সোহান খুবই স্মার্ট ক্রিকেটার

আরিফুল ইসলাম রনি
নভেম্বর ৫, ২০১৭
 শুধু কিপিং ভাবলে তিনি বেশ আগে থেকেই দেশের সেরা।

 শুধু কিপিং ভাবলে তিনি বেশ আগে থেকেই দেশের সেরা।

সোহানকে এত পরে ব্যাটিংয়ে নামাতে দেখে অবাক হয়েছিলাম। অন্তত রস হোয়াইটলির জায়গায় তাকে নামানো উচিত ছিল।

পরিস্থিতি যা ছিল, সেটির জন্য সোহান ছিলেন আদর্শ। খুবই স্ট্রিট স্মার্ট ব্যাটসম্যান। স্পিন হোক বা পেস, স্ট্রাইক রোটেট করতে পারন সবসময়। ইম্প্রোভাইজ খুব ভালো করতে পারেন। ট্র্যাডিশনাল বড় শট তো পারেনই।

আরেকটি জায়গায় সোহানের জুড়ি নেই। ‘নার্ভ’ ভীষণ শক্ত। কখনোই খুব বিচলিত হন না। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে সাহসী ব্যাটসম্যানের তালিকা করলে একদম ওপরের দিকে থাকবে তার নাম। আজকে শেষ ওভারে যা দেখালেন, সেটি শুধু তার স্কিলের প্রদর্শনীই নয়, সেই শক্ত নার্ভের প্রমাণও। ডেথ ওভারে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও সবচেয়ে অভিজ্ঞদের একজনকে এভাবে ছাপিয়ে যাওয়া সহজ নয়।

আরেকটা বড় গুণ, অসাধারণ টিমম্যান সে। দলই তার কছে সবকিছুর আগে। আর উইকেটের পেছন থেকে মাঠ মাতিয়ে রাখে। প্রচুর কথা বলে। সবাইকে উজ্জীবিত করে। ড্রেসিং রুমেও প্রিয় চরিত্র।

ব্যাটিং পজিশনের কথা বলছিলাম। চিকি শট খেলে, ইম্প্রোভাইজ করে বলে অনেকে তাকে স্রেফ এরকম ব্যাটসম্যানই মনে করেন। অথচ মিডল অর্ডারে নামালে সে দারুণ সলিড ব্যাটিং করে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন সংস্করণের মধ্যে লঙ্গার ভার্সনেই তার রেকর্ড সবচেয়ে ভালো। এই সংস্করণে কঠিন পরিস্থিতিতে তার সেঞ্চুরি, দারুণ কিছু ইনিংস আছে। যতবার চার-পাঁচ-ছয়ে ব্যাট করেছেন, বেশির ভাগ সময়ই ভালো করেছেন।

সোহান যে এখন বাংলাদেশ দলের বাইরে আছেন, এটাও স্রেফ তার দুর্ভাগ্য। শুধু কিপিং ভাবলে তিনি বেশ আগে থেকেই দেশের সেরা। ব্যাটিংও সীমিত সুযোগে খারাপ করেননি।

মুশফিকের ইনজুরিতে একটি টেস্ট খেলতে পেরেছেন। ক্রাইস্টচার্চের কঠিন কন্ডিশনে অভিষেক ইনিংসে করেছিলেন ৪৭। দেশে ফিরে টেস্ট থেকে জায়গা হারিয়েছেন। নিউ জিল্যান্ডেই দুটি ওয়ানডে খেলেছেন। অভিষেকে আটে নেমে করেছেন ৩১ বলে ২৪। পরের ম্যাচে সাতে নেমে ৩৯ বলে ৪৪। তার পরও আর সুযোগ পাননি। টি-টোয়েন্টি তুলনায় একটু বেশি সুযোগ পেয়েছেন। তবে যথারীতি শেষ দিকে নেমে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ ছিল না বেশির ভাগ সময়ই। ৮ ইনিংসের চারটিতেই ছিলেন অপরাজিত।

এবার সোহানকে সিলেটে দেখে আশা করেছিলাম, একটু ওপরে ব্যাট করার সুযোগ পাবে। দলে যেহেতু তারকার মেলা নেই। কিন্তু সেটিও দেখছি হচ্ছে না। এত বিদেশীল ভীড়ে অবশ্য ওপরে খেলানোও কঠিন! আমাদের লিগ। অথচ আমাদের যারা বর্তমান ও ভবিষ্যত, সেই সাইফ উদ্দিন, সোহানরা সুযোগ পান আট-নয়ে। প্লাঙ্কেটদেরও পরে।

সিলেট দলটির স্পিরিটেড পারফরম্যান্স ভালো লাগছে। নাসিরের অধিনায়কত্ব একটি আনন্দময় বিস্ময়।

ক্রিকেটীয় দিক থেকে বললে অবশ্য টস জয়টা দুই দিনই সিলেটকে এগিয়ে দিয়েছে। দুই দিনই নতুন উইকেটে খেলা হয়েছে। দুই দিনই শুরুতে উইকেট ছিল বেশ মন্থর। একটু গ্রিপ করেছে। সিলেটের স্পিনাররা, মিডিয়াম পেসাররা তা কাজে লাগিয়েছে দারুণ ভাবে। প্রতিপক্ষ শুরুতে দ্রুত রান করতে না পেরে প্যানিকড হয়ে উইকেট দিয়ে এসেছে। উচিত ছিল উইকেট ধরে রেখে শেষ ৬-৭ ওভারের জন্য অপেক্ষা করা। ঢাকা-কুমিল্লা,দুই দলই ভুল করেছে। পরে সময়ের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়েছে উইকেট। সিলেটের ব্যাটসম্যানরা সেখানে ভালো করেছে।

অবশ্যই টস জয়ই সবকিছু নয়। প্ল্যান দারুণ ভাবে এক্সিকিউট করাও বড় ব্যাপার। সিলেট সেটি পেরেছে এখনও পর্যন্ত।

মাঝারি মানের দলগুলির একটা সমস্যা হয়ে যায়, দু-তিনটি ম্যাচ হারলে। টিম স্পিরিটই তাদের মূল সম্বল। টানা দু-তিনটি ম্যাচ হারলে সেই জায়গাটায় চোট লাগে।

আশা করি সিলেটের এই স্পিরিট টিকে থাকবে। হিসেবের বাইরে থাকা একটি দল হিসেবে গোলমাল পাকালে টুর্নামেন্টও জমে ওঠে দারুণ!

- ফেসবুক থেকে

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post