সেই চারে ডুবে আছেন সৈকত

খেলাধুলা ডেস্ক
জুন ১৩, ২০১৭
 চারে শেষ করতে পেরে গর্বিত সৈকত চারে শেষ করতে পেরে গর্বিত সৈকত

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে উঠতে পারা বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল অর্জন, বিশেষ করে দলের তরুণ সদস্যদের জন্য তো এটি আজীবন স্মরণে রাখার মত একটি অভিজ্ঞতা। এবং সে কথা আরও বেশি করে প্রযোজ্য দলের অন্যতম নবীন খেলোয়াড় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জন্য। কারণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যেই অবিশ্বাস্য জয়ের মাধ্যমে টিকে ছিল বাংলাদেশের শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা, সেই ম্যাচের ‘উইনিং শট’টি যে এসেছিল তারই ব্যাট থেকে।

অ্যাডাম মিলনের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বল থার্ড ম্যান অঞ্চল দিয়ে সীমানা ছাড়া করে দলের জয় নিশ্চিত করে সৈকত। আর তাই নিঃসন্দেহেই, তার দেড় বছরের ছোট্ট ক্রিকেটিং ক্যারিয়ারের, এমনকি তার ২১ বছরের গোটা জীবনেরও, সবচেয়ে স্মরণীয় অর্জন এখন পর্যন্ত এটিই।

সৈকত বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, আমরা যখন ৩৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম, আমি ড্রেসিংরুমে প্যাড পরে তৈরী হয়ে ছিলাম ব্যাটে নামার জন্য। আমি আসলে বলে বোঝাতে পারব না ওই কঠিন সময়ে আমাদের সকলের মনের মধ্যে কি চলছিল। আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম যে যেকোন সময়ে আমাকে ব্যাট করতে যেতে হবে, এবং যতটা বেশি সময় সম্ভব উইকেটে টিকে থাকতে হবে। কিন্তু সাকিব ভাই আর রিয়াদ ভাই অসাধারণ ব্যাটিং করেন। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করে যে ম্যাচ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘যখন দুজন ব্যাটসম্যানই তাদের শতকে পৌঁছে গেলেন, আমার খুবই ভালো লাগছিল এবং আমি ভেবেছিলাম তারা দু'জনই হয়ত ম্যাচ শেষ করে আসবেন।’

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। জয়ের বন্দর থেকে মাত্র ৯ রানে দূরে থাকতে সাকিব আউট হয়ে বসেন, এবং সৈকতকে ব্যাটে নামতে হয়। এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান কখনোই আশা করেননি ‘উইনিং শট’টি তাঁকেই খেলতে হবে। কিন্তু যখন তার সামনে সে সুযোগ এলো, তিনি আর সে সুযোগ হাতছাড়া করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই চিন্তা করিনি যে আমার সামনেই সে সুযোগটি আসবে, এবং আমিই উইনিং শট খেলে আমার দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক জয় নিয়ে আসব। এটি অনেকটা ছিল স্বপ্ন সত্যি হবার মত একটি ব্যাপার। আমি আগে কখনোই কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলের উইনিং শট মারিনি, যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে কয়েকবার সেই সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাই ৪৮তম ওভারে আমাদের যখন আর মাত্র দুই রান দরকার ছিল জয়ের জন্য আর ফিল্ডাররা সবাই বৃত্তের ভিতর ছিল, আমি মনস্থির করে ফেলি যে বাউন্ডারি মেরেই ম্যাচ শেষ করব।’

ওই মুহূর্তের অনুভূতি জানিয়ে সৈকত বলেন, ‘আমি ঠিক সেই চেষ্টাটাই করি, আর বাকিটা তো ইতিহাস। এটা আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত। কারণ আমরা জানতাম এই জয়টিই হয়ত আমাদেরকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেবে। আলহামদুলিল্লাহ, শেষ পর্যন্ত আমরা তা করতে পেরেছি।’

সেমিফাইনালে ভারতের সাথে খেলবে বাংলাদেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে বড় কোন টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে জয়ের সুখস্মৃতি নেই বাংলাদেশের। কিন্তু, তারপরও প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে পেয়ে মোটেই বিচলিত নন সৈকত। বরং তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, নিজেদের শক্তিমত্তার জায়গাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে, সেমিফাইনালে যেকোন ফলাফল সম্ভব।

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post