বিপিএল ২০১৭: এখনো যারা ব্যর্থতার বৃত্তে

মাহবুব মিলন
নভেম্বর ২৪, ২০১৭
নিজেদের ফিরে পাওয়ার লড়াই নিজেদের ফিরে পাওয়ার লড়াই

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের ‌সিলেট ও ঢাকা প‌র্বে ইতোমধ্যেই ২৪টি ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। ১২ ডিসেম্বরের ফাইনাল পর্যন্ত মোট ম্যাচ ৪৬টি। অর্ধেকেরও বেশি খেলা শেষ হওয়ার পর আজ থে‌কে চট্টগ্রাম পর্ব শুরুর আগে পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ বুলিয়ে দেখা যাচ্ছে, অংশগ্রহনকারী ৭ দলের কিছু খেলোয়াড় আছেন, যারা এখনো ব্যর্থতার বৃত্তেই বন্দী হয়ে রয়েছেন।

তারা ব্যাটে-বলে কোনোভাবেই আলো ছড়াতে পারেন নি। অবশ্য সবাই যে খুব বেশি সুযোগ পেয়েছেন, তাও নয়। তবে, এ ধরনের টুর্নামেন্টে টানা দুই তিন ম্যাচে খারাপ করলে বিশেষ করে শেষের দিকের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় সুযোগ পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দল এবং নিজের জন্য পারফরম্যান্সের কোনোই বিকল্প নেই!

সিলেট সিক্সার্সের সঙ্গে হার দিয়ে বিপিএল শুরুর পর টানা পাঁচ জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স! ২০১৬ আসরের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে দেশী-বিদেশী খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই যে ভালো খেলছেন, এটা অনুমিতই। তা নাহলে দলটি সাফল্য পাচ্ছে কীভাবে? তবে এর মাঝেও ব্যর্থতার অস্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছেন আরাফাত সানি!

২৯ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার ৪ ম্যাচে ৮ ওভার বল করে ৬৪ রান দিয়েও কোনো উইকেটের দেখা পান নি! ফলে তার পক্ষে একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শুন্য! এদিকে অধিনায়ক তামিম ইকবাল ইনজুরি থেকে ফিরে ৩ ম্যাচে ১৪.৩৩ গড়ে করেছেন ৪৩ রান। এখনো ছন্দ খুঁজে না পেলেও এই বাঁহাতি ওপেনার তো কুমিল্লার অটোমেটিক চয়েস।

পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে ঢাকা ডায়নামাইটস। জয়ের দারুণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেও অল্পের জন্য টানা দুই হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা পড়েছে কিছুটা চাপে। সাকিবের দলের ব্যর্থদের শীর্ষে থাকবেন মেহেদি মারুফ। গতবার ঢাকার হয়ে দারুণ খেলা এই ডানহাতি ওপেনার তিন ম্যাচে করেছেন মোটে ১৫ রান!

সিলেটের সঙ্গে শুন্য রানে আউটের পর বাদ পড়ে কুমিল্লার বিপক্ষে ফিরে ওয়ানডাউনে নেমেও রানের খাতা খুলতে পারেন নি মারুফ। পরে রংপুরের সঙ্গে ছয়ে নেমে ২৫ বলে মাত্র ১৫ রান করে দলকে চাপে ফেলেছেন। এদিকে নাদিফ চৌধুরী ৩ ম্যাচের ২ ইনিংসে নেমে করেছেন ৮ রান! ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ শহীদ ৩ ম্যাচে ৮ ওভারে ৫২.০০ গড়ে পেয়েছেন ১ উইকেট।

মোসাদ্দেক হোসেন সেভাবে সুযোগ পাচ্ছেন না, পেলেও কাজে লাগাতে পারছেন না। ৫ ইনিংসে করেছেন ৩৩ রান, গড় ১১.০০ এবং একটি উইকেট পেয়েছেন। দেশী-বিদেশী তারকায় ঠাসা ঢাকা দলে পারফর্ম করতে না পারলে টিকে থাকা কঠিন!

৭ ম্যাচে ঢাকার সমান ৪ জয় নিয়ে খুলনা টাইটান্স রয়েছে তিন নম্বরে। মাহমুদউল্লাহর দলের মুল সমস্যা বলতে টপ অর্ডার ব্যাটিং! অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে উঠে আসা নাজমুল হোসেন শান্ত ৬ ম্যাচে করেছেন ৫৮ রান, গড় ৯.৬৬, সর্বোচ্চ ২৪। এই বাঁহাতি ওপেনারকে শেষ দুই ম্যাচে পাঁচ ও সাতে নামিয়েও ফর্মে ফেরানো যায়নি।

ওদিকে আরেক ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাদরিক ওয়ালটন ৪ ম্যাচে ১২.৫০ গড়ে ৫০ রান করে খুলনার দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছেন। বোলিংয়ে ব্যর্থ মোশরাররফ হোসেন রুবেল। এই বাঁহাতি স্পিনার ৩ ম্যাচে ৫ ওভার বল করে উইকেটই পাননি। এছাড়া শ্রীলংকার অলরাউন্ডার সেকুগে প্রসন্ন ২ ম্যাচে ৩ ওভার বল করে ২৯ রান দিয়ে উইকেটের মুখ দেখেন নি এবং এক ইনিংসে করেছেন ৬ রান।

বিপিএলের শুরুতে ঘরের মাঠের টানা তিন জয়ের সুবাদে এখনো কোনোক্রমে চার নম্বরে টিকে আছে সিলেট সিক্সার্স। পরপর চার খেলায় হারের পথে নাসির হোসেনের নেতৃত্বাধীন দলটির অনেক দূর্বলতা বেরিয়ে পড়ছে। ইংলিশ অলরাউন্ডার রস উইটলি সেভাবে প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না।

৪ ইনিংসে তার ব্যাটে এসেছে ৬৮ রান এবং উইকেট পেয়েছেন একটি। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান ৭ ম্যাচের ৫ ইনিংসে করেছেন ৩২ রান; অবশ্য ২ বার অপরাজিত ছিলেন। অলরাউন্ডার শুভাগত হোম ৩ ম্যাচের ১ ইনিংসে নেমে রান করেছেন ৭ এবং ২ ইনিংসে ৪ ওভার বল করে ৩৯ রানে উইকেটের দেখা পান নি। এছাড়া পেসার মোহাম্মদ শরীফ ২ ম্যাচ খেলে এক ইনিংস বল করে ৪ ওভারে ২৭ রানে উইকেট পান নি, এক ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেও শুন্য!

সিলেট ও ঢাকার বিপক্ষে যথাক্রমে ৭ ও ৩ রানের স্নায়ুক্ষয়ী টানা দুই জয়ে তবুও লড়াইয়ে ফিরেছে রংপুর রাইডার্স। বিগ বাজেটের দলটি অধিনায়ক মাশরাফির ক্যারিশমায় ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছে। ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আসার আগে দলটির ওপেনিং অবস্থা ছিল খুবই নাজুক!

দুই ওপেনারের পারফরম্যান্স দেখুন- ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনসন চার্লস ৩ ম্যাচে ৪.০০ গড়ে করেন ১২ রান এবং ইংল্যান্ডের অ্যাডাম লিথ ২ ম্যাচে ২.০০ গড়ে ৪ রান! এদিকে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত জিয়াউর রহমান যেন ঘুমিয়েই আছেন! ৪ ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে করেছেন ১৩.৫০ গড়ে ২৭ রান এবং ২ ওভার বল করে উইকেট নেই। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক এক ম্যাচে ৩.৪ ওভারে ৩৪ রানে উইকেট না পেয়ে আর সুযোগ পান নি।

রাজশাহী কিংসের অবস্থান পয়েন্ট তালিকার ছয়ে। গতবারের রানার্সআপ দলটি দেখেছে ২টি জয়ের মুখ। রাজশাহীর নিয়মিত অধিনায়ক ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন স্যামি মূলত অলরাউন্ডার। কিন্তু ইনজুরির কারণে এখনো তিনি বলই হাতে নিতে পারেন নি। ৫ ম্যাচের ৪ ইনিংসে ১৫.০০ গড়ে ৬০ রান, সর্বোচ্চ ২৯- ব্যাট হাতেও পারফরম্যান্স সুবিধা নয় স্যামির।

সামিত প্যাটেলের অবস্থা তো খুবই শোচণীয়! ৪ ইনিংসে ১০ রান এবং ৩১.৫০ গড়ে ২ উইকেট- ইংলিশ অলরাউন্ডার দলটির সমর্থকদের চক্ষুশূলে পরিনত হয়েছেন! জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যান ম্যালকম ওয়ালার ২ ইনিংসে ৫ করেছেন রান; অথচ একটা বল করেই দিয়েছেন ৬! তরুণ বাঁহাতি স্পিনার নিহাদুজ্জামান ৩ ম্যাচে ৭ ওভার বল করে ৪৮ রানে উইকেট পান নি।

‘তাসকিন ম্যাজিকে’ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুরের সঙ্গে একমাত্র জয় পেয়েছিল চিটাগং ভাইকিংস। এরপর জিততে ভুলে গিয়ে দলটি রয়েছে টানা হারের ‘ধারাবাহিকতায়’! বন্দর নগরীর দলটির হয়ে কেই-বা খুব ভালো খেলছে, সেটাই প্রশ্ন!

তবে ব্যর্থদের শীর্ষে থাকবেন বোধহয় তানভির হায়দার! গত নিউজিল্যান্ড সফরে জাতীয় দলের হয়ে দুটি ওয়ানডে খেলা এই লেগ স্পিনার ৪ ম্যাচে ১৩.১ ওভারে ১২২.০০ গড়ে পেয়েছেন ১ উইকেট এবং এক ইনিংস ব্যাট করে অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে। চিটাগংয়ের বিদেশীদের অবস্থাই বেশি খারাপ।

জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা ৪ ইনিংসে করেছেন ৭৫ রান উইকেট ১টি। ইংল্যান্ডের ফার্স্ট বোলার ক্রিস জর্ডান ২ ম্যাচে ৫.২ ওভার বল করলেও ৪৯ রান দিয়ে উইকেটের মুখ দেখেন নি। এভা‌বে চল‌তে থাক‌লে কে জানে, ভাইকিংসরা পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই থেকে যায় কী না!

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post