কেন প্রতিবার এমন হয়!

নেয়ামত আল হাসান
জুন ১৩, ২০১৭
 কেন প্রতিবারই এমন হচ্ছে? এই দুষ্টচক্র থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়ই বা কি? কেন প্রতিবারই এমন হচ্ছে? এই দুষ্টচক্র থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়ই বা কি?

ফুটবল বিশ্বকাপ আর ইউরোতে ইংল্যান্ডকে নিয়ে একটা কৌতুক প্রচলিত আছে। সেটা অনেকটা এমন, ‘টি ব্যাগ আর ইংল্যান্ডের মাঝে পার্থক্যটা কোথায়? - টি ব্যাগটা কিছুক্ষণ কাপে থাকে!’ ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে তেমন বিখ্যাত কিছু না থাকলেও টিক্কা টিপ্পনী নেহায়েত কম কাটা হয়না। দিন-মাস-বছর গড়ায়, কৌতুক বদলায়, কৌতুক শেষের পাঞ্চলাইন ঠিক একই থাকে, এক থাকে কৌতুকের লক্ষ্য বস্তুও, দক্ষিণ আফ্রিকা!

ভারতের বিপক্ষে হেরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে বিদায় নেওয়ার মূহুর্তে বেশ কিছু রহস্য জন্ম দিয়ে বাড়ি ফিরছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কেনো ভারতের বিপক্ষে প্রোটিয়া টপঅর্ডার অতি সাবধানী হতে গেলো? ডি ভিলিয়ার্স আর মিলারের রানআউট দুটোর ক্রিকেটীয় ব্যাখাই বা কি? কেনো খেলোয়াড়দের মাঝে ম্যাচে ফেরার তাড়না দেখা যায়নি পরে?

আরেকটু বড় পরিসর থেকে দেখলে, কেন প্রতিবারই এমন হচ্ছে? এই দুষ্টচক্র থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়ই বা কি?

ভারতের সাথে এ ভরাডুবির ব্যাপারটা খানিকটা পূর্বানুমিতই ছিলো। বাঁচামরার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতার ইতিহাসের কারণেই নয়, পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই প্রোটিয়া শিবিরের স্বভাবগত ভুলগুলো চোখে পড়তে শুরু করেছিলো, এ ম্যাচে যা প্রকটাকার ধারণ করে বসে।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ইংল্যান্ডের মাটিতে জেতা দলগুলো যেখানে তাদের প্রথম পাওয়ারপ্লেতে ওভারপ্রতি ৫.৫ গড়ে রান তুলেছে, সেখানে এ ম্যাচে প্রোটিয়াদের টপঅর্ডার ৩.৫ এ এসে আটকে গেলো।

প্রথম পাওয়ারপ্লেতে ভারত ভালো বোলিং করছিলো বটে, কিন্তু একটা পালটা আক্রমণ পুরো দৃশ্যপটটাই বদলে দিতে পারতো। ইনিংসের গোড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াকু মনোভাবের অভাব ভারতকে আরো সাহসী করে তোলে, অপরদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ক্ষুরধার ভারতীয় স্পিনের বিপক্ষে ঝুঁকি নিতে বাধ্য করে। তারপরই আসে দুটো রান আউটের পালা!

আইসিসি টুর্নামেন্ট থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়ের সবচেয়ে মজাদার ব্যাপার হচ্ছে, তারা নিত্যনতুন অভিনব পন্থায় বিদায়টা ‘বরণ’ করে নেয়।

নইলে ফাফ ডু প্লেসিস আর ডি ভিলিয়ার্স কেনো নিজেদের মাঝে অলিম্পিকের ১০০ মিটার রিলেতে অবতীর্ণ হবেন উইকেট বাঁচাতে? দক্ষিণ আফ্রিকা যুগে যুগে এমন বিখ্যাত কিছু অদ্ভুতুড়ে দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে যা ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় আজো অম্লান।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে অ্যালান ডোনাল্ডের সে ক্ষ্যাপাটে দৌড়, ২০০৩ বিশ্বকাপে কিংসমিড ড্রেসিংরুমে পোলক কিংবা গেলো বিশ্বকাপেই ডি ভিলিয়ার্সের সেই হাতছোঁয়া দূরত্ব থেকে রান আউট মিস করা - এসব দৃশ্যই কোনো না কোন স্টেডিয়ামের হলওয়েতে ঝুলছে প্রোটিয়াদের ব্যর্থতার ফিরিস্তিকে সঙ্গে নিয়ে।

হতবিহ্বল দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক বলেন, ‘কেনো প্রত্যেকবারই এমন হয় তা আমার বোধগম্যের বাইরে’

সব সমস্যা মূলত এখান থেকেই শুরু হয়। সবাই এমন অদ্ভুতুড়ে ঘটনাগুলোর কারণ খোঁজে, প্রতিকারের উপায় খোঁজে। কিন্তু কারোই এ প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর জানা নেই। পরের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবার আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে অন্যথায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা প্রবল।

ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ) ইতোমধ্যেই নতুন কোচের সন্ধানে নেমে পড়েছে। নতুন কোচ যেই আসুন না কেনো, তাকে এই মধ্য জুনে ইংলিশ সামারে ঘটে যাওয়া অদ্ভুতুড়ে ঘটনাগুলোর কারণ খুঁজতে হবে সাথে বের করতে হবে এ থেকে পরিত্রাণ পাবার টোটকাও।

ডি ভিলিয়ার্স ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে থাকতে চান। তার মতে আফ্রিকান পরাশক্তিরা শিরোপা থেকে আর একটা টুর্নামেন্ট দূরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সাক্ষ্যপ্রমাণাদী তার বিপক্ষের কোর্টেই যাচ্ছে!

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ২০১৯ বিশ্বকাপে একই দৃশ্যের অবতারণা ঠেকাতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন আমূল পরিবর্তন। তবে, পরিবর্তনই কী শেষ কথা? চাপ নেওয়াটাই তো এখনও শিখলো না প্রোটিয়ারা!

- ক্রিকবাজ অবলম্বনে

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post