সাকিবকে প্রথম সেরা বলেছিলেন যিনি

উদয় সিনা
নভেম্বর ২৫, ২০১৬
ক্যারি ও'কিফ ক্যারি ও'কিফ

মেহেদি হাসান মিরাজ একজন অলরাউন্ডার হওয়া সত্ত্বেও সবশেষ ইংল্যান্ড সিরিজে একজন স্পেশালিস্ট বোলার হিসেবেই তাকে ব্যবহার করে টিম ম্যানেজমেন্ট। ঠিক এমনই একটা ঘটনা ঘটেছিল ২০০৮ সালে।

২০০৮ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে স্পেশালিস্ট বোলার হিসেবে খেলান তৎকালিন কোচ জেমি সিডন্স। সাকিবও বল হাতে প্রতিদানটা দিয়ে দিলেন সিরিজের প্রথম টেস্টেই মাত্র ৩৭ রানে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে। সেই সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেটাশিকারি সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও ধরে রাখেন তাঁর পারফরম্যান্স। ব্লুমফন্টেইনে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বারের মত পাঁচ উইকেট তুলে নেন তিনি। তখন বল হাতে সাকিবের ঘূর্ণি পারফরম্যান্স দেখে একজন অস্ট্রেলিয়ান তাকে তো 'বিশ্বের সেরা ফিঙ্গার স্পিনার' হিসেবেই অভিহিত করে ফেলেন।

তিনি আর কেউ নন, সাবেক অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার ক্যারি জেমস ও'কিফ।

আজ আমরা ক্যারি ও’কিফের গল্প শুনবো।

সাবেক অজি লেগি ক্যারি ও'কিফের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ ছিল না। মোটামুটি গড়নের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা ও'কিফ বেশিরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন সাদা পোশাকের ক্রিকেট খেলে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাকে ভবিষ্যৎ অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা প্রতিভাবান লেগ স্পিনার হিসেবে অনেকে আশা প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে তার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি।

১৯৭০-৭১ সালের অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে অভিষেক হয় ক্যারির। কিন্তু নিজের অভিষেক টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০ ওভার বল করেও পাননি কোন উইকেট। ঠিক এক ম্যাচ মিস করে সপ্তম ম্যাচে আবারো দলে ফিরেন ও'কিফ। এবার তিনি দেখা পেলেন নিজের প্রথম উইকেটের। সেই টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেট।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২৪ টেস্ট খেলা ও'কিফ ৩৮.০৭ গড়ে তাঁর ঝুলিতে পুরেছেন ৫৩ টি উইকেট। তাছাড়া ব্যাটিংয়ে কিছুটা সফল হয়েছিলেন তিনি। ব্যাট হাতে ২৫.৭৬ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৬৪৪ রান। বরাবরই নিজের বোলিংয়ে তীক্ষ্মতার অভাব একটি পরিসংখ্যান দিয়ে নিজেই প্রদর্শন করতেন ও'কিফ। সেটা হলো তিনি হলেন একমাত্র ক্রিকেটার যিনি টেস্ট ক্রিকেটে শতকরা সবচেয়ে বেশি ব্যাটসম্যানদের 'ক্যাচ আউট' করেছেন। তাঁর ৫৩ উইকেটের মধ্যে ৪৪টি ছিল ক্যাচ আউট যার শতকরা হার দাঁড়ায় ৮৪। মজা করে তিনি প্রায় সময়ই এই পরিসংখ্যানটা তুলে ধরতেন।

১৯৭৭ সালে খেলা ছাড়ার পর ধারাভাষ্যের কাজে লেগে যান ও'কিফ। তিনি অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি) রেডিওর ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেন। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার নাইন নেটওয়ার্কেও তিনি মাঝেমধ্যে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি বিশেষকরে বিদেশি ধারাভাষ্যকারদের সাথে কাজ করতে উপভোগ করতেন। যেমন, তিনি ভারতীয় হার্শা ভোগলের সাথে কাজ করতে পছন্দ করতেন এবং অস্ট্রেলিয়ান ভাষা ব্যবহার করে তাকে বিভ্রান্ত করতে উপভোগ করতেন। ২০০৪ সালে তিনি তাঁর আত্মজীবনী 'অ্যাকরডিং টু স্কাল' প্রকাশ করে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ধারাভাষ্য ক্যারিয়ার থেকে অবসর গ্রহণ করেন ও'কিফ।

ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সেই ও'কিফের আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন ক্যারি জেমস ও'কিফ।

১৯৪৯ সালের আজকের এই দিনেই অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে জন্মগ্রহণ করেন ও'কিফ।
আজ তিনি ৬৭-তে পা দিলেন। ৬৭ বছর বয়সে তিনি এখনো সাকিব আল হাসানের খেলা দেখেন কিনা জানা নেই আমার। যদি তা করে থাকেন তাহলে সেটা চরম তৃপ্তির উপলক্ষ্য হতে পারে তাঁর জন্য। কারণ একসময় 'বিশ্বের সেরা ফিংগার স্পিনার' হিসেবে তিনি যাকে অভিহিত করেছিলেন সেই সাকিব আল হাসান বল হাতে যে এখনো সেই আগের সাকিবই রয়ে গেছেন।

 

Category : ফিচার
Share this post