আদর্শ ওয়ানডে একাদশ: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

রাসেল আহমেদ
জুন ১৩, ২০১৭
কেমন হওয়া উচিৎ বাংলাদেশের ওয়ানডে একাদশ? কেমন হওয়া উচিৎ বাংলাদেশের ওয়ানডে একাদশ?

১.

লেখাটির প্রথম পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম একটা ওয়ানডে দলের বেসিক ফর্মেশন নিয়ে। সেই ফর্মেশনে অন্তত পাচ জন সলিড ব্যাটসম্যান, একজন উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান, একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার, একজন বোলিং অলরাউন্ডার, তিনজন সলিড বোলার থাকলে একাদশটা প্রায় নিখুত হয়।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিটা দলে এত রিসোর্স নাই থাকতে পারে। এজন্য প্রতিটা দলই তার সামর্থ্য অনুযায়ী দল সাজানোর চেষ্টা করে।

আজকের পোষ্টে আমরা দেখার চেষ্টা করবো বাংলাদেশের জন্য কোন ফর্মুলাটা সবচেয়ে ভালো হয়।

২.

প্রথমে আমরা কথা বলি ব্যাটসম্যান নিয়ে।

একজন আদর্শ ব্যাটসম্যান কাকে বলে?

সাধারণ ভাবে যে কিনা রান করতে পারে সেই ব্যাটসম্যান। কিন্তু আদর্শ ব্যাটসম্যানের ভেতর এই কমন বৈশিষ্ট্য ছাড়াও কিছু স্পেশাল বিষয় থাকতে হবে। তিন ইনিংসে (৫০+৫০+৫০) = ১৫০ রান করা ভালো নাকি (১০০+৫০+০) = ১৫০ করা ভালো? দুই জায়গাতেই কিন্তু রান সংখ্যা সমান। আদর্শ ব্যাটসম্যানকে শুধু রান করলেই হবে না, দলের চাহিদা অনুযায়ী সময়োপযোগী রান করতে হবে। একজন খেলোয়াড় প্রতিদিন রান করতে পারবেন না, বিষয়টা ল অফ অ্যাভারেজ। কিন্তু যেদিন করবেন সেদিন যেন প্রাপ্ত সুযোগের সর্বোচ্চটা ব্যাবহার করতে পারেন।

এই বিষয়টা নিয়ে আরেকটা টপিকসে আলাপ চালানো যাবে। এখন মূল পয়েন্টে আসি।

ব্যাটসম্যানের কথা আসলে শুরুতেই চলে আসে ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের কথা। ওপেনিং: একটা দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা। ওপেনিং এর আরেকটা চাওয়া হচ্ছে ব্যক্তিগত রান যতই থাকুক এরা যেন একটা জুটি গড়ে আসতে পারে। কোন এক জ্ঞানী বলেছিলেন যে প্রভাত সারা দিনের পূর্ভাবাস দেয়। কথাটা কিছুটা সত্য।

ওপেনিং এ খেলবেন কোন ব্যাটসম্যান? দলে জায়গা পাওয়ার মতো ব্যাটসম্যানদের জন্য কমন কিছু ফর্মূলা আছে।

গড় বেশি, রান বেশি, এক ইনিংসে সে রানটা কতটুকু বড় করতে পারে – ইত্যাদি। কিন্তু বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে ওপেনারদের মূল কাজ হচ্ছে পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ করে দেওয়া। যদি ব্যাটিং পিচ হয় তাহলে পর্যাপ্ত রান তুলে স্কোর বোর্ড সচল রাখা, আর যদি বোলিং পিচ হয় তাহলে শুরুর ধাক্কাটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা। রান তাড়া করলে ম্যাচ শেষ করে আসতে না পারলেও দলকে এমন একটা অবস্থানে রেখে আসা যাতে পরের ব্যাটসম্যানদের উপর চাপটা কমে আসে। বাংলাদেশে এই পর্যন্ত আসা ওপেনারদের মাঝে এই কাজটা সবচেয়ে ভালো ভাবে করতে পেরেছে তামিম ইকিবাল। একটা সময় কিছুটা অস্থির মেজাজের খেলোয়াড় থাকলেও সময়ের সাথে সাথে ব্যাটিং এ অনেকটাই ম্যাচুরিটি নিয়ে এসেছেন। বর্তমানে দেশ সেরা ওপেনার এই তামিম ইকবালই ।

সচরাচর ওপেনিং ব্যাটসম্যানরা ম্যাচ শেষ করে আসবে এমনটা কেউ আশা করে না। তবে গ্রেট ওপেনারদের অনেকেই ক্যারিয়ারে কিছু সময় এই কাজটা করে এসেছেন। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে কিছু এই ধরণের ইনিংস খেলে ওপেনিং পজিশনের আরেকটা স্লটের জন্য এগিয়ে আছেন সৌম্য সরকার। এই জায়গায় সৌম্যের প্রতিদন্ধী আপাতত দুই জন, ইমরুল কায়েস আর আনামুল হক বিজয়। তবে এই দুইজনের চেয়েই সৌম্য অনেকগুলো কারণেই এগিয়ে আছেন। বিজয়ের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২৭ ইনিংসে ৩৫ গড় আর ৭০ স্ট্রাইক রেটে রান ৯৫০।

ঘরোয়া লিগের চেয়ে আন্তর্জাতিক পারফর্মেন্সই বেশি খুটিয়ে দেখা হয়। বিজয় বিসিবি একাদশের হয়েও বিভিন্ন ম্যাচে সুযোগ পেয়েছে। সেখানে নিজেকে যথেষ্ট প্রুভ করতে পারছে না। এছাড়া বিজয়ের সম্পর্কে সবচেয়ে বড় অভিযোগ সে বল ডট করে প্রচুর যা কিনা সীমিত ওভারের জন্য স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা। মিডল অর্ডারে আসার সুযোগও আপাতত নেই। তবে এসব কিছুকেই বাদ দিয়ে সৌম্য এগিয়ে যায় মুলত তামিম ইকবালের সাথে তার জুটির রেকর্ডের কারণে। মাত্র ২২ টি ইনিংসে একসাথে ওপেন করে ৩ টি সেঞ্চুরী আর ৩ টি ফিফটি পার্টনার শিপে ৪১.০০ গড়ে রান করেছে ৯০২। যা কিনা ইমরুল-তামিম জুটির ৫৩ ইনিংসে ২ টি সেঞ্চুরী আর ৯ টি ফিফটি পার্টনারশিপে ৩১.৫৮ গড়ে ১৬৭৪ রানের চেয়েও অনেক খানি এগিয়ে।

সৌম্যকে নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও আরো কয়েকটা সুযোগ তার প্রাপ্য। বড় দলের বিপক্ষে এমন কিছু ইনিংস সে খেলেছে যা কিনা এখন পর্যন্ত সাকিব, মুশফিক কিংবা তামিমের মতো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড়রাও খেলতে পারেনি। সবার স্পেশাল দিক আছে কিন্তু যিনি সত্যিকারের স্পেশাল তাকে একটু আলাদা করে দেখা উচিত।

আশরাফুল এক হাতে যেভাবে খেলা জিতিয়েছেন তা হয়তো ইমরুল কোনদিনও পারবে না। এমনকি তামিম কিংবা মুশফিকও এখন পর্যন্ত পারেনি। আশরাফুল যখন জিতিয়েছে তখনকার বাংলাদেশ আর অষ্ট্রেলিয়ার শক্তির পার্থক্যের কথাও মাথায় রাখতে হবে। এখন পরবর্তীতে নানা কারণে আশরাফুল পথ হারিয়েছে সেটা ভিন্ন কথা।

সৌম্য যেমন ইনিংস খেলেছে তা মুশফিক কিংবা তামিম কেন বিশ্বের অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যানও খেলতে পারেনি। এরকম ব্যাটসম্যান তৈরী করা যায় না, এরা জন্মায়। তবে হ্যা, সৌম্য পথ হারালেও হারাতে পারে। বাংলাদেশের অলক যেমন হারিয়ে গিয়েছে, তবে আমাদের চেষ্টা থাকা উচিত যেন সৌম্য পথ না হারায়।

ওপেনিং এ তাই আপাতত আমার পছন্দ তামিম আর সৌম্য।

তিন আর চার নম্বর পজিশনটা একটা দলের জন্য খুব ভাইটাল দুটো পজিশন। আমার মতে আপাতত পজিশন দুটোর জন্য সবচেয়ে বেষ্ট চয়েজ হচ্ছে সাব্বির আর মুশফিক।

সাব্বিরকে নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। অনেকের মতেই এই পজিশনে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সুযোগ পাওয়া উচিত। সাব্বির আর রিয়াদকে নিয়ে একটু পরে বলি। আপাতত মুশফিককে নিয়ে কিছু কথা বলি।

মুশফিক দলের প্রয়োজনে ৩ থেকে ৯ নম্বর প্রতিটি পজিশনেই ব্যাটিং করেছেন। কিন্তু সবচেয়ে ভালো রেকর্ড চার নম্বর পজিশনে। এই পজিশনে ৫৮ টি ইনিংস খেলে ৩৬.৫৯ গড়ে রান করেছেন ১৯৭৬। ক্যারিয়ারের ৪ টি সেঞ্চুরীর প্রতিটাই করেছেন এই পজিশনে। দেশ সেরা এই ব্যাটসম্যানের চার নম্বর পজিশনটা তাই প্রাপ্যই বলা চলে।

পাচ নম্বরে অটোমেটিক চয়েজ সাকিব আল হাসান। চার নম্বরেও সাকিবের পারফর্মেন্স ভালো। তবে নিয়মিত দশ ওভার বল করার কারণে কিছুটা বিশ্রাম তার প্রাপ্য। পাচ নম্বর পজিশনে ১১৯ টি ইনিংস খেলে ৩৫.৬৭ গড়ে রান করেছেন ৩৬৭৪। বাংলাদেশের মতো একটা দলে খেলে একজন অলরাউন্ডারের জন্য গড়টা যথেষ্টই স্বাস্থ্যসম্মত।

ছয় নম্বর পজিশনে সুযোগ পাওয়া উচিত মোসাদ্দেকের। মোসাদ্দেক তরুন খেলোয়াড়। ঘরোয়া লীগে যে পজিশনে খেলে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন তাকে আপাতত সেখানেই সুযোগ দেওয়া উচিত।

সাতে আসবেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সাত নম্বরটা খুব ক্রুশিয়াল একটা জায়গা। এখানকার ব্যাটসম্যান প্রতিদিন খেলার সুযোগ পাবেনা, যে কয়দিন পাবে সেদিন পরিস্থিতির প্রয়োজনে বেসামাল ব্যাটিং করতে হতে পারে আবার ধীর স্থির ব্যাটিং এর প্রয়োজনও পড়তে পারে। বিপর্যয় হলে সেটা ঠেকানোর দায়িত্বও অনেক সময় তার উপর পড়বে। বিস্ময়করভাবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের পারফর্মেন্স এই পজিশনে খুব ভালো। ৬৮ ইনিংসে ৭ টি ফিফটি সহ ৩৩.৭২ গড় আর ৭৬.৭৭ স্ট্রাইক রেটে রান ১৪৮৪। ৭ নম্বর পজিশনে কমপক্ষে ৩০ টি ইনিংস খেলেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মাঝে সবচেয়ে ভালো গড় রিয়াদেরই। ভাবা যায়, পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৭ নম্বরে সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানই রিয়াদ।

রিয়াদের টপ অর্ডারে খেলার বেশ ভালো যোগ্যতা আছে, ইভেন চার নম্বর পজিশনে তার রেকর্ডও দূর্দান্ত। কিন্তু দলের প্রয়োজনে এই সেক্রিফাইস টুকু তাকে করতে হবে। কারণ সাতে ভালো ব্যাটিং করার মতো খেলোয়াড় আমাদের হাতে আর নেই। দলের কম্বিনেশনের জন্য এটা খুবই প্রয়োজন।

অনেকে এমনটাও ভাবেন যে রিয়াদকে সাত নম্বরে খেলিয়ে তার ট্যালেন্টের অপচয় করা হচ্ছে। সত্যি কথা কি ট্যালেন্ট অপচয়ের চেয়ে আমি দলের ভালো কোনটিতে হবে সেটাতে আগে নজর দেয়া পছন্দ করি। রিয়াদ অবশ্যই চারে ভালো খেলবে। কিন্তু চারে রিয়াদ বাদেও অনেকের পক্ষে ভালো খেলা সম্ভব। সাতে রিয়াদ খেললে তার প্রতিভার অপচয় হবে নিশ্চিত কিন্তু রিয়াদের চেয়ে বেটার চয়েজ আপাতত আমাদের হাতে নেই। রিয়াদের মতো ফিনিশার বের করা এতটা সহজ নয়। মুশি চারে আর রিয়াদ সাতে খেললে ওভার অল আমাদের জন্য ভালো।

কথা থাকে সাব্বিরকে নিয়ে। সাব্বিরের মতো স্ট্রোক মেকারকে সাতে খেলিয়ে ট্যালন্ট অপচয় করার কোন যুক্তি আমি পাই না। হয় তাকে তিন নম্বরে সেটেল হতে হবে নয়তো তাকে বাদ দিয়ে অন্য খেলোয়াড় নিতে হবে। তিন নম্বরে খেলতে পারার সব কয়টা যোগ্যতাই সাব্বিরের মাঝে আছে, শুধু একটাতেই সমস্যা। সাব্বিরের মাঝে ইনিংস গড়ার চাইতে আক্রমন করার মানসিকতা বেশি। আশা করা যায় অভিজ্ঞতার সাথে সাথে বিষয়টা সাব্বিরের আয়ত্বে চলে আসবে।

আসলে মুশফিকের মতো কিপার আর সাকিবের মতো অলরাউন্ডার আমাদের ব্যাটিং এর ভরসা হওয়ার কারণে এদেরকেও সাত নম্বরে খেলানো যাচ্ছে না। আবার এই কারণে আমরা একটা বাড়তি ব্যাটসম্যান খেলাতে পারছি সেটাতেও লক্ষ রাখা উচিত।

৩.

এখন আসা যাক বোলার নিয়ে।

প্রথম পর্ব যারা পড়েছেন তাদের আশা করি মনে আছে যে একটা আদর্শ ওয়ানডে দলে দুই ধরণের বোলার থাকে; উইকেট টেকিং বোলার আর রান চেক দেওয়ার বোলার। দুটোর গুরুত্বই ক্ষেত্রবিশেষে অনেক। উইকেট টেকিং বোলারদের কাজ হচ্ছে একটা আর্লি ব্রেক থ্রু দেওয়া। একটু আক্রমনাত্মক হওয়ায় উইকেট পেলেও মাঝে মাঝে রানটা একটু বেশি দিয়ে দেন। এজন্য রান চেক দেওয়ার বোলারও প্রয়োজন। অনেক সময় আবার রান চেক দেবার কারণে ব্যাটসম্যানরা চাপে পড়ে উইকেট ছুড়ে দেয়। কাজেই উইকেট ফেলার পেছনেও এই টাইপের বোলারদের ভূমিকা অনেক।

কিন্তু আপনি যখন ছোট রান ডিফেন্ড করবেন তখন আপনার উইকেট টেকিং বোলার লাগবেই। ১৯০ রান ডিফেন্ড করতে গেলে রান চেকের বোলার দিয়ে খুব বেশী লাভ হবে না। কারণ এই যুগে রান যতই কম দিক না কেন ১৯০ রান সহজেই তুলে নেওয়া যাবে। এজন্য এ সময় প্রয়োজন উইকেট টেকিং বোলার যারা কোন জুটি গড়ে উঠতে দিবে না। আবার ৩০০+ রান ডিফেন্ড করতে গেলে শুধু উইকেট নিতে চাইলে লাভ হবে না। সেক্ষেত্রে রান চেক দিলে আস্কিং রানের চাপে অটোমেটিক্যালি ব্যাটসম্যান চাপে পড়ে যাবে। কাজেই ব্যালেন্স দল করতে হলে দুই ধরণের বোলারই প্রয়োজন।

তবে আমি অবাক হয়ে যাই মাঝে মাঝে বাংলাদেশ দলের নির্বাচন দেখলে। আমার মাথায় একটা বিষয় আসে না। পৃথিবীর কোন দল পাচটা জেনুইন বোলার নিয়ে ওয়ানডে খেলতে নামে না। সচরাচর একটা ভালো ওয়ানডে দলে তিনজন স্ট্রাইক বোলার থাকে, এদের মুল কাজই থাকে বোলিং। একজন ব্যাটসম্যান কাম বলার থাকে; ক্যালিস, হুপার, ফ্লিনটফ, সাইমন্ডস, ওয়াটসন, ভিভ রিচার্ডস এরা এই ঘরণার। একজন বোলার কাম ব্যাটসম্যান থাকে যাদের মূল কাজ থাকে বোলিং আর প্রয়োজনে মাঝে মাঝে ব্যাটিং এ টুকটাক অবদান রাখে । শন পোলক, ওয়াসিম আকরাম, জেমস ফকনার, কপিল, হ্যাডলি এই ঘরণার অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশের একটা বড় পাওনা হচ্ছে সাকিব যে কিনা দশ ওভার তুখোড় বোলিং করার সাথে সাথে ব্যাটিং এও বাংলাদেশের প্রথম দুই তিনজনের মাঝে একজন। কিন্তু এই সুবিধাটা আমরা নিতে পারছিনা। আট নম্বরে তাইও এমন একজন খেলোয়াড় প্রয়োজন যে কিনা বোলিং এর সাথে সাথে ব্যাটিং এও কিছুটা সার্ভিস দিতে পারে। সেক্ষেত্রে নাসির হতে পারতো সবচেয়ে বেষ্ট অপশন।

ম্যানেজম্যান্টের সাথে কোন একটা ঝামেলায় নাসিরকে খেলানো হচ্ছে না। এক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারতো সোহাগ গাজি কিংবা মেহেদি হাসান মিরাজ।

বাকি তিনজনকে হতে হবে নিখাদ বোলার। এক্ষেত্রে আপাতত প্রথম দুটো অপশন হচ্ছে মাশরাফি আর মুস্তাফিজ। বাকি একটা জায়গায় খেলতে পারে তাসকিন, রুবেল অথবা আরাফাত সানির মাঝে যে কেউ।

তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি মাথাটা ঠিক রাখতে পারলে একটা সময় মুস্তাফিজের চেয়েও বেশী সার্ভিস দিবে তাসকিন। ওর ভেতর মাশরাফির উত্তরসুরি হবার উপাদান গুলো আছে।

মাশরাফি, সাকিব, মুস্তাফিজ, তাইজুল/সানি/তাসকিনের জায়গা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এদেরকে দিয়ে ৪০ ওভার করাতে হবে। বাকি ১০ ওভার নাসির/গাজি/মিরাজকে দিয়েই করানো যায়। সেটা সম্ভব না হলে রিয়াদ অথবা অন্য কাউকে দিয়ে হাত ঘুরানো যেতে পারে। গত ম্যাচে যেমন মোসাদ্দেক ৩ ওভার বল করলো। কোন ম্যাচেই মূল বোলারের সবাইকে দিয়ে কোটা পুরণ করা যাচ্ছে না। কিন্তু অকারণে আমরা বোলার বাড়িয়ে যাচ্ছি। সাকিবের মতো একজন খেলোয়াড় থাকার পরেও আমরা কেন বাড়তি একজন ব্যাটসম্যান খেলানোর সুবিধাটা নিতে পারছি না।

আমার মতে বর্তমানে বাংলাদেশের লাইন আপটা এমন হলে সবচেয়ে ভাল হয়ঃ

১. তামিম – ব্যাটসম্যান।

২. সৌম্য - ব্যাটসম্যান।

৩. সাব্বির - ব্যাটসম্যান।

৪. মুশফিক - উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

৫. সাকিব – ব্যাটিং অলরাউন্ডার।

৬. মোসাদ্দেক – ব্যাটসম্যান / পার্ট টাইম বোলার।

৭. মাহমুদুল্লাহ - ব্যাটসম্যান / পার্ট টাইম বোলার।

৮. মিরাজ/গাজি/নাসির – বোলিং অলরাউন্ডার।

৯. মাশরাফি – বোলার।

১০. মুস্তাফিজ - বোলার।

১১. তাসকিন/রুবেল/সানি/তাইজুল – বোলার।

সাব্বির কে খেলালে তিন নম্বরেই খেলাতে হবে। সে যদি এখানে স্যুট করতে পারে তাহলে ভালো, নয়তো অন্য কাউকে সুযোগ দিতে হবে।

আর আমি যে ফর্মেশনটা দিলাম সেটা একটা বেসিক ফর্মেশন। এখানে সৌম্যর জায়গায় ইমরুল কায়েসও আসতে পারে। তামিমের জায়গায় অন্য কোন ওপেনার আসতে পারে, কিন্তু মোসাদ্দেক আসবে না। বিষয়টা নির্ভর করবে ফর্ম এবং পারিপার্শ্বিক অন্যান্য কিছু বিষয়ে উপর।

৪.

পোষ্টটাতে মূলত আলোচনা করা হয়েছে দলের বেসিক কাঠামো নিয়ে। কাঠামো দাঁড়িয়ে গেলে সেই কাঠামোতে জায়গা মতো খেলোয়াড় বসিয়ে দেওয়াটা কঠিন কিছু নয়।

আমাদের দেশে অলক কাপালি, আল শাহরিয়ার রোকন কিংবা আশরাফুলের মতো প্রতিভা এসে অসময়ে হারিয়ে গিয়েছে। আমাদের চেষ্টা থাকা উচিত যেন আর কোন প্রতিভা এভাবে না হারিয়ে যায়।

এজন্য রুট লেভেল থেকেই টিম ম্যানেজম্যান্টের নজর দিতে হবে। একজন খেলোয়াড়ের কাজ হচ্ছে খেলা। কিন্তু সে যেন তার খেলার সর্বোচ পরিবেশটা পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখার দায়িত্ব টিম ম্যানেজম্যন্টের।

- সকল পরিসংখ্যান ১০ মে, ২০১৭ পর্যন্ত

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post