বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব: বিশ্বায়ন কি সৌন্দর্যের চেয়েও বড়!

ইকরাম উদ্দীন সুজন
নভেম্বর ২৪, ২০১৭
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে কোনো গলদ নেই তো? বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে কোনো গলদ নেই তো?

কল্পনা করুন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ধুঁকতে থাকা পর্তুগালও পেরুতে পারেনি প্লে অফের বাঁধা। সমর্থকদের আক্ষেপ, হয়ত আর দুটা দল বেশি খেলার সুযোগ পেলে এমনটা হতনা। মেসি রোনালদো ছাড়া বিশ্বকাপ! ভাবা যায়?

অবশ্য বাস্তবে এমন কোন ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছেনা ফুটবল ফ্যানদের। তবে গত অক্টোবরে ফুটবল বিশ্ব অন্যরকম এক আশংকায় পড়ে গিয়েছিল। সাউথ আমেরিকা কোয়ালিফায়ারের মাত্র এক ম্যাচ বাকি, কিন্তু তখনো নিশ্চিত হয়নি ৬টা দলের ভাগ্য, আর এদের মধ্যেই একটা ছিল ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি আর্জেন্টিনা।

১৯৭০ বিশ্বকাপের পর প্রথম আর্জেন্টিনা বিহীন বিশ্বকাপ দেখার যে আশংকা তৈরি হয়েছিল সেটি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যখন সে দলে খেলছিলেন বর্তমান সময়ের কিংবা তর্কাতীতভাবে সর্বকালের সেরা ফুটবল আইকন লিওনেল মেসি। অবশ্য পরবর্তীতে সেই মেসিতে ভর করেই আর্জেন্টিনা কোন প্লেঅফের ঝামেলা ছাড়া বিশ্বকাপের টিকেট পেলেও শেষপর্যন্ত আঁটকে যায় বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দল ইতালির ভাগ্য ।

এতটুক বললে হয়ত ইতালির গুরুত্বটা অতটা বোঝা যাচ্ছেনা। বিশ্বকাপের বিশটি আসরের মধ্যে ইতালি খেলেনি মাত্র দুইটিতে। এর মধ্যে শুধু একবারই বাছাইপর্বের ব্যার্থতা ছিল কারণ; সেটাও ১৯৫৮ সালে। অর্থাৎ ষাট বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপ পাচ্ছেনা কিংবদন্তি এই দলকে, সেই সাথে একটি প্রশ্নই চলেই আসে - বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের বর্তমান ফরম্যাটটা কি যথেষ্ট বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে পূর্ণতা দান করতে?

বিশ্বায়নের যুগে ফুটবলের ক্লাসিক টিম গুলোর বাইরেও অনেক নতুন দল বিশ্বফুটবলে নিজেদের ভাল অবস্থান তৈরি করে চলেছে। যেমন বেলজিয়াম, সুইডেন কিংবা ইউরোতে চমক দেখানো আইসল্যান্ড, ওয়েলস এর কথা বলতেই হয়। সেই সাথে দক্ষিণ আমেরিকাতেও ব্রাজিল আর্জেন্টিনার বাইরে বাকি দলগুলো আগের তুলনায় যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যেটি আগের দশকে দেখা যায়নি।

গত বিশ্বকাপে চিলি এবং কলম্বিয়ার পারফর্মেন্স ছিল চোখে পড়ার মত। আর ২০১০ বিশ্বকাপেতো উরুগুয়েই লাতিনদের মর্যাদা কিছুটা রক্ষা করেছিল সেমিফাইনাল খেলে। চিলি আবার টানা দুইটা কোপা আমেরিকা জিতে নিল এবং দুইবারই ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল বিশ্বকাপ রানারাপ আর্জেন্টিনা। অথচ সেই চিলিই কিনা থাকছেনা এবারের বিশ্বকাপে! কোয়ালিফায়ার এর কথা ধরলে চিলি কোন অংশেই আর্জেন্টিনা থেকে দুর্বল দল ছিলনা, কিন্তু সুযোগ থাকা সত্বেও প্যারাগুয়ের সাথে অনাকাঙখিত হার তাদের বিশ্বকাপ মূল পর্বের স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়।

সেটা অবশ্য অন্য আলোচনা। বাস্তবতা হচ্ছে, বাছাইপর্বের ম্যারাথন দৌড় শেষে সামনের বিশ্বকাপে আমরা পাচ্ছিনা কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন চিলিকে, সেই সাথে হারাচ্ছি সাঞ্চেজ আর ভিদালের মত তারকাদের উপস্থিতি। অবশ্য চিলিকে পেতে হলে হয়ত হারাতে হতো আর্জেন্টিনাকে। অর্থাৎ আপনি যেভাবেই হিসেব মিলান - বাছাইপর্ব কোনভাবেই সব বড় দলকে একসাথে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে পারছেনা। তাহলে সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপের প্রতিযোগীর সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়ানো কি এখন সময়ের দাবি নয়?

ফিফা যে একেবারে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে তা কিন্তু না। গত জানুয়ারিতেই ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়া এবং কাতার বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে ৩২ দলের অংশগ্রহনে শেষ বিশ্বকাপ, এরপর থেকে মোট ৪৮ দল অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে।

কিন্তু এটা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কও তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে এটি কোন ফুটবলক কেন্দ্রিক সীদ্ধান্ত না বরং একটি রাজনৈতিক সীদ্ধান্ত। ইনফান্তিনোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি ছিল বিশ্বকাপকে ৪০ দলের আসরে উন্নতি করা যেটা অবশ্যই অনেক এশিয়ান কিংবা আফ্রিকান ফেডারেশনের নজর এড়ায়নি। মোট দলের তুলনায় এ অঞ্চল থেকে সুযোগ পাওয়া দলের সংখ্যা তুলনামূলক কম। আর বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া মানে আরেকটা দলের মূল পর্বে খেলার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া।

সেই সাথে বিশ্বে নিজেদের তুলে ধরার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করা। আবার বেশি দল মানে বিশ্বকাপে ফিফারও বানিজ্যিক প্রসারের সুযোগ তৈরি হওয়া। ফিফার হিসেব মতে আগের আসরগুলোর চেয়ে এক বিলিয়ন ডলার বেশি আয় হবে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ থেকে, আর বেশি ইনকাম মানে ফুটবলের উন্নয়নে বেশি ব্যয় করার সুযোগ। তাছাড়া নতুন ফিফা প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন একুশ শতকে ফুটবল ইউরোপ আর দক্ষিণ আমেরিকাতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন একটি গ্লোবাল খেলায় পরিণত হয়েছে।

বিশ্বে  ফুটবলের জনপ্রিয়তা এত বেশি যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পেও ফুটবল খেলায় মগ্ন থাকতে দেখা যায় শরণার্থী শিশু কিশোরদের ।  সুতরাং বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় এই উতসবে আরো বেশি দেশের অংশগ্রহণ থাকা উচিত যেন আরো বেশি সংখ্যক মানুষ বিশ্বকাপে সরাসরি যুক্ত হতে পারে। এই সবকিছু চিন্তা করলে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানো যুক্তিযুক্তই বলা যায়।

কিন্তু তারপরও কথা থেকে যায় - কারণ এটি বিশ্বকাপ। এখানে বৈশ্বিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি খেলার মানের ব্যাপারটাও মাথায় রাখা লাগে। বিশ্বকাপে আপনি নিশ্চয় ম্যাড়েম্যাড়ে কোন ম্যাচ হোক চায়বেননা। বিশ্বকাপের ম্যাচ মানে টানটান উত্তেজনায় ঠাসা নব্বই মিনিট। চারবছরের প্রতিক্ষার পর আসে প্রাণের বিশ্বকাপ।

এর সাথে জড়িয়ে থাকে উত্তেজনা, উন্মাদনা, উচ্ছাস, বিনোদন, বিদায়, কান্না। এখানে স্রেফ অংশগ্রহণের আনন্দে ভেসে যাওয়া দলের অংশগ্রহণ কেউ প্রত্যাশা করেনা। আর এই ব্যাপারে সবচেয়ে হতাশাজনক অবস্থা এশিয়ার দলগুলোরই। ২০১৪ বিশ্বকাপে এশিয়া (অস্ট্রেলিয়া) অঞ্চল থেকে খেলা ৪ দল মিলে একটি ম্যাচও জিততে সক্ষম হয়নি। এর আগের বিশ্বকাপগুলোতে বলার মত ছিল ২০০২ বিশ্বকাপে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার সেমি ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া।

কিন্তু সবগুলো বিশ্বকাপ মিলেও এই অঞ্চলের দলগূলোর উল্লেখযোগ্য রেকর্ড নেই। অর্থাৎ ৩২ দলই যেখানে পুরাপুরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছেনা সেখানে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ নিশ্চিতভাবে বর্তমান ফরম্যাটেরর চেয়ে বেশি একতরফা খেলা উপহার (!) দিবে ধরাই যায়। এটা গেল একটা দিক।

অন্যদিকে যেই ইতালির অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপ কিছুটা রঙ হারানোর আশংকা হচ্ছে তাদের ব্যাপারে একটা তথ্য মাথায় রাখা উচিত - ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল জিতার পরবর্তী দুই বিশ্বকাপে ইতালি মোট ৬ ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র একটি ম্যাচে এবং সঙ্গত কারণেই দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে ইতালি।

অর্থাৎ এবার ইতালির বাছাই পর্বের ব্যর্থতা কোন অঘটন ছিলনা, নিজেদের খেলার কিছুটা মান কমার পাশাপাশি অন্য দলগুলোর যোগ্যতার ফসল এটা। এটার মানে হচ্ছে, কোন দলের খেলার মান কমলে বিশ্বকাপ বাছাইওপর্বেও এর প্রভাব থাকে, কিন্তু বিশ্বকাপে মানসম্মত দলই প্রত্যাশা সবার।

মূলপর্বে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করলে নতুন যুক্ত হওয়া স্থানগুলোরও একটি গ্রহণযোগ্য বন্টন প্রয়োজন মহাদেশীয় কনফেডারেশন গুলোর মধ্যে। ফিফা গণমাধ্যমে যে পরিকল্পনা পেশ করেছে সেটা অনুসারে নতুন যুক্ত হতে যাওয়া ১৬ দলের মধ্যে ৩টা আসবে ইউরোপ থেকে, ৪টা আফ্রিকা অঞ্চল থেকে, ৪টা এশিয়া, ২টা দক্ষিণ আমেরিকা, ২টা উত্তর আমেরিকা এবং ১টা ওসেনিয়া অঞ্চল থেকে।

ইউরোপে মানসম্মত দলের পরিমাণ বেশি, সে হিসেবে ইউরোপ থেকে আনুপাতিকভাবে বেশি দল যুক্ত হওয়ার কথা। আবার আফ্রিকা আর এশিয়া থেকে আরো চারটা করে দল যুক্ত হলে বিশ্বকাপে তারা যথাক্রমে ৯ টা ও ৮.৫ টা করে দল পাঠাতে পারবে। অন্যদিকে লাতিন আমেরিকা থেকে দল যাবে সর্বসাকূল্যে ৬ টা। এখানে প্রশ্ন থেকেই যাবে - যে মহাদেশ ইউরোপের ১১টা বিশ্বকাপের বিপরীতে ৯ বার বিশ্বকাপ নিয়ে গেছে তারাই কিনা এশিয়া এবং আফ্রিকা থেকে কম সংখ্যক দল পাঠাবে।

এক্ষেত্রে ফিফার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে কারণ দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল) এর সদস্য সংখ্যাই হচ্ছে মাত্র ১০। সুতরাং সেখান থেকে এর চেয়ে বেশি সদস্য যোগ করা সে অঞ্চলের বাছাই পর্বের প্রতিযোগীতাকে একেবারে অর্থহীন করে তোলবে। এবারের মত টানটান উত্তেজনাপূর্ণ বাছাইপর্ব তখন আর দেখা যাবেনা। এদিকে এশিয়া থেকে যেখানে চারদলই বিশ্বকাপে তেমন প্রতিদ্বন্দিতা তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছেনা সেখানে আরো চার বা পাঁচ দলের অংশগ্রহণ বাহুল্যই বলাই যায়।

তাছাড়া এশিয়া অঞ্চলের বাছাই পর্ব অনেক উত্তেজনাপূর্ণ হয় নিজেদের সামর্থ্য কাছাকাছি বলে। নতুন চারদলের সংযুক্তির ফলে সেটাও হারাতে হতে পারে। উত্তর আমেরিকার দলগুলোর পারফর্মেন্স এশিয়া থেকে ভাল হলেও তাদের দৌড়ও সেই দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত। দিনশেষে বিশ্বকাপের আসল প্রতিযোগিতা হয় ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকানদের মধ্যে, সাথে আফ্রিকার কিছু চমক থাকে।

আর আদতে বিশ্বকাপকে এক মাসের প্রতিযোগিতা মনে হলেও সত্যিকার অর্থে এর বাছাই পর্বও বিশ্বকাপের অংশ। বাছাইপর্ব পর্তুগাল বনাম সুইডেন (২০১৪ বাছাই পর্ব) ম্যাচের মত ক্ল্যাসিক ম্যাচগুলোও উপহার দিয়ে আসছে। মূল পর্বে নতুন দল যুক্ত হওয়ার ফলে দেখা যাবে বাছাইপর্বেই কিছু দল কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতা ছাড়াই মূল পর্বে উঠে গেছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে দুই পর্বেই প্রতিদ্বন্দিতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে সে অনেক পরের ব্যাপার কারণ ফিফা প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপের আয়োজনের ব্যাপারে কোন চূড়ান্ত সীদ্ধান্ত আসেনি। ইনফান্তিনো ৪৮ দলের যে রূপরেখা দিয়েছেন সেটাতে তিনি বিশ্বকাপের মূল পর্বকে দুইটা স্তরে ভাগ করেছেন। প্রথম স্তর হচ্ছে গ্রুপ স্টেজ যেখানে ৩ দলের ১৬টা গ্রুপ থেকে ২টা করে মোট ৩২টা দল উঠবে নকাউট রাউন্ডে। এরপর ৩২ থেকে ১৬ এবং তারপর আমরা বর্তমানে যেভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে অভ্যস্ত সেভাবেই চলতে থাকবে।

আমার ব্যাক্তিগতভাবে ‘কোয়ান্টিটি’-র চেয়ে ‘কোয়ালিটি’-তে বেশি আগ্রহ। কোন বিশেষ দল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন না করলে বিশ্বকাপে কখনো রঙ হারাবেনা। বিশ্বকাপ জন্ম দিয়েছে দেভর সুকের, হামেস রদ্রিগেজ, জর্জ হাজি, দিয়েগো ফোরলানদের মত পারফর্মারদের, ছোট দলে খেলেও এরা তৈরি করেছে বিশ্বকাপ রুপকথা।

বিশ্বকাপে কোন দল অংশগ্রহণ সরাসরি না করলেও একমাস জুড়ে ঠিকই তাদের দর্শকরা অন্য কোন দলকে সমর্থন দিয়ে ডুবে থাকে ফুটবল জোয়ারে। ভৌগলিকভাবে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা একেবারে ১৮০ ডিগ্রি কোণে অবস্থান করলেও ১৬কোটি মানুষের এই ভূখন্ডে ঠিকই তাদের পতাকা উড়তে দেখা যায় বিশ্বকাপ আসলে। ফুটবল বিশ্বকাপ সবার উৎসব হয়েছে খেলাটার সৌন্দর্যের জন্য। যখন বিশ্বকাপ মূল পর্বে ২৪ দল অংশ নিয়েছিল তখনো পৃথিবীর মানুষকে ফুটবল টেনে নিয়েছিল।

এটাই ‘দ্যা বিউটিফুল গেম’ এর স্বার্থকতা। ফুটবলের বিশ্বায়নের জন্য বিশ্বকাপের দলসংখ্যা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ না, কারণ সেটার কোন প্রয়োজন হচ্ছেনা আপাতত। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিবেচনা আনাটাও দর্শকরা আশা করেনা। বিশ্বকাপে ফুটবলের মান যাতে ঠিক থাকে সেটাই চায়বে যেকোন সত্যিকার ফুটবল ফ্যান।

এজন্য যদি ৩২ দলের বিশ্বকাপই যথেষ্ট হয় তাহলে সেটাই বহাল রাখা উচিত। তবে খেলার মান না কমিয়ে এর চেয়ে বেশি দল যদি যোগ করা যায় তাতেও কোন আপত্তি থাকার কথা না, কিন্তু সেটা কতটুকু বাস্তবধর্মী তা নিয়ে এখনো গবেষণার অবকাশ আছে।

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post