চিটাগংয়ে ফিরবে তো চিটাগংয়ের ভাগ্য!

মাহবুব মিলন
নভেম্বর ২৪, ২০১৭
চিটাগংয়ের ফেরার লড়াই চিটাগংয়ের ফেরার লড়াই

মাঝে দু’দিন বিরতি গেছে। আজ আবারও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের খেলা মাঠে গড়াতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। পাঁচ দিনে মোট ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

বাতাসে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে একটাই প্রশ্ন- নিজেদের আঙ্গিনায় চিটাগং ভাইকিংসের ভাগ্য ফিরবে তো?

সিলেটে সেই যে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুরের সঙ্গে ১১ রানে জয়ের আনন্দে মেতেছিলেন সৌম্য-তাসকিনরা; তার আগে-পরে তো পরাজয়ই হয়েছে তাদের নিত্যসঙ্গী! এ পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সবার শেষে রয়েছে ভাইকিংসরা! সাত দলের মধ্যে চিটাংগই একমাত্র দল, যারা শুধু একটি জয় পেয়েছে। অন্য পয়েন্টটি এসেছে বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্তের সুবাদে।

আজ সন্ধ্যায় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বন্দর নগরীর দলটির প্রতিপক্ষ সিলেট সিক্সার্স। নাসির হোসেনের দলও রয়েছে ‘হারের ধারাবাহিকতায়’! নিজেদের আঙ্গিনায় পরপর তিন জয়ের ‘হ্যাটট্রিক’ করার পর টানা চার পরাজয়ে সিক্সার্সরাও কাটাচ্ছে চরম দূঃসময়!

গেইল-মালিক-স্মিথ-জহুরুল-জাকিরদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে চিটাগং নিজেদের দূর্ভাগা ভাবতেই পারে! গতবার ভাইকিংসদের হয়ে খেলার পর যারা এবার দল ছেড়েছেন, তারা কী চমৎকারই না খেলছেন!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের কথাই ধরা যাক। রংপুরের হয়ে তিন ম্যাচে দুটো ফিফটির সাহায্যে এরইমধ্যে ১১৮ রান করা গেইল গেলবার চিটাগংয়ের জার্সি গায়ে ৫ ম্যাচে ২১.৮০ গড়ে করেছিলেন সাকুল্যে ১০৯ রান!

চিটাগং ছেড়ে কুমিল্লায় যোগ দেয়া আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী দারুণ পারফর্ম করছেন। পাকিস্তানের শোয়েব মালিকও ভিক্টোরিয়ান্সে শুরুটা করেছেন দূর্দান্ত! ক্যারিবীয়ান ওপেনার ডুয়েইন স্মিথ রাজশাহী দলে নেমেই খেলেছেন ৩৬ বলে ৬২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস!

কিংসদের হয়ে ছায়া থেকে আলোয় আসা তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জাকির হাসানকে তো গতবার চিটাগংয়ের হয়ে ব্যাট হাতে খুঁজেই পাওয়া যায় নি! ঢাকায় যোগ দেয়া জহুরুল ইসলাম অমিও নজর কাড়ছেন বেশ।

এছাড়া গত দুই আসরে চিটাগংকে নেতৃত্ব দেয়া তামিম ইকবাল এবার কুমিল্লার অধিনায়ক। এই বাঁহাতি ওপেনার আগের চার বিপিএলের মধ্যে তিনবারই ছিলেন চিটাগং দলে। শুধু ২০১৩ আসরেই দূরন্ত রাজশাহীর হয়ে খেলেছেন।

যে কোনো খেলাধুলায় ঘরের মাঠে স্বাগতিক দল দর্শক সমর্থণসহ কিছু বাড়তি সুবিধা পায়। আবার ক্রমাগত খারাপ খেলতে থাকলে দর্শকদের দুয়োধ্বনিও শুনতে হয়! হারের বৃত্তে বন্দী চিটাগং কোনটা পাবে বলা মুশকিল!

গত তিন আসরের মতো এবারও নিজেদের আঙ্গিনায় ৪টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে চিটাগং। প্রতিপক্ষ যথাক্রমে সিলেট সিক্সার্স, রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ডায়নামাইটস ও রাজশাহী কিংস। শুধু ২৮ নভেম্বর দুটো ম্যাচের কোনোটিতেই স্বাগতিক দলকে দেখতে পাবেন না গ্যালারির দর্শকরা।

রেকর্ডের পাতার দিকে ফিরে তাকালে চিটাগং যেমন কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারে, তেমনি শঙ্কাও তো কম নয়! গতবার (২০১৬) দলটি এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৪ ম্যাচ খেলে জিতেছিল ৩টিতেই! ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে ১৯ রানে হার দিয়ে শুরু করলেও রাজশাহী কিংসকে ১৯ রানে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৬ উইকেটে এবং বরিশালের সঙ্গে ৭৮ রানে জয় পেয়েছিল চিটাগং।

কিন্তু ২০১৫ আসরে একই মাঠে চিটাগং ৪ ম্যাচ খেলে জিতেছে শুধু একটিতে! বরিশাল বুলসের কাছে ৩৩ রানে, রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে ৯ উইকেটে এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হারের ফাঁকে জয়ের মুখ দেখেছিল সিলেট সুপার স্টার্সের বিপক্ষে ১০ উইকেটে।

জানিয়ে রাখা ভালো, বিপিএলে প্রথম দুটি আসরে বন্দর নগরীর ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম ছিল চিটাগং কিংস; মালিকানাও ছিল অন্য।

২০১৩ সালে চিটাগং পর্বে বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ছিল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। সেবার ৪ ম্যাচের মধ্যে চিটাগং জিতেছিল ২টিতে (খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের বিপক্ষে ৮ উইকেটে, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের সঙ্গে ৫৪ রানে) এবং হেরেছে ২টিতে (সিলেট রয়্যালসের কাছে ৩ উইকেটে, বরিশাল বার্নার্সের বিপক্ষে ৬ রানে)।

প্রথম বিপিএলে ২০১২ সালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২ ম্যাচ খেলে ২টিতেই হেরেছিল চিটাগং কিংস (দূরন্ত রাজশাহীর কাছে ৯ রানে, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের কাছে ৪৪ রানে)।

তার মানে চিটাগংয়ের ২টি মাঠে স্বাগতিক দল এ পর্যন্ত মোট ১৪ ম্যাচ খেলে ৬টি জয়ের বিপরীতে হেরেছে ৮টি! আর শুধু জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১০ ম্যাচে চিটাগংয়ের জয় ৪টি। ফলে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি!

এবার যে রকম দল গড়েছে চিটাগং এবং এখন অব্দি যতটা যাচ্ছেতাই পারফর্ম করে যাচ্ছে তারা; তাতে নিশ্চয় ভুলেও কেউ ভাইকিংসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পক্ষে কানাকড়িও বাজি ধরবে না! যদিও এখনই তাদের সব আশা শেষ হয়ে যায় নি বলে শেষ কথাও বলার সুযোগ নেই।

তবে, পয়েন্ট তালিকার তলানির লজ্জাজনক স্থানটি এড়ানোর লক্ষ্য তো থাকতেই পারে! চিটাগংয়ের ভাগ্য একরকম চুড়ান্ত হয়ে যাবে তাদের ঘরের মাঠের ৪টি ম্যাচ শেষেই।

নিজেরা প্লে-অফে যাক আর না যাক, চিটাগং পর্বে ভাইকিংসরা কিছু ম্যাচ জিতলে অন্তত বিপিএল লড়াই তো আরও জমে উঠবে!

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post