেননি।

ইংল্যান্ডের দুজন অসাধারণ ব্যাটসম্যান মার্কাস ট্রেসকোথিক এবং জোনাথন ট্রট মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপটা আর সামলাতে পারেননি।

তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আগেভাগেই অবসর নিয়ে ফেলেন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুজনই খেলে গেছেন স্বাচ্ছন্দে। ট্রট যদিও আবার ফিরেছিলেন ইংল্যান্ড দলে, কিন্তু আগের সেই জৌলস ছিলোনা তার ব্যাটে। তাই দ্বিতীয়বারের মত অবসরে চলে চান তিনি।

সবমিলিয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজটা সাব্বিরের জন্য হয়ে উঠেছে এসিড টেস্ট। তিনি যেই মানের ব্যাটসম্যান, তাতে ফর্মে ফেরাটা কেবলই সময়ের ব্যাপার। কিন্তু ব্যক্তিজীবনের প্রতিকূল অবস্থা পাশ কাটিয়ে নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে এই সিরিজটিই বলে দিবে সাব্বিরের ক্যারিয়ার কোন দিকে যাবে। হয় তিনি কঠিন এই অগ্নিপরীক্ষায় উৎরে যাবেন এবং আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। অথবা চাপের মুখে ভেঙে পড়বেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোটি কোটি ভক্তের মত আমিও চাই সাব্বির যেন পথ না হারান এবং তিনি আবারো চার ছয়ে আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলুন। সাব্বিরের জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা।

 

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post