মোহাম্মদ সামি: ওল্ড ইজ গোল্ড

মাহবুব মিলন
নভেম্বর ২৫, ২০১৭
সেই সামি, এই সামি সেই সামি, এই সামি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে রীতিমতো আকাশে উড়তে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৩০ রানে হারিয়ে মাটিতে নামিয়ে এনেছে রাজশাহী কিংস!

দল হিসেবে রাজশাহীর কাছে হার ঠিকই আছে। তবে কুমিল্লা আজ আসলে পরাজিত হয়েছে ‘দুই সামির’ কাছেই! ব্যাটে-বলে তাদের যুগলবন্দী অসাধারন পারফরম্যান্সই গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য!

ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন স্যামি মাত্র ১৪ বলে ৪৭ রানের হার না মানা এক বিধ্বংশী ইনিংস খেলে রাজশাহীকে পোঁছে দিয়েছেন ১৮৫ রানের মজবুত স্কোরে।

জবাব দিতে নেমে কুমিল্লা তবু সেই কঠিন পথ ধরে ছুটছিল বেশ মসৃণ গতিতেই। কিন্তু বল হাতে ভিক্টোরিয়ান্সদের সবচেয়ে বড় সর্বণাশটা করলেন পাকিস্তানের ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ সামি!

৪ ওভার বল করে রান দিয়েছেন মাত্র ৯, অথচ উইকেটই পেয়েছেন ৪টি! কোনো বাউন্ডারি ‘খাওয়ার’ তো প্রশ্নই আসে না!

সামি রাজশাহীর হয়ে বোলিং আক্রমনের সূচণা করে প্রথম ওভারের শেষ বলেই বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানের বিপজ্জনক ওপেনার ফখর জামানকে। ৩ রানে এক উইকেট। তৃতীয় ওভারে তামিম ইকবাল সামির ৬ বল থেকে নিতে পারেন ৩ রান।

তবে সামি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন নিজের তৃতীয় ওভারে! তামিম-বাটলারের ব্যাটে ৩ উইকেটে ১২৪ রান তুলে কুমিল্লা তখন ম্যাচে দারুণ অবস্থায়। ১৫তম ওভারে বল হাতে পেয়ে শুধু ২ রান খরচ করেই টপাটপ তুলে নেন ৩ উইকেট! ওভারে তিন উইকেট পেলেও হ্যাটট্রিক হয় নি শিকারগুলো প্রথম, চতুর্থ ও ষষ্ঠ বলে ধরেছেন বলে।

সামির আঘাতে ‘মেরুদণ্ড’ ভেঙ্গে যাওয়া কুমিল্লা ওখান থেকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে নি। এরপর ১৯তম ওভারে দিয়েছেন ১ রান!

সব মিলিয়ে ৪-০-৯-৪ বোলিং ফিগার নিয়ে শেষ করা মোহাম্মদ সামিকে চাইলে অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি তার প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ পুরষ্কারের অর্ধেকটা ভাগ দিতেই পারেন!

রাজশাহীর হয়ে সামি প্রথম ৩ ম্যাচে ১ উইকেট পেলেও বোলিং করেছেন বেশ নিয়ন্ত্রিত। এরপর বাদ পড়ে গত ম্যাচে খুলনা টাইটান্সের সঙ্গে ২৯ রানে দখল করেছিলেন ৩ উইকেট।

চলমান বিপিএলে এ পর্যন্ত ৫ ম্যাচ খেলে সামির নামের পাশে লেখা হলো ৮ উইকেট। উইকেট সংখ্যার চেয়ে গড় ১৩.২৫ ও ইকোনোমিক্যাল রেট ৫.৫৭; এই দুটোই আরও বেশি উজ্জ্বলতা ছড়াচ্ছে।

গত আসরেও রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন সামি। সাদা চোখে দেখলে পারফরম্যান্স মোটেও আহামরি কিছু ছিল না। ৯ ম্যাচে মাত্র ৫ উইকেট পাওয়া বোলারটিকে কিংসরা ধরে রেখেছে হয়তো তার ইকো.রেট ৫.৮৮- এর প্রতি সম্মান জানিয়েই।

কাগজে-কলমে সামির বয়স প্রায় ৩৭ বছর (আজ ৩৬ বছর ২৭৪ দিন) চলছে। তবে পাকিস্তানীদের বাস্তবতায় সংখ্যাটার সঙ্গে অনায়াসে দুই-তিন বছর যোগ করে নেয়া যায়!

পাকিস্তানের হয়ে ২০১৫ সালে ২টি ওয়ানডে এবং গত বছর গোটা ছয়েক টি-টোয়েন্টি খেললেও সামির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রায় শেষই হয়ে গেছে বলা চলে। এ পর্যন্ত ৩৬ টেস্ট, ৮৭ ওয়ানডে ও ১৩ টি-টোয়েন্টি খেলা সামি পাকিস্তান দলের হয়ে শুরু করেছিলেন কবে জানেন? ২০০১ সালে!

এই ‘বুড়ো’ বয়সেও নিখুঁত লাইন-লেংথ আর বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বল করে তরুণদের সাথে পাল্লা দিয়ে দলে টিকে থাকা সহজ কথা নয়! এবং পেস বোলার হয়ে নিজের ফিটনেস ধরে রেখে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে যাওয়াও অনেক কস্টসাধ্য ব্যাপার।

মোহাম্মদ সামিকে দেখে আজ আরেকবার মনে পড়লো আমাদের মাশরাফির বলা বহুল আলোচিত কথাটা- অভিজ্ঞতা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না!

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post