অসীম সাগরের বেদনা

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
জানুয়ারী ১৫, ২০১৭
  ইমরুল কায়েস  ইমরুল কায়েস

ছেলেটা এমনিতেই খুব নরম সরম। সে জন্য একসময় ম্যাশ, রাজ্জাকরা যা করতো!

অস্বাভাবিক পরিমানে ঘামে তাই দ্রুত ক্র্যাম্প করে। ফলে লম্বা ইনিংস খেলতে খুব কষ্ট হয়। তারপরও খেলে। খুলনায় জীবন বাজি রেখে খেলেছিলো তামিমের সাথে। বিপিএল ফাইনালে ক্র্যাম্প নিয়ে ব্যাটিং করে কুমিল্লাকে জিতিয়েছিলো।

খুলনা টেস্টে জীবনে প্রথম ফার্স্ট ক্লাশ ক্রিকেটে কিপিং করেছে। মনে হয় দেড়শ ওভারের মতো করেছিলো। পানিশূন্যতায় অজ্ঞান হতে বসেছিলো। রিয়াদ গ্লাভস নিয়ে প্রান বাচিয়েছিলো।

কখনোই কিপিং অনুশীলন করা হয় না। সম্বল বলতে মোহামেডানের হয়ে কয়েকটা ম্যাচের পার্ট টাইম কিছু ম্যাচের কিপিং অভিজ্ঞতা। একদিন বলছিলো, ‘কিপারদের যে সারাদিন এই ওঠা বসা করতে হয়, এটাও দাদা অনেক অনুশীলন থাকতে হয়। এগুলো হঠাৎ করে করা যায় না।’

তারপরও ওয়েলিংটনে মুশফিক যখন ইনজুরিতে কিপিং করতে পারলেন না, সেই ইমরুলই রাজী হলেন নিজের শরীরের সব সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেও কাজটা চালিয়ে নিতে। কাজ চালিয়ে নেওয়া বলতে!

রীতিমতো বিশ্বরেকর্ড করে ফেললেন। বিশ্বের প্রথম বদলী উইকেটরক্ষক হিসেবে ৫টা ক্যাচ নিলেন এক ইনিংসে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে ইমরুলকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে এই হাজার কিলোমিটার দূর থেকেই বুঝতে পারছিলাম, ওর শরীর আর চলছে না। যে কোনো সময় ধ্বসে পড়বে। এই সময় ইমরুলকে ওপেনিংয়ে যেতে হলো। এর কোনো বিকল্প ভাবা যেতো কি না, সেটা আরেকটা প্রশ্ন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনুমিতভাবেই ধ্বসে পড়েছে ইমরুল।  এখন প্রার্থনা করা যাক, আজকে রাতের বিশ্রামটা তাকে আবার মাঠে নামার মতো করে তুলবে।

আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, আগামীকাল ইমরুল কায়েস ব্যাট হাতে নামবে। অন্তত নামার জন্য উঠে দাড়াবে।

তার একদিকে জীবন, আরেকদিকে ক্রিকেট থাকবে; তারপরও সে ব্যাট করতে নামতে চাইবে।

তা ছাড়া তো উপায় নেই ইমরুলের। সে খুব ভালো করে জানে, সে কেউ না। তাকে প্রতিটা দিন, প্রতিটা পল নতুন করে পরীক্ষা দিতে হবে। তাকে জীবন হাতে নিয়েই বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।

এবার ক্রিকেটে ফেরার পর থেকে ১১টা টেস্টে ৪৮.৩৮ গড়ে ৮৭১ রান করেছেন; কামব্যক করেছিলেনই সেঞ্চুরি দিয়ে। তারপরও একটা ইনিংসের ব্যর্থতাই তাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। এই ফেরার পর ওয়ানডেতেও ১৪ ম্যাটে ১টি সেঞ্চুরি, ৪টি ফিফটি। তারপরও একটা সিরিজের ব্যর্থতা তাকে ছুড়ে ফেলার দাবি তোলে। ইমরুল কায়েসের ব্যাপারে আমাদের স্মৃতি বড়ই প্রতারক। প্রতিদিন তাই তাকে পরীক্ষা দিতে হয়।

তার লিমিটেশনের কথা নিয়ে মহাকাব্য হবে না। তাকে এই লিমিটেশন নিয়ে প্রতিটা সকালে নতুন করে জীবন পরীক্ষায় নামতে হবে। নামটার মতোই কিনারাহীন সাগর হয়ে আসবে তার সামনে প্রতিদিনের জীবন।

 

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post