এক আধুনিক গ্রেট

আরিফুল ইসলাম রনি
নভেম্বর ১৮, ২০১৬
 বিরাট কোহলি বিরাট কোহলি

২০১২ এশিয়া কাপ। মিরপুরে পাকিস্তানের ৩২৯ রান ভারত টপকে গেল অনায়াসেই। বিরাট কোহলি ১৪৮ বলে ১৮৩।

ম্যান অব দা ম্যাচ হয়ে প্রেস কনফারেন্সে এলেন কোহলি। ভারতীয় ও পাকিস্তানী সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের ভীড়ে একটা প্রশ্ন করার সুযোগ হয়েছিল। জিজ্ঞেস করেছিলাম, `প্রথম ৭৮ ম্যাচে একটিও সেঞ্চুরি ছিল না শচিন টেন্ডুলকারের। আপনার ১১টি হয়ে গেল ৮৫ ম্যাচেই। নিশ্চয়ই টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি সংখ্যাকে পাখির চোখ করবেন?'

একটু আগেই টেন্ডুলকারকে নিয়ে একটি প্রশ্নের উত্তরে লাজক হাসিতে বলেছিলেন, `ছেলেবেলায় শচিনকে একবার সামনাসামনি দেখার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। এখন একসঙ্গে খেলতে পারছি, এটাই তো আমার জন্য বড় সম্মান!'

আমার প্রশ্নটা শুনেও একটুর জন্য থমকে গেলেন। খানিকপরে আবার হাসতে হাসতে বললেন, `আমার জন্য এটা বলতে পারেন মিশন ইম্পসিবল!'

ভারতীয় সংবাদকর্মীরা দারুণ খুশি। তা হওয়ারই কথা। `মিশন ইম্পসিবল' তাদের জন্য দারুণ হেডলাইন!

যাই হোক, আমরা তখনও জানতাম, কোহলি সেটা বিনয় করে বলেছেন। এখন তো আরও স্পষ্ট হয়েছে। ১৬৮ ওয়ানডে ইনিংসে ২৬ সেঞ্চুরি কোহলির। ১৬৮ ইনিংসে শচিনের ছিল ১২টি! কোহলির ৫০টি না হওয়ার কারণ নেই।

তবে শুধু ওয়ানডে নয়, টেস্ট সেঞ্চুরিতেও কি টেন্ডুলকারকে ছাড়াতে পারবেন কোহলি?

জানি, এখনই প্রসঙ্গটি অবান্তর। মাত্র ১৪টি সেঞ্চুরি হলো কোহলির। আরও ৩৮টি চাই টেন্ডুলকারকে ছাড়াতে। ইনজুরি, ফর্ম হারানো, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, মাঠের বাইরের অনেক কিছু, উপমহাদেশে কত কিছুই সম্ভব। অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। তার পরও অধিনায়ক হওয়ার পর টেস্টের কোহলিকে দেখলে মনে হয়, হয়ত সম্ভব!

একটা পরিংসখ্যান দেই। ভাইজাগে কোহলি খেলছেন ৫০তম টেস্ট। সেঞ্চুরি করেছেন ১৪টি। ৫০ টেস্টে টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি ছিল ১১টি! ভারতের হয়ে ৫০ টেস্টে কোহলির চেয়ে বেশি ছিল কেবল সানি গাভাস্কারের, ২০টি। শেবাগের ১২টি। শচীনের সমান ১১টি ছিল আজহারের। পলি উমড়িগড়ের ১০টি।

অধিনায়কত্ব ছাড়া ৩১ টেস্টে ৭ সেঞ্চুরি। অধিনায়কত্বের ১৯ টেস্টে ৭ সেঞ্চুরি। এই দুই ভাগের ৭ সেঞ্চুরির আরেকটা উল্লেখযোগ্য দিক আছে। প্রথম ৭ সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ছিল ১১৯ রান। পরের ৭ সেঞ্চুরি ১৪১, ১৬৯, ১৪৭, ১০৩, ২০০, ২১১, ১৬৭। আগের সাত সেঞ্চুরির গড় ছিল ১০৯, পরের সাতটির গড় ১৬২!

এটিই বলছে, সময়ের সঙ্গে আরও পরিণত হচ্ছেন। নিজেকে নিত্য তুলে নিচ্ছেন নতুন উচ্চতায়। সবচেয়ে বড় কথা, টেস্টেও এখন যে অ্যাসিউরিটি নিয়ে ব্যাট করেন, সেটি বলে দেয় ডিফারেন্ট লেভেলে চলে গেছেন। নিজের খেলাটা খুব ভালো বোঝেন, জানেন। তার যে ওয়ার্ক এথিক, যে ট্রেনিং মেথড, যে ক্রিকেট দর্শন, এবং দিনে দিনে আরও যেভাবে পোক্ত হচ্ছেন, কোথায় থামবেন কেন জানে!

ভারতের পরের ইংল্যান্ড সফর কবে, জানি না। যখনই হোক, আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকব। গত ইংল্যান্ড সফরের দু:স্বপ্ন নিশ্চিত ভাবেই মাটি চাপা দেবেন কোহলি।

৫২ টেস্ট সেঞ্চুরি হয়ত বাড়াবাড়ি। এখন বয়স ২৮। আরও ১০ বছর খেললে, আরও ১০০ টেস্ট খেললেও ভীষণ কঠিন হবে। হয়ত অতটা পারবেন না, কিংবা কাছাকাছি যাবেন। সেসব সময়ই বলবে। তবে এখনই অত দূরেরটা ভাবতে পারছি, এটাও বলে দেয় এখনকার কোহলির অবস্থানটা কোন উচ্চতায়!

বলিউডি গার্লফ্রেন্ড, ফ্যাশন, অ্যাটিটিউড, কাড়ি কড়ি টাকা...সবই আছে। তবে নিজের ক্রিকেট আর ওয়ার্ক এথিকসের সঙ্গে একবিন্দু আপোস নয়।

সত্যিকারের আইডল হওয়ার মত!

লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া

Category : ফিচার
Share this post