বিপিএলের সেরা একাদশ

রিমন ইসলাম
ডিসেম্বর ১০, ২০১৬
   খেলাধুলা.কম নির্বাচিত সেরা একাদশ   খেলাধুলা.কম নির্বাচিত সেরা একাদশ

শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসর। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে রাজশাহী কিংসকে ৫৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিলো সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডাইনামাইটস। বড় বড় তারকা বিদেশিদের মাঝেও স্থানীয় খেলোয়াড়দের সাফল্য ছিল এই আসরের উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি।

সেরা পারফরমারদের নিয়ে এবারের বিপিএলের সেরা একাদশ গঠন করেছে খেলাধুলা.কম। টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে সেখানে সাতজন দেশি ও চারজন বিদেশি ক্রিকেটার রাখা হয়েছে।

১. তামিম ইকবাল (চিটাগং ভাইকিংস)

তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক রানের মালিক তামিল ইকবাল গত দুই বছর ধরে ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে ধারাবাহিক একটি নাম। সদ্য সমাপ্ত ইংল্যান্ড সিরিজের ফর্মটা বিপিএলেও ধরে রেখেছেন। ১৩ ম্যাচে ৪৭৬ রান করে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগহকারীদের তালিকায় সবার ওপরেই অবস্থান এই ড্যাশিং ওপেনারের। সর্বোচ্চ ৭৫ রানের একটি ইনিংস সহ তিনি করেছেন মোট ছয়টি হাফ সেঞ্চুরি। এর আগে বিপিএলে আর কোনো ব্যাটসম্যানই এক আসরে ছয়টি সেঞ্চুরির দেখা পাননি।

২. মেহেদি মারুফ (ঢাকা ডাইনামাইটস)

মারুফকে বিপিএল দিয়ে অনেকে চিনলেও পিঞ্চহিটিং ব্যাটিংয়ের জন্য তিনি ঘরোয়া আসরেও বেশ পরিচিত একটি নাম। জায়গায় দাঁড়িয়ে অনেকটা ক্যারিবীয় স্টাইলে তার হাকানো ছক্কা গুলো ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। ঢাকাকে ধারাবাহিকভাবে তিনি উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছেন। যদিও শেষের দিকে এসে সেভাবে রান পাননি, তবে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ঠিকই জাতীয় দলের কোচ হাতুরুসিংহের নজর কেড়েছেন। ডাক পেয়ছেন নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রাথমিক দলে। ১৪ ম্যাচে ৩৪৭ রান করেছেন তিনি, সাথে রয়েছে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ২০টি ছক্কার মার।

৩. মারলন স্যামুয়েলস (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)

পুরো আসর জুড়েই কুমিল্লা টিম ম্যানেজমেন্ট বিদেশী খেলোয়াড় নির্বাচনে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। তাই ব্যাট হাতে দলের সেরা পারফর্মার হয়েও বেশ কয়েকটি ম্যাচে স্যামুয়েলসকে বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়েছে। যদিও যখনি সুযোগ পেয়েছেন, তিনিই ছিলেন দলের সেরা ব্যাটসম্যান। খেলেছেন ৮ টি ম্যাচ এবং প্রতিবারই দুই অংকের ঘরে রান করেছেন। তিনটি ফিফটি সহ স্যামুয়েলসের সংগ্রহ ৩৩৪ রান।

৪. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (খুলনা টাইটান্স - অধিনায়ক)

খুলনা টাইটান্সের হয়ে রিয়াদের যাত্রাটা শেষ হয়েছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিংয়ে ও দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া - সবদিকেই সফল রিয়াদ। ১৪ ম্যাচে ৩৯৬ রান, সাথে ১০টি উইকেট। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারটা তার প্রাপ্যই ছিল।

একাদশে অন্য দু’দলের অধিনায়ক তামিম এবং মুশফিক ও চ্যাাম্পিয়ন অধিনায়ক সাকিব থাকলেও অধিনায়ক হিসেবেও এবারের বিপিএল সেরা রিয়াদই। আসর শুরুর পূর্বে সবচেয়ে দুর্বল দল হিসেবে বিবেচিত খুলনা টাইটান্স দলকে এতদূর নিয়ে আসার পেছনে মুল কান্ডারীর ভুমিকা পালন করেছেন তিনি। স্থানীয় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে একটু সাপোর্ট পেলে হয়ত অধরা বিপিএলের শিরোপাটাও জয় করতে পারতেন।

৫. মুশফিকুর রহিম (বরিশাল বুলস - উইকেটরক্ষক)

শুরুটা ভাল করলেও শেষদিকে এসে খেই হারিয়ে ফেলে মুশফিকুর রহিমের বরিশাল বুলস। তবে দলের সেরা ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক হিসেবে আসর জুড়েই তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ১২ ম্যাচে ৩৪১ রান করে বরিশাল বুলসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনিই। তাই সন্দেহাতীতভাবেই একাদশে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে সেরা পছন্দ মুশফিকুর রহিম।

৬. মোহাম্মদ নবী (চিটাগং ভাইকিংস)

প্রথম দিকে ধুঁকতে থাকা চিটাগং ভাইকিংস দলকে বেশ কয়েকটি ম্যাচে তিনি একাই জিতিয়েছেন। চিটাগং ভাইকিংসের জেতা প্রথম তিনটি ম্যাচেই ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নবী। ব্যাটে বলে সমানভাবে পারফর্ম করে টুর্নামেন্ট সেরার দৌড়ে তিনিই ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। ১৩ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় তার অবস্থান তৃতীয়। এছাড়া ব্যাট হাতে ১৭৪.২৪ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৮৬ রান। যার মাঝে রয়েছে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ছয়টি চার ও ছয়টি ছয়ের সাহায্যে মাত্র ৩৭ বলে অপরাজিত ৮৭ রানের বিদ্ধংসী একটি ইনিংস।

৭. সাকিব আল হাসান (ঢাকা ডাইনামাইটস)

ব্যাটিংয়ে সেভাবে ছন্দে না থাকলেও এবারের আসরটি একবারে মন্দ কাটেনি সাকিবের। ব্যাট হাতে ২৫২ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১৩ টি উইকেট। ফাইনালে রাজশাহীর অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিকে বোল্ড করার মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেভন কুপারকে হটিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারী বোলার হন সাকিব আল হাসান। এরপর প্রথমবারের মত অধিনায়ক হিসবে বিপিএল চ্যাম্পিয়নের ট্রফিও ওঠে সাকিবের হাতে।

৮. ডোয়াইন ব্রাভো (ঢাকা ডাইনামাইটস)

তারকায় ঠাসা ঢাকা ডাইনামাইটস দলের বোলিং লাইন আপে শহীদের পাশাপাশি ব্রাভোও দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন । ইনজুরির কারনে মাঝপথেই শহীদ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর থেকে ব্রাভো যেন আরো জ্বলে উঠেন। ব্রেকথ্রু এনে দেয়ার ক্ষেত্রে সাকিবের তুরুপের তাস ছিলেন ব্রাভো। বিশেষ করে স্লগ ওভারে ব্রাভোর করা ওভারগুলো বারবার প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি কমিয়ে দিয়েছে। বোলিংয়ের মত অবশ্য ব্যাট হাতে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। তবে ঢাকার লম্বা ব্যাটিং লাইনআপে সেভাবে ব্যাট করার সুযোগও পাননি তিনি। ঢাকার হয়ে এই আসরে ১৩ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় ঢাকা ডাইনামাইটসের এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের অবস্থান সবার ওপরেই।

৯. ড্যারেন স্যামি (রাজশাহী কিংস)

রাজশাহী কিংসের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি সবদিক দিয়েই অন্যরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। মাঠে এবং মাঠের বাইরে সব জায়গায় খেলোয়াড়দের সাথে বন্ধুর মত মিশেছেন, তাদের সেরাটা বের করে নিয়েছেন। ব্যাট হাতে একাই তিনটি ম্যাচ জিতিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭১ রানের ইনিংস। ব্যাটিংয়ে ২৭০ রানের পাশাপাশি স্লো মিডিয়াম পেসে নিয়েছেন ৬ টি উইকেট। সাথে দুর্দান্ত অধিনায়কত্ব দিয়ে শুরুর দিকে ধুঁকতে থাকা রাজশাহী কিংস দলটিকে ফাইনালে নিয়ে গেছেন।

১০. শফিউল ইসলাম (খুলনা টাইটান্স)

ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি খেলতে পারেননি। পাশাপাশি ছিটকে গেছেন নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকেও। অথচ বিপিএলের শুরু থেকেই দারুন ফর্মে ছিলেন শফিউল। বোলিংয়ে খুলনা টাইটান্স দলপতি রিয়াদের অন্যতম ভরসা ছিল শফিউল-জুনায়েদ জুটি। ফর্মে থাকা শফিউলের অনুপস্থিতি নিউজিল্যান্ডের পেস বোলিং সহায়ক কন্ডিশনে বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। ১৩ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে স্থানীয় বোলারদের মধ্যে সেরা শফিউল।

১১. মোহাম্মদ শহীদ (ঢাকা ডাইনামাইটস)

ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই শহীদের বিপিএল শেষ হয়ে যায়। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড সিরিজেও দর্শক হয়ে গেছেন। অথচ কিছুদিন আগেই ইনজুরি থেকে ফিরে এসে বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে দুর্দান্ত বল করেছেন। ৮ ম্যাচে মাত্র ১০.৮ স্টাইক রেটে ১৫ উইকেট নিয়ে ইনজুরির আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন আসরের সেরা বোলার। 'টেস্ট বোলার' তকমা দেয়া হলেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও তিনি কম যাননা।

দ্বাদশ ব্যক্তি -জুনায়েদ খান (খুলনা টাইটান্স)

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর খুলনা টাইটান্সের সাফল্যের অন্যতম ভাগিদার পাকিস্থানি পেসার জুনায়েদ খান। বিশেষ করে ডেথ ওভারে ধারাবাহিকভাবে তিনি মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন। ১৪ ম্যাচ থেকে ২০ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় ডোয়াইন ব্রাভোর পরেই তার অবস্থান।

Category : ফিচার
Share this post