স্মরণীয় সূচনার অপেক্ষায় আন্ডারডগ সিক্সার্স

উদয় সিনা
অক্টোবর ২৯, ২০১৭
প্রত্যাশার চাপ মেটাতে পারবে সিলেট সিক্সার্স? প্রত্যাশার চাপ মেটাতে পারবে সিলেট সিক্সার্স?

এমনিতে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজনের সুযোগ না পাওয়ায়  সিলেটবাসীদের ক্ষোভের অন্ত নেই। পরবর্তীতে সেই ক্ষোভকে ছাপিয়ে তাদের ভেতর দিয়ে দুঃখের নদী বয়ে যায় বিপিএলের গত আসরে সিলেটের কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশ না নিলে। নানা কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া বিপিএলের তৃতীয় আসরে  নতুন নামে নতুন মালিকের অধীনে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশ নিয়ে তেমন কিছু করে দেখাতে পারেনি।

১০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩টিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলে ৫ নাম্বারে থেকে আসর শেষ করে সিলেট সুপারস্টার্স। দল হিসেবে মাঠে যেমন বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সিলেট সুপার স্টার্সকে তেমনি সময়টা একদমই ভালো কাটেনি দলের কর্ণধার অজিজুল ইসলামের। বিপিএলের তৃতীয়  আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচের দিন চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক তামিম ইকবালের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হয় তাকে। সেইসাথে সময়মত বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তী আসরে আর অংশ নিতে পারেনি তাঁর দল।

একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টে নিজ দলের খেলা মাঠে বসে উপভোগ করার ইচ্ছা প্রতিটি সমর্থকেরই থাকে। অন্যান্য দেশে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ আয়োজন করায়  সমর্থকদের সে চাহিদা পূরণ হলেও মানসম্পন্ন স্টেডিয়ামের অপ্রতুলতা ও খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার অপারগতায় আমাদের দেশে তা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। এর ব্যতিক্রমও অবশ্য রয়েছে।

যেমন সিলেটের কথাই ধরা যাক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বিপিএলের কোন ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ পায়নি ভেন্যুটি। ২০১৪ সালে নবনির্মিত সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বসে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্ব আসর। টুর্নামেন্টে পুরুষদের ৬টি ও নারীদের ২৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় সেখানে। তাই ২০১৫ সালের বিপিএলে ভেন্যু হিসেবে সিলেটের নাম যুক্ত হওয়াটা ছিল সময়ের ব্যাপার। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সে সম্ভবনা একেবারেই উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থাকার পরও নিজ দলের খেলা নিজেদের মাঠে বসে দেখতে না পারা সিলেটবাসীর দুঃখটা তাই কোন দিক দিয়ে কম নয়। তবে এবার তাদের সে দুঃখ দূর হতে যাচ্ছে। কারণ এবারই প্রথমবারের মত ঢাকা, চট্টগ্রামের পাশাপাশি সিলেটে বসতে যাচ্ছে বিপিএল। বিপিএলের এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচসহ মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

তাছাড়া এক বছর বিরতি দিয়ে আবারো বিপিএলে অংশ নিতে যাচ্ছে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি। তাই নিজেদের মাঠে বসে প্রিয় দলের খেলা সরাসরি দেখার হাতছানি এখন সিলেটবাসীর সামনে। তথ্যমন্ত্রি আবুল মাল আব্দুল মুহিতের তত্ত্বাবধানে নতুন মালিকানায় সিলেট সিক্সার্স নামে বিপিএলে অংশগ্রহণ করবে তাদের দলটি।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় বিপিএলের সফল দলগুলোর মধ্যে সিলেটের নাম কখনোই আসে না। এখন পর্যন্ত অংশ নেয়া ৩টি আসরের ২টিতেই তাঁরা প্রথম পর্বের বাধা উতরাতে পারেনি। বলার মত পারফরম্যান্স তাদেরকে করতে দেখা যায় ২০১৩ সালে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে যেখানে তাঁরা প্লেঅফ পর্যন্ত যায়। বছর ঘুরে আবারো দুয়ারে বিপিএল। আর এবারই প্রথমবারের মত ঘরের মাঠে বিপিএল খেলতে নামছে সিলেট। তাই অন্যান্যবারের তুলনায় এবার সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপটা স্বাভাবিকভাবে একটু বেশিই থাকবে তাদের ওপর। এখন প্রশ্ন হলো তাঁরা কতটুকু প্রস্তুত সমর্থকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী মাঠে পারফর্ম করতে?

মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগে কাগজেকলমের লড়াইয়ে অন্যান্য দলগুলোর চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে সিলেট সিক্সার্স। অন্যান্য দল যেখানে নামিদামি দেশি বিদেশিদের সমন্বয়ে দল ভারী করেছে সেখানে সিলেট সিক্সার্স দলে তারকা ক্রিকেটারের সংখ্যাটা খুবই কম। দলে খুব বড় তারকা না থাকলেও খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় সিলেট সিক্সার্সকে আবার আলোচনায় বাইরে রাখারও কোন সুযোগ নেই।

দল গুছানোর কাজে সবার পরে হাত লাগানো সিলেট সিক্সার্স  ইতোমধ্যে বাকি দলগুলোর মত নিজেদের গুছিয়ে অনুশীলনে নেমে গেছে।

১১ জন দেশি ও ১৫ জন বিদেশি ক্রিকেটারকে নিয়ে দল গড়েছে সিলেট যাদের মধ্যে ১০ জন ব্যাটসম্যান, ১০ জন বোলার ও ৬ জন অলরাউন্ডার।

ব্যাটিংয়ে তাদের সবচেয়ে বড় নাম পাকিস্তানের বাবর আজম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত এই ২৩ বছর বয়সী তরুণ। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই নাম্বার থ্রি ব্যাটসম্যান সবশেষ ৪ ওয়ানডের মধ্যে ২টি শতক ও ১টি অর্ধশতক পেয়েছেন। পাকিস্তান সুপার লিগের সবশেষ আসরে করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯১ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও ছুটেছে তাঁর রানের ক্যারাভান। পাকিস্তানের জার্সি গায়ে ইতোমধ্যে ১২ ম্যাচ খেলে ৪৮ গড়ে তিনি সংগ্রহ করেছেন ৪৩৩ রান (২৮.১০.১৭ এর আগ পর্যন্ত)। তাই ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে তিন নাম্বার পজিশনে তাঁর ওপরেই ভরসা থাকবে টিম ম্যানেজমেন্টের।

সেক্ষেত্রে তাদের একটি মধুর সমস্যায় পড়তে হবে। কারণ দলের আইকন ক্রিকেটার সাব্বির রহমানও এই সংস্করণে তিন নাম্বারে খেলে অভ্যস্ত এবং এই পজিশনে তাঁর ব্যাটিং রেকর্ডও বেশ ভালো। টি-টোয়েন্টিতে জাতীয় দলে ৩ নাম্বারে ব্যাটিং করে ২৪ ম্যাচ খেলে তিনি এখন পর্যন্ত করেছেন ৬২১ রান। সাব্বিরের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৮০ রানের ইনিংটিও এসেছে এই ৩ নাম্বারে ব্যাটিং করেই। তাছাড়া গত বিপিএলের পুরো আসরজুড়ে এই পজিশনে ব্যাট করে সর্বমোট ৩৭৭ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তৃতীয় হয়েছিলেন তিনি। সেখানে  বরিশালের বিপক্ষে একটি ম্যাচে খেলেছিলেন ৬১ বলে ১২২ রানের একটি ঝড়ো ইনিংসও। সেজন্য তিন নাম্বারে বাবর আজম নাকি সাব্বির রহমানকে খেলানো হবে সেটা নিয়ে নিশ্চিতভাবে একটু ধন্দে তো পড়তেই হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।

সিলেট সিক্সার্সের ওপেনিংয়ে আছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে দ্রুত শতক হাকানো আফ্রিকান ব্যাটসম্যান রিচার্ড লেভি ও মারমুখী উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান আন্দ্রে ফ্লেচার। ব্যাট হাতে উভয়ই আছেন বেশ ছন্দে। সদ্য সমাপ্ত ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট টুর্নামেন্টে ৯ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৪৬.৮৭ গড়ে লেভি তুলেছেন ৩৭৫ রান। আর ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) এবারের আসরে ১০ ম্যাচে ২৮৬ রান করে আছেন টুর্নামেন্টের সেরা ১০ ব্যাটসম্যানের তালিকায়। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ছন্দে আছেন সিলেটের আরেক ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন তান্না।

চলতি বছর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ১৬ ম্যাচে ৪২.৭৩ গড়ে ৬৪১ রান করে ৩য় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বনে যান তিনি। তাছাড়া সিলেট দলে রয়েছে শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার উপল থারাঙ্গা ও দানুশকা গুনাথিলাকা। থারাঙ্গা টি-টোয়েন্টি সংস্করণে জুতসই না হলেও গুনাথিলাকা  সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান। সবশেষ ম্যাচেও তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে হাকিয়েছেন অর্ধশতক। অদ্যাবধি ৭ ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ১৬০ রান।  তারই স্বদেশি উপল থারাঙ্গা অবশ্য এই সংস্করণে নিজেকে মেলে ধরতে পুরোপুরি ব্যর্থ। বছর পাঁচেক পর এ বছরের জানুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফেরার পর গুনাথিলাকার ক্যারিয়ারের সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে তাঁর সংগ্রহ কেবল ৯০ রান।

ওপেনিং ও টপ অর্ডারে বেশ কয়েকজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান থাকলেও সিলেটের মিডল অর্ডার নিয়ে চিন্তার ভাজ পড়তেই পারে ম্যানেজমেন্ট কর্তাদের কপালে। তাদের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রয়েছে আন্দ্রে ম্যাকার্থি,ডেভি জ্যাকবস, শুভাগত হোম, নুরুল হাসান সোহান ও নাসির হোসেন। এদের মধ্যে ম্যাকার্থি এবারের সিপিএলে মোটামুটি খেললেও বাকিরা খুব একটা ভালো টাচে নেই। গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরের পর আর কোন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি নুরুল হাসান সোহান।

সেখানে তেমন কোন পারফরম্যান্সও দেখাতে পারেননি তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে শুভাগত হোম ব্যাট হাতে নিষ্প্রভ। অভিজ্ঞ ডেভি জ্যাকবসেরও শুভাগতর মতই অবস্থা। এদিকে নাসির হোসেন টি-টোয়েন্টি’র বাইরে আছেন প্রায় ১ বছর হতে চললো। চলমান দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে রান পাননি তিনি, তাঁর আউট হবার ধরনগুলোও ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। তবে এই সিরিজের আগে ঘরোয়া লিগে নাসিরের ব্যাটে ছুটে রানের ফোয়ারা। ডিপিএলে ৮ ম্যাচে অবিশ্বাস্য ২৪০ গড়ে তিনি করেন ৪৮০ রান। সেই ছন্দটা এখন বিপিএলে খুঁজে পেলেই হয়। কারণ ইনিংসের শেষের দিকে ব্যাট হাতে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তা কারো অজানা নয়।

নাসিরের মতই ফিনিশিংয়ে দ্রুত রান তুলে ম্যাচের দৃশ্যপট পালটে দেয়ার সামর্থ্য রাখেন ইংল্যান্ডের রস হুইটলি। এ বছর ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে ওস্টারশায়ারের হয়ে ইয়র্কশায়ারের স্পিনার কার্ল কারাভানের ১ ওভারে তাঁর ৬টি ছয় হাকানোর ঘটনা অবশ্য সে কথাই বলে। তাছাড়া টেল এন্ডারে ব্যাটিংটা খুব একটা খারাপ করেন না দাসুন শানাকা, আবুল হাসান রাজু ও তাইজুল ইসলাম। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি তে একটি শতকও রয়েছে শানাকার ঝুলিতে। রাজুর আছে টেস্ট অভিষেকে রেকর্ড করা সেঞ্চুরি। সেইসাথে চতুরঙ্গ ডি সিলভা ও কামরুল ইসলাম রাব্বিও চালাতে পারেন ব্যাট।

আপাতদৃষ্টিতে ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিংয়েই বেশি শক্তিধর লাগছে সিলেট সিক্সার্সকে। যথেষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে তাদের বোলিং আক্রমণে। ৯ জন সিমার ও ৭ জন স্পিনার নিয়ে সাজানো হয়েছে তাদের বোলিং আক্রমণ । সিমারদের মধ্যে রয়েছে অভিজ্ঞ ইংলিশ বোলার লিয়াম প্লানকেট। জাতীয় দলের হয়ে বল হাতে সম্প্রতি ধারাবাহিক পারফর্ম করে যাচ্ছেন তিনি। আছেন এই সংস্করণে বেশ কার্যকরী সিমার ক্রিসমার সান্টোকি। দুর্বোধ্য স্লোয়ার আর ইয়র্কারে ব্যাটসম্যানদের খাবি খাওয়ানোয় পটু এই বোলার ১৪ উইকেট নিয়ে আছেন এবারের সিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির সংক্ষিপ্ত তালিকায়।

তাছাড়া আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি’র অভিষেকেই ৪ ওভারে ১৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপে ধস নামানো দাসুন শানাকা, ২০১৬ ডিপিএলে হ্যাটট্রিক করা অভিজ্ঞ মোহাম্মদ শরীফ, বাংলাদেশের কামরুল ইসলাম রাব্বি, আবুল হাসান রাজু, পাকিস্তানের দুই তরুণ পেসার মুদাসসর ও উসমান খানের সমন্বয়ে সমীহ জাগানিয়া একটি পেস আক্রমণ তৈরি করেছে সিলেট সিক্সার্স। সবচেয়ে বড় কথা হলো তাদের সাজঘরে রয়েছে পাকিস্তানি কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনুস যিনি এই পেসারদের কাছ থেকে ঠিকই সেরাটা বের করে আনার যোগ্যতা রাখেন।

অন্যদিকে স্পিনারদের ৭ জনের মধ্যে ৬ জন অফ স্পিনার ও ১ জন লেগ স্পিনার রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা লেগি ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। আরো আছেন তাঁরই সতীর্থ এবং তাঁর আপন ভাই চতুরঙ্গ ডি সিলভা যিনি এবারের ডিপিএলে ১৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৪ উইকেট লাভ করেন। ডিপিএলে নিয়মিত খেলায় বাংলাদেশের কন্ডিশন সম্পর্কে তাঁর ভালোই জানাশোনা আছে এবং এখানকার পিচ তাঁর বোলিংয়ের জন্য যথেষ্ট সাহায্য করবে। সেইসাথে অভিষেক ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করা আরেক স্পিনার ও বাংলাদেশ টেস্ট দলের নিয়মিত মুখ তাইজুল ইসলাম, শুভাগত হোম, নাসির হোসেন, নাবিল সামাদ, সাইফুল্লাহদের নিয়ে গড়া সিলেটের স্পিন আক্রমণও টুর্নামেন্টে অন্যতম শক্তিশালী।

ব্যাটিং, বোলিং উভয় বিভাগে কার্যকরী ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়লেও সিলেট সিক্সার্সে দুটি জিনিসের খুব অভাব রয়েছে। প্রথমটি হলো একজন অধিনায়কের। দলের স্কোয়াড পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অধিনায়কত্ব করা তো দূরে থাক ঘরোয়া ক্রিকেটেও দলকে নেতৃত্ব দেয়ার অঅভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রিকেটারের বড্ড অভাব সিলেট সিক্সার্সে। দ্বিতীয়টি হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরীক্ষিত খেলোয়াড়ের অভাব। দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই আনকোরা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনভিজ্ঞ। এই দুটি জায়গায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে সিলেটের যা টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে দলকে ভোগাতে পারে।

এবারের বিপিএলের অধিকাংশ দলগুলোর মত সিলেট সিক্সার্সে নামকড়া ক্রিকেটারের উপস্থিতি নেই তা সত্য। তবে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া এ দলটিকে হিসাবের খাতায় রাখতেই হচ্ছে। ব্যাটিং বা বোলিংয়ে তেমন বড় কোন নাম না থাকলেও টুর্নামেন্টে বাকি দলগুলোর সাথে ভালভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মত দল গড়েছে সিলেট। দলের মধ্যে বেশ কয়েকজন রয়েছে আবার দারুণ ছন্দে।

অনেক ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা অনেকটাই তরুণদের খেলা। তাই সিলেট সিক্সার্সের স্কোয়াড দেখে ঘাবড়ানোর কোন কারণ নেই। আর কাগজেকলমের হিসেবে কী আসে যায়? মাঠের খেলাটাই তো আসল। বলা হয়ে থাকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা অনেকাংশে ব্যাটসম্যানদের খেলা। আর এ খেলায় কোন দল কতটা শক্তিশালী সেটা প্রমাণ হয় মাঠেই। কারণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একটা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে খুব বেশি সময় লাগে না।হাতেগোণা তিন চার ওভারই যথেষ্ট একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে দেয়ার জন্য যা সবচেয়ে ভালো পারেন ব্যাটসম্যানরা। কারণটা তো সবার ভালো করেই জানা, 'লাগলে বারি বাউন্ডারি'।

সিলেট সিক্সার্স স্কোয়াড

সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম, নুরুল হাসান সোহান, উপল থারাঙ্গা, দানুশকা গুনাথিলাকা, লিয়াম প্লানকেট, বাবর আজম, আন্দ্রে ফ্লেচার, ইমতিয়াজ হোসেন তান্না, দাসুন শানাকা, আবুল হাসান রাজু, ক্রিসমার সান্টোকি, উসমান খান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, চতুরঙ্গ ডি সিলভা, শুভাগত হোম, সাইফুল্লাহ, আন্দ্রে ম্যাকার্থি, ডেভি জ্যাকবস, রস হোয়াইটলি, রিচার্ড লেভি, মুদাসসর, নাবিল সামাদ ও মোহাম্মদ শরীফ।

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post