বিপিএল ২০১৭: ঢাকা পর্বের আলোচিত পাঁচ

মাহবুব মিলন
নভেম্বর ২৩, ২০১৭
কেমন কাটলো ঢাকা পর্ব? কেমন কাটলো ঢাকা পর্ব?

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরে আবারো দু’দিনের বিরতি। ২৪ নভেম্বর মানে কাল থেকে শুরু হবে চিটাগং পর্ব। তার আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের কিছু আলোচিত ঘটনাবলীর দিকে ফিরে তাকানো যাক।

গেইলের ব্যাক টু ব্যাক ফিফটি

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আকর্শণ ক্রিস গেইল। এই ক্যারিবীয় হ্যারিকেনের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে নিয়ে ভয়ঙ্কর এক ওপেনিং জুটি গড়ে তুলেছে রংপুর রাইডার্স। ফলে সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ চড়ে উঠছে অনেক ওপরে!

আগের চার বিপিএলেই খেলা গেইল কোনো আসরেই পুরোটা সময় ছিলেন না। এবার বেশ আগেভাগেই চলে এসেছেন এবং বিপিএলের নতুন অতিথি ম্যাককালামকে নিয়ে ওপেনিংও করছেন। জুটিতে খুব বেশি আতঙ্ক ছড়াতে না পারলেও একেবারে হতাশও করেন নি। তিন ম্যাচে এই দুজনের যুগলবন্দীতে রংপুর পেয়েছে ৩১, ৮০ ও ৩৬ রান। এর মধ্যে ম্যাককালামের ব্যাট সেভাবে কথা বলে নি, করেছেন ১৩, ৩৩ ও ৬।

তবে গেইল খেলছেন তার নিজের মতো করেই। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ১৩ বলে ১৭ রানে আউট হয়ে শুরুটা ভালো না হলেও টানা ফিফটি তুলে নিয়েছেন পরের দুই ম্যাচে। সিলেট সিক্সার্সের সঙ্গে ৩৯ বলে ৫০ রানের পর ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে খেলেছেন ২৮ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস। এই দুটো ম্যাচেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জিতেছে রংপুর এবং উভয় খেলাতেই প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন গেইল! গতবার চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে সেভাবে প্রত্যাশা মেটাতে না পারা গেইল এবার শুরু থেকেই আছেন দূর্দান্ত ফর্মে।

জয়শুন্য সিলেট সিক্সার্স ও চিটাগং ভাইকিংস

বিপিএলের ঢাকার প্রথম পর্বে জয়ের মুখ দেখতে ব্যর্থ হয়েছে ২টি দল। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিজয় উল্লাস করতে পারে নি চিটাগং ভাইকিংস ও সিলেট সিক্সার্স। এর মধ্যে নাসির হোসেনের নেতৃত্বাধীন সিলেট নিজেদের মাঠে প্রথম তিনটি ম্যাচ টানা জয়ের পর পরাজিত হয়েছে পরের চারটি ম্যাচেই।

মাঝে খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে একটি খেলা পরিত্যক্ত হয়েছে। ঢাকার মাঠে তিনটি হারের বিপরীতে ওই পরিত্যাক্ত ম্যাচ থেকে অবশ্য একটি পয়েন্ট পেয়েছে সিলেট।

চিটাগংয়ের অবস্থাও তাই। সিলেট পর্বে দুই ম্যাচের একটিতে জয়ী হওয়া চিটাগং মিরপুরে চার ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে। পাশাপাশি বৃষ্টির অনাসৃষ্টিতে একটি ম্যাচে এক পয়েন্ট পেলেও চট্টলার দলটি রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে!

শেষ ওভারে নিস্পত্তি হওয়া ৫ ম্যাচ

সিলেট পর্বে ৮ খেলায় সেভাবে রুদ্ধশ্বাস ও রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখা যায়নি। ব্যতিক্রম বলতে কেবল কুমিল্লার বিপক্ষে সিক্সার্সরা একটি ম্যাচ শেষ ওভারে ডুয়েইন ব্র্যাভোকে মারা নুরুল হাসানের ছক্কা ও চারে উত্তেজনা ছড়িয়ে জিতেছিল এক বল হাতে রেখে।

ঢাকা পর্বের শুরুতে একের পর এক একতরফা ম্যাচের ছড়াছড়িতে দর্শক বিরক্ত হলেও ‘আপাতত’ শেষটায় সেই হতাশা পুরোটাই মিটিয়ে দিয়েছে। গতকাল শেষ দিনের দুটো ম্যাচেই দেখা গেছে নাটকীয়তা, ফল নিস্পত্তি হয়েছে একেবারে শেষ ওভারে।

রাজশাহীর বিপক্ষে অসাধারণ ফিনিশিং দেয়ার পথে খুলনার আরিফুল হক শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ৯ রান তুলে নিয়েছেন ডুয়েইন স্মিথের করা প্রথম দুই বলে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে! অন্যদিকে ২০তম ওভারে ঢাকার জয়ের জন্য দরকার ছিল যে ১০ রান, সেখানে থিসারা পেরেরা একটি ছক্কা খেয়ে শেষ দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে রংপুরকে এনে দিয়েছেন ৩ রানের এক নাটকীয় জয়!

আগের দিন, অর্থাৎ ২০ নভেম্বর দুটি ম্যাচও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ ছড়িয়েছে। সিলেট যে রংপুরের কাছে ৭ রানে হেরেছে, সেখানে সিক্সার্সদের শেষ দুই ওভারে দরকার ছিল ২৬ রান এবং শেষ ওভারে ১৯। আবার ঢাকার করা মাত্র ১২৯ রান চেজ করতে নেমে কুমিল্লাকে খেলতে হয়েছে ১৯.৪ ওভার! শেষ ওভারের প্রথম চার বলে দুটি বাউন্ডারিতে প্রয়োজনীয় ৯ রান তুলে কুমিল্লাকে দারুণ এক জয় এনে দেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক।

তারও আগে খুলনার সঙ্গে এক বল হাতে রেখে জিতেছে ঢাকা। টাইটান্সদের করা ১৫৬ রান তাড়া করতে নেমে ডায়নামাইটসের শেষ ওভারে ৬ রানের সমীকরণ জহুরুল ইসলাম অমি মিলিয়েছেন কার্লোস ব্রেথওয়েটকে বাউন্ডারি মেরে।

পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের চমক!

পঞ্চম বিপিএলের শুরু থেকেই মাঠ মাতাচ্ছেন ক্যারিবীয় খেলোয়াড়রা। তবে পাকিস্তানী খেলোয়াড়রা যোগ দিয়েছেন ঢাকা পর্ব থেকেই। এবং তাদের বেশিরভাগ প্রথম থেকেই চমক দেখাচ্ছেন!

শুরুটা করেছেন শহীদ আফ্রিদি। এই পাক অলরাউন্ডার ঢাকার হয়ে সিলেটের বিপক্ষে মাঠে নেমেই প্রথমে ১২ রানে ৪ উইকেট এবং পরে ১৭ বলে ৩৭ রান করে দলকে জিতিয়ে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হন। এছাড়া রাজশাহীর সঙ্গে ৪ উইকেট এবং রংপুরের বিপক্ষেও ২ উইকেট পেয়েছেন আফ্রিদি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দুই পাকিস্তানী তারকাও দারুণ খেলছেন! ঢাকার বিপক্ষে পেসার হাসান আলী নিয়েছেন ২০ রানে ৫ উইকেট, সবগুলোই বোল্ড! একই ম্যাচে পরে ৫৩ বলে ৫৪ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়েছেন শোয়েব মালিক। অবশ্য রংপুরের সঙ্গে নিজের প্রথম ম্যাচে নেমে মালিক করেছেন ১৪ রান এবং হাসান আলী ৩৯ রানে নেন ১ উইকেট।

এছাড়া পাক পেসার জুনায়েদ খান খুলনা টাইটান্সের হয়ে প্রথম ম্যাচেই রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন।

ছায়া থেকে আলোয় যারা

ঢাকা পর্বে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যেও বেশ কয়েকজন সাফল্যের দ্যুতি ছড়িয়েছেন! জাতীয় দলের বাইরে থাকা প্রায় অখ্যাত ও অপরিচিত এরা নৈপূণ্য দেখিয়ে ছায়া থেকে চলে এসেছেন আলোয়!

খুলনা টাইটান্সের হয়ে অসাধারণ খেলছেন ২৫ বছর বয়সী মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আরিফুল হক। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ২৫ বলে ৪০ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেই মূলত নজর কাড়া আরিফুল ভাইকিংসের সঙ্গে দ্বিতীয় সাক্ষাতে করেছেন ২৪ বলে ৩৪। তবে রাজশাহী কিংসের সঙ্গে যেভাবে ১৯ বলে অপরাজিত ৪৩ রান করে দলকে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ জিতিয়েছেন, তা বাংলাদেশের যে কোনো ব্যাটসম্যানের জন্যই স্বপ্নের মতো একটি ইনিংস!

রাজশাহী কিংসকে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় এক জয় এনে দিয়েছেন জাকির হাসান। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে উঠে আসা এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রান করে হয়েছেন ম্যাচসেরা! ঢাকার সঙ্গেও ২৩ বলে ৩৬ রান করেছেন জাকির।

অফস্পিনার মেহেদি হাসান সুজনও রয়েছেন আলোচনার টেবিলে। কুমিল্লার হয়ে খেলা এই অফস্পিনার ঢাকার বিপক্ষে গেইল-ম্যাককালামের সামনে দূরন্ত বল করে ১৫ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। মূলত মেহেদির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই জয় পায় কুমিল্লা, ম্যাচসেরাও হন তিনি।

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post