বিপিএলের সেরা বিদেশি একাদশ

সঞ্জয় পার্থ
ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬
 বিপিএলের ইতি ঘটলেও এখনও আছে তার রেশ। বিপিএলের ইতি ঘটলেও এখনও আছে তার রেশ।

দিন তিনেক আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসরের ইতি ঘটলেও এখনও আছে তার রেশ। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে বরাবরের মত এবারও আলো ছড়িয়েছেন বেশ ক’জন বিদেশি ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে বাছাই করে একাদশ নির্বাচন করেছে খেলাধুলা.কম।

১. মোহাম্মদ শাহজাদ (রংপুর রাইডার্স)

মহেন্দ্র সিং ধোনিকে আদর্শ মানা শাহজাদ এবারের বিপিএলে বেশ ভালো ফর্মেই ছিলেন। রংপুর রাইডার্সের এই ওপেনার ১১ ইনিংসে ৩৮.৮৮ গড়ে মোট ৩৫০ রান করেছেন। বিদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শাহজাদের অবস্থান দ্বিতীয়। ফিফটি করেছেন দুটো, ১১ টি ছয়ের সাথে মেরেছেন ৩৬ টি চার। তবে স্ট্রাইক রেটটা ঠিক শাহজাদসুলভ হয়নি, মাত্র ১১০.০৬। সর্বোচ্চ ৮০ রানের অপরাজিত একটা ইনিংসও আছে তার। সাব্বির রহমানের সাথে বিবাদে জড়িয়ে নিষেধাজ্ঞায় পরেছিলেন, তারপরেও সার্বিক পারফরম্যান্সের কারণে অনায়াসেই তিনি সেরা বিদেশি একাদশের ওপেনার হিসেবে জায়গা পাবেন।

২. কুমার সাঙ্গাকারা-উইকেটরক্ষক (ঢাকা ডাইনামাইটস)

শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি গতবার দেশি বিদেশি মিলিয়েই সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। এবার অতটা উজ্জ্বল হয়তো ছিলেন না, তারপরেও বিদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান সাঙ্গার দখলেই। আর দেশি বিদেশি মিলিয়ে তামিম ও মাহমুদউল্লাহর পর ৩য় স্থানেই আছেন তিনি। ১৩ ইনিংসে ২৮.৪৬ গড়ে ৩৭০ রান করেছেন সাঙ্গাকারা। তাঁরও ফিফটি দুটোই, স্ট্রাইক রেট ১১৫.৬২। চার মেরেছেন ৪৩ টি, ছয় ৫ টি। সর্বোচ্চ স্কোর ৬৬।

৩. মারলন স্যামুয়েলস (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)

গতবারের চ্যাম্পিয়নদের এবারের বিপিএলটা ভালো না গেলেও ব্যক্তিগতভাবে মারলন স্যামুয়েলসের বিপিএল খুব একটা মন্দ কাটেনি। ৮ ইনিংসে ৩৩৪ রান করে কুমিল্লার সর্বোচ্চ রান স্কোরার স্যামুয়েলস। কমপক্ষে ৭ ইনিংসে ব্যাট করেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে স্যামুয়েলসের গড়ই সেরা, ৬৬.৮০। ৩ ইনিংসে নট আউট ছিলেন, ফিফটি পেয়েছেন ৩ টি। স্ট্রাইক রেট ১১৬.৭৮, চার মেরেছেন ২৭ টি, ছয় ১০ টি। সর্বোচ্চ ইনিংস ৬৯ রানের।

৪. শোয়েব মালিক (চিটাগং ভাইকিংস)

অধিনায়ক তামিমের সাথে মিলে ব্যাটিংয়ে ভাইকিংসকে টেনেছেন পাকিস্তানি রিক্রুট শোয়েব মালিক। ৯ ইনিংসে ২ ফিফটিতে করেছেন ২৯২ রান, গড়ও বেশ ভালো, ৪১.৭১। স্ট্রাইক রেটও দারুণ, ১৩৪.৫৬। চার মেরেছেন ২৩ টি, ছয় ১০ টি। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬৭ রান।

৫. ড্যারেন স্যামি (রাজশাহী কিংস) অধিনায়ক 

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দূত তিনি। ক্যারিয়ারে খেলে ফেলেছেন ২৩১ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সম্ভবত এই ফরম্যাটের ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল অধিনায়কও। প্রেরণাদায়ক অধিনায়ক তো বটেই, স্যামি জায়গা পাবেন তাঁর পারফরম্যান্সের কারণেই। ১৪ ইনিংসে ৩০.৬৬ গড়ে ২৭৬ রান করেছেন, তিনটি অবিশ্বাস্য ইনিংসে খেলে জিতিয়েছেন রাজশাহীকে। এলিমিনেটরে তাঁর অমন ইনিংসটি না হলে ফাইনালেই ওঠা হয়না রাজশাহীর। স্ট্রাইক রেট টুর্নামেন্টের ৪র্থ সর্বোচ্চ, ১৭৪.৬৮। ফিফটি করেছেন ২ টি, সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭১ রান। চার ছয় মেরেছেন পাল্লা দিয়ে, ছয়ের চেয়ে চার মাত্র ২ টি বেশি। চার মেরেছেন ২০ টি, ছয় ১৮ টি। এছাড়া বল হাতে ৬ টি উইকেটও পেয়েছেন। ফাইনালে স্যামি দ্রুত আউট না হয়ে গেলে ফলাফল অন্য রকম হলেও হতে পারত। 

৬. মোহাম্মদ নবী (চিটাগং ভাইকিংস)

ব্যাটে বলের পারফরম্যান্স মিলিয়ে গোটা বিপিএলেরই অন্যতম সেরা পারফর্মার আফগান এই অলরাউন্ডার। ১০ ইনিংসে ৩২.৮৫ গড়ে করেছেন ২৩০ রান, এভারেজ ৩২.৮৫। স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে নবী টুর্নামেন্টের পঞ্চম সেরা, ১৭৪.২৪। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে খেলেছিলেন অপরাজিত ৮৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস, বিপিএলে যা কোন চিটাগং ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। বল হাতে ছিলেন আরও দুর্দান্ত, ১৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। গড় মাত্র ১৫, ইকোনমি রেট ৬.৪৭। সেরা বোলিং ফিগার ৪/২৪। বিদেশি একাদশে নবী তাই অটোমেটিক চয়েস। 

৭. ডোয়াইন ব্রাভো (ঢাকা ডাইনামাইটস)

বিপিএলে এবার ব্রাভোর অলরাউন্ডার সত্ত্বার পরিচয় খুব একটা পাওয়া যায়নি, তবে শুধু বোলার পরিচয়েই দিব্যি জায়গা পেয়ে যাবেন একাদশে। ঢাকাকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে অন্যতম বড় অবদান ‘বোলার’ ব্রাভোর। টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ২১ উইকেট পেয়েছেন, গড় মাত্র ১৫.৯০। ইকোনমি রেট ৭.৫৬, সেরা বোলিং ৩/১০। 

৮. শহীদ আফ্রিদি (রংপুর রাইডার্স)

বুম বুম আফ্রিদি ব্যাট হাতে ঝড়ের কারণে নয়, জায়গা পেয়েছেন লেগ স্পিনের জন্য। টুর্নামেন্টের পঞ্চম সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী শহী আফ্রিদি। ১১ ম্যাচে নিয়েছেন ১৭ উইকেট। গড় ১৪.৯৪, ইকোনমি রেট ৬.৩৫। সেরা বোলিং ফিগার ৪/১২। ব্যাট হাতেও এমন দ্যুতি ছড়াতে পারলে গ্রুপ পর্বেই থামতে হত না রংপুর রাইডার্সকে।

৯. সোহেল তানভীর (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)

ব্যাটে বলে মিলে খুব একটা খারাপ কাটেনি সোহেল তানভীরের বিপিএল। ৮ ইনিংসে নিয়েছেন ১০ উইকেট, ইকোনমি রেট ৬.৪৬। সেরা বোলিং ৪/১৮। ব্যাট হাতেও ৭ ইনিংসে করেছেন ১০০ রান স্ট্রাইক রেট ১১৭.৬৪। মূল কাজ বোলিংয়ে আরেকটু ভালো করতে পারলে কুমিল্লার দুর্দশা কিছুটা কমতেও পারত।

১০. রশিদ খান (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)

এবারের বিপিএলের উঠতি বিদেশি তারকাদের মধ্যে উজ্জ্বলতম ছিলেন আফগানিস্তানের এই লেগ স্পিনার। ৮ ইনিংসে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। বোলিং বৈচিত্র্য ছিল বেশ ভালো, তার বলে বিগ হিট করতে হিমশিমই খেতে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের। যার প্রমাণ দেবে তার ইকোনমি রেট। ওভারপ্রতি মাত্র ৬.০৬ করে রান দিয়েছেন, সেরা বোলিং ফিগার ৩/১৩। বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে আফ্রিদির সাথে তাই একাদশে জায়গা পেয়েছেন রশিদ।

১১. জুনাইদ খান (খুলনা টাইটানস)

পেসার হিসেবে এই দলের প্রথম পছন্দ জুনাইদ। পাকিস্তানি এই পেসারের বিপিএলটা দারুণ কেটেছে। ১৪ ইনিংসে ২০ উইকেট নিয়ে হয়েছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। পেসার হিসেবে ইকোনমিটা দারুণ, মাত্র ৬.০৯। একমাত্র বিদেশি বোলার হিসেবে দুইবার ৪ উইকেট পেয়েছেন, দেশি বিদেশি মিলিয়েই যা করতে পেরেছেন আর কেবল শফিউল ইসলাম। সেরা বোলিং ৪/২৩। 

দ্বাদশ ব্যক্তি: সামিত প্যাটেল (রাজশাহী কিংস)

গ্রুপ পর্বে ঢাকাকে হারানো দুটি ম্যাচের নায়কই যে ছিলেন এই সামিট প্যাটেল। সেই ঢাকার কাছে ফাইনাল হেরেই রানার আপ হয়েছে রাজশাহী কিংস। টুর্নামেন্টে ২৮৮ রানের পাশাপাশি এই বাঁ-হাতি স্পিনিং অলরাউন্ডারের নামের পাশে রয়েছে ১১ টি উইকেট। সেই সাথে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনবার।

Category : ফিচার
Share this post