অশ্বিন-মুগ্ধতা বাড়ছেই

আরিফুল ইসলাম রনি
ডিসেম্বর ১২, ২০১৬
মাত্র চার ওভারেই বৈচিত্রময় স্পিন বোলিংয়ের অপূর্ব প্রদর্শনী মেলে ধরলেন! মাত্র চার ওভারেই বৈচিত্রময় স্পিন বোলিংয়ের অপূর্ব প্রদর্শনী মেলে ধরলেন!

ঘুম ঘুম চোখে টিভি অন করেছি... রবিচন্দ্রন অশ্বিন তখন বোলিং মার্কে। প্রথম বল, তীক্ষ্ণ টার্ন ও বাউন্স। বল লাগল জনি বেয়ারস্টোর থাই প্যাডে। পরের বল টপ স্পিন। পরেরটি ক্যারম বল, অল্পের জন্য স্টাম্প মিস করল। পরেরটি আবার অফ স্পিন।

একটিও ঠিক মত খেলতে পারছিলেন না বেয়ারস্টো। ওভারজুড়ে বেয়ারস্টোকে নাচিয়ে, ভুগিয়ে, কাঁদিয়ে শেষ বলে এলবিডব্লিউ করলেন আরেকটি অসাধারণ ক্যারম বলে। বল রিলিজের সময় আঙুল না দেখে স্রেফ ডেলিভারি দেখলে যে কেউ ভাববে কোনো জাত লেগ স্পিনারের ডেলিভারি। লেগ-মিডলে পিচ করে বল লেগেছিল অফ স্টাম্পে!

পরের ওভারে বিশাল টার্ন করে ভেতরে ঢোকা ক্ল্যাসিক অফ স্পিনে বোল্ড ক্রিস ওকস। ততক্ষণে ঘুমের রেশ উধাও, জমছে মুগ্ধতার রেশ। আজ সকালে চার ওভার বোলিং করলেন অশ্বিন। অফ স্পিন, সাইড স্পিন, আর্ম বল, ফ্লটার, ক্যারম বল এবং টপ স্পিন...আহ, মাত্র চার ওভারেই বৈচিত্রময় স্পিন বোলিংয়ের অপূর্ব প্রদর্শনী মেলে ধরলেন! মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখলেন।

অথচ কয়েক বছর আগেও কত সাদামাটা অফ স্পিনার ছিলেন! সমসাময়িক আর বেশির ভাগ অফ স্পিনারের মতোই জোরের ওপর বোলিং করতেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ছোবলের প্রভাব স্পষ্ট ফুটে উঠত বোলিংয়ে। সেই অশ্বিন দল থেকে বাদ পড়ার পর অ্যাকশন ফাইন টিউন করে, বোলিং নিয়ে কাজ করে ফিরলেন অন্য রূপে। গত কিছুদিনে তার বোলিং দেখে মুগ্ধতার পর চড়ছে তো চড়ছেই!

আরেকটা ব্যাপার চোখে পড়ার মত, যেটা হরভজন সিংয়েরও ছিল, স্রেফ প্রথম উইকেট পাওয়ার অপেক্ষা। উইকেট পাওয়ার পর ক্রমেই আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন।

সাম্প্রতিক উন্নতির কথা বলছিলাম। বোলিং দেখলেই সেটা বোঝা যায়। পরিসংখ্যানটাও বোঝাতে সাহায্য করতে পারে। প্রথম ২৩ টেস্টে ৫ উইকেট ছিল ৯ বার, ম্যাচে ১০ উইকেট ২ বার। ২০১৫ থেকে এই পর্যন্ত ২০ টেস্টে ৫ উইকেট ১৫ বার, ১০ উইকেট ৫ বার! টানা দুই বছরে ১৫ বার ৫ উইকেট নেই টেস্ট ইতিহাসে আর কোনো বোলারের।

ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশিবার ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড অনিল কুম্বলের। ১৩২ টেস্টে ৮ বার। অশ্বিনের ৭ বার হয়ে গেল ৪৩ টেস্টেই! এই ৭ বারের ৫ বারই নিয়েছেন ম্যাচে ১২ উইকেট। কেবল মাত্র মুত্তিয়া মুরালিধরনই ১২ উইকেট নিয়েছেন বেশি, ৬ বার।

টেস্টে দ্রুততম ২৫০ উইকেটের রেকর্ড ডেনিস লিলির, ৪৮ টেস্টে। অশ্বিনের এখন ২৪৭ উইকেট ৪৩ টেস্টেই!

বিদেশের মাটিতে যদিও প্রমাণের অনেক বাকি। তবে টপ স্পিনটা যখন যোগ হয়েছে অস্ত্র ভাণ্ডারে, আমার ধারণা অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকাতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরি হবেন অশ্বিন, যেসব উইকেটে বাউন্স মেলে। আর্ম বল ও ক্যারম বল তো আরও ধারালো হয়েছে। ইংল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ডে হবে আসল চ্যালেঞ্জ, দেখার প্রতীক্ষায় থাকব....।

(টানা পাঁচ সিরিজ জিতে ভারত স্পর্শ করল নিজেদের রেকর্ড। টানা ১৬ ম্যাচ না হেরে ভারত আরেক ধাপ এগিয়ে গেল অপরাজেয় থাকার নিজেদের রেকর্ডেরে দিকে (১৭)। বিরাট কোহলির ভারত... বড় একটা কৃতিত্ব প্রাপ্য মহেন্দ্র সিং ধোনির। সময়টা বুঝতে পেরেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজের মাঝপথেই টেস্ট ছেড়েছিলেন। ধোনি ছেড়েছিলেন বলেই না কোহলির ভারতের আবির্ভাব ও অগ্রযাত্রা!

ওয়াংখেড়েতে মাত্র দ্বিতীয় ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে ম্যান অব দা ম্যাচ কোহলি। প্রথম জন? শচিন টেন্ডুলকার! )

Category : ফিচার
Share this post