মাশরাফির ‘আবিস্কার’ নাহিদুল ইসলাম

মাহবুব মিলন
নভেম্বর ২৪, ২০১৭
কে এই নাহিদুল? কে এই নাহিদুল?

খুলনা টাইটান্সের ১৫৮ রানের জবাব দিতে নেমে ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কাঁপছিলো রংপুর রাইডার্স! দলের দারুণ বিপর্যয়ের মুখে উইকেটে নেমেছিলেন আনকোরা একজন, নাহিদুল ইসলাম।

শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে রান আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৫৮ রানের অসাধারন একটি ইনিংস। ৪৩ বলের ওই দায়িত্বশীল ইনিংসে বাউন্ডারি মেরেছেন ৭টি। তবে মেরেকেটে না খেলেও নাহিদুল ঠিকই স্কোরবোর্ড সচল রেখেছেন এবং রবি বোপারার সঙ্গে মিলে পঞ্চম উইকেটে যোগ করেছেন ঠিক ১০০ রান!

যদিও জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯ রানে হেরে গেছে রংপুর। তবে ধৈর্য্য, সংযম আর মেধার সমন্বয়ে নাহিদুলের হাফ সেঞ্চুরিটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে গর্ব করার মতোই অর্জন।

প্রায় ২৪ বছর বয়সী নাহিদুল পঞ্চম বিপিএলে আজই প্রথম সুযোগ পেয়েছেন রংপুর দলে। অবশ্য গতবার বিপিএলে প্রথমবার খেলেছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে। তবে সেখানে বলার মতো কিছুই করতে পারেননি।

এমনকি খুব একটা সুযোগও পাননি। ২ ম্যাচের এক ইনিংসে নেমে করেছিলেন মাত্র ৪ রান এবং ২ ইনিংসে ৩ ওভার বল করে ৩৩ রান দিয়ে কোনো উইকেটের মুখ দেখেন নি।

কুমিল্লায় আলো ছড়াতে না পারলেও নাহিদুলের ভেতরের প্রতিভা ‘পাকা জহুরির’ চোখে ঠিকই আঁচ করতে পেরেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তূজা! এজন্যই নিজে কুমিল্লা ছেড়ে রংপুরে পাড়ি জমানোর পর প্লেয়ার্স ড্রাফটে ঠিকই খুঁজে নিয়েছিলেন নাহিদুলকে। এবং সুযোগমতো আজ মাঠে নামিয়ে দিয়ে দেখালেন, নাহিদুলের মতো অচেনা-অজানা একজনও সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে রতে পারেন!

মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ও ডানহাতি অফস্পিনার নাহিদুলের জন্ম খুলনায়। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটে খেলেছেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জ ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে। গত লিগে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে অবশ্য তার পারফরম্যান্স আহামরি কিছু ছিল না। ১৩ ম্যাচের ৯ ইনিংসে করেছিলেন ১৫.৭৫ গড়ে ১২৬ রান, সর্বোচ্চ ৪৩।

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগের হয়ে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে অভিষেকের পর এ পর্যন্ত লংগার ভার্সনে নাহিদ ম্যাচ খেলেছেন ১৭টি। ২১ ইনিংসে তার রান ৩৬০, গড় ১৮.৯৪, হাফ সেঞ্চুরি ৪টি, সর্বোচ্চ ৬৪। পাশাপাশি ২৩ ইনিংসে অফস্পিন করে দখল করেছেন ৩২.৭২ গড়ে ৩৩ উইকেট।

অন্যদিকে লিস্ট এ ক্রিকেটে ৫২ ম্যাচের ৪২ ইনিংসে তার রান ৭৬১, গড় ২০.০২, হাফ সেঞ্চুরি ৩টি, সর্বোচ্চ ৯২। এছাড়া ৩৫.৬৫ গড়ে নিয়েছেন ৪৩ উইকেট।

অসাধারন একটি ইনিংস খেলার পরও যদিও দলের পরাজয়ের যন্ত্রণা সইতে হয়েছে নাহিদুল ইসলামকে। তবে, তার সামনে যে হাতছানি দিচ্ছে সুন্দর আগামী, এটা নিশ্চয় মানতেই হবে।

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post