হারারে থেকে হায়দ্রাবাদ: আ জার্নি বাই ব্যাট

কাওসার মুজিব অপূর্ব
ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৭
 জহির খানকে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে হাঁকানো ছক্কার প্রসঙ্গ এখনও তোলেন ধারাভাষ্যকাররা। জহির খানকে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে হাঁকানো ছক্কার প্রসঙ্গ এখনও তোলেন ধারাভাষ্যকাররা।

আর্লি সামার; ইংল্যান্ড! ওই সময় উইকেট থাকে সবুজ-স্যাঁতসেতে। বল স্কিড করে, বাউন্স হয়। অর্ডিনারি কোনো ব্যাটসম্যানের পক্ষে ওই উইকেটে ইংলিশ পেসারদের সামনে দাঁড়ানোরই ক্ষমতা নাই। উইজডেন কতৃপক্ষ এই একটা কথাই বার বার বলতে চেয়েছে। 

তামিম ইকবাল কেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার সেটা বুঝতে তাই লর্ডস আর ম্যানচেস্টারের ওই দুই ইনিংস দেখলেই যথেষ্ট। উইজডেন ঠিক বুঝেই তামিমের হাতে তুলে দিয়েছিল বর্ষসেরার পুরস্কার। তখন তামিম ইকবালের বয়স ছিল মাত্র ২১।

নামকরা ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইলের রিপোর্টার লর্ডসে এতোটাই তামিমে বিমোহিত হয়ে ছিলেন যে লিখে দিলেন - ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের মাত্র্র দু’সপ্তাহের মাথায় ইংল্যান্ডকে মাটিতে নামিয়ে আনলেন ২১ বছর বয়সী এক তরুন। আধুনিক ক্রিকেটে লর্ডসে এমন সেঞ্চুরি কবে দেখা গিয়েছি তা নিয়ে অনেক পরিসংখ্যান ঘাটাঘাটি হলেও কিছুই মিললো না!’

অথচ সেই তামিম ইকবালের অভিষেকের আগে অনেকেই নাক সিঁটকেছিলেন। আকরাম খানের ভাতিজা, নাফিস ইকবালের আপন ছোট ভাই। চট্টগ্রামের বিখ্যাত খান পরিবারের নতুন প্রোডাকশন। এই তথ্যগুলো দিয়েই চাইলে তামিম ইকবালের সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া যায়। 

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে প্রথমবারের মত জাতীয় দলের পোশাক গায়ে চাপিয়েছিলেন তিনি। যদিও কতটা বিধ্বংসী তিনি প্রয়োজনের তাগিদে হয়ে উঠতে পারেন সেটা বোঝা যায়নি বিশ্বকাপের আগে।

৫৩ বলে করেছিলেন ৫১ রান - ভারতের বিপক্ষে এই একটা ইনিংসই বদলে দিয়েছিল তার ক্যারিয়ারের গতিবিধি। জহির খানকে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে হাঁকানো ছক্কার প্রসঙ্গ এখনও তোলেন ধারাভাষ্যকাররা।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তামিমকে। ইংল্যান্ডের মাটিতে ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি, উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালম্যানাকের বর্ষসেরার খেতাব, এশিয়া কাপে টানা চার ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে সেঞ্চুরি - এমন অসংখ্য অর্জন তার ব্যাটে লুটিয়ে পড়েছে। 

আর এরই মধ্যে তামিমের ‘জার্নি বাই ব্যাট’ পার করে ফেলেছে ১০ টি বর্ণাঢ্য বছর। ১০ বছর আগে হারারে থেকে শুরু করেছিলেন। ১০ বছর পর একই দিনে তিনি নামলেন হায়দ্রাবাদে, ভারতের বিপক্ষে ‘ঐতিহাসিক’ টেস্ট ম্যাচে দলের সহ অধিনায়কও তিনি।

এই দশ বছরে তামিম নিজেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা ব্যাটসম্যানে পরিণত করেছেন। ওয়ানডে, টেস্ট, বা টি-টোয়েন্টি - সব ফরম্যাটেই দেশের হয়ে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটসম্যান তিনি। ক’দিন আগেই তামিম তিন ফরম্যাটেই দেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসেরও মালিক ছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জানুয়ারিতে ওয়েলিংটন টেস্টে সাকিব আল হাসানের ২১৭ রানের ইনিংস টেস্টে তামিমের শ্রেষ্ঠত্ব কেড়ে নেয়। নি:সন্দেহে বলা যায় টেস্টে অন্তত ২১৮ রানের একটা ইনিংস খেলার আগ পর্যন্ত তামিমের আর রাতে ঘুম হবে না!

 

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post