নিন্দাই তার অর্জনের শক্তি

মুহাঃ মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ
জানুয়ারী ১০, ২০১৭
   ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো   ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

গত বছরের ফেব্রুয়ারির ঘটনা।

গোলখরায় ভুগছিলেন ক্রিষ্টিয়ানো রোনালদো। সাথে তার দল রিয়াল মাদ্রিদেরও অবস্থা নড়বড়ে। কাতালান পত্রিকা ‘দ্যা স্পোর্টস’ তো ক্রিষ্টিয়ানোর ছবি ছেপে রিপোর্টই করে ফেললো; যার শিরোনাম ছিলো THE END।

গোটা ক্যারিয়ারে কম সমালোচনার শিকার হন নি!

কয়েক ম্যাচে গোলখরায় ভূগলেই চারদিকে রব উঠতো, রোনালদো ফুরিয়ে গেছে। দ্যা স্পেশাল ওয়ান খ্যাত কোচ মরিনহো একবার বলেছিলেন, ‘ক্রিষ্টিয়ানো গোল না পেলেই বরং শিরোনামে বেশী আসে’। স্বভাবতই তার মাপের ফুটবলার গোল না পেলে একটু হৈচৈ হতেই পারে। কিন্তু ক্রিষ্টিয়ানোর পিছনে মিডিয়া যেন বরাবরই একটু বেশী লেগে থাকে। তবে হার না মানা ক্রিষ্টিয়ানো এত সহজে হাল ছাড়েনি।

জীবনের শুরু থেকেই যিনি নানা বাধা পেরিয়ে আজকের ক্রিষ্টিয়ানো রোনালদো হয়েছেন, তিনি এত সহজে হাল ছাড়বে? বছরের শুরুতেই যেই রোনালদোকে নিয়ে ফুরিয়ে গেছিলো বলে রব উঠেছিলো, সেই রোনালদোরই বছর শেষ হয়েছে অর্জনের ষোলকলা পূর্ন করে।

যে কোন অ্যাথলেটেরই স্বপ্ন থাকে তার দেশের হয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরবে, দেশকে সর্বোচ্চ সম্মান বয়ে এনে দিবে। দেশের হয়ে আরাধ্যের সেই আন্তর্জাতিক শিরোপা টা তুলে ধরেছিলেন সদ্য শেষ হওয়া এই ২০১৬ সালেই। সাথে জিতেছিলেন সিলভার বুট। এখানেই শেষ নয়। প্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে জিতিয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লীগ, আর ক্লাব বিশ্বকাপ।

একই বছরই উয়েফা সুপার কাপ বিজয়ী রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলারদের নামের লিস্টেও দলীয় ভাবে জায়গা করে নিয়েছেন এই ক্রিষ্টিয়ানো।

একই বছর মোট ৪ টা ট্রফিও জিতেছেন এই ১৬ তেই। গত বছরে ৫৭ ম্যাচে ৫৫ গোলের পাশাপাশি গোলে সহায়তা করেছেন ১৭ বার, সাথে ব্যাক্তিগত অর্জনগুলো ছিলো ঈর্ষা করার মতই। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্যারিয়ারের ৪০তম হ্যাট্ট্রিক কিংবা দেশের হয়ে ১৩ ম্যাচে ১৩ গোল! ২০১৬ সালে ক্রিষ্টিয়ানো ছুটেছেন অবিরাম গতিতেই।

একই বছরে ৪ টা শিরোপার পাশাপাশি ব্যাক্তিগত ভাবে জিতেছেন ইউরো পটি, ইউরো সিলভার বুট, ব্যালন ডি অর, সাথে ক্লাব বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার গোল্ডেন বল। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ফুটবলার হিসেবে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৫০০ গোল করেছিলেন, যার শেষ টা করেছেন শুধুই ক্লাবের হয়ে ৫০০ গোল করে, যেখানে এই শতাব্দীতে শুধু তিনিই রাজা।

২০১৭ সালে নিজের প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন গোল। উড়তে থাকা ক্রিষ্টিয়ানো গত রাতেই জিতেছেন ফিফা কর্তৃক আয়োজিত বর্ষসেরা ফুটবলার পুরষ্কার ‘দ্যা বেস্ট’ নতুন নাম আর আঙ্গিকে আসার পর ক্রিষ্টিয়ানোই প্রথমে তাতে চুমু আঁকলেন।

গত বছরের শুরুতেই যে ক্রিষ্টিয়ানো কে বয়সের ভারে ফুরিয়ে গিয়েছিলো বলে বাজার গরম করা হয়েছিলো, সেই ক্রিষ্টিয়ানোরেই বছর ঘুরে দু হাত অর্জনে পরিপূর্ণ। শেষ ৪ বছরে ৩ বার বর্ষসেরা হয়েছেন, মেসি নামক এক অতিমানবের সাথে টেক্কা দিয়ে নিজেকে দিন কে দিন অতি উচ্চতম স্থানে নিয়ে গিয়েছেন।

একজন হাল ছেড়ে দেওয়া মানুষের আদর্শ হতে পারে একজন ক্রিষ্টিয়ানো ডস সান্তোস আভেইরো।

শ্রদ্ধেয় সমালোচকবৃন্দ, ক্রিষ্টিয়ানো কে নিয়ে আপনাদের অহেতুক নিন্দা জারি রাখুন, আপনাদের সমালোচনার জবাব বরাবরই মাঠে দেওয়া এই মানুষ টা নিন্দুকের কড়া কথাতেই বেশী তেতে উঠে। স্বয়ং ক্রিষ্টিয়ানো রোনালদো নিজেই তো বলেছেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা আমাকে করে শক্তিশালী, আপনাদের নিন্দা আমাকে করে অপ্রতিরোধ্য’।

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post