বিপিএলের স্মরণীয়-নিন্দনীয় ১০ কাণ্ড

উদয় সিনা
নভেম্বর ৩, ২০১৭
অজস্র বিতর্ক, অসংখ্য অতিমানবীয় কীর্তির ইতিহাস আছে এই বিপিএলে। অজস্র বিতর্ক, অসংখ্য অতিমানবীয় কীর্তির ইতিহাস আছে এই বিপিএলে।

ক্রিকেট মূলত একটি ঘটনাবহুল খেলা। আর একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট মানেই কতশত ঘটনার ছড়াছড়ি।  ক্রিকেট খেলায় কেউ ব্যাট হাতে কেউবা বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে স্মরণীয় ঘটনার জন্ম দিয়ে থাকেন। আবার কেউ কেউ অপেশাদারি আচরণের মাধ্যমে বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়ে সকলের নিকট বাজেভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকেন। এমন অনেক স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)।

আর মাত্র কয়েকঘন্টার অপেক্ষা, সিলেটে বসতে যাচ্ছে বিপিএলের পঞ্চম আসর। এর আগে ২০১২, ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে জাঁকজমকভাবে বিপিএলের চারটি আসর অনুষ্ঠিত হয়। গত চার আসরের প্রত্যেকটিরই রয়েছে আবার নানা স্মরণীয় ঘটনা। মাঠ এবং মাঠের বাইরের সেইসব স্মরণীয় ঘটনা থেকে বাছাইকৃত ১০টি ঘটনা আজ তুলে ধরছি আপনাদের সামনে

গেইল ঝড়ে শুরু বিপিএলের পথচলা

রানের খেলা টি-টোয়েন্টিতে চার-ছয়ের ফুলঝুড়িতে একটি উপভোগ্য ম্যাচ দেখার প্রত্যাশা নিয়েই সাধারণত মাঠে আসেন ক্রিকেটপ্রাণ দর্শকগণ। ২০১২ সালে আয়োজিত বিপিএলের প্রথম আসরের উদ্ভোধনী ম্যাচেই মাঠের দর্শকদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করেন এই সংস্করণের সবচেয়ে মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল। বরিশাল বার্নার্সের জার্সি গায়ে সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে সে ম্যাচে ৭ চার ও ১০ ছক্কায় মাত্র ৪৪ বলে অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি যেখানে তাঁর অভাবনীয় স্ট্রাইকরেটটি ছিলো ২২৯.৫৪! মাত্র ৪৪ বলে সেঞ্চুরি করে বিপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরি করার রেকর্ডের তালিকায় এখনো সবার উপরে অবস্থান করছেন ক্রিস গেইল। তাঁর এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সেদিন কোন উইকেট না হারিয়ে মাত্র ১৩.১ ওভারে ১৬৬ রানের লক্ষ্যমাত্রায় খুব সহজেই পৌঁছে যায় বরিশাল বার্নার্স।

বিতর্কে বিপিএল কর্তৃপক্ষ

গ্রুপ পর্বে ৯ ম্যাচ খেলে বরিশাল বার্নার্সের পয়েন্ট ৮! সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে চিটাগং কিংসের পয়েন্ট ১০! তখনও এই দুই দলের কোনটিরই শেষ চার নিশ্চিত হয়নি। ২০১২ বিপিএলের সেমিতে উঠার লক্ষ্যে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় এই দুটি দল। ম্যাচটি চিটাগং কিংস জিতলে সরাসরি চলে যাবে সেমিফাইনালে কিন্তু বরিশাল বার্নার্স জিতলে অন্য হিসেব নিকেশ করা হবে। দু'দলেরই বাঁচা মরার লড়াইয়ে আগে ব্যাট করে ১৫০ রান বোর্ডে জমা করে চিটাগং। তখন বিপিএল কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয় ১৬ ওভারের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা টপকাতে পারলে নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে বরিশাল চলে যাবে সেমিতে। হলোও তাই। দুই ওপেনার আহমেদ শেহজাদের ৩০ বলে ৪৩ ও ব্র্যাড হজের ৩৬ বলে ৬৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে ১৫ ওভারেই ম্যাচটি জিতে নেয় বরিশাল। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে দু'দলেরই পয়েন্ট গিয়ে দাঁড়ায় ১০ এ! কিন্তু নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় শেষ চারের জন্য নির্বাচিত হয় বরিশাল বার্নার্স। গ্রুপপর্ব শেষে তাদের নেট রান রেট ০.১৭৮ যেখানে চিটাগংয়ের নেট রান রেট ০.০৭৮!

তবে ম্যাচের পরেরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা বেলায় ভোজবাজির মত পাল্টে যায় সবকিছু। বরিশাল বার্নার্স নেট রান রেটে এগিয়ে থাকলেও নিজেদের ভুল স্বীকার করে চিটাগং কিংস সেমিফাইনালের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। এখন প্রশ্ন হলো তাদের ভুলটা কোথায় ছিল? টুর্নামেন্টের বাইলজের ২১.৮ এর ২ নাম্বার ধারায় উল্লেখ ছিল যদি তিন বা ততোধিক দলের  পয়েন্ট সংখ্যা ও ম্যাচ জয়ের সংখ্যা সমান হয় তাহলে তাদের নিজেদের মধ্যকার ম্যাচগুলোতে যে দল যত বেশি জয় পেয়ে থাকবে সে দলই সবার ওপরে থাকবে। যদি সেক্ষেত্রে তিন দলেরই নিজেদের মুখোমুখি ম্যাচগুলোতে জয়ের সংখ্যা সমান থাকে তবেই কেবল নেট রান রেট হিসেব করা হবে।

বিপিএল ২০১২ এর গ্রুপপর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের দিকে তাকালে দেখা যায় দুরন্ত রাজশাহী ও খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস ১২ ও ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলে। তৃতীয় ও চতুর্থ দল হিসেবে সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে টিকে থাকে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস, বরিশাল বার্নার্স ও চিটাগং কিংস। এই তিন দলেরই পয়েন্ট সংখ্যা ১০! আর তিনদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ের হিসাব করলে দেখা যায় ঢাকার জয় ৩টি, চিটাগংয়ের ২টি ও বরিশালের ১টি। তাই বাইলজ অনুযায়ী ঢাকা ও চিটাগং সেমিফাইনালের জন্য নির্বাচিত হয়। বাইলজ না পড়েই নেট রান রেট দেখে সেমির জন্য দল নির্বাচিত করার ঘোষণা দেয়ায় পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।

তবে নাটক এখানেই শেষ নয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আবারো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বরিশালকে সেমির টিকেট দেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। টুর্নামেন্টের বাইলজের ধারা-উপধারা পুনরায় খতিয়ে দেখে সবশেষে বরিশালকেই সেমিফাইনাল খেলার জন্য নির্বাচিত করেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে সেসময় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা জানান তিন দলের খেলায় ঢাকা বরিশালকে দুইবার ও চিটাগংকে একবার হারিয়েছে তাই তাদের সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত। অন্যদিকে বরিশাল, চিটাগং তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ে সমান একটি করে জয় পেয়েছে। সেক্ষেত্রে তাদের নেট রান রেট হিসেব করেন তাঁরা। নেট রান রেটে চিটাগংয়ের চেয়ে এগিয়ে থাকায় বরিশালকে সেমিফাইনালের চতুর্থ দল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে সেমিফাইনালে তৃতীয় ও চতুর্থ দল নির্বাচিত করার প্রক্রিয়া বেশ ধোঁয়াসা সৃষ্টি করেছে সবার মধ্যে। আর  বাইলজের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে জনমনে ধোঁয়াসা সৃষ্টি করার জন্য পুনরায় দুঃখ প্রকাশ করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে নাফিসের সেঞ্চুরি

আগের আসরে সেমিফাইনাল পর্যন্ত গেলেও  খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস বিপিএলের দ্বিতীয় আসর শুরু করে অত্যন্ত বাজেভাবে। ২০১৩ বিপিএলে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ গ্রহণ করা খুলনা প্রথম জয়ের দেখা পায় চতুর্থ ম্যাচে এসে। শাহরিয়ার নাফিসের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ঐ ম্যাচে দুরন্ত রাজশাহীর বিপক্ষে ৬৮ রানের বড় জয় পায় তাঁরা। ম্যাচে ৬৯ বল খেলে ১২টি চার ও ২টি ছয়ে ১০২ রানের ইনিংস খেলে বিপিএলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি টি-২০ সংস্করণে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান বনে যান তিনি (পূর্বে অলক কাপালি আইসিএলে সেঞ্চুরি করলেও 'নিষিদ্ধ লিগ' হওয়ায় তা পরিসংখ্যানে জায়গা পায়নি)।

নাফিসের ব্যাটে ভর করে প্রথম ইনিংসে কোন উইকেট না হারিয়ে ১৯৭ রানের বিশাল পুঁজি পায় খুলনা। এটিই ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোন উইকেট না হারিয়ে ইনিংস সমাপ্ত করার সর্বপ্রথম ঘটনা। তাছাড়া শাহরিয়ার নাফিস ও লু ভিনসেন্টের এই অবিচ্ছিন্ন ১৯৭ রানের জুটিটি টি-২০ ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি হিসেবে এখনো বিবেচিত।

হট ফেবারিটদের একটি বাজে হার ও নেপথ্যে ফিক্সিং কাণ্ড

চ্যাম্পিয়ন দলের মত ২০১৩ সালে বিপিএলের দ্বিতীয় আসর শুরু করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। আসরে নিজেদের প্রথম ৬ ম্যাচের ৫ টিতেই জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছিল তাঁরা। কিন্তু বিপত্তিটা বাধে সপ্তম ম্যাচে এসে। চিটাগং কিংসের বিপক্ষে এ ম্যাচে তাদেরকে হারতে হয় ৫৪ রানে। প্রথমে ব্যাট করে চিটাগংয়ের ছুঁড়ে দেয়া ১৪৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা খুব বেশি কঠিন ছিল না ঢাকার জন্য। কিন্তু ১৪৩ রান তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১২ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তাঁরা। মাত্র ৪৩ রানের মাথায় ঢাকার ৭ জন ব্যাটসম্যান ফিরে যান সাজঘরে। ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিলের মধ্যে অন্য প্রান্তে উইকেটে পড়ে থেকে টেস্ট মেজাজে ব্যাট করতে থাকা আশরাফুল দলীয় ৭২ রানের মাথায় ৪৮ বলে ৩৩ রানের শম্বুক গতির ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে গেলে ঢাকার আশার শেষ প্রদীপটাও নিভে যায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রানে থামে তাদের ইনিংস।

পরবর্তীতে এ ম্যাচ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে গণমাধ্যমে। ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার না খেলা, ব্যাটিংয়ের শুরুতেই ঢাকার ব্যাটসম্যানদের একের পর এক উইকেট বিলিয়ে দেয়া, পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে মাত্র ১৫ রান সংগ্রহ করা, ড্যারেন স্টিভেন্সের অদ্ভুতুড়ে রানআউট, আশরাফুলের স্বভাববিরুদ্ধ ৪৮ বলে ৩৩ রানের কচ্ছপগতির ইনিংস ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সম্ভাবনার উদ্রেক ঘটায়। এসব ঘটনা তদন্তের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিটকে (আকসু) বাংলাদেশে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁরা সন্দেহ করেন  ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মোহাম্মদ আশরাফুলকে। ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে আশরাফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সব অকপটে স্বীকার করে দেন এবং সব ঘটনা খুলে বলেন আকসুকে। আকসুর কাছে দেয়া আশরাফুলের স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার সন্দেহের তালিকায় যোগ হয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরী ও তাঁর ছেলে শিহাব জিসান চৌধুরী, দলের কোচ ইয়ান পন্ট, ইংলিশ অলরাউন্ডার ড্যারেন স্টিভেন্স, লঙ্কান অলরাউন্ডার কৌশল লুকুয়ারাচ্চি এবং বাংলাদেশি দুই বোলার মোশাররফ হোসেন রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিনের নাম। তাছাড়া আশরাফুলের দেয়া স্বীকারোক্তির মাধ্যমে জানা যায় চিটাগংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের পাশাপাশি এর আগে খুলনা এবং বরিশালের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে স্পট ফিক্সিং করে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। আর দলের সকল ফিক্সিং কেলেঙ্কারির ইন্ধনদাতা ছিলেন গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরী ও তাঁর ছেলে শিহাব জিসান চৌধুরী।  

ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সরাসরি জড়িত থাকায় ২০১৩ সালের ১৮ই জুন মোহাম্মদ আশরাফুলকে তিন বছরের স্থগিতসহ আট বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তাছাড়া ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের স্বত্বাধিকারী সেলিম চৌধুরীকে দশ বছর, গ্ল্যাডিয়েটর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিহাব জিসান চৌধুরীকে ১০ বছর ও লঙ্কান কৌশল লুকুয়ারাচ্চিকে আড়াই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকান্ড থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। তারপর ২০১৩ সালের জুলাই মাসে শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেন এদের প্রত্যেকেই। আপিলের পর সেলিম চৌধুরী ও শিহাব জিসান চৌধুরীর শাস্তি বহাল থাকলেও কমেছে আশরাফুল ও লুকুয়ারাচ্চির শাস্তি। আশরাফুলের আট বছরের নিষেধাজ্ঞা কমে দাঁড়ায় পাঁচ বছরে যার দুই বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ সবমিলিয়ে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা। আর লুকুয়ারাচ্চির আড়াই বছরের নিষেধাজ্ঞা কমে দাঁড়ায় এক বছরে। আকসুর তদন্ত শেষে ঢাকার কোচ ইয়ান পন্ট, ড্যারেন স্টিভেন্স, মোশারফ হোসেন রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিন নির্দোষ প্রমাণিত হন।

ফিক্সিং কাণ্ড ও খেলোয়াড়দের বকেয়া পরিশোধে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের গড়িমসির কারণে ২০১৩ সালের দ্বিতীয় আসরের পর ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ।

গ্ল্যাডিয়েটর্স ও সাকিব-মাশরাফির ‘ব্যাক টু ব্যাক’

বিপিএলের প্রথম দুই আসরে ব্যাক টু ব্যাক চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। শক্তিমত্তার দিক দিয়ে এই দুই আসরেই অন্যান্য দলের চেয়ে এগিয়ে ছিল ঢাকা।  প্রথম আসরের গ্রুপপর্বে মাঠের খেলায় তাদেরকে তেমন খুঁজে পাওয়া না গেলেও সেমিফাইনাল ও ফাইনালে এক অন্য ঢাকাকে দেখতে পায় সবাই। গ্রুপপর্বে যেই খুলনার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ হেরেছিল ঢাকা সেই খুলনাকে সেমিফাইনালে ৯ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় তাঁরা। ফাইনালে বরিশাল বার্নার্সের বিপক্ষে ৮ উইকেটের সহজ জয়ে বিপিএলের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস।

বিপিএলের দ্বিতীয় আসরেও অব্যাহত থাকে ঢাকার এই জয়যাত্রা। গ্রপপর্বে ১২ ম্যাচে ৯ জয়ে সবার আগে প্লে-অফ নিশ্চিত করে তাঁরা। প্লে-অফে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সিলেটকে ৪ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মত বিপিএলের ফাইনালে পৌঁছে যায় মাশরাফি বিন মুর্তজার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। প্রথম আসরের মত বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের ফাইনালেও সহজ জয় পায় ঢাকা। চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ৪৩ রানের জয় তুলে নিয়ে বিপিএলে ব্যাক টু ব্যাক শিরোপা জিতে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স।

বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ঢাকার শিরোপা জেতার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। বিপিএলের প্রথম আসরে ব্যাট-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি হয়েছিলেন টুর্নামেন্টসেরা। সেবার তিনি খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের হয়ে ১১ ম্যাচ খেলে ৪০ গড়ে করেন ২৮০ রান ও উইকেট তুলে নেন ১৫টি। তাঁর এই পারফরম্যান্সের ধারা বজায় থাকে ২০১৩ সালে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরেও। ওই আসরের চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের জার্সে গায়ে ব্যাট হাতে ১২ ম্যাচে ৩২.৯০ গড়ে ৩২৯ রান করার পাশাপাশি বল হাতে সমানসংখ্যক ম্যাচে নিজের ঝুলিতে পুরেন ১৫টি উইকেট। পুরো আসরজুড়ে  এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ব্যাক টু ব্যাক টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান। ব্যাক টু ব্যাক শিরোপা জয় করেন অধিনায়ক মাশরাফি।

বিতর্কিত ম্যাচের রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তি

পূর্বের সকল বিতর্ককে পেছনে ফেলে আড়াই বছরের বিরতি দিয়ে ২০১৫ সালে পুনরায় মাঠে গড়ায় বিপিএল। তবে সেবারও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি টুর্নামেন্টটির। বিপিএলের তৃতীয় আসরের দ্বিতীয় দিনই মিরপুর শের এ বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দলের মাঝে বাধে বিশৃঙ্খলা। এদিন চিটাগং ভাইকিংস ও সিলেট সুপারস্টার্সের মধ্যকার ম্যাচটি মাঠে গড়ায় নির্ধারিত সময়ের ৭০ মিনিট পর। এর মধ্যে মাঠের বাইরে ঘটে যায় কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা।

ম্যাচের দিন দুপুর দেড়টায় টস হবার কথা থাকলেও ২৬ মিনিট বিলম্বে টস করা হয়। তিনজন ইংলিশ ক্রিকেটার রবি বোপারা, ওয়াইজ শাহ ও জশুয়া কবের অনাপত্তিপত্র সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি জমা দিতে না পারায় মূলত টস দিতে দেরি হয়। তারপর টসের সময় সিলেটের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দেয়া খেলোয়াড় তালিকায় বিপিএলের নিয়ম বহির্ভূত মাত্র দুইজন বিদেশি ক্রিকেটারের নাম পাওয়া যায়। তাঁরা হলেন শ্রীলঙ্কার দিলশান মুনাবিরা ও জীবন মেন্ডিস। অবাক করার বিষয় হলো ম্যাচ শুরুর পর এই দুইজনের সাথে রবি বোপারা ও জশুয়া কবকে বরিশালের জার্সি গায়ে মাঠে দেখা যায় অথচ তাদের নামই ছিল না টসের সময় দেয়া সিলেটের খেলোয়াড় তালিকায়। উইকেটে ব্যাট করতে নেমে এসব দেখে সরাসরি মাঠ ছাড়েন দুই ভাইকিংস ওপেনার তামিম ইকবাল ও তিলাকরত্নে দিলশান। ফলে পরিস্থিতি আরো বেশি খারাপের দিকে এগোতে থাকে। একপর্যায়ে মাঠের বাইরে  সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্ণধার অজিজুল ইসলাম ও তামিম ইকবালের মধ্যে বেধে যায় ঝগড়া। তামিমকে উদ্দেশ্য করে আজিজুল ইসলাম আপত্তিকর কিছু বলতেই চটে যান তিনি। তাঁর সাথে কিছুক্ষণ বাকবিতন্ডার পর ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাজঘরে ফিরে যান তামিম। পরে অবশ্য পরিস্থিতি শান্ত হয় সিলেট সুপারস্টার্স একাদশে বোপারা ও কবকে না রাখার সিদ্ধান্ত নিলে।

২ টার ম্যাচ ৭০ মিনিট বিলম্বে মাঠে গড়ায়  ৩.১০ এ। মাঠের বাইরের নানা বিতর্কে যেখানে ম্যাচটিই বাদ হতে চলছিলো সে ম্যাচটিই কিনা পরবর্তীতে টুর্নামেন্টের সেরা ম্যাচগুলোর একটি হয়ে ওঠে। উত্তেজনার বারুদ ঠাসা সে ম্যাচে সিলেট সুপারস্টার্সকে ১ রানে পরাজিত করে চিটাগং ভাইকিংস। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তামিমের ৪৫ বলে ৬৯ ও ইয়াসির আলির ৫২ বলে ৬৩ রানের ওপর ভর করে ১৮০ রানের সংগ্রহ পায় ভাইকিংস। জবাবে ওপেনিংয়ে মুনাবিরার ৩০ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে ভালো শুরু পায় সিলেট। পাওয়ারপ্লেতে তাঁরা বোর্ডে জমা করে ৬৫ রান।  দলীয় ৬৬ রানে ঘটে প্রথম উইকেটের পতন। জুনায়েদ সিদ্দিকী আউট হবার ১০ রানের মাথায় আরো দুটি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় সিলেট। তখন দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নুরুল হাসান সোহান। দু'জনে মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৫৫ রান। তারপর শেষ ওভারে সিলেটের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৯ রান। মোহাম্মদ আমিরের প্রথম বলে মুশি সিঙ্গেল নিলে পরের দুই বলে সম্পূর্ণ পরাস্ত হন জীবন মেন্ডিস। চতুর্থ বলে তিনি সিঙ্গেল নিয়ে মুশফিককে স্ট্রাইকে ফিরিয়ে আনলে পঞ্চম বলে বাউন্ডারি হাকান তিনি। শেষ বলে জয়ের জন্য সিলেটের দরকার পড়ে ৩ রান। আফস্ট্যাম্পের বাইরে আমিমের ফুলার লেন্থের ডেলিভারি মুশফিক কাভার ড্রাইভ করলে তা সরাসরি চলে যায় ৩০ গজ বৃত্তে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডারের হাতে। ততক্ষণে  দৌঁড়ে ১ রান নিলে ম্যাচটি ১ রানে হেরে যায় সিলেট সুপারস্টার্স।

আল-আমিন হোসেনের হ্যাটট্রিক ও সিলেটের পোড়া কপাল

নিজের কোটার দ্বিতীয় ও ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে কট বিহাইন্ডের ফাঁদে ফেলে রবি বোপারাকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন আল-আমিন। পরের দুই বলে তাঁর দু'টি ইনসুইংগারে মাঠে লুটোপুটি খায় নুরুল হাসান সোহান ও মুশফিকুর রহিমের স্ট্যাম্প। ব্যস হয়ে গেল হ্যাটট্রিক। প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিপিএলে হ্যাটট্রিক করে ফেলেন আল-আমিন হোসেন। আর আল-আমিনের এই হ্যাটট্রিকেই মাত্র ১০৮ রানের পুঁজি নিয়ে সিলেট সুপারস্টার্সের বিপক্ষে ২০১৫ বিপিএলের ষষ্ঠ ম্যাচ জমিয়ে তোলে বরিশাল বুলস। শুধু হ্যাটট্রিক করেই ক্ষান্ত হননি আল-আমিন। প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিপিএলে পাঁচ উইকেট তুলে নেয়ার কীর্তিও এ ম্যাচেই গড়ে ফেলেন তিনি। আর তাতেই কপাল পুড়ে সিলেটের। ৪ ওভারের স্পেলে ৩৬ রানের বিনিময়ে আল-আমিন ৫ উইকেট পেলে সিলেট ম্যাচটি হেরে যায় মাত্র ১ রানে। এর ফলে বিপিএলের তৃতীয় আসরে চিটাগং ও বরিশালের বিপক্ষে টানা দুটি ম্যাচে ১ রানের হারের দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয় সিলেট সুপারস্টার্সকে। বল হাতে ম্যাচের নায়ক আল-আমিন হোসেনের হাতেই ওঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার। বোলিংয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করে দলকে জয় উপহার দিলেও ব্যাটিংয়ের সময় মোহাম্মদ শহিদের বলে বোল্ড হয়ে মাঠে অপেশাদার আচরণ করে এ ম্যাচে কিছুটা বিতর্কিত বনে যান আল-আমিন।

শহিদও ছেড়ে দেবার পাত্র নন তাই সাথেসাথেই বিবাদে জড়িয়ে যান তাঁর সঙ্গে। এর ফলে আল-আমিনকে ৪০ হাজার এবং শহিদকে ৩০ হাজার টাকার জরিমানাও গুণতে হয়।

মাশরাফির ‘হ্যাটট্রিক’

মাশরাফি বিন মুর্তজা বল হাতে বিপিএলে কবে হ্যাটট্রিক করলেন তাই কী ভাবছেন? না, বোলার হিসেবে মাশরাফি বিপিএলে এখন পর্যন্ত কোন হ্যাটট্রিক করতে পারেননি। তবে তিনি হ্যাটট্রিক করেছেন অধিনায়ক হিসেবে। বিপিএলের প্রথম তিন আসরেই অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জিতে এই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ২০১২ ও ২০১৩ সালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ও ২০১৫ সালে কুমিল্লা  ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে টানা তিনটি শিরোপা জিতে বিরল এই কীর্তির মালিক হয়ে যান মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাঁর নেতৃত্বে ২০১২ বিপিএলের ফাইনালে বরিশাল বার্নার্সকে ৯ উইকেটে ও ২০১৩ বিপিএলের ফাইনালে চিটাগং কিংসকে ৪৩ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। আর ২০১৫ বিপিএলের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স তাঁর নেতৃত্বেই বরিশাল বুলসকে ৩ উইকেটে হারালে অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জেতার হ্যাটট্রিক হয়ে যায় ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর।

ডায়নামাইটস সমর্থকদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি

ক্রিকেট মাঠে নিরাপত্তা নিয়ে বরাবরই সচেতন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা দেয়ারও ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে বিসিবির। এমনকি এই নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও ২০১৫ বিপিএলের কোন ম্যাচ আয়োজন করেনি বিসিবি। অথচ বিপিএলের সে আসরের প্রথম দিনেই বিসিবির নিরাপত্তা 'পদদলিত' হয় শের এ বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রাঙ্গনে। বিপিএলের তৃতীয় আসরের প্রথম দিন 'ঢাকা' 'ঢাকা' রবে মিছিল করে স্টেডিয়ামের দুই নাম্বার গেট দিয়ে প্রবেশ করে হাজার দেড়েক মানুষ। সেদিন ছিল ঢাকা ডায়নামাইটসের খেলা এবং এই বিশাল জনগোষ্ঠী যে ঢাকা ডায়নামাইটসেরই সমর্থক তা নিয়ে নিশ্চয়ই সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। কোন টিকেট বা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ছাড়াই তাঁরা স্টেডিয়াম চত্ত্বরে ঢুকে পড়েন এবং এই বিশাল জনস্রোতে পদপিষ্ট হন বেশকয়েকজন। সেইসাথে পদপিষ্ট হয় বিসিবির নিশ্চিত করা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।

‘বোলার’ মাহমুদউল্লাহর কারিশমা

২০১৬ বিপিএলের তৃতীয় ম্যাচ। মুখোমুখি লড়াইয়ে রাজশাহী কিংস ও খুলনা টাইটান্স। রাজশাহীর সামনে লক্ষ্যমাত্রা ১৩৪ রানের। খেলা গড়ায় শেষ ওভারে। শেষ ৬ বলে তাদের দরকার ৭ রান, হাতে উইকেট আছে ৩টি। বল হাতে এগিয়ে আসলেন খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ক্রিকেটের যেকোন সংস্করণেই শেষ ওভারে কোন স্পিনারকে মোকাবেলা করে ৭ রান তোলা খুব একটা কঠিন কাজ না। কিন্তু মাহমুদুল্লাহর স্পিন ঘূর্ণিতে এই ৭ রান নেওয়াই খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায় রাজশাহীর ব্যাটসম্যানদের জন্য।

শেষ ওভারের শুরুর দুই বলে তিন রান নেওয়ার পরপরই ধস নামে রাজশাহীর ব্যাটিংয়ে। শেষ ৪ বলে যখন ৪ রান নেয়ার সহজ সমীকরণ তাদের সামনে ঠিক তখনই বল হাতে জ্বলে উঠেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শেষ ৪ বলে ৪ রান নেয়া তো দূরের কথা উল্টো কোন রান নেওয়ার আগেই শেষ ৩ উইকেট খুইয়ে বসে রাজশাহী কিংস। শেষ ৪ বলের প্রথম ২ বলে আবুল হাসান ও মোহাম্মদ সামিকে সাজঘরে পাঠান রিয়াদ। পরের বলে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ মিস করলেও চতুর্থ বলে নাজমুল ইসলাম অপুকে বোল্ড করার মাধ্যমে ম্যাচে খুলনার ৩ রানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ২ ওভার বল করে ৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে তিনিই হন ম্যাচসেরা।

বল হাতে মাহমুদউল্লাহর এই পারফরম্যান্স যে ফ্লুক বা ঝড়ে বক মরার মত ছিল না তা তিনি এক ম্যাচ পর আরেকবার প্রমাণ করেন। টুর্নামেন্টে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসকে ৪ রানে হারানোর নেপথ্যে আবারো সেই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তবে এবার চিটাগংয়ের টার্গেটটা ছিল রাজশাহীর তুলনায় বেশ সহজ। ১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে জয়ের জন্য তাদের দরকার ছিল ৬ রান, হাতে ছিল ৪টি উইকেট। উইকেটে মোহাম্মদ নবী ও চতুরঙ্গ ডি সিলভা থিতু অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও অবিশ্বাস্যভাবে এ ম্যাচে চিটাগংকে হারতে হয় ৪ রানে। শেষ ওভারে তাঁরা তুলতে পারে মাত্র ১ রান এবং সেটি প্রথম বলে। দ্বিতীয় বলে কট বিহাইন্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান সিলভা। তৃতীয় বল ডট। চতুর্থ বলে আবারো উইকেট। কোন রান না করেই এবার প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন আব্দুর রাজ্জাক। পঞ্চম বলে স্ট্রাইকে মোহাম্মদ নবী। অফস্ট্যাম্পে রিয়াদের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে সম্পূর্ণ পরাস্ত তিনি। জিততে হলে শেষ বলে চিটাগংয়ের দরকার ৫ রান। ঠিক তখনই নবীকে আউট করে চিটাগংয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন রিয়াদ। ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে এ ম্যাচেরও ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন তিনি। পুরো আসরজুড়েই অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও নিজের করে নেন খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post