তাদের কথা কেউ কি মনে রেখেছে!

নেয়ামত আল হাসান
নভেম্বর ১১, ২০১৭
 হারিয়ে যাওয়া ভারতীয় অলরাউন্ডারদের গল্প হারিয়ে যাওয়া ভারতীয় অলরাউন্ডারদের গল্প

শুরুর ক্রিকেট ছিলো কেবলই ব্যাটসম্যান আর বোলারদের খেলা। বিবর্তনের সূত্র মেনে একটা সময়ে ব্যাটিং বোলিং দুটোই পারা খেলোয়াড়দের আবির্ভাব হল। সেই থেকে অলরাউন্ডাররা এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ভারতীয় দলে ভিনু মানকড়, কপিল দেব, মনোজ প্রভাকরদের মতো অলরাউন্ডার সময়ে সময়ে খেলে গেলেও ভারত ছিলো অলরাউন্ডারদের মরুভূমি।

নির্বাচকরা একে ওকে সময়ে অসময়ে দলে খেলিয়ে চেয়েছেন এই ফাঁকা জায়গাটা পূরণ করতে, কিন্তু বিধি বাম! কেউ হয়তো দারুণ শুরু করে পথ হারিয়েছেন, কেউ বা আবার মোটেও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। আজ গল্প বলবো এমন পাঁচজন ভারতীয় অলরাউন্ডারদের যারা খুব আশা জাগিয়ে দলে জায়গা করে নিলেও পরে হতাশ করেছেন ফলশ্রুতিতে দল থেকেই বাদ পড়েছেন।

জয় প্রকাশ যাদব

মধ্য প্রদেশের ছেলে যাদব দলে ডাক পান ২০০২ এর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। সে সফরে দুটো ম্যচের পরেই তার ক্যারিয়ারে বড় একটা ছেদ পড়ে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার ভালো পারফর্মেন্স অব্যাহত থাকে। তার অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যে আস্থা রেখে তাকে আবার দলে ডাকা হয় ২০০৫ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে। কিন্তু সেখানেও তিনি নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হন। সে বছরের শেষ দিকে শ্রীলংকা সিরিজে শেষবারের মতো তাকে একটা সুযোগ দেয়া হয়। নির্বাচকদের আশার গুড়ে বালি দিয়ে এবারও তিনি ব্যর্থ হন। রেলওয়ে আর মধ্য প্রদেশের হয়ে রঞ্জিতে রান আর উইকেটের বন্যা বইয়ে দেবার পরও এরপর আর যাদবের ভাগ্যে জাতীয় দলের শিকে ছেঁড়েনি।

যোগিন্দর শর্মা

ভারতের ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনে যোগিন্দর শর্মার অন্তর্ভুক্তি ছিলো একটা চমক। ঘরোয়া ক্রিকেটে জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে ভালো বল করার পুরষ্কারস্বরুপ তাকে দলে নেওয়া হয়। ফাইনাল আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চাপ সামলে শেষ ওভারে মিসবাহকে আউট করে এর যোগ্য প্রতিদানও দিয়েছিলেন যোগিন্দর। কিন্তু সে ম্যাচের পরে বিস্ময়করভাবে আর দলে ডাক পাননি তিনি।

ডানহাতি ব্যাটিং আর কাজ চালানোর মতো মিডিয়াম পেস নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে গেছেন ১৫ বছর ধরে। আইপিএলে খেলেছেন তিনি। সহসাই বিবর্ণ হয়ে গেলেও যোগিন্দর শর্মার নাম ইতিহাসের পাতায় ঠিকই লেখা থাকবে ভারতের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ের নায়ক হিসেবে।

 রিতেন্দর সিং সোধি

২০০০ সালের অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে হঠাৎই নির্বাচকদের নজরে চলে আসেন রিতেন্দর সিং সোধি। ডাকা হয় সেবছর জিম্বাবুয়ে সিরিজে। সে সিরিজের শেষ ম্যাচে দুই উইকেট আর একটা ঝড়ো ফিফটিতে ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন দারুণ শুরুরও। এরপর পারফর্মেন্সের গ্রাফটা আর উঁচুতে ওঠেনি। সোধি ক্যারিয়ার শেষ করেন মাত্র আঠারো ম্যাচে, ২৮০ রান আর ৫ উইকেট ঝুলিতে নিয়ে।

লক্ষ্মীরতন শুক্লা

বাংলার ডানহাতি অলরাউন্ডার লক্ষ্মীরতন শুক্লা অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলার সময়েই জাতীয় দলের নির্বাচকদের মনোযোগে আসেন। ২০০০-০১ এর দিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেকেও তিনি ভালোই পারফর্ম করেন।

পরবর্তীকালে দলে ডাক পাওয়া সত্বেও ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি। পড়ে দলে তার জায়গাও সংকটের মুখে পড়ে। একটা সময়ে বিস্মৃতই হয়ে যান তিনি। এরপরেও তিনি বাংলার হয়ে খেলা চালিয়ে গেছেন ঘরোয়াতে। শুক্লাকে আইপিএলেও দেখা গেছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে। ২০১২ সালের আইপিএল জয়ী দলের সদস্যও ছিলেন তিনি। আর এখন তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সাথেও জড়িত।

সঞ্জয় ব্যাঙ্গার

মহারাষ্ট্রে জন্ম নেয়া এ অলরাউন্ডারে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পার রাখেন ২০০১ সালের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে। ব্যাঙ্গার দলের হয়ে খেলেছেন ১২ টি টেস্টে, যার মাত্র দুটিতে হেরেছে ভারত।

ঘরোয়া ক্রিকেটে রেলওয়ের হয়ে ৭০০০ রান আর ৩০০ উইকেট বাগানো এ অলরাউন্ডারকে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের গ্রেট আখ্যা দিয়ে দেয়া যায়।  ব্যাঙ্গার ভারতের হয়ে খেলেছেন ১৫টি ওয়ানডেও।  কোনটিতেই আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পারায় দল থেকে বাদ পড়েন।

এরপর আর ডাক পাননি কখনো। আইপিএলের শুরুর দিকের কয়েক মৌসুম বেশ কয়েকটা দলের হয়ে খেলে ২০ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ব্যাঙ্গার। তবে, এখনো আছেন জাতীয় দলের সাথেই। তিনি বিরাট কোহলির দলের ব্যাটিং কোচের পদে আছেন।

- স্পোর্টসকিডা অবলম্বনে

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post