বিপিএলের ফ্লপ একাদশ

উদয় সিনা
ডিসেম্বর ১১, ২০১৬
  মানসম্পন্ন খেলোয়াড়দেরও ফ্লপ পারফরম্যান্স দেখেছে বিপিএল।  মানসম্পন্ন খেলোয়াড়দেরও ফ্লপ পারফরম্যান্স দেখেছে বিপিএল।

শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসর। এবারের বিপিএল দেখেছে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুনদের দারুণ সব পারফরম্যান্স; আবার দেখেছে ভালো মানসম্পন্ন খেলোয়াড়দেরও ফ্লপ পারফরম্যান্স।

পারফরম্যান্সের বিবেচনায় নিচের দিকে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে একাদশ গঠন করেছে খেলাধুলা.কম। টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে সেখানে সাতজন দেশি ও চারজন বিদেশি ক্রিকেটার রাখা হয়েছে।

১. সৌম্য সরকার (রংপুর রাইডার্স)

ব্যাট হাতে খারাপ সময় পার করায় সর্বশেষ সিরিজে বাংলাদেশ দলের একাদশে ঠাঁই মেলেনি সৌম্য সরকারের। তাই নিজেকে পুরনো রূপে ফিরে পাওয়ার জন্য সৌম্য এবারের বিপিএলকে করেছিলেন পাখির চোখ। কিন্তু বিপিএলেও রান ক্ষরা কাটাতে ব্যর্থ তিনি। ১২ ম্যাচে মাত্র ১৩৫ রান অন্তত সেটাই বলে। সেইসাথে তাঁর দল রংপুর রাইডার্সও বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই।

২. ক্রিস গেইল (চিটাগং ভাইকিংস)

টুর্নামেন্টের নিজের প্রথম ম্যাচের আগে ৪ ম্যাচে ৫৫ টি ছয় মারার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন ক্রিস গেইল। কিন্তু ৫ ম্যাচে গেইল ছয় মারতে পেরেছেন মাত্র ১০ টি। নিজের টার্গেট পূরণ করতে না পারার পাশাপাশি একজন হাইলি রেটেড খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর কাছে দলের দলের যে চাওয়া তাও পূরণ করতে এবার ব্যর্থ হয়েছেন এই জ্যামাইকান হার্ড হিটার। ৫ ম্যাচ খেলে ২১.৮ গড়ে তিনি করেছেন মাত্র ১০৯ রান যা তাঁর নামের পাশে একদম বেমানান ছিল।

৩. লিটন কুমার দাস (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)

সৌম্য সরকারের মত লিটনও নিয়মিত ব্যর্থ হচ্ছেন রানের ক্ষরা কাটাতে। গত বছর জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি লিটন। যে কারণে বর্তমানে জাতীয় দলের বাইরেই আছেন তিনি। সেই ব্যর্থতা এখনও বয়ে চলছেন লিটন যেটা অব্যাহত থাকে এবারের বিপিএলেও। কুমিল্লার হয়ে এবার ৭ ম্যাচ খেলে লিটন সংগ্রহ করেন মাত্র ৬৪ রান। রানে ফেরাতে তাকে এক ম্যাচে ব্যাটিং পজিশন বদলে ৪ এ নামালেও বরাবরের মতই ব্যর্থ হোন লিটন কুমার দাস।

৪. জহুরুল ইসলাম অমি (চিটাগং ভাইকিংস)

গত বছর বিপিএলে ৯ ম্যাচে ৪১.০০ গড়ে ২০৫ রান করায় সেরা দশ ব্যাটসম্যানের তালিকায় নাম ছিল অমির। কিন্তু এবারের বিপিএলে সেই অমিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এবার তিনি খেলেছেন ১২ টি ম্যাচ এবং করেছেন মাত্র ১৬১ রান যার সাথে গত আসরের তাঁর পারফরম্যান্সের কোনই সাদৃশ্য নেই।

৫. আশহার জাইদি (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)

গত বিপিএলে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আসর সেরা হয়েছিলেন অলরাউন্ডার আশহার জাইদি। নাম ছিল সেরা দশ ব্যাটসম্যান ও বোলারদের তালিকায়ও। কিন্তু এবার সেটার ছিটেফোঁটাও পাওয়া যায়নি তাঁর পারফরম্যান্সে। প্রথম থেকেই তিনি ব্যর্থ ছিলেন ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগে যে কারণে কুমিল্লার জার্সি গায়ে খেলতে পেরেছেন মাত্র ৪টি ম্যাচ। ৪ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২৯ রান। আর বোলিংয়ে ছিলেন খরুচে এবং উইকেটশূণ্য।

৬. রবি বোপারা (ঢাকা ডাইনামাইটস)

চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডাইনামাইটসের আস্থার একটি জায়গা জুড়ে ছিলেন অলরাউন্ডার রবি বোপারা। কিন্তু, আসরের প্রথম দিকে সে আস্থার প্রতিদান দিতে না পারায় বাদ পড়েছিলেন একাদশ থেকে। ব্যাট হাতে ৫ ইনিংসে এবার বোপারা সংগ্রহ করেন মাত্র ৩৫ রান এবং ৬ ম্যাচে বল হাতে তুলে নেন ৫ উইকেট। যেকারণে তারকাখচিত ঢাকার একাদশে তিনি স্থায়ী হতে পারেননি বেশিদিন।

৭. শুভাগত হোম (খুলনা টাইটান্স)

বর্তমানে জাতীয় দলের সবচেয়ে সমালোচিত ব্যক্তিটি বোধ হয় তিনিই। তাই এই বিপিএলটা  তাঁর একটা সুযোগ ছিল নিজেকে প্রমাণ করার। কিন্তু ১০ ম্যাচে মাত্র ১০৯ রান ও ৪ উইকেট সংগ্রহ করে পুরো আসর জুড়েই ফ্লপ ছিলেন শুভাগত হোম। সেইসাথে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করাও হলো না হোমের।

৮. নুরুল হাসান সোহান (রাজশাহী কিংস)

২০১৩ বিপিএলে তরুণ সোহানের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছিল সবাইকে। সেবার চিটাগং কিংসের হয়ে ১১৯.৩১ স্ট্রাইক রেটে ৬ ম্যাচ খেলে ১০৫ রান করেছিল সোহান। কিন্তু তিন বছর আগের সেই সোহানের সাথে এখনকার সোহানের মিল খুঁজে পাওয়া খুব ভার। কারণ এবারের বিপিএলে ১০ ইনিংসে ব্যাট করে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ১১৪ রান। বার বার ব্যর্থ হলেও দল তাঁর ওপর ভরসা রেখেছিল। কিন্তু সোহান সেটার প্রতিদান দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।

৯. মোহাম্মদ সামি (রাজশাহী কিংস)

বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দশ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় আছে পাকিস্তানি রিক্রুট মোহাম্মদ সামির নাম। গত তিন আসরে বল হাতে আলো ছড়ালেও এবার তিনি তা পারেননি। এবারের বিপিএলে ৮ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৫ উইকেট। এই পারফরম্যান্সই বলে দেয় যে তিনি এবারের বিপিএলে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।

১০. আবু হায়দার রনি (বরিশাল বুলস)

গত বিপিএলে সব দলের জন্য তিনি ছিলেন একটি সারপ্রাইজ প্যাকেজ। তাঁর এক একটি ইয়র্কার আটকাতে ব্যাটসম্যানকে ভূপাতিত হতেও দেখা গিয়েছিল। সেবার ১২ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ এবং আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হয়েছিলেন রনি। কিন্তু এবারের বিপিএলে রনিকে সেভাবে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি বরিশালের হয়ে এবার রনি খেলতে পেরেছেন মাত্র ৭ ম্যাচ। ৭ ম্যাচে নিয়েছেন মাত্র ৪ উইকেট এবং প্রায় প্রতিটি স্পেলই ছিল খরুচে। রনির এবারের পারফরম্যান্স তাই দর্শকদের জন্য একটা সারপ্রাইজ প্যাকেজই বটে।

১১. আল আমিন হোসেন (বরিশাল বুলস)

মাঠের পারফরম্যান্স ও মাঠের বাইরের পারফরম্যান্স মিলিয়ে এবারের বিপিএলটা আল আমিনের জন্য একটা দুঃস্বপ্নের মত কাটলো। এবারের বিপিএলে মাত্র ৫ ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তিনি। তিনি সংগ্রহ করেন ৪ উইকেট এবং একটি ম্যাচ বাদে প্রতি ম্যাচে তাঁর ইকোনমি ছিল ৭ বা ৭ এর উপর। অথচ এই আল আমিনই গত আসরে ১৭ উইকেট নিয়ে সেরা দশ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় লিখিয়েছিলেন নিজের নাম।

দ্বাদশ ব্যক্তি উমর আকমল (রাজশাহী কিংস)

এবারের রানার্স-আপ রাজশাহী কিংসের ব্যাটসম্যান উমর আকমল 'গোল্ডেন ডাক' দিয়ে আসর শুরু করেছিলেন। তাঁর প্রথম তিন ইনিংসের দুটিই ছিল 'গোল্ডেন ডাক'। আসরের পরের সময়টায়ে আর নিজেকে ফিরে পাননি উমর। পুরো বিপিএলে ৯ ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন মাত্র ১০৬ রান যে কারণে আজ ফ্লপ একাদশে তিনি।

Category : ফিচার
Share this post